Home ছড়া-কবিতা ছড়া কবিতা

ছড়া কবিতা

ভাষা ও স্বদেশ
আতিক হেলাল

প্রাণ দিয়ে আনে যারা ভাষা ও স্বদেশ
শোধ দেয়া যাবে না যে তাদের সে ঋণ
মৃত্যুতে এ জীবন হয় যদি শেষ
এই দেশ গড়তেই হবে এক দিন।

বঞ্চিত মানুষেরা তুলেছিলো মাথা
বঞ্চনার ইতিহাস উল্টালো পাতা
বেঁচে থেকে আর নয় মৃত্যু-কফিন।

প্রাণ দিয়েছিলো ওরা মর্যাদা পেতে
ওরা শুধু শিখিয়েছে এগিয়েই যেতে
বঞ্চিত হয়ে আর হবো না বিলীন।

বাংলা ভাষা
মাহমুদুল হাসান নিজামী

নূহ নবীর বংশধর বঙ্গ নূহের নাতি
বঙ্গের বংশ মোরা, আমরা তাহার জাতি
হাজার বর্ষ সাত হাজারে মোদের ইতিহাস
বাংলা ভাষা বাঙালির গৌরবের চাষ
বাংলা ভাষার পূর্বপুরুষ ইন্দো ইরানি
আমরা সেটা জানি।

সব জাতির ভাষা আছে আমাদের বাংলা
যুগে যুগে এই ভাষাতে হয়রে কত হামলা।
সাতশো শতক বাংলার সেই শশাঙ্ক রাজা
বাংলা ভাষা বন্ধ করে সংস্কৃত করে তাজা।
হামলা হয় আসামে বাংলা ভাষার ওপর
প্রাণ দেয় আম জনতা ভেঙে মনের ডর।
ফেব্রুয়ারি একুশ তারিখ রাজধানী ঢাকায়
প্রাণ দিয়ে আম জনতা মুখের ভাষা বাঁচায়।
বাংলা আমার মুখের ভাষা বাংলা মায়ের ভাষা
এই ভাষাতে কাঁদা আমার এতেই ফের হাসা।

ভাষার গান
হেলাল আনওয়ার

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
বাংলা আমার স্বপ্ন আশা
বাংলা আমার প্রাণের প্রিয়
পদ্মা নদীর কূল
বাংলা আমার বোনের মাথার
ঢেউ খেলানো চুল॥

ঐ যে দেখো রক্তচূড়া
লাল হয়েছে লাল
রফিক শফিক শিমুল জবা
হাসবে চিরকাল
আমার ভাষা মায়ের ভাষা
নেই যে তাহার তুল॥

ফেব্রুয়ারির একুশ এলে
স্মৃতি হয়ে ভাসে
শিমুল জবার সাথে যেন
রফিক ফিরে আসে।

বায়ান্নতে রফিক শফিক
আরো অনেক ভাই
হানাদারের বুলেট বিঁধে
শহীদ হলো তাই।
আমার ভাষা ফিরিয়ে নিতে
হইলোরে ব্যাকুল॥

মায়ের ভাষায় বলতে কথা
রেদওয়ানুল হক

এই যে আমার পলাশ শিমুল
এই যে তপ্ত দুপুর
বুকের তাজা রক্ত এবার
দিলাম করে উপুড়।

রক্ত ছোটে রক্ত ছোটে
শক্ত ভেঙে বাঁধ
আয় তোরা আয় মিছিল নিয়ে
কাঁধ মিলিয়ে কাঁধ।

ভয় কি ওরে মায়ের ভাষায়
বলতে হবে কথা
না মানি না স্বৈরাচারীর
হুকুম যথা-তথা।

রক্ত দিছি রক্ত আরো
দেবো যদি লাগে
দেশের জন্য দশের জন্য
চাই অধিকার আগে।

বাংলা আমার ভাষা
মোস্তফা মাহাথির

মায়ের মুখের মধুর ধ্বনি আমার বাংলা ভাষা
এই ভাষাতে লেখি-পড়ি মেটাই মনের আশা।
এই ভাষাতে গান গেয়ে যাই এই ভাষাতে হাসি
মুখের ভাষায় কান্না-হাসায় মাকে ভালোবাসি।
বলতে পারো এমন ভাষায় আর কে বলে কথা
আর কে পারে করতে বিদূর মনের আবিলতা?
বিশ্ববাসী জানে-
ভাষার জন্য জীবন দেয়া এই আবেগের মানে।
যে আবেগে কাঁপন লাগে নদীর কলতানে
যে আবেগে মাতাল পাখি বিহান বেলার গানে
সেই আবেগের মানে-
সব ব্যারিকেড দু’পায় দলা গভীর আহবানে।
জানো?
শোষণ-ত্রাসন ছিলো তবু করতো পাখি গানও!
কিন্তু হঠাৎ খবরদারি- ‘ভাষায় লাগাম আঁটো,
উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা’। বাংলা হবে খাটো।
আমরা ওসব কাগুজে বাঘ থোড়াই কেয়ার করি
মায়ের ভাষার মান বাঁচাতে জীবন বাজি ধরি।
বাংলা আমার ভাষা-
বাংলা আমার রক্তে মেশা গভীর ভালোবাসা।

রক্তজবা
ইব্রাহিম বাহারী

রক্তজবা রক্তজবা
পাপড়ি খোলা ঝুমকো জবা
হাওয়ায় দোলে ফুলকি আগুন
মনকাননে রঙিন ফাগুন
রক্তে ভেজে লাল,

প্রজাপতি তা-ধিন তা-ধিন
ফুল পাখিরা বনের স্বাধীন
রক্তজবা হাওয়ায় দোলে
বুকের ভেতর তুফান তোলে
রঙিন করে ডাল।

রক্তজবা বনের মাথায়
বিয়ের কনে সবুজ পাতায়
পাপড়ি খোলা হাসি,
রক্তজবা বনের ফুল
ছাপিয়ে তোলে মনের কূল
রঙের ভেলায় ভাসি।

মায়ের ভাষা
হোসাইন আনোয়ার

ভাষার জন্য জীবন দিলাম
দিলাম আরো রক্ত
বিনিময়ে বাংলাভাষার
পেলাম অনেক ভক্ত।

রক্ত কণা মিশে গিয়ে
সিক্ত হলো মাটি
সেই মাটিরই মানুষগুলোর
ভাষা বড়ই খাঁটি।

এমন মাটির বুক চিরে আজ
বইছে অনেক নদী
নদীর মতোই আমার ভাষা
ছুটছে নিরবধি।

এই ভাষাটা বাংলা ভাষা
মায়ের ভাষা জানো
ভাব বিনিময়ে খুবই মধুর
এ কথাটাও মানো।

রাষ্ট্রভাষা
জুবায়ের বিন ইয়াছিন

রাষ্ট্রভাষা উর্দু বিরোধ
করতে প্রতিবাদ
পথের উপর ছাত্র-যুবার
উপচে পড়া বাঁধ।

সালাম, রফিক উত্তেজনায়
দ্রোহেতে উন্মাদ
রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার
গড়লো বুনিয়াদ।

ভাষার জন্য মা ও বোনের
ছিঁড়ল প্রেমের বাঁধন
সেই শহীদান বীরসেনাদের
জানাই অভিবাদন।

SHARE

Leave a Reply