Home চিত্র-বিচিত্র মিষ্টিপ্রাণী কোয়ালা -নুসাইবা মুমতাহিন

মিষ্টিপ্রাণী কোয়ালা -নুসাইবা মুমতাহিন

পৃথিবীতে নানা ধরনের প্রাণী আছে। প্রতিটি প্রাণীর বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা আছে। এদের নানারকম বৈশিষ্ট্য আমাদের বিভিন্নভাবে আকৃষ্ট করে। তেমনি একটি প্রাণী কোয়ালা।
কোয়ালা প্রাণীটিকে তোমরা হয়তো অনেকেই চিনো না। আর চিনবেই বা কেমন করে! কোয়ালা সারা পৃথিবীতে বাস করে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে। খুব কম এলাকায় থাকে বলে সমগ্র অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে কোয়ালাদের খুব ভালোবাসা ও আদরের সঙ্গে রাখা হয়।
কম জায়গায় পাওয়া যায় বলেই শুধু নয়, কোয়ালা দেখতে খুব মিষ্টি, একদম ছোট একটা ভাল্লুকের মতো। তবে কোয়ালা কিন্তু ভাল্লুক না। কোয়ালার সঙ্গে শারীরিক গঠনে বরং ক্যাঙ্গারুর সঙ্গে বেশ মিল আছে। এরা ক্যাঙ্গারুর মতো দেখতে নয় তবে কোয়ালার পেটে থলে আছে। অর্থাৎ এরা ক্যাঙ্গারুর মতো বাচ্চাকে পেটের মধ্যে একটা আলাদা থলেতে বহন করে। এই থলেতেই মায়ের পেটে বাচ্চাটা বড় হয়।
একটা কোয়ালা একবারে একটা মাত্র জোয়িকে বহন করতে পারে। কোয়ালার থলের মধ্যে যখন বাচ্চা থাকে সেই বাচ্চাটাকে জোয়ি বলে। এ বিশেষ নামের কারণ হল কোয়ালার বাচ্চা জন্মের পরে একদম জেলি বিনের মতো দেখতে হয়। তারা তখন চোখে দেখে না, ওদের তখন কানও থাকে না। এইভাবেই তারা মায়ের পেট থেকে বের হয়।
মানব শিশুরা মায়ের পেট থেকে বের হয়ে মায়ের কোলে আসে। কোয়ালার বাবুরা কিন্তু মায়ের পেট থেকে বের হয়ে এক অর্থে পেটেই থাকে। কোয়ালার পেটে যেই থলেটা থাকে সেই থলেতেই আরও কিছুদিন সময় তাকে কাটাতে হয়।
মায়ের থলের মধ্যে জোয়িরা সাত মাস কাটায়। জন্মের পরে যখন তারা প্রথম মায়ের থলেতে আসে তখন তাদের শুধু ঘ্রাণশক্তি আর স্পর্শ শক্তি থাকে। বাকি সবকিছুর গঠন হয় এই সাত মাসে মায়ের থলের ভেতরে।
থলের মধ্যে বাচ্চাগুলো যখন ছয় মাস পার করে তখন তাদের মায়ের পাপ (ঢ়ধঢ়) নামে একটি বিশেষ পদার্থ তৈরি করে। এই পদার্থটি জোয়িদের দুধের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়ানো হয়। এটার কারণও খুব মজার। এই পাপনামে পদার্থটি আসলে জোয়িদের কোনো পুষ্টি দেয় না। বরং মায়েদের পেটের অন্ত্রে অবস্থিত কিছু ব্যাকটেরিয়াকে জোয়িদের অন্ত্রে দিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে জোয়িরা স্বাভাবিক বড়দের খাবার যেমন, ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা খেলে হজম করতে পারে।
সাত মাস বয়স হলে জোয়িরা মায়ের থলে থেকে বের হয়ে ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা খায়। তবে খাওয়া দাওয়া শেষে টুপ করে আবার মায়ের থলেতে ঢুকে যায় এবং সেখানে বসে মায়ের দুধ পান করে। এইভাবে একটা জোয়ির বয়স যখন এক বছরে এসে পৌঁছায়, জোয়িরা মায়ের দুধ পান করা বন্ধ করে দেয় আর শুধু পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭০০ প্রজাতির ইউক্যালিপ্টাস গাছ আছে। এর মধ্যে কোয়ালামাত্র কয়েক প্রজাতির গাছের পাতা খায়।
কোয়ালারা দেখতে বেশ ছোটখাটোই হয়। প্রাপ্ত বয়সে ২০ পাউন্ডের মতো ওজন হয়। দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। আর এভাবে পাতা খেয়ে একটা কোয়ালা বেঁচে থাকে প্রায় ২০ বছর।
কোয়ালা নিশাচর প্রাণী হলেও খুব অল্প সময়ের জন্য রাতে চলাচল করে। দিনেও খুব একটা চলাচল করে না। প্রায় সারাদিন ঘুমিয়ে কাটায়। দিন রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা ঘুমিয়েই কাটায়। এ জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঘুমিয়ে থাকা প্রাণীর খেতাব এদেরই দখলে।
পুরুষ কোয়ালা দিনের বেলায় তাদের প্রয়োজনীয় খাবার খুঁজে খায়। তবে স্ত্রী কোয়ালা পুরুষের মতো দিনের বেলা খায় না বরং সে সময়টা তারা ঘুমিয়ে কাটায়।
পুরুষ কোয়ালা ২০ পাউন্ড ও স্ত্রী কোয়ালা ১৪ পাউন্ড পর্যন্ত ওজনের হয়।
কোয়ালা শব্দের ইংরেজি অর্থ হলো ‘ডাজ নট ড্রিঙ্ক’। বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় পানি পান করে না। তাদের এমন নামের অর্থ হওয়ার কারণ হলো কোয়ালারা সব সময় পানি পান করে না। গাছের পাতা থেকেই এরা পানির প্রয়োজন মিটায়। কোয়ালাদের বসবাসের জন্য গভীর জঙ্গল দরকার। একটা কোয়ালার জন্য প্রায় এক শ’ গাছ না হলে এরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে না।
কোয়ালা সাঁতার কাটতে পারে। অদ্ভুত ঘ্রাণশক্তি আছে এদের। কোন গাছের পাতা বিষাক্ত খেলে অসুবিধা হতে পারে তারা তা বুঝতে পারে নাক দিয়ে শুঁকে।
কোয়ালা খুব ঘুমকাতুরে প্রাণী হলেও খুব মিষ্টি প্রাণী। মিষ্ট স্বভাবের জন্যই এরা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

SHARE

Leave a Reply