Home তোমাদের কবিতা তোমাদের ছড়া-কবিতা

তোমাদের ছড়া-কবিতা

চাঁদের বুড়ি
মুহাম্মাদ খাইরুল ইসলাম

চাঁদের বুড়ি আসর জমায়
নাতি-নাতনি নিয়ে
মেঘ প্রহরী পাহারা দেয়
আরবি ঘোড়া দিয়ে।
মিহি বুনন শীতল পাটি
বিছায় বাতাসেরা
নীল চাদরের শামিয়ানা
বিছায় রাতের তারা।
রাত্রি জুড়ে রয় জেগে সব
গল্প-আড্ডা দিয়ে
সকাল হলেই দৌড়ে পালায়
দাদার ধমক খেয়ে।

সাহেবজি
মুয়াজ বিন এনাম

কুরসিতে সাহেবজি ধীরে এসে বসলেন
মুগ্ধতা চোখে নিয়ে সারা বাড়ি চষলেন
রাত্তিরে খাওয়ালাম রকমারি আমদান
খাওয়া শেষে বললেন, হামদান হামদান।

বললাম সবিনয়ে অনুরোধ রাখবেন?
গরিবের বাড়িতে কি দুটো দিন থাকবেন?
উচ্ছ্বাস চোখে-মুখে, লজ্জাতে কুঁকড়ান
খুশি হয়ে বললেন, শুকরান শুকরান।

প্রবাসের গল্পতে খোশে মেতে উঠলেন
ঘুমানোর আগে তিনি হাম্মামে ছুটলেন
ঘুমাপাড়া গান গেয়ে শুনালো যে তাইরান
হেসে হেসে বললেন খাইরান খাইরান।

পরদিন ভোরে উঠে স্যুট-কোট পরলেন
দরকারি মালামাল ব্যাগে তিনি ভরলেন।
এগিয়ে তো দিয়ে আসি আমি আর সাফওয়ান
বললেন, আসি তবে, আফওয়ান আফওয়ান।

রূপ ডেকেছে বান
জুবায়ের বিন ইয়াছিন

আউলা বাতাস দিচ্ছে গায়ে
সুখের শিহরণ
সর্ষে ফুলের হলদে আভা
নিচ্ছে কেড়ে মন।

দোয়েল শ্যামা তুলছে ঠোঁটে
মিষ্টি সুরের গান
প্রজাপতির রঙ মাধুর্যে
রূপ ডেকেছে বান।

পাহাড় ঘামা ঝরণা-নদী
দেয় হৃদয়ে দোল
নিঝুম রাতে চাঁদের আলোয়
ফোটে সুখের বোল।

শিউলি জবার সুবাস অতুল
মিষ্টি পরিবেশ
লাল-সবুজের ছায়ায় ঘেরা
এইতো বাংলাদেশ।

আপন ভাই
আবু হাসান মোসাদ্দেক

ছোট বেলার খেলার সাথী
আমার আপন ভাই,
বিপদ-আপদ এলে কাছে
তার তুলনা নাই।

মেজাজটা তার ঠান্ডা অতি
নেই তো রাগের লেশ,
ছোট বড় সবার সাথে
ভাব জমাতেই বেশ।

মিষ্টি সুরে কথা বলে
মুখে থাকে হাসি,
সহজ সরল ভাইকে আমি
অনেক ভালোবাসি।

স্বাধীনতার মানে
খাদিজাতুল কোবরা উমামা

স্বাধীনতার মানে হলো
সবুজ পতাকা
স্বপ্ন মাঝে দুঃখের বিজয়
রক্ত দিয়ে আঁকা।
স্বাধীনতার মানে হলো
কৃষ্ণচূড়ার ডাল
কত ভাইয়ের রক্তে সে যে
হয়েছে লালে লাল।
স্বাধীনতার মানে হলো
মা-বোনদের হাসি
হাজার শহীদ ভাইয়ের প্রতি
শ্রদ্ধা রাশি রাশি।

ফাল্গুনী
দেলোয়ার হুসাইন

ফাল্গুনী ফাল্গুনী
তুমি যে এক রূপের রানি।
তোমার রূপে-
ফুলের বাগান আলোকিত হয়
তোমার রূপে-
গাছগুলিতে নতুন হাওয়া বয়
তোমার জন্য কৃষ্ণচূড়া-
রঙটা বদলায়।
তোমার জন্য মৌমাছিরা-
ফুলের মধু পায়।
তোমার জন্য গ্রাম বাংলায়
ফুলের গন্ধ ছড়ায়।
তোমার রূপে মুগ্ধ হয়ে-
কোকিল পাখি গান গায়।

আমার দেশ
মুফিজুল ইসলাম

আমার দেশটি খাঁটি সোনা
শস্য শ্যামল ভরা
ছবির মতো দেখতে লাগে
রূপকথায় মোড়া।

আমরা যারা আছি ছোট
করব নাকো ভয়
এই ভাবে এগিয়ে গিয়ে
করব বিশ্ব জয় ।

আমার দশে
মুফজিুল ইসলাম

আমার দশেটি খাঁটি সোনা
শস্য শ্যামল ভরা
ছবরি মতো দখেতে লাগে
রূপকথায় মোড়া।

আমরা যারা আছি ছোট
করব নাকো ভয়
এই ভাবে এগয়িে গয়িে
করব বশ্বি জয় ।

দেশকে ভালোবাসবো
ইমতিয়াজ মাহমুদ

দেশকে ভালো বাসবো আমি
নিজের প্রাণের চেয়েও,
দেশকে ভালো বাসবো আমি
সকল কিছু পেয়েও।
লাখে লাখে শহীদ হলো
বাঁচাতে যে মাকে,
শপথ করে বলতে পারি
ভালো বাসবো তাকে।

স্বাধীনতায় পেয়েছি মোরা
ইমাম হোসেন দিদার

দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ মোরা
করেছি বীরের বেশে
লাল-সবুজের পতাকাটা
পেয়েছি যুদ্ধ শেষে।

পেয়েছি মোরা স্বাধীনতায়
একটি নিজের ভাষা,
সম্ভাবনার বাংলায় মোদের
এটাই সকল আশা।

পেয়েছি মোরা স্বাধীন ভূমি
স্বাধীন একটি দেশ,
স্বাধীনতায় পেয়েছি মোরা
সোনার বাংলাদেশ।

ফাগুনের গান
ফাতেমা নার্গিস

ফাগুন এলেই আগুন লাগে
কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে,
সেই আনন্দে কোকিল গায়
নতুন সুরের তালে তালে।
রঙধনু রং ছড়িয়ে দিয়ে
ফুলগুলো সব উঠলো হেসে
কোন খুশিতে প্রজাপতি
সাজলো আবার নতুন বেশে।
কুয়াশার চাদর ছিঁড়ে
সূর্যি মামা উঠলো জেগে
ঝরা পাতার মরা ডালে
ফুল যে ফোটে নতুন রাগে।
বসন্তের এই রঙিন দিনে
খুশিতে যে আজ মাতোয়ারা,
নতুন আলোর নতুন দিনে
আকাশ ভরা চন্দ্র তারা।

ছুটি
মুহাম্মদ ইসমাঈল

খানিক পরে আব্বু বলেন
খাতা-কলম নাও
তারপরে আম্মু বলেন
স্কুলেতে যাও।

নাস্তা খাওয়ার সময় পাই না
চোখে শুধু ঘুম
স্যারকে আমি ভয় পাই
যদি দেয় ধুম।

বিকাল বেলাও লেখাপড়া
ডাকছে খেলার মাঠ।

এমন করে চলছে আমার
পাঠ্যবইয়ের পড়া
আমার একটু দাও না ছুটি
লিখব গল্প-ছড়া।

মশার জিত
সরদার আবদুর রহমান

একটা মশা মুখের কাছে যেই না পেলো কান
অমনি বেটা পিনপিনিয়ে শুনিয়ে দিলো গান।
আমি তখন ক্ষেপে গিয়ে দিলাম কষে চড়
তাতে কিনা আমারই বুক করলো ধড়ফড়।

উঠে গেলো রাগ যে আমার, দিলাম ছুঁড়ে গালি
এতে দেখি আমার মুখেই লেগে গেলো কালি।
বেজার আমি অবশেষে শুলাম হয়ে চিৎ
তাতে কিনা মশা মিয়ার হয়ে গেলো জিত।

স্বাধীনতা
আ. শ. ম. বাবর আলী

স্বাধীনতা তোমায় নিয়ে
আমার অহংকার
স্বাধীনতা তুমি আমার
সঙ্গী আছো তাই
সুন্দর জীবন গড়ার জন্য
সাহস বুকে পাই।

স্বাধীনতা তোমায় নিয়ে
দেশটা আমার গড়ি
স্বাধীনতা তোমার চোখে
বিশ্বটাকে পড়ি।

স্বাধীনতা
সাজজাদ হোসাইন খান

তোমার সাথে কার তুলনা
কার গো তুমি সই
বর্ণমালার বই?

তোমার সাথে কার তুলনা
কার সাথে যে মিল
ঐ আকাশের নীল?

তোমার সাথে কার তুলনা
পায় না খুঁজে কেউ
সাগর জলে ঢেউ?

তোমার সাথে কার তুলনা
কার গো তুমি কথা
নাম কি স্বাধীনতা?
ধানের পাকা শিষের মতো
ভাঙছো নীরবতা॥

 

SHARE

Leave a Reply