Home খেলার চমক আবার এলো বিশ্বকাপ ফুটবল -আবু আবদুল্লাহ

আবার এলো বিশ্বকাপ ফুটবল -আবু আবদুল্লাহ

শুরু হচ্ছে আরেকটি বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি এবার বসছে রাশিয়ায়। ১৪ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে সৌদি আরব বনাম স্বাগতিক রাশিয়ার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। এক মাসজুড়ে ৩২টি দল লড়াই করবে শিরোপার জন্য।
১৫ জুলাই একই মাঠে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এক মাসজুড়ে সারা বিশ্বে ফুটবল ভক্তদের চোখ থাকবে রাশিয়ার ১১টি স্টেডিয়ামের দিকে। হাসি-কান্না, আশা-হতাশার সমীকরণ মিলিয়ে অবশেষে শেষ হাসি হাসবে একটি দল। তারাই হবে আগামী চার বছরের জন্য বিশ্বসেরা ফুটবল দল।
যেভাবে এলো বিশ্বকাপ

১৯০৪ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গঠিত হয় ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, সংক্ষেপে যা ফিফা নামে পরিচিত। বহু বছর আগে ফুটবল খেলা শুরু হলেও এটিই ফুটবলের প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৯২১ সালে সংস্থাটির প্রধান নির্বাচিত হন ফ্রান্সের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা জুলে রিমে। মূলত জুলে রিমের মাথায়ই প্রথম ফুটবলের কোন বিশ্ব আসর আয়োজনের চিন্তা আসে। সে সময় অলিম্পিক গেমসের ফুটবলে যারা সোনার পদক জিততো তাদেরকেই বিশ্বসেরা দল হিসেবে জানতো সবাই। জুলে রিমে চিন্তা করেন ফুটবলের নিজস্ব কোনো বিশ্বকাপ আয়োজনের।
তার সেই চিন্তা বাস্তবায়নে সময় লাগে প্রায় এক দশক। অবশেষে ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। সে বছরটি ছিলো লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তির, তাই সে উপলক্ষে তারা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বাগতিক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক ফুটবলের চ্যাম্পিয়নও ছিলো তারা। তাই উরুগুয়ের বিশ্বকাপ আয়োজনের ইচ্ছের প্রতি সম্মতি দিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি ফিফাকে। ফিফার সদস্য সকল দেশকে বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও ১৩টির বেশি দেশ রাজি হয়নি। মূলত আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ জাহাজযাত্রার কারণেই ইউরোপের দেশগুলো অংশ নেয়নি। মোট চারটি দেশ ছিলো ইউরোপের- ফ্রান্স, বেলজিয়াম, রোমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়া। একই জাহাজে উরুগুয়ে পৌঁছায় তারা। যাওয়ার পথে রিও ডি জেনিরো থেকে তুলে নেয় ব্রাজিল দলকে। দক্ষিণ (লাতিন) আমেরিকার স্বাগতিক উরুগুয়ে ছাড়াও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে ও পেরু। উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো ছিলো সেই বিশ্বকাপে। ৩০ জুলাই একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপের প্রথম দুটো ম্যাচ। ফ্রান্সের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারে মেক্সিকো। আর বেলজিয়ামকে ৩-০ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ট। রাজধানী মন্টেভিডিওর সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই প্রতিবেশী উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জেতে স্বাগতিকরা। ফাইনালে দর্শক ছিলো ৯৩ হাজার।
সেই শুরু এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ফিফাকে। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি বিশ্বকাপ। অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে পারেনি। প্রতিনিয়ত বেড়েছে বিশ্বকাপের পরিধি, জৌলুস। ১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৩২টি দল। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০টি আসরে শিরোপা জিতেছে ৮টি দল। এর মধ্যে ব্রাজিল ৫ বার, ইতালি ও জার্মানি ৪ বার করে, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ২ বার করে, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ও স্পেন একবার করে এই শিরোপা জিতেছে।

যে ট্রফির জন্য লড়াই
বিশ্বকাপ ফুটবলে বিজয়ীরাই চার বছরের জন্য বিশ্বসেরা দলের খেতাব পায়। জয়ের স্মারক হিসেবে তাদের দেয়া হয় মোটা অঙ্কের প্রাইজমানি ও একটি ট্রফি। তবে ট্রফিটি চিরতরে দেয়া হয় না। জিতে নেয়ার কিছুদিন পর ওই দেশ ফিফাকে আসল ট্রফিটি ফেরত দেয়, এর বদলে ফিফা তাদেরকে একই রকম দেখতে আরেকটি নকল ট্রফি তৈরি করে দেয়। বর্তমানে বিশ্বকাপে যে ট্রফিটি চলছে সেটি ১৯৭০ সালে তৈরি করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি ট্রফিটির ওজন ৬.১৮ কেজি, উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার। এটির নকশা করেছেন ইতালীয় শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগা।
তবে এটি বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফি নয়। প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফিটির নাম ছিলো জুলে রিমে ট্রফি। ফিফার সাবেক সভাপতি ও বিশ্বকাপের স্বপ্নদ্রষ্টা জুলে রিমের নামে ছিলো ট্রফিটির নাম। সে সময় নিয়ম ছিলো কোন দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে তারা ট্রফিটি চিরতরে নিয়ে যাবে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয় করার পর জুলে রিমে ট্রফি চিরতরে নিয়ে যায়। অবশ্য কিছুদিন পর ব্রাজিলের একটি প্রদর্শনী থেকে চুরি হয়ে যায় জুলে রিমে ট্রফি। সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য ১৯৬৬ সালেও ইংল্যান্ড থেকে চুরি হয়েছিলো সেটি। লন্ডনে পিকলস নামে একটি কুকুর ট্রফিটি উদ্ধার করে।
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে নতুন এই ট্রফিটি তৈরি করে ফিফা। দু’পাশ থেকে দু’জন অ্যাথলেট হাত উঁচু করে বিশ্বকে ধরে রেখেছেন এমন নকশা রয়েছে ট্রফিটিতে। সাতটি দেশের ৫৩টি ডিজাইন থেকে ফিফা বেছে নিয়েছিল গাজ্জানিগার ডিজাইনটি। প্রতিবার বিশ্বকাপ জয়ী দলের নাম খোদাই করে লেখা হয় ট্রফিটিতে।

টপ ফেবারিট যারা

জার্মানি
এবারের বিশ্বকাপের ফেবারিটদের তালিকায় সবার আগেই থাকবে জার্মানির নাম। গত বারের চ্যাম্পিয়নরা এবারো শিরোপার বড় দাবিদার। দলটির সবচেয়ে বড় তারকা বলা হচ্ছে কোচ জোয়কিম লোকে। ২০০৬ সালে জার্মানির দায়িত্ব নেয়ার পর দলটিকে গড়ে তুলেছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। ইউরোপের গতিময় ফুটবলের সাথে চমৎকার পাসিং এই দলটির বড় সম্পদ। এত দ্রুতও নিখুঁত পাসিং বর্তমানে আর কোন দলের মধ্যে দেখা যায় না।
আবার প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা আক্রমণে (কাউন্টার অ্যাটক) যাওয়ার ক্ষেত্রেও দলটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই জার্মানি দলটি কতটা দুর্ধর্ষ তা বোঝার জন্য গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক দল ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানো ম্যাচটিই যথেষ্ট। দলে আছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলার।
সবচেয়ে বড় তারকা স্ট্রাইকার থমাস মুলার ও মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। আক্রমণে তাদের সাথে আরো থাকবেন সামি খেদিরা, স্যান্ড্রো ওয়াগনার ও তরুণ টিমো ওয়ার্নার। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ রচনা করার জন্য আরো থাকবে গত বিশ্বকাপের ফাইনালের গোলদাতা মারিও গোটসে, রিয়াল মাদ্রিদের তারকা টনি ক্রুস। আর রক্ষণভাগে থাকবেন বায়ার্ন মিউনিখের নিকোলাস সুল, জোনাস হ্ক্টের।
ব্রাজিল
শিরোপার আরেক দাবিদার ব্রাজিল। গত বিশ্বকাপের তরুণ ব্রাজিল এবার রাশিয়া গেছে অনেক পরিণত হয়ে। তাই তাদেরকে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। দলটির রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ তিন দিকেই শক্তিশালী। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। তার কাঁধে ভর করেই গত বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়ার দুঃখ ভুলতে চায় দলটি। রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে এবার বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যোগ দিয়েছেন নেইমার। বিশ্বকাপে তার পাশে থাকবেন এ বছর বার্সেলোনায় যোগ দেয়া ফিলিপো কৌতিনহো ও ম্যান সিটির তরুণ স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসাস ও জুভেন্টাসের ডগলাস কস্তা।
মাঝমাঠে কোচ তিতে হয়তো ভরসা রাখবেন বার্সেলোনার আরেক তারকা পাওলিনহোর ওপর। তার সাথে থাকতে পারেন চেলসির উইলিয়ান ও লিভারপুলের রবার্তো ফারমিনো। ডিফেন্সে রিয়াল মাদিদ্রের মার্সেলো আর পিএসজিতে নেইমারের সতীর্থ অভিজ্ঞ দানি আলভেস হবেন মানিক জোড়। তাদের সাথে থাকতে পারেন থিয়াগো সিলভা ও ফ্যাগনার। ব্রাজিলের রক্ষণভাগই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে দুই অভিজ্ঞ সেনানী মার্সেলো আর দানি আলভেসের প্রতিরোধ ভাঙা কঠিন হবে যে কোন দলের স্ট্রাইকারদের জন্য।

আর্জেন্টিনা
লিওনেল মেসির দলকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অনেকেই আর্জেন্টিনাকে ফেবারিটের তালিকায় রাখতে নারাজ। তবে মেসি যে দলে আছেন তাদেরকে কোনো সমীকরণ থেকেই বাদ রাখার সুযোগ নেই। বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি যে কোন অবস্থাতেই দল নিয়ে উতরে যেতে পারেন বাধা। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে পেরুর বিরুদ্ধে তার হ্যাটট্রিক আর্জেন্টিনাকে যেভাবে খাদের কিনার থেকে তুলে এনেছে তার পর আর এ নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো।
মেসির পাশাপাশি দলে আছেন একাধিক তারকা, তবে মেসির তারকা খ্যাতি আর দক্ষতার তুলানায় যোজন যোজন পিছিয়ে তারা। আক্রমণ ভাগে মেসির পাশে থাকবে গঞ্জালো হিগুইন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সহজ গোল মিস করার কুখ্যাতি আছে যার। তবে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া আর সার্জিও আগুয়েরো যে কেউ জ্বলে উঠলে বিপদ হবে প্রতিপক্ষের জন্য। মাঝমাঠে আছেন এভার বেনেগা, লুকাস বিলিয়া আর লিওনার্দো পেরেদেস। দলের প্রয়োজনে ইদানীং মেসিও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন।
রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর্জেন্টিনার আজীবনের। এখানে অনেক দিন ধরে জাভিয়ের ম্যাচেরানো দলের মূল ভরসা হয়ে থাকলেও তার সঙ্গীরা প্রায়ই ফর্মহীনতায় ভোগেন। ম্যাচেরানোও বুড়িয়ে গেছেন। তাই এবার মূল দায়িত্ব নিতে হবে গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা মার্কেসা রোহো আর নিকোলাস ওটামেন্ডিকে। গোলপোস্টের নিচে আগের দুবারের মতোই ভরসা হয়ে থাকবেন সার্জিও রোমেরো। আর্জেন্টিনা বরাবরই তারকাসমৃদ্ধ দল, তবে এবার মেসি ছাড়া অন্যরা সবাই ফর্মহীনতায় ভুগছেন। মেসিকে তারা যোগ্য সঙ্গ দিতে পারলে জর্জ সাম্পাওলির শিষ্যদের জন্য শিরোপা জেতা কঠিন হবে না।
স্পেন
দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে রেড ডেভিলসরা। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদের সেরা একাদশের একঝাঁক তারকা খেলোয়াড় আছে দলটিতে। তাই গত বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে এবার আবার শিরোপার লড়াইয়ে নামবে দলটি। দলের সবচেয়ে বড় তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ক্যারিয়ার জুড়ে বহুসাফল্যের মুখ দেখা এই বর্ষীয়ান মিডফিল্ডার ক্যারিয়ারের শেষ করতে চাইছেন আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে। স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা মাঝমাঠ। মাঝমাঠে ইনিয়েস্তার সাথে থাকবেন সার্জিও বুসকেটস ও ডেভিড সিলভা। আক্রমণভাগে আছেন আলভারো মোরাতা আর ডিয়াগো কস্তা। ডিফেন্স সামলাবেন অভিজ্ঞ জেরার্ড পিকে ও সার্জিও রামোস। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে দলটি। তাই ১৫ জুলাই শিরোপা হাতে তাদের উৎসব করতে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ফ্রান্স
জিনেদিনে জিদানের যুগের পর সেই ফ্রান্সকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। জিদানের হাত ধরে একটি শিরোপা জয় (১৯৯৮) ও একবার রানার্সআপ (২০০৬) হওয়া দলটি অনেকদিন ধরেই নিজেদের হরিয়ে খুঁজছে। তবে এবার দলটিকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে সমর্থকরা। সর্বশেষ ২০১৬ ইউরোতে ফাইনাল খেলেছিলো দলটি।
দলের প্রধান দুই তারকা পিএসজিতে নেইমারের সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে ও অ্যাথলেটিকো মাদিদ্রের অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান। দুজনেই দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন। তাদের সাথে আছেন চেলসির অলিভিওর গিরৌড। মাঝমাঠে সময়ের আলোচিত খেলোয়াড় পল পগবা আর ডিফেন্সে স্যামুয়েল উমতিতি বড় দু’টি নাম। অন্য খেলোয়াড়রা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে পারলে ফ্রান্স বিশ্বকাপে বাজিমাত করতে পারে। কোচ ডিডিয়ার ডেসচ্যাম্পস অনেকদিন ধরেই দলটিকে বিশ্বকাপের বাজির ঘোড়া হিসেবে প্রস্তুত করতে চেষ্টা করছেন।

পর্তুগাল
২০১৬ সালের ইউরো চ্যম্পিয়নশিপে ইউরোপ মহাদেশের বাঘা বাঘা ফুটবল শক্তিকে পেছনে ফেলে শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। সবচেয়ে বড় কথা এটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। রোনালদো একাই যে কোন ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। দশ বছর ধরে মেসির সাথে পাল্লা দিয়ে ফুটবল বিশ্বে দাপটের সাথে বিচরণ করছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মহাতারকা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গতি আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করার দক্ষতা যে কোন দলের রক্ষণভাগকে চমকে দেবে। মাঝ মাঠে উইলিয়াম কারভালহো, বার্নাডো সিলভা আর জোয়াও মাওতিনহো রোনালদোকে বল জোগান দেবেন। ডিফেন্সে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সেনানী পেপে থাকবেন মূল ভরসা হয়ে।

আরো যাদের হিসেবে রাখতে হবে

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ীরা। এরপর পর ডেভিড বেকহ্যাম ও ওয়েন রুনিদের যুগে দাপটের সাথে বিচরণ করলেও এখন সেটাও নেই। তবু ইংলিশদের বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। ইউরোপের প্রথম সারির দলটি বিশ্বকাপে যে কোন কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে। ইংল্যান্ড দলের প্রধান তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মার্কাস রাশফোর্ড।
গত এক বছর ধরে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে দাপটের সাথে বিচরণ করছেন মিসরের স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের এই তারকা গত মৌসুমে মেসি রোনালদোর সাথে সমানতালে ফুটবল খেলেছেন। ২৮ বছর পর মিসরকে তুলেছেন বিশ্বকাপের মূলপর্বে। বিশ্বকাপে তাই সালাহ চমক দেখালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মিসর দল হিসেবে খুব একটা আলোচনায় আসার মত না হলেও সালাহ একাই ম্যাচ জিতিয়ে দলকে করতে পারেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ ছাড়া ইউরোপের দল বেলজিয়ামও দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড বিশ্বকাপে এসেছে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে থেকে। তাই তাদেরও হিসাবে রাখতে হবে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে রাশিয়াও চমক দেখাতে পারে। ফুটবলে আবার স্বাগতিক দেশের ভালো ফলাফল করার অতীত ঐহিত্য আছে।

SHARE

Leave a Reply