Home বিজ্ঞান জগৎ বৃহস্পতি কি সূর্যের চারপাশে ঘোরে -আল জাবির

বৃহস্পতি কি সূর্যের চারপাশে ঘোরে -আল জাবির

আমরা জানি যে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে। কিন্তু বিষয়টা সে রকম না। দু’টি বস্তুর একটি যখন অপরটির চারপাশে ঘোরে তখন অপরটিও প্রথম বস্তুর চারপাশে ঘোরে। তবুও আমরা বলি না সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, তার কারণ দুইয়ের ভরের পার্থক্য। দুটি বস্তুর ভরের পার্থক্য যত বেশি হবে একের সাপেক্ষে অপরের ঘূর্ণনের পরিধিতেও ততোই পার্থক্য থাকবে। সে কারণে পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্য যখন ঘোরে তখন তা এতোই সামান্য যে তা উপলব্ধি করা যায় না, এ ক্ষেত্রে সূর্যের বৃত্তাকার কক্ষপথ এমনকি তার নিজের ব্যাসকেও অতিক্রম করে না।
তবে বৃহস্পতির মতো বড়ো গ্রহের সাথে তুলনা করলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এই ক্ষেত্রে বৃহস্পতির সাপেক্ষে সূর্যের বৃত্তাকার কক্ষপথ তার ব্যাসকে অতিক্রম করে। তাই বর্তমানে একদল বলতে চাইছেন বৃহস্পতি সূর্যের চারদিকে ঘোরে এটা বলা ঠিক না। বরং এরা একে অপরের চারদিকে ঘোরে।
গ্রহের প্রভাবে একটি নক্ষত্রের এই ধরনের গতিকে ঠিক কক্ষপথে ঘোরা বলা যায় না, বরং বলা যেতে পারে দোদুল্যমান অবস্থা। এই দোদুল্যমান অবস্থার একটি বড় গুরুত্ব আছে। নক্ষত্রের আলোয় গ্রহগুলো আলোকিত হয়, তাই এদের পৃষ্ঠ নিঃসৃত আলো হয় খুবই নি®প্রভ। এই কারণে সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহকে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি সনাক্ত করা যায় না, এই ক্ষেত্রে নক্ষত্রের ওপর এর প্রভাবটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। দোদুল্যমান নক্ষত্র যখন গ্রহের প্রভাবে সামান্য ঘুরতে থাকে তখন সে একসময় আমাদের কাছ থেকে সামান্য দূরে সরে যায়, এইসময় তার নিঃসৃত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়, আবার যখন আমাদের কাছে আসতে থাকে তখন তার নিঃসৃত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য হ্রাস পায়। একে ডপলার প্রভাব বলে। এই বিষয়টি শব্দের ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তোমরা ফুটপথে হাঁটার সময় পেছন থেকে তোমাদের দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স এগিয়ে এলে তার সাইরেন তীক্ষè শোনা যায় আবার অ্যাম্বুলেন্স তোমাদের অতিক্রম করে যখন দূরে সরে যায় তখন তার শব্দ মৃদু শোনায়।
নক্ষত্রের এই ডপলার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে তাকে কেন্দ্র করে কত দূর দিয়ে গ্রহ ঘুরছে, সেই গ্রহের আকার কেমন এসব গণনা করা যায়। এভাবেই বোঝা যায় একটি নক্ষত্রের কতটা দূরত্বে একটি গ্রহ আবর্তন করলে তাতে তরল পানি পাওয়া যেতে পারে, এবং এ থেকেই সম্ভাব্য প্রাণ ধারণযোগ্য গ্রহ নির্ধারণ করা হয়। এ যাবৎ হাজারেরও অধিক এ ধরনের সৌরজগৎ বহির্ভূত গ্রহ সনাক্ত করা হয়েছে।
মহাবিশ্বে এমন অনেক নক্ষত্র এমনকি ব্ল্যাক হোলের ব্যবস্থা আছে যেখানে দু’টি নক্ষত্র বা ব্ল্যাকহোলের ভর কাছাকাছি থাকে এবং এরা দু’জনে একে অপরের চারদিকে অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি আকারের বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকে। এই ধরনের নক্ষত্র ব্যবস্থাকে দ্বৈত নক্ষত্র ব্যবস্থা বলা হয়। বৃত্তাকারে ঘূর্ণনরত প্রতিটি বস্তুই গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ আকারে শক্তি নিঃসরণ করতে থাকে এবং বস্তু দু’টি কাছাকাছি হতে থাকে। এক সময় এরা খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং বিপজ্জনক গতিতে ঘুরতে ঘুরতে পরস্পরের সাথে একীভূত হয়। এই কাছাকাছি অবস্থায় এরা তীব্র শক্তি নির্গত করে। এই ধরনের কাছাকাছি দু’টি ব্ল্যাকহোলের দ্বৈতব্যবস্থায় নির্গত মহাকর্ষীয় তরঙ্গই প্রথমবারের মতো কিছুদিন আগে সনাক্ত করা হয়েছিলো। এই তীব্র বিকিরিত অবস্থাতেও এদের নির্গত শক্তির পরিমাণ খুবই সামান্য। আমাদের পৃথিবীর ঘূর্ণনরত অবস্থায় শক্তি বিকিরণ করতে করতে ক্রমশ ও অতি ধীরে সূর্যের নিকটবর্তী হচ্ছে। এটি এতই ধীর যে, কয়েক কোটি বছরেও পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে উল্লেখযোগ্য কোনো দূরত্বের পার্থক্য তৈরি হবে না।

SHARE

Leave a Reply