Home বিশেষ রচনা ২০১৮ সাল হোক তোমাদের জন্য জীবনের টার্নিং পয়েন্ট -ড....

২০১৮ সাল হোক তোমাদের জন্য জীবনের টার্নিং পয়েন্ট -ড. মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম

প্রিয় কিশোর ভাই-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি তোমাদের একজন বড় শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে একটি চিঠি লিখছি। যখন চিঠি হাতে পাচ্ছ তখন বেশ শীত থাকবে। তোমাদের কারো কাছে এ সময়টা অত্যন্ত উপভোগ্য, আবার কারো কাছে খুব কষ্টের। বিশেষ করে যাদের ভালো ঘর নেই, ভালো শীতবস্ত্র নেই, তারা অনেক কষ্টবোধ করে। যেসব শিশু-কিশোর এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ পথের পাশে থাকে তাদেরতো অন্তহীন কষ্ট তাই না? যাক, আমরা তাদের শান্তির জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করবো, যাতে শীত তাদের কষ্ট না দেয়।
বন্ধুরা আবার ফিরে আসি চিঠির কাছে। তোমাদের মত আমাদেরও খুব চঞ্চল-চপল একটা সময় ছিলো। সবসময় খেলাধুলা করলে ভালো লাগতো, আর পড়ার কথা বললেই মন বেজার হতো। বড়রা খুব জোর করতো বলেই আল্লাহর রহমতে আজ অনেকেই বড় হয়েছে তাই না? আমাদের সময় সন্ধ্যায় ছোঁয়াছুঁয়ি বা পলাপলি খেলতাম আর মনে হতো বড়রা এটা না করে পারে কিভাবে? তোমরা তো এখন এসব খেলাধুলা খুব কমই করো তাই না? পুরো দুনিয়াকে হাতের তালুতে নিয়ে দাদুদের মতো মাথা নিচু করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকো। রাগ করো না বন্ধুরা! ঠিক বলিনি? বলো খুব বড় অংশ তোমরা এটা করো। আর করবে না কেন? তোমাদের বন্ধুরা অনেক কাজে অনেক দিকে চলে যায়। বন্ধুহীন হতে হয়, সুতরাং তোমাদের দোষ দেয়া আমাদের উচিত নয়।
আচ্ছা তা যাই হোক সবার মাঝে তোমাকে, হ্যাঁ তোমাকেই একটু ভিন্ন হতে হবে। তোমাকে নিয়েই আমাদের আশা এবং আমাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন বিনির্মাণ করি। শত-সহ¯্র প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তোমাদের মাঝে আমরা বেঁচে থাকার অক্সিজেন খুঁজে পাই। এ জন্য নতুন বছরের আগমনে তোমার পরিকল্পনার অংশীদার হতে চাই। তোমার প্রতিভাকে (ঞধষবহঃ) ভাবার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমাদের এ প্রচেষ্টা। বছরের শুরুতে সবার একটা পরিকল্পনা থাকে। এর আবার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার আছে। কিছু আবার মাসিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ¥াসিক এবং বার্ষিকে পরিবর্তন করতে হয়। আমার পরামর্শগুলো তোমাদের মত করে বিন্যাস করে নিও।
শুরুতে একটি কথা বলে রাখি, একজন মানুষের সফলতা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার সমন্বয়। এ জন্য যারা হজ বা উমরা করতে মক্কায় যায়, তারা কাবাঘরের রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরুল আসওয়াদ পর্যন্ত সূরা আল বাকারার ২০১ নম্বর আয়াত পাঠ করে। এর অর্থ হচ্ছে : “হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দাও এবং আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং আগুনের আজাব থেকে আমাদের বাঁচাও।” অতএব তথ্যপ্রযুক্তি এবং মিডিয়ার এ অবাধ সুযোগে আমাদের জীবন সাজানোর জন্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য যেসব কাজ করতে হবে তা হচ্ছে-

স্বপ্ন দেখা
একজন মানুষ তার স্বপ্ন সমান বড়। যে যত বড় স্বপ্ন দেখে এবং চেষ্টা করে সে ততটা সফলতা লাভ করে। মহান আল্লাহ সূরা আন নজমের ৩৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “মানুষ যে চেষ্টা সাধনা করে তা ছাড়া তার আর কিছুই প্রাপ্য নেই।” তিনি সূরা আর রাদের ১১ নম্বর আয়াতে আরও বলেছেন, “আসলে আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের গুণাবলি পরিবর্তন না করে।” সুতরাং স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তোমাকে পরিবর্তন (Change) হতে হবে। কলিন পাওয়েল বলেছেন, A dream doesn’t become reality through magic; it takes sweat, determination and hard work. এ ছাড়া সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফ জাই বলেছেন, Let us make our future now, and let us make our dreams tomorrow’s reality সুতরাং প্রথম কাজ হচ্ছে স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করা।

সুন্দরভাবে সালাত আদায় করা
একজন মানুষ পবিত্র হওয়ার জন্য সালাত আদায় অত্যন্ত জরুরি। মুসলমানদের জন্য তো ফরজ (যা প্রত্যেক ব্যক্তিকে অতি অবশ্যই পালন করতে হয়)। যে এটা আদায় করে না, সে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয় না, যদিও তার পোশাক অনেক সুন্দর হয়। আমাদের প্রিয় নবী সা: সাত বছর বয়স থেকে সালাত আদায় করতে বলেছেন, আর দশ বছর বয়স হলে সালাত আদায় না করলে প্রহার করতে বলেছেন। কারণ, দশ বছর হয়ে গেলে প্রত্যেকের জন্য পাপ এবং পুণ্যের খাতা খোলা হয়। সুতরাং কোন অবস্থাতেই সালাত ত্যাগ করা যাবে না। মহান আল্লাহ সূরা আল আনকাবুতের ৪৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন: “নামাজ কায়েম করো, নিশ্চিতভাবেই নামাজ অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।” সুতরাং আমরা যদি ভালো হতে চাই, জীবন সুন্দর করতে চাই, মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে চাই তাহলে অবশ্যই সালাত আদায় করতে হবে। পাশাপাশি সালাতে যা বলি তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। একজন মনীষী বলেছেন, Prayer is the nearest approach to God– প্রার্থনা বা সালাত স্রষ্টার নিকটবর্তী হওয়ার সর্বাধিক উত্তম মাধ্যম। সুতরাং তোমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কখনও সালাত ত্যাগ করবে না। বরং এ লাইনটি মাথায় ইনস্টল করে নাও “নামাজকে বলো না কাজ আছে, বরং কাজকে বলো আমার নামাজ আছে।” যদি পারো তবে নিশ্চিত জেনো তুমি ব্যতিক্রম হবে।

আত্মবিশ্বাসী হওয়া
তোমার সামনে অনেক কিছু থাকতে পারে। হতে পারে তার কিছু গ্রহণ করা যায়, কিছু পরিধান করা যায়, কিছু সেবন করা যায়, কিছু বিশ্বাস করা যায়, তাই না? তোমার বন্ধু-বান্ধবীরা সবটাই নিচ্ছে। তুমি তখন কী করবে? সবটাই নেবে, বাদ দেবে? একটু কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা তাই না? সে সময় তুমি যা করবে তা হলো- তোমার ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং তোমার আর্থিক অবস্থার আলোকে তা গ্রহণ অথবা বর্জন করবে। সবাই যা করছে, কিছু না ভেবে তুমি তা করবে না। তোমার এ অবস্থান নিঃসন্দেহে তোমাকে সুন্দর, আত্মবিশ্বাসী এবং মর্যাদাবান করবে।

সুচিন্তা করা
সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করবে। কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করার পরিকল্পনা করবে না। এমনকি কখনও কিছু বন্ধু একত্রে অন্য বন্ধুকে মজা করে একটু প্যারার মাঝে ফেলে দাও, তাও করবে না। এতে তোমাকে সবাই অভদ্র হিসেবে জানবে। তোমাকে অন্যরা ঠাট্টা করবে, তুমি বন্ধুদের মাঝে খুব নীচ ও হীন হয়ে যাবে। আমাদের নবী সা: রসিকতার ছলে এ রকম ধোঁকা দেয়ার কাজ করতে নিষেধ করেছেন।

সময়ের কাজ সময়ে করা
তোমরা নিশ্চয় জানো, Time and tide wait for none- সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সুতরাং আজকের কোন কাজ কালকের জন্য রেখো না। আজকের যে হোম ওয়ার্ক তা আজকেই শেষ করবে। কারণ কাল তুমি আরো ব্যস্ত হতে পারো, অথবা আগামীকাল আরো কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ তোমার সামনে আসতে পারে।

পড়ার সময় মোবাইল কাছে না রাখা
তোমরা যখন হোমওয়ার্ক করবে অথবা ক্লাসের পড়া প্রস্তুত করবে তখন মোবাইল কাছে রাখবে না। কারণ মোবাইল পড়ালেখার মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে নেয়। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তার সন্তানদের আঠারো বছরের আগে মোবাইল ফোন দেননি। খুব অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ইন্টারমিডিয়েটের পূর্বে অ্যানড্রয়েড ফোন সাথে ইন্টারনেট ব্যবহার না করা উচিত। যদি করতেই হয় অবশ্যই যাতে অপব্যবহার না হয় খুব সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

কারিকুলামের অতিরিক্ত কাজ করা
তোমরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিন্তু শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত এমন কিছু কাজ শিখে নেবে। যেমন কেউ আর্ট শিখতে পারো, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, রক্তদান, কোন বাচ্চাকে ফ্রি পাঠদান, বক্তব্য প্রদান, বিতর্ক শিক্ষণ, কবিতা বা গল্প লিখন এ ছাড়া আরো অনেক কর্মকাণ্ড যা তোমাকে সমৃদ্ধ ও সুন্দর করবে। পরবর্তী পর্যায়ে তোমার এ কাজ গুলি অন্যদের মাঝে অনন্য হয়ে উঠবে।

আল কুরআন শিক্ষা করা
বন্ধুরা এ কাজটা খুবই দরকার। অনেকেই ছোট বয়সে আল কুরআন শিখতে না পারার কারণে বড় হয়ে অনেক লজ্জায় পড়ে যায়। এটা কোনোভাবেই যেন বাদ না যায়। আমাদের ধর্মীয় সকল কাজে এটার কোনো বিকল্প নেই। আর একজন সচেতন ছাত্র হিসেবে অবশ্যই অর্থ বুঝে তেলাওয়াত শিক্ষা করবে। কমপক্ষে ২০টা সূরা অর্থসহ মুখস্থ করবে। পাশাপাশি চার রাকাত সালাতে আমরা যা পাঠ করি সেটা দোয়া অথবা তাসবিহ অথবা ক্বেরাত যাই হবে তার অর্থ যেন অনুধাবন করতে পার। আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন, কিয়ামতের দিন রোজা এবং সালাত মানুষের জন্য জান্নাতে নেয়ার সুপারিশ করবে। আল কুরআনকে সেভাবেই ভালোবাসতে হবে এবং আয়ত্ত করতে হবে।

হাতের লেখা ভালো করা
বর্তমানে তোমরা সবকিছু হয় ফটোকপি করা হয়, আর না হয় মোবাইলের মাধ্যমে পিকচার তুলে রাখা অথবা পেনড্রাইভ বা ফ্ল্যাশের মাধ্যমে কপি করে নেয়া হয়। অনেক সময় লেখার প্রয়োজন হয় না। এতে করে লেখার অভ্যাস কম হয়ে যায়। ফলে অনেকের হাতের লেখাও খারাপ হয়ে যায়, পরীক্ষায় অনেক সময় কাক্সিক্ষত রেজাল্ট হয় না। হাতের লেখা ভালো হওয়া একটি বিশেষ গুণ। এটা অর্জন করতে হয়। অতএব বাংলা, ইংরেজি এবং আরবি হাতের লেখা যাদের ভালো না তারা আজকেই শুরু করো ভালো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কাক্সিক্ষত ফলাফলও আসবে।

অনুকরণীয় মানুষের জীবনী
আয়ত্ত করা
সুপ্রিয় কিশোর বন্ধুরা! রাসূল মুহাম্মদ সা: পৃথিবীর সর্বকালের সর্বোত্তম মানুষ। তারপর চার খলিফা আবু বকর রা:, উমার রা:, উসমান রা: ও আলী রা:, অতঃপর খাদিজা রা:, ফাতিমা রা: এবং আয়িশা রা:- এ সকল মহা মনীষীর জীবনী অধ্যয়ন করবে এবং আত্মস্থ করবে। বাস্তব জীবনে তাঁদেরকে রোল মডেল বানাবে। স্মার্ট যদি হতে চাও ওনাদের জীবনধারা ফলো করো। পৃথিবীর সকল ধর্মের বিখ্যাত মানুষ এসব মানুষকে কোন দিক থেকে মন্দ বলেননি। সুতরাং তোমার কোন স্বপ্নের মডেল থাকলে নবী করিম সা: হবেন! সাহাবাগণ হবেন তাই না? আমাদের প্রত্যাশা তোমরা তাঁদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে এ সময়ের সর্বোত্তম মানুষটি হবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের ইতিহাস জানা
বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এমন মায়াময় সুজলা সুফলা দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তোমরা হয়তো বলবে বাড়িয়ে বলছি। একটুও না। আমরা যখন একটু অন্য দেশে গিয়েছি তখন সত্যিকারভাবে উপলব্ধি করছি আমাদের দেশ কতই না উত্তম! তোমরা যখন দেশের বাইরে যাবে তখন আমার কথার সত্যতা অবশ্যই পাবে। প্রিয় কিশোর ভাই-বোনেরা, এ জন্য আমাদের খুব প্রিয় জিনিসের মত করেই বাংলাদেশকে ভালোবাসতে হবে। এর উন্নয়নে এবং রক্ষণাবেক্ষণে সকলকে কাজ করতে হবে। এ দেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে এ দেশের প্রাচীন ইতিহাসসহ সামগ্রিক বিষয়। যারা এ দেশের জন্য জীবন দান করছেন তাদের জন্য দোয়া করতে হবে।

পিতা-মাতার আদেশ-নিষেধ
মেনে চলা
বাবা-মা একজন সন্তানের জন্য পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। জন্ম থেকে শুরু করে তোমার জন্য এত কিছু আর কে করে দেয়? এখনই একটু চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখোতো? এক মিনিট..দুই মিনিট..তিন..কী দেখলে সত্যি না? তোমার টাকা দেয়া, কেয়ার নেয়া, জামা-জুতা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ড্রেস ..সব সবকিছু বাবা-মা দেন। এ জন্য তাঁদেরকে কখনও কষ্ট দিবে না। নবী করিম সা: বলেছেন, “পিতা-মাতা সন্তুষ্ট হলে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হন, আর পিতা-মাতা অসন্তুষ্ট হলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।” তিনি আরো বলেছেন, “মাতার পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।” এবার একটু চিন্তা করোতো যারা অবাধ্য তাদের কী হবে? হ্যাঁ কখনও হতে পারে বাবা-মা যা করছেন তা ঠিক নয়- তার পরও তাদের কথা মানতে হবে। কারণ, তারা না থাকলে তোমার অস্তিত্বই যে থাকতো না!
কোনো ধরনের মাদক গ্রহণ না করা
বন্ধুরা, কিশোর বয়সে অনেক কৌতূহল থাকে। আরবিতে একটা প্রবাদ আছে “মানুষকে যে ব্যাপারে না করা হয়, সে ব্যাপারে তার কৌতূহল থাকে বেশি”। কিছু কিছু বিষয় আছে তোমার যতই কৌতূহল থাকুক তা না করা। বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা, আফিম, ফেনসিডিল কখনও এসবের ধারে কাছেও যাবে না। একবার যদি গিয়েছো তোমার জীবনে ধ্বংস অনিবার্য। আচ্ছা যদি কেউ ‘বিদ্যুৎ’ কেমন টেস্ট করতে যায় তার কী অবস্থা হবে? কেউ যদি কৌতুহলে সাপের বিষ টেস্ট করে তার কী হবে? সুতরাং এসব মাদক থেকে অনেক দূরে থাকতে হবে। খুব করে অন্তরে লিখে নাও “বিড়ি বা সিগারেট সকল মাদকের মা-বা বস।”

সবসময় সত্য বলা এবং
মিথ্যা পরিহার করা
সত্য মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে। মিথ্যা সকল পাপের জননী। যে মিথ্যুক সে অবিশ্বাসী। সত্য চিরভাস্বর। সত্যের এক দোষ, আর অসত্যের হাজার দোষ। কখনও ইচ্ছা করেও আমরা মিথ্যা বলবো না। একবার এক সাহাবী নবী করিম সা:-কে নসিহত করতে বললেন, তিনি বললেন, ‘কখনও মিথ্যা কথা বলো না।’ হযরত আবু যর রা: রাসূল সা:-কে বললেন আমাকে অসিয়ত করুন, নবী করিম সা: বললেন, ‘সত্য কথা বলো যদিও তা তিক্ত হয়’। হাদিসে আরো এসেছে ‘যে ব্যক্তি লোক হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস।’ সত্য কথা সম্পর্কে ইংরেজ কবি জন কিটস বলেছেন- Beauty is truth; truth is beauty.. অতএব সবসময় ‘সত্য বলতে হবে, সত্য ভাবতে হবে, সত্য বলতে হবে, সত্য লিখতে হবে এবং মিথ্যাকে চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগ করতে হবে’ একমত সবাই? সত্যের জয়গানের জন্য সবাই সবার হাতে হাত রেখে একবার চিয়ার আপ করে নেই!

শালীন পোশাক পরিধান করা
বন্ধুরা তোমরা সবসময় স্বপ্ন দেখে বেড়াও তাই না? তোমাদের চোখ-মুখ সত্যি স্বপ্নে পরিপূর্ণ। আগেই বলেছি তোমাদের স্বপ্নেই আমরা বিভোর হই। কিন্তু সাবধান! বাস্তবে আসার আগেই তোমার স্বপ্ন যেন কেউ ধ্বংস করতে না পারে! সেই ডিম ওয়ালার মত, যার ডিমগুলো মাথা থেকে পড়ে গেল আর সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। হুম, তোমার সব স্বপ্ন শেষ হতে পারে তোমার হাতেই, যাকে তুমি পছন্দ করে টাকা দিয়ে ক্রয় করেছো, সেটা আর কিছু নয়, সেটা তোমার পোশাক! অবচেতন মনে একবার শালীনতা বর্জিত হয়েছো তো তুমি শেষ। তুমি ছেলে বা মেয়ে যেই হও না কেন। এ জন্য তুমি, তোমরা সাবধান কেউ অসুন্দর কিছু গিফট করলেও তা দেখে বুঝে পরিধান করো। কারণ জীবন এবং স্বপ্নতো তোমার। সুতরাং কেউ কিছু গিফট দিলো, কিছু করতে বললো আর তুমি তা করে ফেললে প্রকারান্তরে তোমাকেই ধ্বংস করলে।
আমি শেষ করতে চাই এটা বলে, বন্ধুরা যা কিছু করো তোমার ¯্রষ্টার নির্দেশনা একবার চিন্তা করো, প্রয়োজনে অন্য কোনো ভালো মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করো আর পিতা-মাতা এবং তোমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অনুসরণ করো, তোমার সফলতা সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।

SHARE

Leave a Reply