Home তোমাদের গল্প প্রাইভেট টিচার -সা’দ সাইফ

প্রাইভেট টিচার -সা’দ সাইফ

সকাল থেকেই মুখটা গোমড়া করে বসে আছে। কারো সাথে কোন কথা বলছে না। যেন মুখ ভার হয়ে আছে। অথচ দু’দিন পেছনে ফিরে তাকালেই কত হাসি-খুশি ছিল সে। তার দুষ্টুমিতে পুরো ঘরে পূর্ণতা বিরাজ করত। কিন্তু আজ কী এমন হলো পাঁচ বছর বয়সী মুবাশশিরের সাথে!
মুবাশশিরের আব্বু একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। সে সুবাদে দিনের অধিকাংশ সময় তিনি সেখানে থাকেন। যে কারণে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া তিনি বাসায় থাকেন না। আজ রোববার। সরকারি ছুটির দিন। তাই তিনি বাড়িতেই আছেন। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে তিনি পরিবারের সাথে কাটানোর চেষ্টা করেন। তবে আজ প্রতিষ্ঠানের কিছু কাজ থাকায় তিনি সেদিকেই বুঁদ হয়ে আছেন। অনেক ব্যর্থ চেষ্টার পর যখন মুবাশশিরের আম্মু মুবাশশিরের অভিমান ভাঙাতে পারলেন না তখন তিনি মুবাশশিরের আব্বু আমিনুর রহমানের শরণাপন্ন হলেন।
-কী হয়েছে আব্বু? শুনলাম সকাল থেকে নাকি তুমি মন খারাপ করে বসে আছো। তারপর কান্নার শব্দ বেরিয়ে এলো মুবাশশিরের কচি মুখ থেকে। কান্নার শব্দটা ধীরে ধীরে বাড়তেই লাগল। মুবাশশিরের আব্বু-আম্মু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। কিন্তু মুবাশশিরের মুখে তখনও কোনো শব্দ নেই।
এর মধ্যে কিছুক্ষণ নীরবতা সাক্ষী হলো!
অবশেষে নীরবতাকে ভেদ করে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে শোনা গেল, ‘সাইফুল ভাইয়া গতকাল পড়াতে আসেনি আর আজও তো এলেন না এখনো, ভাইয়া কি আর পড়াতে আসবেন না? সন্তানের কথা বলায় মুবাশশিরের আব্বু-আম্মুর মনে একটু স্বস্তির আভাস লক্ষ করা গেল। তখন আসল বিষয়টা তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। ওহ্ হ্যাঁ, সাইফুল হলো মুবাশশিরের গৃহশিক্ষক। গৃহশিক্ষক না বলে যদি বন্ধুত্বের শিক্ষক বলা হয় তাহলে বলাটা বোধ হয় অত্যুক্তি হবে না। কেননা যেদিন সাইফুল মুবাশশিরকে প্রথম পড়াতে আসে সেদিন থেকে তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। ফলে পড়ানোর সময় তাদের মাঝে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক থাকে না। যেন মনে হয় বন্ধু বন্ধুকে পড়াচ্ছে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাড়িতে। একটু সমস্যার মধ্যে ছিলাম তাই কলও করতে পারিনি যেতেও পারিনি। তা মুবাশশির কী করছে এখন? ও, আমিও ভেবেছি হয়ত তুমি সমস্যার মধ্যে ছিলে, যে কারণে পড়াতে আসোনি। ও হ্যাঁ, যে জন্য ফোন দিয়েছি, মুবাশশির তোমার জন্য কাঁদছে আর বলছে ভাইয়া কখন আসবে ভাইয়া কখন আসবে…
– আচ্ছা স্যার। আজ বিকেলে গিয়ে ওকে দেখে আসব। আর ওকে কাঁদতে নিষেধ করবেন এবং বলবেন ভাইয়া একটু পর আসবে।
– ঠিক আছে।
অবশেষে মুবাশশিরের আব্বু হাসিমাখা মুখ নিয়ে ফোনটা রাখলেন এবং মুবাশশিরকে বললেন, তোমার সাইফুল ভাইয়া আজ বিকেলে তোমাকে পড়াতে আসবেন।
এ কথা শোনার পর মুবাশশিরের কচি মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল এবং বলল, ‘আমার আব্বু আমার আব্বু…..।

SHARE

Leave a Reply