Home তোমাদের গল্প বকল্যাই -রুবেল হক নাসির

বকল্যাই -রুবেল হক নাসির

বকল্যা চোর।
ভালো নাম বকুল। এলাকাবাসী তাকে বকল্যা বলেই ডাকে। চোর তার বংশীয় পদবি। দাদুর দাদু ন্যাড়া চোর। বাবার বাবা ক্যাল্যা চোর, তার বাবা বাদল্যা চোর আর সেই সূত্রে বকল্যা চোর। যদি তাকে কেউ শুধু বকল্যা বলে ডাকে তাহলে তার মনটা বড়ই ক্ষুণœ হয়ে যায়। কেন তাকে বকল্যা চোর না বলে শুধু মাত্র বকল্যা বলা হলো। পদবি অত সস্তা জিনিস নয় যে হাটেবাজারে কিনে পাওয়া যায়। পদবি আপনা থেকে আসে না মশাই অর্জন করে নিতে হয়। বকল্যা যখন চুরি করে তখন রাস্তার কাক পক্ষীও টের পায় না।
বকল্যা যে কত গ্রামগঞ্জ থেকে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, হাঁড়ি-পাতিল, কাঁথা-বালিশ আরও কত কিছুই চুরি করে। অথচ কারও নজরে পড়ে না। বকল্যা চোর কোন সাধারণ চোর নয়। বকল্যাকে ধরা বড় কঠিন। বকল্যা হচ্ছে সেই চোর যে কিনা জন্মলগ্ন থেকেই চোর। বকল্যা নিজে গর্ববোধ করে বলে, আমার মত দক্ষ অভিজ্ঞ, চতুর চোর দশ গ্রাম খুঁজে একটাও পাওয়া যাবে না। বকল্যা চোর একজনই। চোরের রাজা হলো বকল্যা চোর। তাকে কেউ স্বচোখে দেখতেই পারে না। কিন্তু তার এই ভাবনাটা একদিন ভেস্তে গেল।
ঠিক দুপুর বেলা। বকল্যা চোর বারান্দায় বসে ভাত খাচ্ছে। হঠাৎ এক বিশাল কান্ড ঘটে গেল, যা অতি অবিশ্বাস্য। বকল্যার বাড়ির এক লাল মুরগির বাচ্চা চিৎকার মেরে উঠলো-পিঁয়াজ-পিঁয়াজ-পিঁয়াজ।
লাল মুরগির বাচ্চার পিঁয়াজ-পিঁয়াজ চিৎকার শুনে বকল্যার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। সর্বনাশ-বলে কি এই মুরগির বাচ্চা বলে কি?
মুরগির বাচ্চা চিউ চিউ করবার কথা অথচ বলছে কি পিঁয়াজ-পিঁয়াজ-পিঁয়াজ-
বিড় বিড় করে বকল্যা বলল, আমি যে আজ রহিমউদ্দীর জমি থেকে পেঁয়াজ চুরি করলাম। সে খবর মুরগির বাচ্চা জানলো কি করে, হায় হায় এত সর্বনাশের কথা। বকল্যা মুরগির বাচ্চা টাকে অনুরোধ করে বলতে লাগলো চুপ কর-চুপ কর আমার জাত কুল ডুবাসনে চুপ কর। কিন্তু না, অনুরোধে কাজ হলো না মুরগি বাচ্চাটা পিঁয়াজ-পিঁয়াজ- পিঁয়াজ- করেই চলেছে।
বকল্যা চোর তেলে বেগুন জ্বলে উঠলো। রাগান্বিত হয়ে বলল চুপ কর মুরগির বাচ্চা চুপ কর।
বকল্যার ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর বসে ডিম পাড়ছিলে বাচ্চা মুরগির মা। সেও আবার হঠাৎ জোরে জোরে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো কলসির ভেতর-কলসির ভেতর- কলসির ভেতর- বকল্যা চোর হতভম্বের মত বসে রইলো। মনে মনে ভাবলো এটা তো খুব ভালো কথা নয়। মহা কেলেঙ্কারি। কলসের ভেতর পিঁয়াজ রাখা আছে সেটাও মুরগি জানে। এখন কী হবে? যদি এলাকার লোকজন এ কথা জানে তবে তাদের বংশের মান-মর্যাদা কিছুই থাকবে না। সব ডুবে যাবে-
না-না-এটা হতে দেয়া যায় না।
দিন বিদায় নিলো, রাত এলো।
বিছানায় পড়ে পড়ে ভাবতে লাগলো। মুরগিদের মুখ যেভাবেই হোক আটকাতেই হবে। কিন্তু কিভাবে কোনো উপায় আছে কি? অবশেষ অনেক ভাবার ফসল বাহির হলো জবাই। রাত শেষ হলেই বাড়ির সকল মুরগিকে জবাই দিতে হবে। রাত শেষ হয়ে এলো। ভোর হলো। গ্রামের চারদিক মোরগ ডাকতে লাগলো। বকল্যা এবার কানপেতে ভালো করে মোরগের ডাক শুনতে লাগলো-
বকল্যা মোরগের ডাকগুলো শুনেছে মোরগগুলো যেন চিৎকার দিয়ে বলছে বকল্যাই চোর-বকল্যাই চোর- বকল্যাই চোর। বকল্যা এবার বিছানায় উঠে বসে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো না-আমি-চুরি করিনি।
কিন্তু তাতে কোনো লাভ হলো না- কারও মুখ আর বন্ধ করা সম্ভব না। এলাকার সকল মোরগ যেন জেনে গেছে। তারই বাড়ির মুরগিগুলো পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরে ঘুরে সকল মোরগকে জানিয়েছে-হায় কপাল-হায় কপাল- মোরগগুলো যেন আরো জোরে চিৎকার দিয়ে বলছে, বকল্যাই চোর-বকল্যাই চোর-বকল্যাই চোর।

SHARE

Leave a Reply