Home ছড়া-কবিতা ছড়া-কবিতা

ছড়া-কবিতা

শর্ষে ফুলের বাড়ি
আবু তাহের বেলাল

শীতের চাদর গায় জড়িয়ে হিম কুহেলি এসে
রবি শস্যের দানা ফোটায় শ্যামল বাংলাদেশে।
গাঁয়ের পথে আলের ধারে শর্ষে ফুলের বাড়ি
বিরস মনে দূর অজানায় হেমন্ত দেয় পাড়ি।

সূর্যি মামা যায় হারিয়ে শিশির ঘেরা বাঁকে
উদাসী মন বিষতায় মলিন ছবি আঁকে।
খেজুর রসে ঠোঁট ডুবানো চিতল পিঠা-পুলি
আয়েশ করে পায়েস খাবার স্মৃতি যে দেয় খুলি।

বাজার জুড়ে মটরশুঁটি পালং শাকের ডালা
বাঁধাকপি ফুলকপিতে সাজায় অরূপ মালা!
কই-এর সাথে টেংরা-পুঁটি শোল টাকির খাঁচি
বোয়াল মাছের কথা ভুলে কেমন করে বাঁচি!

উলের জামার কদর বাড়ে কানটুপিটাও খুঁজি
হাতে পায়ে তেলের মালিশ করে আমার বুজি।
বিহান সাঁঝে নাড়ার আগুন ফাগুন নাচে দূরে
জীবন নদী পাক খেয়ে যায় পাতা ঝরার সুরে।

উত্তরপাড়ার জনপদে শীতের দাপট ভারি
থরথরিয়ে কাঁপে বুড়ো কাঁপে কিশোর নারী।
আমরা খুশি শীত আমেজে হোক যতো সে রিক্ত
তার বিরহে বিরহিনীর দু’চোখ যেন সিক্ত।

টুপুর জন্য দু’টি ছড়া
জ্যোতির্ময় মল্লিক

এক.
চাঁদের মত হাসিটি তার
ফুলের মত গাল,
হাঁটি হাঁটি হাঁটতে গিয়ে
খায় তবু সে টাল।
হাসিতে তার মুক্তো ঝরে
কান্নাতো নয় পান্না
টুপুর সোনা চাঁদের কণা
দুদু ছাড়া খান না।

দুই.
রিনিক ঝিনি রিনিক ঝিনি
শব্দ তুলে টুপুর,
নূপুর পায়ে ছুটে বেড়ায়
সকাল থেকে দুপুর।

মেঘের পরী ছোট্ট মেয়ে
যায় না কোথাও দূরে,
পরানখানি জুড়ায় সবার
সারা বাড়ি ঘুরে।

নূপুর জোড়া নয়তো সোনার
নিখাদ গড়া রূপায়,
জন্মদিনে এই উপহার
দিয়ে ছিলেন ফুপায়।

থাকি পাশে
ওয়াহিদ আল হাসান

কে আছো ভাই কাছে দূরে
ডাকছে তারা করুণ সুরে।

উদম গায়ে কাঁদছে বসে
শীতের হাওয়া বইছে কষে।

একটু গরম কাপড় আশায়
গান ধরেছে আপন ভাষায়।

কারো যদি দয়া জাগে
কাপড় দেবো তাদের ভাগে।

ফুটবে হাসি চোখে মুখে
থাকলে পাশে সুখে দুঃখে।

ধৈর্য
ওয়াহিদ জামান

ধৈর্য ধরো ধৈর্য ধরো
ধৈর্য ধরার বাকি,
ধৈর্য কোথায়, ক্যামনে ধরে
হাত-পা আছে নাকি?

ধৈর্য খুঁজি ধৈর্য খুঁজি
ধৈর্য পাওয়ার বাকি,
ধৈর্য আমায় ছেড়ে গেছে
দিয়েছে তো ফাঁকি।

ধৈর্য ছাড়া সফল হওয়া
যায় না কোনো কাজে,
ধৈর্য ধরো ধৈর্য পোষো
জীবনের সব ভাঁজে।

হিমেল পৌষ
এস আই সানী

শীতের বুড়ি আসলো এবার কোত্থেকে?
ঠকঠকিয়ে কাঁপছি যে খুব ভোর থেকে।
সূর্যিমামা হারিয়ে গেল কোনখানে?
রোদের ঝিলিক মাখতে গায়ে মন টানে।
ঘোলামেঘে নীল আকাশের ঢাকা বুক,
সূর্যিমামা বেদম ঘুমে নিচ্ছে সুখ।
হিমকুয়াশায় গেছে ঢেকে চতুর্দিক,
উত্তরী গায় আজকে আমার নেইরে ঠিক।
বিটলপোকা ঘাসের পাতায় লুকোয় মুখ,
গঙ্গাফড়িং ভেজারোদে শুকোয় বুক।
হিমেল হাওয়া শন শনিয়ে বইছে খুব,
বৃক্ষশাখায় ব্যঙ্গমিরা রইছে চুপ।
এমন দিনে হারাবিরে কোন্ জনা?
আয় ছেলেরা যাইরে হয়ে আনমনা!

অবাক কারুকাজ
আতিফ আবু বকর

সবুজ পাতার ভাঁজে ভাঁজে
নানান জাতের ফুলের মাঝে,
অবাক কারুকাজ।
পাহাড় ঢালের খাঁজে খাঁজে
কার মহিমা রূপের মাঝে,
সজল মেঘের তাজ!

সাগর নদীর ঢেউয়ের মেলা
জোয়ার ভাটার অমোঘ খেলা,
কোন সুদূরে যায় হারিয়ে
বিশাল স্রোতের ভাঁজ।

দূর গগনে অযুত তারা
মিটিমিটি জোছনা ধারা,
রুপোলি চাঁদ আলোক ছড়ায়
ঘোর নিশীথের মাঝ।

SHARE

Leave a Reply