Home বিজ্ঞান জগৎ শিলাবৃষ্টির কারণ -আল জাবির

শিলাবৃষ্টির কারণ -আল জাবির

ঝড়ো আর সঙ্কটপূর্ণ আবহাওয়াতে যখন শক্তিশালী বায়ু প্রবাহ ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন শিলা তৈরি হয়। যখন convective cell তৈরি হয়, তখন উষ্ণ বায়ু ওপরের দিকে উঠতে থাকে, আর শীতল বায়ু নিচের দিকে নামতে থাকে। যখন সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খুব শীতল পানির উৎস পাওয়া যায়, তখন মেঘে বরফ জমতে থাকে ঐ শীতল পানির দানা আর শীতল বায়ুর সংমিশ্রণে।
ঊর্ধ্বমুখী বায়ু এমন একটা অবস্থানে পৌঁছায় যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে যায়, অর্থাৎ যেখানে পানি বরফ হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুতে সৃষ্ট বরফ খণ্ডগুলো ঐ বায়ুর প্রবাহ থেকে ছুটে গিয়ে নিচের দিকে পড়তে থাকে। এই ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর ওপরে উঠে যাওয়ার পরে বরফকণা সৃষ্টি হয়ে নিম্নগামী হওয়ার প্রক্রিয়া পুনঃপুন চলতে থাকে এবং বরফকণার ওপর বারবার আস্তরণ জমা হয়ে তা বরফ খণ্ডের আকার নেয়। এই ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের কিন্তু বেশ ভালোই গতি থাকতে হয়, কিছুকিছু ক্ষেত্রে এই গতি ৬০ মাইল/ঘণ্টাও হতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, আমরা যদি একটা শিলা খন্ডকে অর্ধেক করে কেটে নিতে পারি, তাহলে এর ভেতরকার কেন্দ্রীভূত স্তরগুলো আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে ।
যখন শিলা ঊর্ধ্বাকাশ থেকে পতিত হতে থাকে, তখন এটি পতনশীল অবস্থায় কিছুটা গলে যায়, আর এমন তাপমাত্রায় এটা গলে যার কারণে এটা আবার ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর সাথে উপরে উঠে যায়। সুতরাং এর থেকেই বোঝা যায় যে খুব বড় আকারের শিলাখণ্ড আসলে অনেক বারের পুনঃ প্রক্রিয়ার ফসল।
এই শিলাখন্ডগুলো বৃষ্টির পানির কণা বা মেঘকে আশ্রয় করে এবং যখন এগুলো ক্রমশ ভারী হয়ে উঠে এবং ঊর্ধ্বগামী বায়ু আর এতটা ভারী কণা বহন করতে পারে না, তখন শিলাখন্ড বৃষ্টির সাথে ভূমিতে পতিত হতে থাকে। যাকে আমরা শিলাবৃষ্টি হিসেবে দেখতে পাই।
গড়ে একটা শিলার ব্যস হয় ৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এর মধ্যে। শিলাবৃষ্টিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘Hail storm’, যদিও এটাকে ঠিক ঝড় বলা যায় না, এটা আসলে বজ্রবৃষ্টির মত বড় কোনো ঝড়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আসলে, শিলাবৃষ্টি তৈরি-ই হয় ঝড়ের মেঘ থেকে। শিলাবৃষ্টি যে মেঘ থেকে তৈরি হয় তাকে বলে ‘Cumulonimbus clouds’ যুক্তরাজ্যের কলোরেডোতে এর বাসিন্দারা রীতিমতো শিলাবৃষ্টির একটা ঋতুই পায়, যাকে ‘Hail storm season’ বলে, যা প্রায় মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

SHARE

Leave a Reply