Home চিত্র-বিচিত্র হেলমেটওয়ালা পেঙ্গুইন -নুসাইবা মুমতাহিন

হেলমেটওয়ালা পেঙ্গুইন -নুসাইবা মুমতাহিন

পেঙ্গুইন সব থেকে জনপ্রিয় এবং পছন্দের একটি পাখি সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে। আমাদের কাছাকাছি বলতে শুধু চিড়িয়াখানাতে, অ্যাকুরিয়ামে বা মেরিন পার্কে দেখতে পাওয়া যায়।
এরা প্রচন্ড ঠাণ্ডা পরিবেশে (-৪৫ ডিগ্রি তাপ মাত্রায়) বসবাস করতে অভ্যস্ত। এরা কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য অন্য প্রাণী থেকে আলাদা। পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি প্রজাতি চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন।
চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন দেখতে পাওয়া যায় সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ, অ্যান্টার্কটিকা, সাউথ ওর্কনিস দ্বীপপুঞ্জ, সাউথ সেথল্যান্ড, সাউথ জর্জিয়া, বৌভেট দ্বীপপুঞ্জ, ব্যালিনি দ্বীপপুঞ্জসহ প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জে।
তাদের মাথার নিচের দিকে সরু কালো রঙের ব্যান্ডের মতন দাগ থাকে বলে এদের নাম এরকম দেয়া হয়েছে এবং এই কালো দাগের জন্য এদেরকে দেখে মনে হয় যেন এরা মাথায় হেলমেট পরে আছে। আর এই রকমের রঙের জন্যই এদেরকে অন্যান্য পেঙ্গুইনদের থেকে খুব সহজেই চেনা যায়। এদের অন্যান্য নামগুলো হলো রিংড পেঙ্গুইন, বিয়ার্ডেড পেঙ্গুইন, স্টোনক্র্যাকার পেঙ্গুইন ইত্যাদি।
চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন ৬৮ সেমি (২৭ ইঞ্চি) পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং এদের ওজন হয় ৬ কেজি (১৩.২ পাউন্ড)। যদিও কিছু কিছু সময় তাদের ওজন ৩ কেজি (৬.৬ পাউন্ড) হয়ে যেতে পারে, এই ঘটনা ঘটে প্রধানত প্রজনন চক্রের জন্য। পুরুষরা মহিলাদের থেকে আকারে বড় এবং ওজনেও বেশি হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের ফ্লিপার হয় কালো রঙের এবং এদের ভিতরের দিকে এবং ধারের দিকে সাদা দাগ থাকে। চোখের পিছন পর্যন্ত সাদা রঙের হয় চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের এবং তা পেছনের দিকে লালচে বাদামি রঙের হয়ে যায়। এদের গাল এবং গলা দুটোই হয় সাদা রঙের এবং এদের ঠোঁট হয় কালো। এদের পা খুব শক্তিশালী হয় এবং লিপ্তপদাঙ্গুলিযুক্ত পা হয় গোলাপি রঙের। এদের পাখনার কালো এবং সাদা রঙের মিশ্রণ এদের পানির মধ্যে শিকারিদের থেকে ছদ্মবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখন ওপর থেকে দেখা হয় তখন এদের কালো পিঠটা জলের মধ্যে মিলে যায়, এবং যখন নিচ থেকে দেখা হয় তখন এদের বুকের দিকটা সাদারঙের হয় বলে ওপরের সূর্যাস্তের সাথে মিশে গিয়ে এদেরকে বোঝা যায় না। এরকম ভাবেই এরা শিকারিদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
এরা প্রধানত মাছ, চিংড়ি ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। তারা জলে ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) পর্যন্ত সাঁতার কেটে শিকার ধরতে যায়। চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনরা বরফ জলের মধ্যে সাঁতার কাটতে পারে কারণ এদের পাখনাগুলো খুব সংযুক্ত যা একটি জলরোধী কোট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তারা ব্যারেন দ্বীপপুঞ্জে বসবাস করে এবং শীতকালে হিমশৈলের ওপরে এরা সমবেত হয়। এ ছাড়াও আন্টার্কটিক পেনিনসুলাতে এরা বসবাস করে। ১৬ মিলিয়ন চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের আয়ু প্রধানত ১৫-২৩ বছর। চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনরা পেঙ্গুইন প্রজাতির মধ্যে সব থেকে আক্রমণাত্মক প্রজাতি বলে মনে করা হয়। চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের প্রধান শিকারি হল চিতাবাঘ শীল। এদের বাচ্চারা বা ডিমসিথবিল, ব্রাউন স্কুয়া ইত্যাদি পাখিদের দ্বারা শিকার হতে পারে। এছাড়াও সিলায়ন হল এদের আরকেটি প্রধান শিকারি। স্থলভাগে এরা গোলাকার বাসা বাঁধে পাথর দিয়ে। এবং তারা দুটো ডিম পাড়ে। এই ডিম মহিলা এবং পুরুষ দুজনেই তা দেয় ৬ দিন করে। ৩৭ দিন পরে ডিম ফেটে বাচ্চা হয়। এদের পিঠ হয় লোমশ ধূসর রঙের এবং নিচের অংশ হয় সাদা রঙের। ২০-৩০ দিন বাচ্চারা বাসায় থাকে বড়দের দলে যোগ দেয়ার আগে। ৫০-৬০ দিন পরে তারা এই পাখনা ছেড়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের পাখনা পায় এবং তারপরই এরা সমুদ্রে যায়।

SHARE

Leave a Reply