Home ছড়া-কবিতা ছড়া-কবিতা

ছড়া-কবিতা

ঘরবাড়ি
নাহিদ নূর

পুরাতন বাড়ি নিয়ে কতো কাড়াকাড়ি
শহরের বুকে শত ঘরবাড়ি সারিসারি
আগের ঝামেলা দূর করো তাড়াতাড়ি
আগের ঝামেলা নিয়ে নয় বাড়াবাড়ি।

পুরাতন কথা নিয়ে নয় কান্নাকাটি
নতুন ভাবনা নিয়ে করো বাড়াবাড়ি।
ঘরের কোনায় বসে নয় কান্নাকাটি
তুমি পাবে একদিন ভালো বাড়ি গাড়ি।

 

ঈদ এসেছে
মাইন উদ্দিন জিলানী

রোজার শেষে চাঁদ উঠেছে
ওই আকাশের পানে
খোকা খুকি নাচছে সবাই
ঈদের গানে গানে।

রোজার শেষে ঈদ এসেছে
জাগছে মনে খুশি
নতুন কাপড় নিতে খুকি
বাইনা ধরছে বেশি।

ঈদের দিনে দামাল ছেলে
আনন্দ করে বেশ
সেই আনন্দ এত্ত বেশি
বলার নাই যে শেষ।

 

ঈদ যখন এলো
শিহাবুদ্দিন মানিক

ঈদ যখন এলো
দুঃখ ভুলে সবার মনে
খুশির পরশ পেল।

ঈদ যখন এলো
হিংসা ভেদাভেদ
সবাই ভুলে গেল।

ঈদ যখন এলো
ধনী-গরিব মিলে মিশে
এক কাতারে এল।

ঈদ যখন এলো
ভ্রষ্টতাকে দূরে দিয়ে
সাম্যের গান গেল।

 

সোনার ফসল
জাহাঙ্গীর আলম

চৈত্র মাসে কৃষক হাসে
সোনার ফসল দেখে,
নতুন ফসল তুলবে ঘরে
বুকে আশা মেখে।

কৃষক মনে খুশির ঝিলিক
পাবে নতুন ধান,
রাখাল ছেলে গাইতে থাকে
ভাটিয়ালি গান।

নতুন ধানের চিকন চালে
হবে স্বাদের ভাত,
এমন ভাবে কাটবে সবার
দিবস কিবা রাত।

সবুজ মাঠে সোনার ফসল
কৃষক মুখে হাসি,
নতুন ধানের পিঠা পায়েস
খেতে ভালোবাসি।

কৃষক ভাই স্বপ্ন বোনে
মুখে খুশির রেখা,
নতুন ধানে গোলা ভরবে
পাবে সুখের দেখা।

 

ঈদের আমেজ
তরিকুল ইসলাম মাসুম

মুসলমানদের দুটি উৎসব
ঘুরে ফিরে আসে
সকল শ্রেণীর মানুষগুলো
খুশির বানে ভাসে।

ধনী-গরিব নাই ভেদাভেদ
কোলাকুলি করে
ছোট বড় এক কাতারে
ঈদের নামাজ পড়ে।

সবার গায়ে নতুন পোশাক
হাসে হৃদয় খুলে
এই দিনের জন্য হলেও
সব হতাশা ভোলে।

ফিরনি পায়েস ঘরে ঘরে
বিরতি সব কাজে
ঈদের আমেজ সারা বছর
থাকুক সবার মাঝে।

 

মামা দিলো জামা
জুবায়ের বিন ইয়াছিন

দূর আকাশে মিনার ঘেঁষে
একফালি চাঁদ মুচকি হেসে
যেই দিয়েছে উঁকি
ওই অমনি মাতলো পাড়ার
সকল খোকা-খুকি।

মাতলো খোকা-খুকি সবে
চাঁদের মুখোমুখি হবে
ঘুম ছুটেছে দূরে
আজকে খুশি বান ডেকেছে
সবার সুরে সুরে।

সুরে সুরে খুশির চোটে
একই সাথে উঠলো ফুটে
সবার মুখে ‘মামা’
মামায় দিলো রঙিন নতুন
টুকটুকে লাল জামা।

 

ঈদ এসেছে
জাকারিয়া খান সৌরভ

ঈদ এসেছে ঈদ
তবে কেন জিদ?
নতুন জামা জুতো দেব
ফিরনি পায়েস সেমাই দেব
নতুন টাকার নোট দেব
বিনিময়ে আমি কেবল
ভালো থাকার দোয়া নেব।

 

মন রয়েছে কোথায়
আজাহার গাজী

নীল আকাশে মেঘের কলস যেই হয়েছে উপুড়,
মনটা আমার হলো যে আজ একটি ভিজে দুপুর।
আকাশ জুড়ে ওড়ে না আর শালিক টিয়ে চিল,
দু’চোখ বুজে আঁকি আমি ডাকাতিয়া বিল।

মন চায় আমার বিন্দু হয়ে সিন্ধু পানে যেতে,
আকাশ কোণে হারিয়ে যাওয়ার পথ রয়েছে পেতে।
মন রয়েছে দূর আকাশের বৃষ্টি ফোঁটার মাঝে,
মনকে আমার খুঁজে পেতে মনই লাগে কাজে।

মন রয়েছে জীবন খাতার নিবিড় সবুজ গুচ্ছে,
মন রয়েছে উড়ো পাখির পালক মেলা পুচ্ছে।
মন রয়েছে ভৈরব নদীর মাছের নরম পাখায়,
মন আছে মোর একলা একা গাছের প্রতি শাখায়।

মন কখনো একা একা ঘাসের ডগায় বসে,
শিশির হয়ে ভিজিয়ে দেয় ভোর বিহানে এসে।
মন রয়েছে মনের কোণে মন রয়েছে নুয়ে,
মন চলেছে প্রজাপতির রঙিন ডানা ছুঁয়ে।

.

ঈদের দিন
নাওশিন মুশতারী

ঈদটা আসে সবার প্রাণে
নতুন জোয়ার নিয়ে,
ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়ুক
ভালোবাসা দিয়ে।

ঈদটা যেন হয় সকলের
আনন্দতে মাখা,
আমরা সবাই পরস্পর
একই গাছের শাখা।

ঈদের দিনে ঝগড়া-বিবাদ
সবই ভুলে যাও,
এমন দিনে দুখী জনকে
আপন করে নাও।

 

খোকন সোনা
ইসলাম তরিক

খোকন সোনা চাঁদের কণা
আগামীর সব স্বপ্ন বোনা
এই হৃদয়ের মাঝে,
তাকে ঘিরে স্বপ্ন আঁকি
মিষ্টি সুরে কাছে ডাকি
সকাল-বিকাল-সাঁঝে।

খোকন সোনার মিষ্টি হাসি
কথাগুলো সুরের বাঁশি
জুড়ায় আমার মন,
আধো-আধো ভাঙা গলায়
মিষ্টি-মধুর কৃষ্টি-কলায়
মাতায় সারাক্ষণ।

খোকন সোনার সকল কাজে
হেসে হেসে মরি লাজে
ভুলি সকল দুখ,
এই হৃদয়ের ছোট্ট নীড়ে
স্বপ্ন দেখি তাকে ঘিরে
খুঁজি অসীম সুখ।

 

ঈদ মানে তো হাসিখুশি
ওয়াহিদ আল হাসান

ঈদের হাসি ঈদের খুশি
নয় তোমাদের জন্য
মানুষ হয়েও মারছে মানুষ
হয়ে পশু বন্য।

মানুষ কি ভাই করতে পারে
মানুষের সুবিচার
সুযোগ পেলেই চালায় খড়গ
জুলুম আর অবিচার।

সুবিচারক একজনই ভাই
বিচার দিনের মালিক
তিনি হলেন সবার জন্য
রাজ্জাক এবং খালিক।

ঈদের খুশি সার্থক হবে
জুটলে হাসি ঘরে
ঈদ মানে তো হাসিখুশি
গরিব-ধনীর তরে।

 

ঈদে হয়
জাকারিয়া আজাদ

ঈদে হয় পাড়া পড়শি
স্বজনের মেলা
ভালোবাসার পরশে
হৃদয়ের খেলা।
ঈদে হয় দুঃখ আর
বেদনার ছুটি
সুখ সুখ একাকার,
খায় লুটোপুটি।

ঈদে হয় লাচ্ছি সেমাই
পায়েসের ধুম
থাকে না কারো চোখে
আয়েশি ঘুম।
ঈদে হয় নতুন নতুন
পোশাকের সাজ
বড়দের সম্মান, স্নেহে
ছোটদের কাজ।

ঈদে হয় গরিবেরও
ঠোঁট জুড়ে হাসি
বলে ওরা ঈদটারে
খুব ভালোবাসি।
ঈদ যদি হতো এমন নিত্য
খুশিতে ভরে যেতো চিত্ত ।

 

চাঁদের হাসি
রেদওয়ানুল হক

চিকন চাকন চাঁদের হাসি
ঢালছে যে সুখ রাশি রাশি
বলছে কথা কী যে
আনন্দে যাই ভিজে!

হরেক রকম খানা খেয়ে
যাচ্ছি খুশির গানা গেয়ে
কেউ করে না নিষেধ-বারণ
কেউ করে না ছিঃ যে!

আজকে এমন লাগছে ভালো
মনের কোণে জাগছে আলো
ইচ্ছে করে পাখির মতো
যাই হারিয়ে নিজে॥

 

আমার এ-দেশ
ফজলুল হক তুহিন

সকালের রোদে সোনা ঝরে পড়ে শিশিরের ডাকে
মেঘে রঙ হাসে লুকোচুরি খেলে সূর্যের বাঁকে।
আকাশে বাতাসে পাখির উড়াল মুখরিত প্রাণ
নদীর ঢেউয়ে নায়ের বাদাম ভাটিয়ালি গান।

ধানের খুশিতে সবুজ ভাসছে দিগন্ত জুড়ে
বকের মিছিল ডানা মেলে দূর বিলে যায় উড়ে।
ঋতু রঙে রাত দিন প্রকৃতির নানা রূপ খেলা
আনন্দে কেটে যায় শিশু-কিশোরের সারা বেলা।

ঘুড়ি ওড়ে ছিঁড়ে দৌড় ঝাঁপ গোধূলির রঙে আঁকা
নদীতে পুকুরে অবাধ সাঁতার হইচই মাখা।
পাঠশালা যেতে যেতে পথ মাঠ সবুজ ছাড়িয়ে
অলীক স্বপনে মন মেতে ওঠে শাসন মাড়িয়ে।

সোনার ফসলে ভরে ওঠে ঘর জীবনের গানে
আমার এ-দেশ বিপদ এলেও প্রতিরোধ জানে।

 

স্বতেজ
যাকিউল হক জাকী

আমি বকুল ফুলের সুবাস নিতে
গোলাপ কাঁটায় বিঁধতে চাই
সাগর বুকের উত্তাল ঢেউয়ে
মাতাল হাওয়াই মত্ত তাই।

আমি আকাশ উদার বিশাল ছোঁয়ায়
ঝড়ের দাপট হিংস্রতায়
গহিন বনের নীরব ছায়াই
ঐক্যতানের আভাস পাই।

আমি শীতের কোমল পরশ পেতে
গ্রীষ্ম দাহন তীব্রতায়
কালবৈশাখের ঝড়ের মত
বসন্তে মন সিক্ততায়।

আমি খোদার রঙে রঙিন হতে
যতই আঘাত কষ্ট পাই
ব্যথায় বিধুর আঘাত সয়েও
সত্য পথে মরতে চাই।

 

আলোয় ভরা জীবন
মনসুর আজিজ

ওই যে দূরের আকাশ ডাকে আয়
মাঠ পেরিয়ে বন পেরিয়ে
তিনমাথা পথ বাঁক এড়িয়ে
আয়রে কিশোর দেখরে অজানায়।

আলের পরে আল গিয়েছে বেঁকে
ফুল ফসলের নানান রঙে
মাঠ সাজে তার আপন ঢঙে
পথের ছবি যাসরে মনে এঁকে।

ওই যে নদীর জোয়ার ডাকে আয়
বুক ভরা তার প্রাণের ফোঁটা
গাছের ডালে ফলের বোঁটা
নিঝুম দুপুর আশার দেখা পায়।

মনের ভিতর আকাশ আছে আঁকা
ছুটছে মনে আশার নদী
নিত্য চপল নিরবধি
আলোয় ভরা জীবন সুখে থাকা।

 

একফালি চাঁদ
আবু তাহের বেলাল

প্রতি বছর রোজার শেষে ঈদ-উল-ফিতর আসে
আকাশ বুকে একফালি চাঁদ মেঘের নায়ে ভাসে,
যায় থেমে সব কাজের বহর নাচে শহর পল্লী-
দেখতে পেলে আলহেলাল ঐ মন খুলে সব হাসে।

ধুম পড়ে যায় ঈদ আয়োজন হয় যে খুশির বৃষ্টি
হাজার ফুলের আবির মেখে দোলে তামাম সৃষ্টি,
নতুন জামা জুতোর গন্ধে ঘুম আসেনা রাত্রে-
রাঁধবে কী মা কী খাওয়াবে সে দিক থাকেও দৃষ্টি।

ফেরেস্তারা সারি সারি দলবেঁধে গীত গায়রে-
কে নিবি আয় খোদার রহম আয়রে ছুটে আয়রে,
সত্যিকারের রোজাদারেই খোদার রহম পাবে-
লোক দেখানো রোজার আমল উপবাসেই যায় রে।

নতুন জামা গায় জড়িয়ে আতর লোবান মাখি
ঈদের জামাত শেষে সবাই বুকেতে বুক রাখি,
ক্ষণ তরে যাই ভুলে সব হিংসা রেষারেষি-
দুলে ওঠে পরাণ পাখি ঘর ছেড়ে যায় আঁখি।

ঈদের আসল ছবিটা যে যায় না আজও আঁকা
বুকের ভেতর খুব মনে হয় শূন্য এবং ফাঁকা,
গরিব দুঃখীর হাহাকারে আকাশ বাতাস ভারি-
ঈদের সকল সুখ আয়োজন পড়ছে ধুলোয় ঢাকা।

যে সমাজে নিঃস্ব পথিক নিভৃতে আজ কাঁদে
সে সমাজের ঈদের আমেজ মলিন আর্তনাদে,
বিভেদবিহীন ন্যায় আলোকে গড়লে সমাজটাকে-
ঈদের খুশির ঢেউ খেলে যায় একফালি অই চাঁদে।

 

কবিতার ছবি
মাহমুদুল হাসান নিজামী

কবিতা কারো ভালো লাগে না
এমনকি হতে পারে
কবিতার মত কবিতা হলে
মনটা তবে ভরে।
কবিতা যদি কবিতা হয়
মনের থাকে ছোঁয়া
ছন্দের তালে ছল ছল করবে
মনের গহিন কুয়া।
কবিতা মানে জীবন সাজানো
নবীন সুরের তানে
কবিতা মানে মরা গাঙে
স্রোতের ধারা আনে।
মন যাদের আছে তাদের
কবিতাও থাকে বুকে
বেদনার ভার অবমুক্ত
জীবন সুখে দুঃখে।
কবিতা মানে ভালোবাসা
নীল নিসর্গ রবি
মারজান যেন মুখের হাসিও
এক কবিতার ছবি।
কবিতা যে চোখের কোণে
কাজল হয়ে ভাসে
মুখের ভাঁজে চুলের সাজে
সনেট হয়ে হাসে।

 

ঈদের খুশি
সায়ীদ আবুবকর

হাসছে খুকু, খুকুর পুষি
হাসছে দোয়েল, মৌটুসী
সবার মুখে ঈদের খুশি।

হাসছে খোকা, খোকার জামা
টুপি মাথায় হাসছে মামা।
হাসছে নানার শুভ্র দাড়ি
নানীর রাঁধা গোশের হাঁড়ি।
সেমাই পায়েস মিষ্টিমিঠাই
বলছে, ‘এসো খুশি ছিটাই!’
ধনী-গরিব একই সাথে
খাচ্ছে খানা এক থালাতে।
খুশি খুশি খুশির পাহাড়
সেই যে খুশির কতই বাহার।
সেই খুশিতে দিশেহারা
শহর-নগর গ্রাম ও পাড়া।

সেই খুশিতে ছুটতে ছুটতে
দূর পাহাড়ে উঠতে উঠতে
ঘড়ির কাঁটার নেই তো হুঁশইÑ
কোন্ সে ফাঁকে
কোন্ সে নদীর চোরা বাঁকে
হারিয়ে গেল ঈদের খুশি।

 

ঈদের শপথ
স্বপন মোহাম্মদ কামাল

রোজার শেষে ঈদ এসেছে বড় লোকের ঈদ
ওদের ছেলে হাতি ঘোড়া কিনতে ধরে জিদ।
কিনবে হাতি কিনবে ঘোড়া, কিনবে আরো গাড়ি
সোনা-হীরের গয়নাগাটি, চোখ ধাঁধানো শাড়ি।
ওদের মুখে সোনার চামুচ, মাথায় সোনার তাজ
এত্তো কিছুর পরেও ওদের মন ভরে না আজ।

গরিব লোকের ছেলে মেয়ের জুটলো নাতো জামা
নেইতো ওদের পয়সাওলা খালু কিংবা মামা।
ঈদের দিনেও পায় না খেতে পেটটা ভরে ভাত
কারণ ওরা নিপীড়িত সর্বহারার জাত।
একটি জামা পেলেই ওদের উপচে পড়ে হাসি
এক মুঠো ভাত পেলেই ওদের সুখ যে রাশি রাশি।

এই ব্যবধান লড়াই করেই ঘুচিয়ে দিতে হবে
ঈদের দিনের সার্থকতা উঠবে ফুটে তবে।

 

জান্নাতি বুলবুল
নাসির হেলাল

ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা খোকা খুকু সব
উঠছে মেতে আজকে তারা করছে কলরব।
নতুন জুতা নতুন জামা মাথায় দিয়ে টুপি
গুরুজনকে করবে সালাম চাচা মামা ফুপি।
সবে মিলে পড়বে নামায ঈদগাহেতে গিয়ে
মাখবে আতর সুরমা চোখে মাথায় টুপি দিয়ে।
ফুলের মতো সাজবে তারা হাসবে হাসি সুখে
নামায শেষে কোলাকুলি সুবাস নেবে বুকে।
ফিরনি পায়েস কোরমা খাবে সবার বাড়ি বাড়ি
ঘৃণা বিদ্বেষ যাবে ভুলে যাবে ভুলে আড়ি।
মনের মাঝে ফুলের বাগান ফুটবে মুখে ফুল
হাসবে হাসি ফুলকলিরা জান্নাতি বুলবুল।

 

ঈদ এসেছে
আমিনুল ইসলাম

ঈদ এসেছে মোহন বাঁশির সুরে
চাঁদের দেশে এবং পাহাড় চূড়ে।
খোকা-খুকু ঈদের দোলায় দোলে
পথের শিশু দুঃখ-ব্যথা ভোলে।
পাখির গানে ঈদের খুশি থাকে
শহর গ্রামের ছোট্ট নদীর বাঁকে।
ঘাসফড়িং আর প্রজাপতির পাখায়
ঈদের হাসি ফুল ও গাছের শাখায়।
কোরমা পোলাও মিষ্টি কাবাব কত
ঈদের খুশি বাড়িয়ে তোলে শত।
সিয়াম শেষে ঈদ এসেছে ঈদ
মুমিন হৃদয়ে আল্লাহ প্রেমের ভিত।

 

১২ মাসের প্রকৃতি
আতিক হেলাল

বৈশাখ মাসে শুরু হয় ঝড়-ঝাপটা
প্রথমেই আমাদের বাড়ে ¯œায়ু-চাপটা।
জ্যৈষ্ঠ তো ‘মধুমাস’, পাকে আম-লিচুটা
ভয় শেষে আনন্দ ফিরে পাই কিছুটা।
আষাঢ়েই শুরু হয় দেশজুড়ে বৃষ্টি
মেঘ কালো, কাদা-পানি, কী যে অনাসৃষ্টি!
শ্রাবণের ধারা বহে, পরিবেশ আর্দ্র
মেঘেদের ফাঁকে দেখি উঁকি দেয় ভাদ্র।
ভাদ্রের তাল পাকা গরমের সঙ্গে
বদলের পালা দেখি প্রকৃতির অঙ্গে।
আশি^নে কাশফুল, শিউলি জীবন্ত
মন ছোটে শুভ্রতে, মেঘ পর্যন্ত।
কার্তিকে মাঠ থাকে ধানে পরিপূর্ণ
হাওয়া, ঝড়-ঝঞ্ঝায় হয় সবই চূর্ণ।
অঘ্রাণে ধান পাকে, ভরে যায় মন যে
নবান্ন উৎসব হয় গ্রামে-গঞ্জে।
পৌষ মাসে ভালো লাগে পিঠা-পুলি, রসটা
কারো ঘুম ভাঙতেই বাজে বেলা দশটা।
মাঘ মাসে নেমে আসে চূড়ান্ত ঠাণ্ডা
এই শীতে কাবু হয় বাঘ-হাতি, পাণ্ডা।
ফাল্গুনে রঙ লাগে হৃদয়ে, অরণ্যে
মন হাসে ফুল-পাখি, প্রকৃতির জন্যে।
চৈত্রের দোষ বেশি, মাসটাই রুদ্র
তীব্র রোদের কাছে সব যেন ক্ষুদ্র।

 

পরম পাওয়া ঈদ
ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

রোজার শেষে ঈদের খুশি জাগে শহর-গাঁও,
ঢাকা সিলেট চট্টলা আর বাতামতলি তাও।
গিলাবাড়ি চন্দরিয়া নওগাঁ পলাশপুর,
সবখানেতে খুশির জোয়ার আনন্দেরই সুর।
কেনাকাটার ধুমের পরে টুটে সবার ঘুম,
রান্নাঘরে ব্যস্ত তখন জবা আর কুলসুম।
জামা-শাড়ি টুপির দোকান সবখানেতে ভিড়,
দাম বাড়ে খুব মশলাপাতি চিনিসেমাই ঘির।
ছুটছে বাড়ি খুব জলদি সবার ভীষণ তাড়া,
ঈদ এলেই বাড়ে কেন যানবাহনের ভাড়া?

ঈদের খুশি হাসি হাসি আতর আতর ঘ্রাণ,
আলোর ধারা ভুবনভরা উদার উদার প্রাণ।
ছোটবড় নেই ভেদাভেদ সবাই সমান আজ,
সবার গায়ে নতুন নতুন রঙিন রঙিন সাজ।
ফিরনি পায়েস জর্দা পোলাও খুশবু পাড়াময়,
ধনী-গরিব সবাই জড়ো ঈদগাহে আজ হয়।
এমন খুশির বন্যা বহুক দিনের পরে দিন,
কুণ্ঠিত অন্তরে বাজুক আলোয় ভরা বীণ।
ভালোবাসার চাষাবাদে দিয়ে মনোযোগ,
দাও ঘুচিয়ে সকল রকম হিংসা মনোরোগ।

ঈদ হলো ভাই মিলনমেলা কষ্টভোলার দিন,
থাকবে না আজ মনের মাঝে যন্ত্রণারই চিন।
ফুলে ফুলে অলি ছোটে সবার মুখেই গান,
কী অনাবিল শুভ্র পূত মুক্ত অযুত প্রাণ।
ভেদের প্রাচীর চূর্ণ করে দেয় নতুনের ডাক,
আলোর ডাকেও অন্ধ ধরা হয় যে হতবাক।
ঈদ আমাদের পরম পাওয়া নরম করে দিল,
এমন খুশির দিনে খোলে বদ্ধ ঘরের খিল।

 

আমরা শিশুর দল
আহমদ আখতার

চাঁদটা তো নয় দূর আকাশের
চিত্তে ঈদের সাড়া
ঈদটা তো ভাই গান-কবিতায়
মনটা সবার কাড়া।

ঈদটা হলো দাদী আম্মার
ছোট্ট পানদানি
ফুলের সুবাস সন্ধ্যা-বেলায়
– শাড়িটা জামদানি।

ঈদটা হলো আপুর খুশি
স্বভাবে উচ্ছল
আগামী দিনের সম্ভাবনা
– আমরা শিশুর দল।

 

ঈদ
হাসান আলীম

ঈদ ঈদ ঈদ
ঈদ মানে খুশবু
খোশ দিল হৃদ।

ঈদ ঈদ ঈদ
ঈদ মানে খুশি খুশি
চোখে নেই নিদ।

ঈদ ঈদ ঈদ
ঈদ মানে কোলাকুলি
খুশির নামাজ,

ধনী আর গরিবে
ভেদাভেদ না রবে
সমান সমাজ।

ঈদ ঈদ ঈদ
দুঃখের ঘরে খিল
আনন্দ অনাবিল
খোশ উম্মিদ।

 

আমার স্বপ্ন
আসাদ বিন হাফিজ

বাংলাদেশের মানুষ আমি
বাংলাদেশে বাড়ি
নানা সময় আমার স্বদেশ
পরে নানান শাড়ি।

ধানের ক্ষেতে সবুজ শাড়ি
হালকা বায়ে দোলে
ছোট্ট শিশু দুধ খায় যেনো
বসে মায়ের কোলে।

সোনার ফসল পাকে যখন
ঝুমকো লতা হয়
খুশির গোপন কথা যেনো
কানে কানে কয়।

রূপের গেরাম রূপের শহর
ভাসে মেঘের ভেলা
ফেরেশতারা নীল আকাশে
করছে যেনো খেলা।

আমার স্বপ্ন আশাগুলো
উড়তে সদা চায়
মিষ্টি মনের সবার যদি
ভালোবাসা পায়।

 

ঈদের ঘুড়ি
সাজজাদ হোসাইন খান

বক্র চাঁদের চক্র ঠোঁটে
অন্ধকারে শিউলি ফোটে
ঝাপসা নদীর চক্ষু ফুঁড়ে
ঈদের নয়া পাপড়ি লোটে।

আকাশ জুড়ে তারার পাখি
রাতের ডালে উঠছে ডাকি
জোছনা ভেজা চাঁদের হাতে
ঝুলছে যেনো ঈদের ঝাঁকি।

যোজন ব্যাপী রঙিন খাতায়
ধলকুয়াশা মেঘের মাথায়
লিখছে কারা ঈদের ছড়া
চরকা বুড়ির সবুজ ছাতায়।

চাঁদের বিশাল তেপান্তরে
পুলক নাচে থরে থরে
সেই পুলকের হলুদ রেণু
গড়িয়ে নামে সবার ঘরে।

ঘরের দাওয়ায় খুশির কুঁড়ি
উড়ছে কেমন ঈদের ঘুড়ি
ঈদঘুড়িদের উড়াল পাখা
বিশ্ব ছাদে পুষ্প আঁকা।

 

 

SHARE

Leave a Reply