Home তোমাদের গল্প রিফাতের বন্ধু পাখি -মকবুল হামিদ

রিফাতের বন্ধু পাখি -মকবুল হামিদ

রিফাত পাখি খুব ভালোবাসে। সে কোথাও পাখি পেলে খুব আদর যতœ করে। রিফাত পাখির দুঃখ সইতে পারে না। পাখিরা তার কাছে এসে কিচিরমিচির শব্দ করতে শুরু করে। রিফাত খুব ভালো ছেলে। সে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। ক্লাসের বন্ধুরা তাকে খুব ভালোবাসে। এমনকি ক্লাসের স্যার এবং আপাও খুব আদর করেন। একদিন রিফাত স্কুল থেকে বন্ধুদের সাথে বাড়ি আসার পথে রাস্তার পাশের একটা গাছের ডালের দিকে নজর গেল। রিফাত দেখল একটা দোয়েল পাখি গাছের ডালে বসে কাঁপছে। রিফাত তার বন্ধুদের বলল, তোমরা একটু দাঁড়াও আমি আসছি। এই বলে রিফাত গাছটির কাছে গিয়ে দেখে দোয়েল পাখিটার একটা পায়ে ক্ষত চিহ্ন। দোয়েল পাখিটা রিফাতকে দেখেও উড়াল দিলো না। রিফাত অসুস্থ দোয়েল পাখিটিকে সুস্থ করার জন্য নীড় থেকে তার বাড়িতে নিয়ে এলো। বাড়িতে এসে রিফাত স্কুল ড্রেস খুলে পাখিটিকে নিয়ে বসল। মা বললেন রিফাত, ভাত খাবে না আব্বু। রিফাত বলল, মা এদিকে একটু আসো তো। মা তৎক্ষণাৎ রিফাতের কাছে এসে দেখেন রিফাতের হাতে একটা দোয়েল পাখি। মা জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি পাখিটিকে ধরেছো কেন? রিফাত বলল, পাখিটি খুব অসুস্থ। তার সেবা প্রয়োজন। আমি স্কুল থেকে আসার সময় একে অসুস্থ অবস্থায় দেখে বাড়িতে নিয়ে এলাম। মা বললেন, খুব ভালো করেছো বাবা। রিফাত বলল, আমি এই পাখিটিকে সেবা যতœ করে আবার তার বাসায় দিয়ে আসবো। তারপর পাখিটিকে সাথে নিয়ে ভাত খেল। বিকাল বেলায় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার আংকেল পাখিটিকে ভালোভাবে চিকিৎসা করে দিলেন। পায়ে একটা ব্যান্ডেজ করে দিলেন। কিছু ওষুধ ও মলম দিলেন। রিফাত পাখিটিকে বাড়িতে নিয়ে ডাক্তার আংকেলের পরামর্শ মত সেবা করতে লাগল। দিনের বেলা যখন রিফাত স্কুলে যায় সে পাখিটিকে তার মায়ের কাছে রেখে দিত।
রাতের বেলা তাকে খাবার খাইয়ে নিজের কাছে রেখে দিত। রিফাত পাখিটিকে খাঁচায় বন্দি না করে মুক্ত অবস্থায় রাখতো। তিন দিন এভাবে চলে গেল। তিন দিনে পাখিটির জন্য তার অনেক মায়া লেগে গেল। পাখিটি একবারের জন্যও উড়াল দিলো না। পরের দিন দোয়েল পাখিটা পুরো সুস্থ হয়ে গেল। এবার রিফাত ভাবল দোয়েল পাখিটিকে তার বাসায় দিয়ে আসবে। রিফাত সেখানে গিয়ে দেখে দোয়েলের বাসাটা বাতাসে ভেঙে গেছে। রিফাত পাখিটিকে সেখানে না রেখে তার বাড়িতে নিয়ে এলো। এবার বাড়িতে আসার পর রিফাত পাখিটির জন্য একটা সুন্দর খাঁচা বানালো। কিন্তু রিফাত পাখিটিকে সারাক্ষণ নিজের কাছে রাখে। যখন রিফাত স্কুলে যায় তখন সে পাখিটিকে খাঁচার মধ্যে রাখতো। রিফাত গোসল করার সময় পাখিটিকেও গোসল করিয়ে দেয়। খাবার খাওয়ার সময়ও পাখিটিকে পাখির খাবার খাইয়ে দেয়। মাঝে মাঝে অবসর সময়ে রিফাত তার প্রিয় সখের দোয়েল পাখিটির সাথে খেলা করে। দিনের পর দিন তাদের মধ্যে ভাব, ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব বেড়েই চলছে। রিফাত একদিন তার স্কুল থেকে বাড়িতে দেরি করে এসেছিল।
পাখিটি সারাদিন মুখে কিছু দেয়নি। খাঁচার মধ্যে সারাক্ষণ ছটফট করতে লাগল। যখন রিফাত বাড়িতে এলো দোয়েল পাখিটি খুশিতে ডাকাডাকি করতে লাগল। যেন পাখিটি বলতে চায় তাড়াতাড়ি আমাকে খাঁচাটার দরজা খুলে দাও। রিফাত স্কুল ব্যাগটা রুমে রেখেই সরাসরি পাখিটির কাছে চলে এলো। পাখির প্রতি তার মমতা আরো বাড়তে লাগল। পাখিটার ভেতর রিফাতের জন্যও অনেক মায়া, বন্ধুত্ব তৈরি হলো। একদিন রিফাত তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেল। সাথে তার পাখিটিকে নিয়ে গেল। রিফাতের মামা-মামী পাখিটির ব্যবহার, আচর-আচরণ দেখে তো হতবাক হয়ে গেল। রিফাতকে জিজ্ঞাসা করাতে সে বলল, শুধু পাখি নয় যে কোনো সৃষ্টির সাথে ভালো ব্যবহার করলে সে আপনার বন্ধু হয়ে যাবে। পাখি তো ক্ষুদ্র প্রাণী। এর থেকে অনেক বড় প্রাণীদের সাথে আমার বন্ধুত্ব আছে। মামা-মামী রিফাতের কথা শুনে খুব খুশি হলো। রিফাত পরের দিন তার পাখিটিকে নিয়ে বাড়িতে চলে এলো। আগের মত তাদের বন্ধুত্ব চলতে লাগল।

SHARE

Leave a Reply