Home ছড়া-কবিতা কবিতা

কবিতা

বিষ্টি পড়ে
আবদুল হাই ইদ্রিছী

বিষ্টি পড়ে মনের ভেতর
বিষ্টি পড়ে চোখে,
বিষ্টি পড়ে ভোর বিহানে
সূর্য কাঁদে শোকে।

বিষ্টি পড়ে বিষ্টি পড়ে
বিষ্টি পড়ে ছন্দে,
বিষ্টি পড়ে সকাল দুপুর
রোদের সাথে দ্বন্দ্বে।

বিষ্টি পড়ে বিষ্টি পড়ে
বিষ্টি পড়ে প্রেমে,
বিষ্টি পড়ে রোদের ভেতর
হাসির রঙিন ফ্রেমে।

বিষ্টি পড়ে বিষ্টি পড়ে
বিষ্টি পড়ে চালে,
বিষ্টি পড়ে মিষ্টি সুরে
পানি চলে খালে।

বিষ্টি পড়ে বিষ্টি পড়ে
বিষ্টি পড়ে হেলে,
বিষ্টি পড়ে হাওর ভরে
মাছ ধরে জেলে।

 

প্রিয় ফল কলা
শচীন্দ্র নাথ গাইন

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় খুব চেনা ফল কলা,
গুণগুলো তার শেষ হবে না হোক না যতই বলা।
কাঁচকলাতে তরকারি হয় তা খাওয়া যায় রেঁধে,
পাকলে তাকে চায় না নিতে দিক না যতই সেধে।

শবরী, চাপা, সাগর কলা কেউ মাখে দুধভাতে,
এমনিও কেউ খায় সেগুলো পাকলে নিয়ে হাতে।
অনেক রোগীর পথ্য তা যে হজমও হয় বেশি,
জাতও কলার হরেক রকম বিদেশি ও দেশি।

হতাশা ও বিষন্নতা যেতেও পারে দূরে,
রক্তের চাপ কমাতে তার নামটা আসে ঘুরে।
সারা বছর যারা কেবল ভুগতে থাকে বাতে,
নিয়মিত কলা খেলে ফল তারা পায় সাথে।

ক্লান্তি কমায় এই কলাতে বাড়ায় দেহের বল,
পুষ্টিমানে তুলনাহীন সকল ঋতুর ফল।
ভিটামিনের উৎস কলায় আমিষ, খনিজ থাকে,
খাদ্য তালিকায় অনেকেই নিত্য এটা রাখে।

 

শিশুর আশা
নজমুল হক চৌধুরী

ওই শিশুটি একা
পেটের জ্বালায় আছে বসে
দেয় না যে কেউ দেখা।

ওই শিশুটি ভোরে
ফুটপাথের সব আবর্জনা
ইচ্ছেমতো কুড়ে।

ওই শিশুটির মনে
করবে লেখাপড়া সে যে
সকল শিশুর সনে।

ওই শিশুটি রাতে
পায় না শোয়ার জায়গা কোথাও
থাকে সে ফুটপাথে।

ওই শিশুটির আশা
একটু সুযোগ পেলেই সবার
কুড়বে ভালোবাসা।

 

গর্ব
মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস

একটা বড় বাঘ-
সিংহ কেন বনের রাজা
তাই নিয়ে তার রাগ।

গর্ব করে নাচে-
মাথা নত করবে না সে
কভু কারো কাছে।

বাঁধলো গলায় হাড়-
ঠোঁট লম্বা পুচকে বক
লাগলো কাজে তার।

বুঝলো তখন বাঘ-
করবে না সে আর কখনো
গর্ব এবং রাগ।

 

বর্ষা
আমিন আল আসাদ

টিনের চালে বৃষ্টি পড়ে ঝুম ঝুম ঝুম
খুকুর চোখে নামে যখন ঘুম ঘুম ঘুম

বেলা তখন তিনটা বাজে টিক টিক টিক
ঠিক তখনি হাসলো যে রোদ ফিক ফিক ফিক

কাঠ ঠোকরা ঠুকছে যে কাঠ ঠক ঠক ঠক
মোরগটা তাই উঠছে ডেকে কক কক কক

বাদলা হাওয়া তুলছে আওয়াজ পট পট পট
দৃশ্যটা কি ভিন দেশেতে? নট নট নট

 

বর্ষা
আবুল হোসেন আজাদ

জুঁই চামেলি কদম বেলি গন্ধরাজের গন্ধে
বর্ষা এলো টাপুর টুপুর জলের নূপুর ছন্দে।
ভিজে সারা গাছপালা পথ ফসল তোলা মাঠ যে
ভিজছে গাঁয়ের হাটুরেরা করতে গিয়ে হাট যে।
ঝড়ো বাতাস বজ্র ঝিলিক ব্যাঙের ডাকাডাকি
গাছের ডালে চুপসে ভিজে ঝাড়ছে পাখা পাখি।
হালের গরু টানছে লাঙল ভিজে জবুথবু
অঝোর ধারার বৃষ্টি ফোঁটা মাথায় করে তবু।
লাঙল চষে মই দিয়ে ক্ষেত করবে আমন ধান
পাকা ধানে ভরবে উঠোন আসলে যে অঘ্রাণ।
কৃষকেরা চাষাবাদে ব্যস্ত সারা বেলা
চোখে তাদের সোনালী দিন স্বপ্ন করে খেলা।

পুকুর ডোবা নদী নালা বৃষ্টিতে থই থই
হাঁসগুলো সব সাঁতরে বেড়ায় দল বেঁধে পই পই।
ধূসর মেঘের ঘোমটা টেনে সূর্য লুকায় মুখ
কাছে কোথাও বজ্রপাতে কেঁপে ওঠে বুক।

 

বৃষ্টি তোমার নাম
জাকির আবু জাফর

বৃষ্টি তোমার নাম রেখেছে কে
অঝর ধারায় ঝরছ আনন্দে!
এক লহমায় ভিজাও বসতঘর
ভিজাও ধরার শ্যামলা অন্তর

বৃষ্টি তোমার বাড়ি কোথায় কও
কেমন করে হঠাৎ ঝঞ্জা হও
মেঘের হৃদয় ভেঙে ঢালো জল
মাটির বুকে জাগাও ভয়ের ঢল

বৃষ্টি তোমার বন্ধু আছে নাকি
বলো তাকে কোন সে নামে ডাকি
তার কি আছে অঝর শ্রাবণ রাত
কিংবা আষাঢ় দিনের ধারাপাত

বৃষ্টি তোমার আছে সবুজ দেশ
আমার যেমন সোনার বাংলাদেশ
মাঠের পাশে মাঠের দীঘল মন
দূরের আকাশ করছে আলাপন

রাজধানীটা কোথায় তবে ভাই
আমরা তাহার ঠিক ঠিকানা চাই
বসবাসের যোগ্য যদি হয়
আর যদি না থাকে জ্যামের ভয়!

বুড়িগঙ্গা মুছ নিজের বিষ
কাঁঠালতলায় বাজবে দোয়েল শিস!
স্বচ্ছ আকাশ নীল মাখানো দিন
বুকের মাঝে থাকবে অমলিন।

 

 

SHARE

Leave a Reply