Home গল্প গহিন সাগর তলে -হারুন ইবনে শাহাদাত

গহিন সাগর তলে -হারুন ইবনে শাহাদাত

সালমান দূরবীনটা আরো ভালোভাবে তাক করে। রাতের আবছা আঁধারেও জায়গাটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে অচেনা নাম না জানা দ্বীপটা ঘিরে একটা আলোর বৃত্ত খেলা করছে। বঙ্গোপসাগরের মাঝে নির্জন দ্বীপ। জনমানুষের চিহ্ন নেই। এত গভীরে এই দ্বীপের খবর এখনো জানা-জানি না হাওয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড কারো টহল বোট এই এলাকায় সাধারণত আসে না। এখন গভীর রাত। উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলের সুস্পষ্ট উপস্থিতি দেখে সহজেই অনুমান করা যায় কমপক্ষে এখন রাত ৩টা বাজে। এত রাতে এই নির্জন দ্বীপে ওরা কারা? আশপাশে কোন নৌকা নেই। হেলিকপ্টারও নেই তাহলে ঐ মানুষগুলো কোথা থেকে এলো। ওরা এখানে কী করছে? কোন জলদস্যু নয় তো? না জলদস্যু হলে নিশ্চয় দ্বীপের আশপাশে কোথাও নৌকা নয় তো জাহাজ নোঙর করা থাকত। তাহলে ওরা কারা? এই দ্বীপের সন্ধানই বা ওরা পেলো কিভাবে? যে দ্বীপের খবর বঙ্গোপসাগর কর্তৃপক্ষের কাছে, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের মানচিত্রে নেই, তার খবর ওরা পেলো কিভাবে?
একটি গবেষণার কাজে এই রাতের বেলা সাগরে এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ৫ জন শিক্ষার্থী। অভিযাত্রী দলের নেতা সালমান অনেক দূর থেকে দূরবীন দিয়ে দ্বীপটিকে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে। না, তার কাছে মনে হচ্ছে এরা জলদস্যু টাইপের কেউ নয়। এদের অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। তবে কি এরা ভিন্ন দেশী কেউ? দূরবীন চোখে লাগিয়ে সালমান দেখার চেষ্টা করে, না তেমন কোন চিহ্ন চোখে পড়ে না। ওরা আরো কাছে যাবে না কি না, তা ভাবতে থাকে। কিন্তু লোকাল কোস্টগার্ড কিংবা নৌসদর দপ্তরকে না জানিয়ে ঝুঁকি নেয়া কি ঠিক হবে? দলের সব সদস্য একমত হয়, ঠিক হবে না। দস্যু টাইপের কোন দল থাকলে ওদের জীবন নিয়ে ফেরা কঠিন হবে। সাত-পাঁচ ভেবে সালমান স্পিডবোটের গতিপথ বদল করে হোটেলে ফিরে আসে।
সালমান হোটেলে ফিরে এলেও তার মাথা থেকে কিছুতেই ঐ নিঝুম দ্বীপ রহস্যটাকে সরাতে পারছে না। সাগরের এত গভীরের অচিন দ্বীপে ঐ অচিন মানুষগুলো কী করছে। তাদের কাজইবা কী? বিষয়টি আর কারো সাথে শেয়ার করবে না কি একাই এই রহস্যের জট খুলবে স্থির করতে পারছে না। হোটেলের নরম বিছানায় শুয়েও তার ঘুম আসছে না। বার বার এপাশ ওপাশ করছে। এভাবে কতক্ষণ কেটে গেলো। মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের সুমধুর ধ্বনিতে ঘোর কাটলো সালমানের। দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে অজু করে মসজিদের দিকে ছুটলো। নামাজ শেষে হোটেলে এসে প্রতিদিনের অভ্যাস মতো পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন করতে বসলো। সূরা আর রহমানে এসে ওর চোখ আটকে গেলো: ‘তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মোতি ও প্রবাল। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রণাধীন) অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?’ সালমান ভাবে সাগরের মাঝেই আল্লাহতায়লা লুকিয়ে রেখেছেন মহামূল্যবান মণিমুক্তা। নিঝুম দ্বীপের ঐ মানুষগুলো কি তাহলে মণি-মুক্তার সন্ধান করছে। সালমান উত্তেজনা আর ধরে রাখতে পারে না। কোরআন অধ্যয়ন শেষ করে, আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ‘হে বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই রহস্যের জট খোলার শক্তি, সাহস ও সামর্থ্য দিন।’


‘কেমন আছেন সালমান ভাই!’ ডাক শুনে নাশতার টেবিল থেকে মাথা তুলে সালমান।
আরে মুহিত কেমন আছো? বসো, নাশতা করেছো?
মুহিত একটি চেয়ার টেনে সালমানের পাশে বসে। সালমান ওর জন্যও নাশতার অর্ডার দেয়। তারপর জানতে চায়, ‘কক্সবাজার কবে এলে?’
: রাতে এসেছি।
: তা হঠাৎ?
: হ্যাঁ মাঝে মাঝেই আসতে হয়। লেখা-পড়ার সাথে সাথে একটি পারটাইম জব নিয়েছি।
: কী কাজ নিয়েছো, লেখা-পড়ার ক্ষতি হয় না?’
: না, যেহেতু মাকের্টিং পড়ছি, কাজটিও আমার বিষয়ের সাথে মানানসই। বরং লাভই হচ্ছে। তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে সাথে বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সাথে সাথে বাবার ওপর কিছুটা হলেও চাপ কমছে।
: সময়…
: কোম্পানি জেনে বুঝেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছে. সপ্তাহে দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস থাকে না। ঐ সময়টায় মাসে দুই বার ঢাকার বাইরে পাঠায়। আর ক্লাস, পরীক্ষার সময়ের সাথে সমন্বয় করে ঢাকার অফিসে কাজ করি। তাই সমস্যা হয় না।
: বেশ ভালো।
: তা ভাইয়া আপনি তো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করছেন।
: তাই তো সমুদ্রের কাছে মাঝে মাঝে আসতে হয়।
: সমুদ্র তো আপনার চট্টগ্রামেও আছে।
: তা আছে, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সৈকত তো নেই।
নাশতা শেষ করে মুহিতের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোটেলের রুমে আসে সালমান। আবার ভাবনাটায় পেয়ে বসে। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ভাবতে থাকে। ওর অনিচ্ছা সত্ত্বেও তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তন্দ্রার ঘোর কাটলে লাফিয়ে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে প্রথমে মনটা খারাপ হলেও পরে ভাবে, ঘুমটার দরকার ছিল। গত রাতে একটুও চোখ বন্ধ করতে পারেনি। সে ফ্রেশ হয়ে এখনই বের হওয়ার কথা ভাবছে।


সালমান ভাবছে এতটা দুঃসাহস দেখানো কি ঠিক হলো। কাউকে সাথে নিয়ে এলে ভালো হতো না। সে রাতে দেখা সেই জায়গাটার খুব কাছাকাছি এসে গেছে, কিন্তু দ্বীপের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। স্কেল, কম্পাস, ঘড়ি দেখে সে বার বার অঙ্ক কষে বুঝার চেষ্টা করছে ঠিক জায়গায় এসেছে কি না? কিন্তু অঙ্ক মিললেও জায়গাটা মিলছে না। দূরবীন বের করে চারদিকে আবার ভালো করে খেয়াল করে। না কোন দ্বীপের অস্তিত্ব আশপাশে নেই। তাহলে সে কি গত রাতে ভুল দেখেছে। ভাবতেই তার শরীরে ঘাম ঝরতে থাকে। একটা অচেনা আতঙ্ক তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফিরে যাওয়ার জন্য স্পিডবোটের দিক পরিবর্তন করতে গিয়ে অবাক হয়। স্পিডবোটের ইনডিকেটরে পানিপথের বদলে স্থলপথের গিরার চাচ্ছে। সালমানের এই স্পিডবোটটি উভয়চর। জোয়ার-ভাটার কারণে চলতে যেন সমস্যা না হয় তাই এই ব্যবস্থা। কিন্তু এই গহিন সাগরে ভাটার টান তা কী করে সম্ভব। গিরার বদল করার পর বিশাল সুন্দর এক দ্বীপ। সালমান তার শরীরে চিমটি কেটে নিশ্চিত হয় সে স্বপ্ন দেখছে না। কিন্তু তার নিজের চোখে দেখা সত্যগুলোকে বাস্তবতার সাথেও মিলাতে পারছে না। সাহস করে একটা পা মাটিতে ফেলে না কোন চোরাবালি নয়। সত্যি সত্যি একটি দ্বীপ। তারপর আরেক পা ফেলে আরেকটু সামনে অগ্রসর হয়। নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দ তাকে আচ্ছন্ন করে। খুশিতে সে সবকিছু ভুলে যায়। দ্বীপের নারকেল গাছের পাতা ছোঁয়া ঝিরি বাতাস তার মনের প্রশান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। বাহ! কী সুন্দর ফুল। দেখতে অনেকটা গোলাপের মতো তবে গোলাপ নয়। সুগন্ধটা গোলাপের চেয়েও বেশি। এই ফুল সে আগে কখনো দেখেছে বলে মনে করতে পারছে না। কী নাম… না মনে আসছে না। আশপাশে কেউ নেই। যাকে জিজ্ঞেস করবে। রাতে দেখা সেই মানুষগুলো কই?
হি হি হি মিষ্টি হাসির শব্দে পেছনে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় সালমান। এখানে এই ছোট্ট মেয়েটি কোথা থেকে এলো। হাসতে হাসতে মেয়েটি এগিয়ে আসছে তারই দিকে। সে ভেবে পাচ্ছে না কী করবে। মেয়েটি তার সামনে এসে দাঁড়ায়। তারপর চোখে চোখ রেখে বলে: ‘আমার নাম দরিয়া এ নূর। তুমি শুধু নূর নামেও ডাকতে পারো।’
সালমান তাকে প্রশ্ন করে : ‘তুমি এখানে কোথা থেকে এলে?’
মেয়েটি অবাক হয়ে বলে : ‘মানে আমি কোথা থেকে এলাম, এর মানে কী? আমি তো এখানেই থাকি। এটাই তো আমার বাড়ি। ভালো করে তাকিয়ে দেখ এখন আর মাছের মতো আমার লেজটি নেই। যখন সাগরের ওপরে দিকে বেড়াতে যাই তখনই শুধু ওটা পরতে হয়।’
সালমান তার কথা শুনে আরও অবাক হয়। মাছের মতো লেজ, তার মানে সে কি মৎস্যকন্যা। কৌতূল চেপে রাখতে না পেরে সে বলেই ফেলে : ‘তুমি কি মৎস্যকন্যা।’
: ‘তোমরা তাই বলো? আমাদের মাছের মতো লেজটা দেখে মনে কর আমরা মৎস্যকন্যা। কিন্তু ওটা লেজ না। আমাদের সাঁতার কাটার পোশাক।’ সালমান কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। সে আস্তে আস্তে ওর স্পিডবোটের দিকে এগোতে থাকে। নূর আবার হি হি হি করে হাসতে হাসতে: ‘বলে কোন লাভ হবে না। তুমি এখন আর বঙ্গোসাগরে নেই। তোমাকে নিয়ে আসা হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের ৫ হাজার কিলোমিটার নিচে।’
: মানে খুব সহজ। তুমি তো সমুদ্রবিজ্ঞানের ছাত্র নিশ্চয়ই জানো, মহাসাগর পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করে আছে। এর নিচে আছে হাজারো রহস্যময় জগৎ। তোমরা পৃথিবীর মানুষ মহাকাশ জয়ে ব্যস্ত সাগরের নিচে তোমাদের তেমন কোন অভিযান নেই।’
: তার মানে?
: মানে খুব সহজ। তুমি এখন প্রশান্ত মহাসাগরের নিচের এক অন্য জগতে আছো। তুমি যেমন পৃথিবীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানের ছাত্র। এখানেও তেমন বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আমার বাবা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তুমি তার হাতে ধরা পড়েছো। ভয় নেই। বাবা তোমাকে এনেছেন তার গবেষণাগারে নিয়ে যাবেন, সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কে তুমি অনেক কিছু জানতে পারবে। চলো-’ বলে ছোট্ট মেয়েটি সালমানের হাত ধরে সামনের দিকে হাঁটতে থাকে।
সালমানের মনে পড়ে যায়, ‘প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের একটি খাদের নাম মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। বিশ্বের গভীরতম বিন্দু রয়েছে এখানেই। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত। মারিয়ানা খাদ একটি বৃত্তচাপের আকারে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার ধরে বিস্তৃত। এর গড় বিস্তার ৭০ কিলোমিটার। এই সমুদ্র খাতটির দক্ষিণ প্রান্তসীমায় গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পৃথিবীপৃষ্ঠের গভীরতম বিন্দু অবস্থিত। এই বিন্দুর নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ এবং এর গভীরতা প্রায় ১১ হাজার ৩৩ মিটার। ১৯৬০ সালের জানুয়ারি মাসে সুইস মহাসাগর প্রকৌশলী জাক পিকার ও মার্কিন নৌবাহিনীর লিউট্যানান্ট ডনাল্ড ওয়ালস ফরাসি-নির্মিত বাথিস্কাফ ত্রিয়েস্ত করে চ্যালেঞ্জার ডিপে অবতরণ করেন। জাক পিকারের বাবা ওগুস্ত পিকার বাথিস্কাফ উদ্ভাবন করেন। জাক ও ডনাল্ড ত্রিয়েস্তকে ১০ হাজার ৯১৫ মিটার গভীরতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে গভীরতম ডিপ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রায় ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার। চওড়ায় এটি মাত্র ৬৯ কিলোমিটার। গভীর সাগরের তলদেশে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এখনো রয়ে গেছে নানা সমস্যা। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা খাদের গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। সে জন্যই তারা চালাচ্ছেন নিত্যনতুন অভিযান। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর অংশটি শেষ হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে ‘চ্যালেঞ্জার ডিপ’ নামের ভ্যালিতে গিয়ে। খাদের শেষ অংশে পানির চাপ এতটাই যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের স্বাভাবিক বায়ুচাপের তুলনায় তা ১০০০ গুণেরও বেশি। এ কারণেই এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির ঘনত্বও প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। খাদের সবচেয়ে নিচু জায়গা ‘চ্যালেঞ্জার ডিপ’ নামটি রাখা হয়েছে জলযান এইচএমএস চ্যালেঞ্জার-২-এর নাম থেকে নিয়ে। স্থানটির তাপমাত্রা এতই কম যে, বিজ্ঞানীরা বলেন, সাগরতলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার স্থান এটিই। কখনো হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিভিন্ন ধরনের খনিজসমৃদ্ধ গরম পানিও বের হয় চ্যালেঞ্জার ডিপের ছিদ্রপথ দিয়ে। এগুলো প্রধান খাদ্য ব্যারোফিলিক জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার। এসব ব্যাকটেরিয়াকেই আবার খায় শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয় এমন কতগুলো ছোট ছোট জীব। এদের খেয়ে বেঁচে থাকে মাছেরা। এভাবেই সাগরতলের এত গভীরেও জীবনের চক্র কিন্তু ঠিকই চলতে থাকে, যেমনটি চলে সাগরের ওপর। অতি ক্ষুদ্র কিছু ব্যাকটেরিয়ারও দেখা মেলে মারিয়ানা খাদে। সাধারণত সমুদ্রতলের গভীরে মৃত প্রাণীর কঙ্কাল, খোলস জমা পড়তে থাকে। মারিয়ানার তলও আলাদা নয়। এখানকার পানির রং সে জন্যই খানিকটা হলুদ। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ চাঁদের মতোই বিরান বলে মন্তব্য করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জেমস ক্যামেরন। পৃথিবীর গভীরতম তলদেশে দুঃসাহসিক অভিযান শেষে উঠে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশ্বনন্দিত এই পরিচালক সাগরের তলদেশে ৩৫ হাজার ৭৫৬ ফুট গভীরে পাড়ি জমান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামের অদূরে অবস্থিত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বলে অভিহিত এই খাদের সবচেয়ে গভীর বিন্দুতে পৌঁছায় ক্যামেরনের সাবমেরিন। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ অভিযানে বিশেষভাবে তৈরি একটি সাবমেরিন ব্যবহার করেন তিনি। ১২ টন ওজনের এই সাবমেরিনটি নিয়ে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাগরতলে প্রায় ১১ কিলোমিটার নিচে নেমে যান। সেখানে পানির চাপ হলো ১০৮.৬ মেগাপ্যাসকেল, অর্থাৎ প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ১৫,৭৫০ পাউন্ড। এই সমুদ্র গভীরতায় দেখা মেলে অবাক করার মতো মাছের। এখানকার বাসিন্দারা সংখ্যায় যেমন অনেক, তেমনি বৈচিত্র্যেও কম নয়।’ এসবই সে বইয়ে, পত্রিকায়, জার্নালে পড়েছে। ক্লাসে লেকচার শুনেছে। কিন্তু এখানে মানুষের মতো কোন প্রাণী আছে- তা তো কেউ বলেনি। ভাবতে ভাবতে কখন সাগরতলের গবেষণাগারের কাছে এসে পড়েছে খেয়ালই করেনি। গবেষণাগারের গেটে একটি বিশাল আকৃতির মনস্টার দেখে সালমান ভয় পেয়ে যায়।
মেয়েটি বলে : ‘ভয় পেয়ো না। এটি গবেষণাগারের পাহারাদার। আমি সাথে না থাকলে তোমাকে প্রবেশ করতে বাধা দিতো এখন আর সে ভয় নেই। চলো বাবা ভেতরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন।’

SHARE

Leave a Reply