Home ছড়া-কবিতা কবিতা

কবিতা

শিশুদের স্বপ্ন
-নজমুল হক চৌধুরী

আমরা শিশু ফুলের মতো
স্বপ্ন দেখি হাজার শত
জোনাকিদের আলোয় নেচে
থাকতে যে চাই সবাই বেঁচে।

কিন্তু, কেন শিশুর সাথে
জীবন নিয়ে চলছে জুয়া?
আমরা শিশু ক্যামনে বাঁচি
না যদি পাই প্রাণের ছোঁয়া?

সব শিশুদের মনের কথা
বলবো যে ভাই কাদের কাছে?
দেশটাকে যে গড়ার মতো
সব শিশুদের স্বপ্ন আছে।

 

বৈশাখের শপথ
ওয়াহিদ জামান

নতুন আলোর স্বপ্ন নিয়ে
এলো নতুন দিন,
এ বছরেই শুধতে হবে
সময়ের সব ঋণ।

নতুন ভোরে সেজদা দিয়ে
শুরু হবে কাজ,
ভালোর সাথে থাকবো সদা
শপথ নিলাম আজ।

আলোর পথে চলতে হবে
কুরআন হাদিস পড়ে,
অলসতা ভাঙ্গবে তবে
কালবোশেখীর ঝড়ে।

ভুলের সাথে গড়বো এবার
জনম জনম আড়ি,
খারাপ কাজে দিতেই হবে
এবার আমায় দাঁড়ি।

 

কেয়া পাতার খেয়া
বিলাল হোসাইন নূরী

কেয়াপাতার খেয়ায় ভেসে ভেসেÑ
কে যাবে আজ দারুচিনির দেশে?
দোয়েল যাবে কোয়েল যাবে, আর
নীল-ময়ূরও মেলবে পেখম তার।
সবুজ টিয়ের বিয়ের কথা হবে
ময়না শালিকÑ তারাও যাবে সবে!

আর কে যাবে? খোকা এবং খুকুÑ
আলিফ সোনা, চাঁদের কণা রুকু।
তাদের মুখে দারুচিনির রূপ
মাকে দেখেই দু’জন হলো চুপ।
মা তো এসব জেনে গেছেন আগে
তার কাছে কি সবই বলা লাগে?

এবার তিনি ফুলের মতো হেসে
আলিফÑরুকুর মুখের কাছে এসেÑ
বলেন, দেখো! এই যে সবুজ দেশ
সবুজ আঁচল সবুজ মাথার কেশ!
তোমরা খোঁজো কিসের দারুচিনি?
দেশ মানে তো বাংলাদেশই চিনি!

 

বৈশাখ
জ্যোতির্ময় মল্লিক

গাছের পাতায় কাঁপন তুলে লাল করবী হাসে,
মৌমাছি আর ভোমরাগুলি ঘুরছে আশপাশে।

নেবু ফুলের গন্ধে বিভোর দোয়েল পাখি ডাকে,
কুটুমপাখি মুখটি লুকায় ডালিম পাতার ফাঁকে।

আমের মুকুল দুলিয়ে মাথা তাকিয়ে শুধু রয়,
চাঁপার ডালে কাঁপন তুলে বাউরী বাতাস বয়।

পাপড়ি মেলে লাল টুকটুক শিমুল ছড়ায় হাসি,
বটের ছায়ায় আপন মনে রাখাল বাজায় বাঁশি।

সাতসকালে রোদের কণা মারছে উঁকি ওই শাখে,
স্বপ্ন দেখার দিন এলো আজ সোনা ঝরা বৈশাখে।

 

ওঠাও নতুন সূর্য
আবু তাহের বেলাল

খোলপেটুয়া কপোতাক্ষ কলাগাছির বাঁকে
পশুর গরান সুন্দরী আর গিবো গাছের শাখা
হেতাল ধোতল কেওড়া বাইন নাম যে মধু মাখা
কী সকরুণ বিষণ্ণতায় আমায় যেন ডাকে।

পুষ্পকাঠির পুষ্প কোথায় কষ্ট করমজলে
কেয়াখালী খলসে বুনে আড় পাঙাশি নদী
মামদো বাটলো মান্দারবাড়ি উদাস নিরবধি
সুন্দরবনের দুঃখ জ্বলে নিত্য পলে পলে।

হুদোর ঝোঁপে শঙ্কিত আজ রয়েল মাসি পিসি
হরিণ শাবক অস্থিরতায় ঘুরছে বনে বনে
বাঁচা মরার হিসাব নিকাশ শাখামৃগের মনে
হামাগুড়ি দিচ্ছে মরণ স্বপ্নে দিবা নিশি।

বনদস্যুরা খুব ভয়ঙ্কর নেই পরোয়া রাত দিন
মুক্তি পণের নেশায় তারা ভীষণ পাগল পারা
কতো জেলের হচ্ছে জীবন তাদের হাতে সারা
কেউ বলে না বিজিবিকে শক্ত করে হাত দিন।

পশুর নদীর তলদেশে কয়লা পোড়ার ভীতি
নদে কাঁদে হাঙর কুমির ডাঙায় পশু পাখি
বন্য শ্বাপদ জীবন ভয়ে ঝরায় তাদের আঁখি
উন্নয়নের কর্তারা আজ ভুলছে নিয়ম নীতি।

সুন্দরবনের সুন্দরী আজ জানের ভয়ে ভীত
মালঞ্চ বয় ধীর গতিতে জলঘাটা চায় ফিরে
দোবেকী আর কাঠের শরে চমকে বলে কিরে
রাধার সাথে অন্ন পুণ্যা হচ্ছে উপমিত।

হিরণ পয়েন্ট দুবলার চরে রাশ মেলাতে কষ্ট
কালীর চরে নেইতো কালী চুনোর দুকূল রিক্ত
কটকাতে ঐ কাঁদছে হরিণ দুচোখ জলে সিক্ত
দিনে দিনে দুঃখগুলো হচ্ছে আরও পষ্ট।

সুন্দরবনের শত্রু হটাও বাজাও রণতূর্য
মাওয়াল জেলে কাঠুরিদের নাশো দুঃখ জ্বালা
থামাও থামাও মৎস্য শ্বাপদ ধ্বংস করার পালা
মুক্ত বিমল আলোর আশায় ওঠাও নতুন সূর্য।

 

 

SHARE

Leave a Reply