Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো জান্নাতের নদী -বিলাল হোসাইন নূরী

জান্নাতের নদী -বিলাল হোসাইন নূরী

সাতসকালের শীতল নদী দেখতে যাবে?
ঢেউ ভেজানো নরম হাওয়ার গন্ধ পাবে।
আরও পাবে পাতার মতো সবুজ জীবন-
সুরের খেয়ায় ভেসেই যাবে উতলা মন।
এ কবিতা পড়ার পর থেকেই ইমরান ভাবল- প্রতিদিন ভোরে সে নদীর পাড়ে যাবে। সকালবেলার নদী কি সত্যিই কবিতার মতো? নাকি কবিতা নদীর মতো? সেটা না হয় নদীর কাছেই জেনে নেয়া যাবে! বাড়ির কাছেই নদী। মেঘনা নদী। এ নদীর কাছে কতবার এসেছে ইমরান! কতবার ভেসেছে তার বুকে! কখনো নৌকায়। কখনো কল্পনায়! কিন্তু ভোরের মেঘনা সে কখনোই দেখেনি। তাই তাকে দেখার ইচ্ছেটা একটু বেশিই জাগল।
ফজর সালাত শেষ করে হাঁটতে হাঁটতেই নদীর তীরে পৌঁছে গেল ইমরান। নরম হাওয়ার পরশে সে যেন ভিজেই গেল। ভিজে গেছে তার মনও। এ হাওয়া কেমন পবিত্র! কী নির্মল! যেন ফেরদাউস থেকে এসেছে। মনে হলো, সে-ও এখন কবিতা লিখতে পারবে। আর হ্যাঁ। এখন থেকে ফজরের পর আর ঘুমাবে না সে! কখনোই না। এমন সতেজ সকাল না দেখে ঘুমিয়ে থাকা যায়?
ঘরে ফিরে মায়ের কাছে সব কথা বলল ইমরান। মা-তো খুশি! মা বললেন, তাহলে শোনো- তোমাকে আজ নদীর গল্পই শোনাব। জান্নাতের নদী! জান্নাতে আছে অনেক নদী। অনেক ঝরনা। কুরআনে আল্লাহ চারটি নদীর কথা বিশেষভাবে বলেছেন। যেমন- “মুত্তাকি লোকদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তার উপমা হলো-তাতে রয়েছে নির্মল পানির নদী। দুধের নদী- যার স্বাদ পরিবর্তন হয় না। সুরার নদী- যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু এবং পরিশোধিত মধুর নদী। আরও আছে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল। আর তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা!” (সূরা মুহাম্মাদ : ১৫)
এমন অবাক করা নদীর মালিক হবো আমি? – বলল ইমরান। মা বললেন, অবশ্যই। তবে তার আগে তোমাকে হতে হবে মুত্তাকি। ভালো মানুষ। সুন্দর মানুষ! ইমরান বলল- ইনশাআল্লাহ।

SHARE

Leave a Reply