Home বিজ্ঞান জগৎ চোখ জুড়ানো পৃথিবীর বড় আয়না -আল জাবির

চোখ জুড়ানো পৃথিবীর বড় আয়না -আল জাবির

বন্ধুরা তোমরা বিভিন্ন হ্রদের নাম শুনেছ। কিন্তু আয়না হ্রদের নাম কি শুনেছ! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আয়না সালার ডি ইযুনি। এটি ১০,৫৮২ বর্গ কিলোমিটার বিশ্বের বৃহত্তম লবণ সমতল। এটি এন্ডিসের তীরে বলিভিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে একে মনে হয় বিস্তৃত শুভ্র শূন্যতার জগৎ। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার সামান্য একটু বৃষ্টিতেই এই শুষ্ক অঞ্চল রূপান্তরিত হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আয়নায়!
এটি কয়েক মিটার লবণের আবরণে ঢাকা থাকে। ওপরে শক্ত আবরণটি লবণের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং লিথিয়ামে সমৃদ্ধ থাকে। এটি পৃথিবীর প্রায় ৫০%-৭০% লিথিয়ামের সংরক্ষণস্থল। বৃহৎ এলাকা, পরিষ্কার আকাশ এবং পৃষ্ঠের ব্যতিক্রমী সমৃদ্ধি সালার সত্যিই এক চমৎকার স্থান। সালার শতকরা দশ সেন্টিমিটার এবং কয়েক মিটারের মধ্যে একটি কঠিন লবণের স্ফটিক দ্বারা আচ্ছাদিত। সালারের কেন্দ্রে কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে, যা লেক মিনচিনের যুগে ডুবে প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অবশিষ্টাংশ রূপে আছে। তারা অস্বাভাবিক এবং ভঙ্গুর প্রবালের মত কাঠামো এবং প্রায়ই জীবাশ্ম ও শেওলা দ্বারা গঠিত।
সালারে নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ২১° C  এবং জুন মাসে ১৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা থাকে। এটাই এ অঞ্চলের তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল গড় তাপমাত্রা। রাতে এখানে অনেক ঠান্ডা থাকে। তখন তাপমাত্রা -৯ এবং ৫° C হয়।
সালারটিতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, লিথিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে সেই সাথে বোরাক্সও। এর মধ্যে, লিথিয়াম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি অনেক বৈদ্যুতিক ব্যাটারির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আনুমানিকভাবে বলা যায়, বলিভিয়ায় পৃথিবীর প্রায় ৪২% লিথিয়ামের ভান্ডার রয়েছে। এর অধিকাংশই সালার ডি ইউযনিতে হয়।
সারা বিশ্বে পর্যটকদের প্রিয় স্থান সালার ডি ইউযনি। এটি শহর থেকে দূরে অবস্থিত, তাই বেশ কিছু হোটেল এই এলাকায় তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর অভাবের কারণে, তাদের বেশির ভাগ সালার কাটা লবণ ব্লকের দ্বারা নির্মিত। প্যালাসিও দে সালনামের প্রথম এই হোটেলটি লবণ সমতলের মাঝখানে ১৯৯৩-১৯৯৫ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং খুব শিগগিরই একটি জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্য হিসেবে পরিণত হয়। এটি ১০,৫০০ টন লবণের তৈরি এবং সালারের মধ্যে ৪,৫০০ বর্গ ফুট বিস্তৃত। এ অঞ্চলের অন্যান্য লবণ হোটেলগুলি হললুলা সালাদা এবং হোটেল ডি সাল ক্রিসাল সামনা।
একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ একটি এন্টিকের ট্রেন কবরস্থান। এটি ইউয়ুনির বাইরে ৩ কিলোমিটার এবং পুরনো রেলপথের সাথে এটি সংযুক্ত। রেললাইনগুলি নির্মিত হয়েছিল ১৯ শতকের শেষের দিকে।
সালার ডি ইউযনি পর্যটকদের কাছে বেশি প্রিয় ফটোগ্রাফির জন্য। সালারে বর্ষার ঋতু ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এবং শুষ্ক মৌসুম মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। বৃষ্টির ঋতুতে সালার এর চমৎকার প্রভাব দেখা যায়, যেখানে নিচের পানির ওপরে আকাশের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। মনে হয় যেখানে আকাশ শেষ হয়েছে সেখান থেকেই জমিনের শুরু হয়।
বর্ষাকালে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লবণ-ভূমি হয়ে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আয়না। লবণ-সমতল বাসল্ট-ফ্ল্যাট প্রতিবিম্বের সল্ট-ফ্ল্যাট খুব স্বচ্ছ আয়না হিসেবে কাজ করে। স্যাটেলাইটের শক্তি বা ক্ষমতা নির্ণয়ের জন্য এটা ব্যবহার করা হয়। আকাশটা এখান থেকে দেখা যায় চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই আয়নার বুকে হাঁটার জন্য রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। এর ওপর দিয়ে হাঁটলে মনে হবে আমরা মাটি বা পানিতে নয় বরং হাঁটছি আকাশের মেঘে। কারণ ওপর নিচে স্বচ্ছ মেঘের আকাশ আর শুভ্র বর্ণের লবণছাড়া অন্য কিছু চোখে পড়বে না। সত্যিই এক চমৎকার সৌন্দর্যে ঘেরা সায়ান ডি ইউয়নি।

SHARE

Leave a Reply