Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো সোনালি সময়

সোনালি সময়

আগামীকালই শুরু হচ্ছে রমজান। পবিত্র মাস! সোনালি সময়! এ উপলক্ষে আব্বু ঘরের সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসলেন। প্রথমেই বললেন কুরআনের কথা- “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা আল বাকারাহ : ১৮৩)
নাহিন বলল, ‘আব্বু! অন্যান্য নবীর উম্মতরাও কি আমাদের মতো সিয়াম পালন করত?’ আব্বু বললেন, না। একেক নবীর সময় একেক নিয়ম ছিল। যেমন- নূহ (আ)-এর সময় সিয়াম ছিল মাসে তিনটি। পদ্ধতিও ছিল ভিন্ন। রাতে ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথেই সিয়াম শুরু হয়ে যেত, ঘুম থেকে উঠে আর কিছু খেতে পারতো না তারা! আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা) প্রথমে প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তা ফরজ ছিল না। এরপর দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসে সিয়াম ফরজ হয়।
এখানে একটি মজার বিষয় আছে। প্রথম দিকে, কারো সামর্থ্য থাকার পরও সিয়াম পালন না করার সুযোগ ছিল। নাহিন বলল, কিভাবে? আব্বু বললেন, তখন নিয়ম ছিল, একেকটি সাওমের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে আহার করালেই চলত। যাকে ‘ফিদইয়া’ বলা হয়। তবে এ সুযোগ আর সবার জন্য থাকেনি। কেবল এমন ব্যক্তি, যে কখনোই সিয়াম পালন করতে পারবে না, তার জন্য এ সুযোগ এখনো আছে।
নাহিন বলল, আমি তো শুনেছি, মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির ওপরও সিয়াম পালন বাধ্যতামূলক নয়। আব্বু বললেন, হ্যাঁ, তোমার কথাও সঠিক। তবে তাদের সাওমগুলো পরে আদায় করতে হবে। আর সুস্থ হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে তো ‘ফিদইয়া’ দেয়ার সুযোগ আছেই।
দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়ির কাঁটা বলছে, আজান হবে এখনই। এশার আজান। আব্বু হাত তুললেন আল্লাহর কাছে। বললেন, আল্লাহ! রমজান পাওয়ার তাওফিক দাও আমাদের। সবাই তখন বলে উঠল- আমিন!
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply