Home গল্প কাক বন্ধু পুটু -সোলায়মান আহসান

কাক বন্ধু পুটু -সোলায়মান আহসান

সেই ছোট্টটি থেকেই পুটুরানীর পাখিপ্রীতি। বয়স যখন তিন, একটু-আধটু কথা বলে। দক্ষিণের বারান্দায় নিজের খাবার বিলিয়ে চড়াই শালিকদের বন্ধু বানায়। অন্তত দু’দু বেলা পাখিরা এসে ভিড় করতো। সকালে দুপুরের পর। ব্যাপারটা রুটিনে পরিণত হলো। বাসার সবাই উপভোগ করতো। পাখিরা আসছে, পুটুর কাছাকাছি এসে খাবার খুঁটে খাচ্ছে-এ নিয়ে ছবিতোলা কতো কী!
সবশেষে আম্মুও শরিক হয়ে পড়লেন পাখি ভোজে। মজা পাবার জন্য শুধু নয়, লাভ হতো পুটুকে খাওয়াতে সহজ হয়ে পড়া। খাবার খানিক বেশি নিয়ে অর্ধেক পুটুর পেটে, অর্ধেক পুটুর পাখি-বন্ধুদের। তা ছাড়া খানিকটা সময় পুটুর ঝুট-ঝামেলা থেকে বেঁচে যাওয়া। পুটু যখন পাখি বন্ধুদের সঙ্গে মেতে-আম্মু তখন সাংসারিক কাজে হাত লাগান। সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল রেহানার। একে একে বড়রা ঘর থেকে বের হয়ে গেলে পুটুর জ্বালাতন। এটা দাও ওটা দাও। যাবো না। ইত্যাদি।
সুবিধে হয়েছে সাধারণত রাজধানী শহরে গাছপালার দেখা কম পাওয়া গেলেও পুটুরা যেখানে থাকে সেখানটাতে কিছু গাছ আছে। গাছ আছে বলেই পাখিদের আনা গোনাও আছে। পুটুদের বাসার পেছনে একটা বড় প্লট খালি। প্লটতো খালি পড়ে থাকে না। মালিক গাছ লাগিয়েছেন। আম, পেয়ারা, সুপোরি, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছপালায় ভরা। বাসার সামনে দক্ষিণ দিকে একতলা বাড়ি, অনেকটা জায়গা নিয়ে। এখানে আম, ডাব, ডালিম, খেজুর ইত্যাদি গাছপালা রয়েছে। তা ছাড়া আশপাশের ছাদে শখ করে টবে অনেকে গাছ লাগিয়েছেন। বাগানের মত।
তাই এলাকায় নানা জাতের পাখির আনাগোনা। শালিক, চড়াই, দোয়েল, টুনটুনি, পায়রা, কাক ইত্যাদি। তবে কাক আর শালিকের দখলেই থাকে গাছ ও বাড়ির কার্নিশগুলো। চড়াই অবশ্য চালাক পাখি। সে গাছে চড়ে কার্নিশে বসে হাওয়া খায় বটে বাসা বেঁধেছে বাড়ি বাড়ি ভেনটিলেটার, বারান্দায় লাইট ফিটিংসের ভেতর। হাওয়া ওদের বাসাকে বানচাল করতে পারে না। পারে না কাক এসে জুড়ে বসতে।
এসব পুটুরানী ছোট্টটি থেকেই দেখে আসছে। এখন সে বেশ বড়। পড়াশোনা করতে হয় তাকে। এক দুই তিন করে ফাইভে উঠে গেছে। পুটুর পুটুর করে কিংবা পায়রার মত বাগ বাকুম বাগ বাকুম করে কথা বলার অপরাধে নানুর দেয়া নামটা পুটুরানীর এখন আর কথা বলার সময়ই পায় না। কার সঙ্গে কথা বলবে। কখন বলবে। সাজানো আছে রুটিন। খুব সকালে আসেন গানের ওস্তাদ। ব্রেকফাস্ট শেষে স্কুলের গাড়িতে দৌড়ে স্কুল। বিকেলে হাউজ টিউটর বেলা মেম। ছুটির দিনগুলোতে হুজুরের তালিম। পুটুর খেলার সময়ও নেই। তাই পাখিদের সঙ্গে ধীরে ধীরে বিচ্ছেদ। পাখিদের না খেলে চলে না। ওদের জন্য কেউ রান্না করে না। পুটুর মত আরো কেউ থাকে না। তাই ওদের খাবার জোগাড় করতে যেতে হয় নানান স্থানে।
তা ছাড়া যে বারান্দাটা ছিল পুটুর দখলে। বন্ধু পাখিদের আনাগোনায় জমমাট সেখানে এনে রেখেছে ভাইয়া এক জোড়া টিয়া। ভাইয়া যখন বারান্দাটা দখলে নেয়। বলেছিল টিয়া পাখিরা নাকি খুব সরল লক্ষ্মীমন্ত ঝামেলা করে না। লাল লংকা খেলেও লংকাকাণ্ড ঘটায় না। তবে ধান না পেলে ডাকাডাকি কম করে না।
ভাইয়া জিশান বলেছে বারান্দাটাতে পাখি দিয়ে ভরে ফেলবে। এরপর আনবে ময়না। পাহাড়ি ময়না। খুব সুন্দর নাকি দেখতে। পুটুর তা পছন্দ নয়। খাঁচায় পাখি। দেখতে মোটেও সুন্দর নয়। কিন্তু পাখি নিয়ে ভাবনার সময় তার নেই এখন। যা ইচ্ছে করুক ভাইয়া।
পুটুর সঙ্গে পাখিদের ভাব কমে গেছে। তবু মাঝে মধ্যে মন টানে। কেমন এক মন খারাপ করা লাগে। বারান্দায় এসে টিয়া দুটোকে দেখলে পুটুর মেজাজ বিগড়ে যায়। পুটুকে সামনের বাড়ি থেকে শালিক দেখলে ডাকাডাকি শুরু করে। বিশেষ ছুটির দিনে অলস দুপুরে সামনের পাঁচতলা বাড়ির কার্নিশে বসে দুটো শালিকের ঝগড়া সে দেখেছে অনেক দিন। শালিক দুটো বুঝিবা ওদের জানালার সানশেডে ঘর বেঁধেছে।
পুটুর বড় বোন মিলির আবার বিল্লি প্রীতি আছে। মিলি পড়ে কলেজে। ওর এক কলেজ বান্ধবীও বিল্লি মানে বিড়াল তপস্বী। বিড়াল পোষে। পোষে শুধু নয় বিড়াল পোষার জন্য একটা ক্লাবও নাকি করেছে। সেই ক্লাবের সদস্য হয়ে যান আপু। নিয়ে এলেন হঠাৎ দু’টো বিড়াল ছানা। খাঁচার মধ্যে করে। পুটু প্রথম প্রথম খুশি। সাদা ধবধবে তুলতুলে গায়ের বিদেশী জাতের বিড়াল দেখে খুশিতো হবেই। কিন্তু আম্মু রেগে গেলেন। আব্বু বললেন- সর্বনাশ চারতলায় বিড়াল পোষে কেউ। তা ছাড়া ঘরে ইঁদুরের উপদ্রপ নেই যে বিড়াল কাজে আসবে। আর এসব বিড়ালের শাহি মেজাজ! প্রতিদিন মাছ দুধের জোগাড় দিতে গেলে কম্ম সাবাড়!
কিন্তু কে শোনে কার কথা। মিল্লির বিল্লি প্রীতি চলল বেশ মাস খানেক। আম্মু বোঝান। আব্বু লোভ দেখান বিল্লির পরিবর্তে পাখি দেবেন এনে। ভাইয়া বলে- পাহাড়ি ময়না আনলে আপুকে দিয়ে দেবে, তবু বিল্লিকে পাঠাও দিল্লি!
কথায় অনুরোধে কাজ হলো না। পুটুর পাখি থেকে বিল্লি প্রীতি জাগল। আপুর কথা মত তাই দিতে থাকল মাছ রান্না করে বিল্লিদের। দারোয়ান কাকুকে দিয়ে প্যাকেট দুধও আনতে থাকে টিফিনের পয়সায়।
এদিকে পুটুর আরেক বড় বোন গ্রামেই ছিল। তার এক ছোট্ট বাচ্চার কি অসুখ করেছে। তাই ঢাকা নিয়ে এলো চিকিৎসা করাতে। আড়াই বছরের জোহরা বিড়াল পেয়ে মহা খুশি। অসুখ যেনো অর্ধেক ভালো বিড়াল পাওয়ার খুশিতে। নেলি বলল- থাক আর কটা দিন বিড়ালগুলো। জোহরা খেলছে যখন। আম্মু বললেন- বিড়াল এক ধরনের ভাইরাস বহন করে। এতো অল্প স্পেসে বিড়াল পোষা যায় না। অসুখ করতে পারে। কিন্তু নেলির সাপোর্ট এখন মিলির পক্ষে। মানে পুটুর ভাষায়- মিল্লির পক্ষে। পুটুও পাখির পরিবর্তে খানিকটা ‘বিড়াল তপস্বী’ বটে।
কিন্তু না মিলির বিড়াল পোষা হলো না। জোহরাকে যে ডাক্তার দেখানো হয়েছে তার কড়া নির্দেশ- কুকুর-বিড়ালের কাছেও যাবে না। যে রোগটা জোহরার হয়েছে তা বিড়াল থেকেই। বাড়িতে যখন ছিল জোহরা বিড়াল নিয়েই খেলতো। সেখান থেকেই জোহরার এ রোগটা এসেছে।
ঠিক করা হলো বাসা থেকে বিড়াল দুটোকে বিদায় করা হবে। কে নেবে ভার এই বিদেশী বিড়াল ছানার। দেয়া হলো মিলির ‘ফেসবুকে’ কয়েকটি শর্ত জুড়ে বিড়াল উপহারের বিজ্ঞাপন। বিড়াল দুটোর ছবিও পেস্ট করা হলো সঙ্গে। আগ্রহী বিড়ালগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়াল ঊনপঞ্চাশে। কী করা। আম্মু বললেন- মিলির বান্ধবীকেই দিয়ে দেয়া হোক। কারণ সে ওগুলো ক্লাব মেম্বার হিসাবে মিলিকে পাইয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত তাই করা হলো।
পুটুর মন খারাপ হলো তাতে। পাখিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকেনি নিজের ব্যস্ততায়। বিড়ালের সঙ্গে ভাব খানিকটা জমে উঠেছিল। তাও বিচ্ছেদ। জোহরার অসুখ বলে?
কিন্তু জোহরার জন্য পাখিদের খোঁজ পড়ল আবার। মিলি জোহরাকে খাওয়াতে বারান্দায় যায় ছুটে। ছাদে যায় ছুটে। পাখিদের ডেকে ডেকে জোহরার খাবার দেয় ছিটিয়ে। পুটুও যায় মাঝে মধ্যে। পাখিরা খেলে জোহরাও খায়। কিন্তু পাশের আম গাছে থাকা কাকদের জন্য পাখিরা ভিড়তে সাহসই পায় না। শালিক চড়াইকে তাড়িয়ে কাক এসে ভিড় জমায়। বলে কা-ক্ কা… আমাকে দাও। মিলির কাছে মেয়ে জোহরার খাওয়াটাই বড়। শালিক চড়াই না কাক তা তার বিবেচনার বিষয় না। যে পুটু কাককে ভয় পেতো- কাকও পাখি মানতে চাইতো না- সেও কাককে জোহরার খাওয়ার সাথী হিসাবে মেনে নিয়েছে। জোহরার খাবার কাকই খাক। জোহরা খুশি কাক পেয়ে। নিজ হাতে কাককে খাওয়ায়। জোহরা যখন কাককে নিয়ে ব্যস্ত নেলি তখন জোহরার গালে খাবার গুঁজে দেয়। ওভাবে কাক ও জোহরা ভাগ করে খায় খাবার। নেলি খাবারের পরিমাণ বেশি নেয় এ জন্য।
জোহরা সুস্থ হয়ে কিছুদিন হলো বাড়ি গেছে। দাদু এসে নিয়ে গেছে তাদের গ্রামে। পুটুর সামনে পরীক্ষা। পড়াশোনায় মন দিয়েছে। নেলি আপু থাকায় একটু আধটু পড়ায় ছেদ পড়েছে। সেসব পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত সে।
পুটুর রুটিন করা জীবন। আম্মুর দেয়া রুটিন। নড় চড় হবার জোগাড় নেই। রুটিন মত সব চালিয়ে যাচ্ছে। বিকেলে ছাদে বেড়ান রুটিনে আছে।
সেদিন পুটু ছাদে গেল। ছাদে সে একাই ছিল। সাধারণত একা ছাদে ওঠে না। আজ কাউকে পেলো না। কয়েক দিন পর বাংলা নববর্ষ আসছে। ছাদে উঠে টের পাওয়া গেল। আকাশটা মেঘলা। দমকা বাতাস বাইছে। কয়েকদিন শেষ বিকেলে এই দমকা বাতাসের দেখা মেলে। শিলাবৃষ্টিও হয়েছে একদিন। ঘরে বসে জানালা দিয়ে দেখেছে সেই সুন্দর দৃশ্য। আজ দমকা বাতাস ছেড়েছে। বেশ হিম আছে বাতাসে। আজও কি শিলাবৃষ্টি নামবে। তাহলে মজা হয়। পুটুর মনে আনন্দ খেলা করে। গুনগুন করে গান গায়। যে গানটা ওস্তাদজির কাছ থেকে কয়েকদিন আগে হারমোনিয়ামে তুলেছিল। পুটু আবার নতুন গান গলায় ভাজে সময় পেলে। … বাদলা হাওয়ার বাদল দিনে পাগল আমার মন ছুটে বেড়ায়…
কা- কাক্.. কা- কাক্ পেছন থেকে কাকের ডাক শুনতে পেলো পুটু। পেছন ফিরে দেখে দুটো পাতি কাক। ছাদের মাঝখানে। সেই জোহরার খাবারের সাথীরা! পুটু ভয় না পেয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
কাক দুটো চোখ ঘুরিয়ে পুটুকে দেখে নেয়। একটু একটু করে কাছে এগোয়। পুটুও নট নড়ন চড়ন। কাকও কাছে এগোয়। এবার এক হাত কাছাকাছি এসে পড়ে। পুটু নিচু হয়ে হাত বাড়ায় কাক দুটোর দিকে। পুটুর হাত খালি। একটা কাক মাথা নেড়ে যেনো বলতে চাইলো- কা-কাক্- খাবার চাই নাগো, তোমায় দেখতে এসেছি। পুটুর তাই মনে হলো।
তাইতো, সেই যে জোহরা বাড়ি চলে গেল এরপর একটা দিনও ওদের খাবার দেয়া হয়নি! মানুষ কতো স্বার্থপর! যখন প্রয়োজন ছিল ওদের খাবার দিয়েছি। ছাদে এসে। এখন প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে বলে ওদের খোঁজ নেইনি একটিবার। কাক দুটোকে দেখে পুটুর খুব মায়া হতে থাকে। চোখে পানি আসে।
কাক দুটোও নীরব হয়ে যায়। খানিকক্ষণ একে অপরের দিকে তাকায়। মাথা ঘুরিয়ে পুটুকে দেখে। এরপর ওরা উড়াল দিয়ে পানির ট্যাংকির ওপর বসে। পুটু উঠে দাঁড়ায়। বাতাসটা প্রবল হয়েছে। হয়তো ঝড়ও হতে পারে।
বাসায় এসে পুটু আম্মুকে বলে ঘটনা। আম্মু বলেন, কাক হলে কি হবে বুদ্ধি আছে। তোকে চিনে রেখেছে। অনেকদিন পর দেখে কাছে এসেছে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। পড়ার টেবিলে বসে কেবলি কাক দুটোর চোখে সেও কান্না দেখেছে! হয়তো কান্নাই ছিল। ওরাতো মানুষের মতো কান্না করে না।
পুটুর মনে হতে থাকে কাক দুটো ওর আপন জন। আপন জনের প্রতি একটা দায়িত্ব থাকে। থাকে না? তাই এবার থেকে সে আবার কাক পাখিদের খাবার দেবে। কাকতো পাখিই! আম্মু বলেছেন- বুদ্ধিমান। আর ওরা তেমন কিছু ভালো খাবার খেতে চায় না। মিলির বিল্লিকে প্রতিদিন দুধ, টাকি মাছ খাওয়াতে পারলে কাককে কেন দিতে পারবে না ফেলে দেয়া কাঁটা-ঝুটা-হাড্ডি ইত্যাদি খাবার! এর চেয়ে ভাল কিছু কি চায়? এখন থেকে ময়নার মাকে বলবে তাদের টেবিলে পড়ে থাকা কাঁটা-ঝুটা ময়লার ঝুড়িতে না ফেলে রেখে দিতে একটা বাটিতে।
খাওয়া শেষ হলে পুটু দৌড়ায় ছাদে উঠতে। সবাই জেনে গেছে কাঁটা-ঝুটা নিয়ে যাচ্ছে কাকের জন্য পুটু। মিলি ভাইয়া জিশান ইতোমধ্যে পুটুর নামের সঙ্গে বিশেষণ যোগ করে দিয়েছে ‘কাক বন্ধু’। বিল্ডিং এর আশপাশেও নামটা চাউর হয়ে গেছে। ছাদ থেকে ছাদে কথা হয় পুটুর সঙ্গে। কেউ কেউ ডাকে কাক বন্ধু। পুটুর প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন মজা পায়। এখন পদবি জুটেছে কম নয়। এভাবেই কাকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়িয়ে চলে। কিন্তু এই যে ঠেলে ছাদে উঠতে হয় এটা তার কাছে অপছন্দ হতে থাকে। এ ব্যাপারে কী করা যায় শলা পরামর্শ করে আপু মিলির সঙ্গে। মিলি আবার পাখি প্রেমিক না। পশু প্রেমিক। বিড়াল পুষতে না পারলেও তার ইচ্ছে বড় হয়ে সে একটা কুকুর-বিড়ালের রেস্ট হাউজ বানাবে। তাই মিলি এক ধমক দিয়ে সরিয়ে দিলো-‘যা তোর আগলি বার্ড কাক সেবা নিয়ে আছিস!’
পুটু খুব দুঃখ পেলো ‘আগলি’ শব্দ বলায়। কিন্তু মিলির সঙ্গে সে পারে না। বড় বলে না, ঝগড়ায় পারা দায়। চিন্তায় চিন্তায় ক’টা দিন কেটে গেল। একদিন রান্না ঘরে খাওয়া প্লেট বাসন কোসন ধোয়ার সিঙ্কে রাখতে গিয়ে স্লাইড জানালা দিয়ে দেখল পাশের বাসার সানশেডে সেই দুটো কাক বসে। পুটুকে দেখে ডাক দেয়-কাক্ …।
পুটু বুঝতে পারে খাবার চায়। পুটুর মাথায় একটা নতুন বুদ্ধি আসে। রান্না ঘরের জানালার পাটাতনে সদ্য রাখা কাঁটা-ঝুটা ছড়িয়ে দেয়। একটু আড়ালে সরে যায়। পর পর একটা কাক উড়ে এসে জানালার পাটাতনে রাখা কাঁটা-ঝুটা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। একটা নিয়ে যাবার পর আরেকটা আসে।
পুটু হাত তালি দেয়- পেয়ে গেছি পেয়ে গেছি।
দৌড়ে এসে আম্মু জিজ্ঞেস করেন- কী পেয়েছিস?
কাককে খাবার দেয়ার সহজ পথ। তারপর ঘটনা বলল পুটু। তাই এতো খুশি। আম্মুও মনে মুনে খুশি। ছাদে যাওয়াটা বন্ধ হলো বলে।
কাজটা এখন শুধু পুটু একা না ময়নার মা, আম্মু যে যখন পারে করে। কাক দুটোও জানে কখন পাওয়া যাবে খাবার। পাশের আমগাছে বাসা। তার অনতি দূরে পুটুর দেয়া খাবার। ওদের আর কি চিন্তা।
পুটুকে সবাই কাক বন্ধু বলুক তাতে লজ্জা কী। এ বাসার সবাইতো এখন কাক বন্ধু!
পুটু ভেবে মুচকি হাসে বার বার।

SHARE

Leave a Reply