Home চিত্র-বিচিত্র শিল্পী মাছের মধুর সুর -নুসাইবা মুমতাহিন

শিল্পী মাছের মধুর সুর -নুসাইবা মুমতাহিন

বন্ধুরা গত সংখ্যাগুলোতে তোমাদের বিভিন্ন প্রাণী সম্পর্কে নতুন নতুন মজাদার তথ্য জানিয়েছি। আজও তেমন একটি নতুন মজার বিষয় জানাব।
আমাদের মধ্যে অনেকেই গান করতে পারে। আবার পাখিরাও গান করে। কিন্তু মাছও যে গান গাইতে পারে সেটা কি তোমাদের জানা আছে!
ক্যালিফোর্নিয়ায় কিছু হাউসবোট-গভীর রাতে বাসিন্দারা একটি অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পান। পানির গভীর থেকে আসা আওয়াজটা এতটাই গোলমেলে ছিল অনেকে এটাকে ভিনগ্রহের প্রাণীদের আওয়াজ ভেবেছিলেন। পরে জানা যায় পানির নিচ থেকে যে আওয়াজটা আসছিল সেই আওয়াজটা হলো ‘মিডশিপম্যান’ নামের একটি মাছের। সারা রাত ধরে যে আওয়াজটা শোনা যায় সেটা আসলে মাছের সঙ্গীত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মিডশিপম্যান নামক মাছটি গান করতে জানে।
মিডশিপম্যান মাছটি ‘তোরিফটিস টাটাতস টাডফিশ’ পরিবারে মাছের একটি প্রজাতি। এটা plainfin midshipman নামে পরিচিত। এটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে পাওয়া যায়।
এই মাছটি ৩৮ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই মাছের পেটের পেছন দিকের হলুদ, সোনালি এবং বেগুনি বরণের। চোখের নিচে একটি সাদা অংশ আছে। চোখটি কালো অর্ধচন্দ্রাকার। এই মাছের পাখনাগুলো প্রশস্ত এবং বৃত্তাকার পুচ্ছ পাখনা আছে।
এই সামুদ্রিক মাছেরা সাধারণত গভীর পানিতে সমুদ্রের তলদেশে বাস করে।
সাগরের নিচে পাথরের তলে এরা বাসস্থান তৈরি করে। সমুদ্রতলে ৩০০ মিটার বা এরও বেশি গভীরে এরা বাস করে।
জোয়ারের সাথে সাথে মাছেদের এই আবাসস্থল নিয়মিত পরিবর্তন হয়। পাথরের মধ্যে আশ্রয় নেয়া অনেক মাছ আটকে পড়তে পারে। এরা বায়ুতে শ্বাস নিতে পারে। মা মাছেরা প্রায় ৪০০ ডিম পাড়ে।
মিডশিপম্যান মাছটি একত্রিত হয়ে নানরকম আওয়াজ করে। এই আওয়াজ শুনলে মনে হয় যেন কেউ মধুর সুরে গান করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে এই গানটা আসলে মিলনের আহ্বান। এই আওয়াজ বেশি করে শোনা যায় প্রজনন ঋতুতেই। বিজ্ঞানীরা প্রায় তিন দশক ধরে এই গবেষণা করছেন।
‘জার্নাল অব কারেন্ট বায়োলজি’-তে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে মার্কিন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সংগীতের পেছনে যে হরমোন কাজ করে তা দুষ্প্রাপ্য নয়। মানুষের ঘুমের জন্য যে হরমোন কাজ করে এই মাচেরাও সেই হরমোনকে কাজে লাগিয়ে গান করে। এই গানটা গায় পুরুষ মাছ।
বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু বাসের মতে, গান গাইতে সক্ষম স্ত্রী মাছও। শরীরের ভেতরে থাকা বায়োলজিক্যাল ঘড়ি গানের সুর তাল নির্ণয় করে। জার্নালের তথ্য মতে, বিভিন্ন কারণে নানা মাছ ভিন্ন ভিন্ন শব্দ করে। গ্রীষ্মকালে এ মাছেরা তাদের যখন একে অপরের কাছাকাছি আসে তখন তারা গানের মতো শব্দ করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় তারা চরে বেড়ানোর সময় গান করে। যদিও আগে ধারণা করা হতো যে এই শব্দ কোনো এলিয়েনের তবে এখন সবাই জানে শব্দটা মিডশিপম্যান মাছেদের। তো বন্ধুরা জানলেতো যে মাছেরাও কিন্তু অনেক গুণী। আল্লাহর সৃষ্টি সত্যিই খুব চমৎকার। কত সৃষ্টির মাঝে কত যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে তা তিনিই কেবল জানেন। আমাদের উচিত সেই সুপ্ত প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করে জীবনকে আলোকিত করা।

SHARE

Leave a Reply