Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো মাটির মায়া

মাটির মায়া

গাঁয়ের মাটিতে পা রাখতেই হৃদয়টা কেমন শীতল হয়ে এলো। শান্ত-শীতল! ঝরঝরে। এমন হবেই না বা কেন? হৃদয়টা তো সে এখানেই রেখে যায়! বাঁশবনে। বেতের ঝোপে। কলমির ফুলে। রাজহাঁসের ডানায়। নরম মাটির পরতে পরতে! শহর থেকে গাঁয়ে ফিরলেই তাই প্রাণ ফিরে পায় আকিল। প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে-সেখানে। খালি পায়ে। আর ঘরে ফিরে আসে পা ভরা ধুলো নিয়ে!

কখনো কখনো তার অদ্ভুত ইচ্ছে জাগে। ইচ্ছে জাগে মাটিতে শুয়ে পড়তে। গড়াগড়ি খেতে। আর কবির সুরে সুরে গেয়ে উঠতে, “মাটিরে আমি যে বড় ভালোবাসি…”। মাটির প্রতি এত ভালোবাসা কেন তার? নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে সে। উত্তরও জানা আছে। এ মাটিতেই তার জন্ম। এ মাটিতেই বেড়ে ওঠা লকলকে লাউয়ের ডগার মতো। এ গাঁয়ের মাটিতে। এ দেশের মাটিতে!

দেশের কথা ভাবতেই অন্যরকম অনুভবে দুলে ওঠে সে। দেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা আরও তীব্র হয়ে ওঠে তখন। কারণ, এ মাটি তো কিনতে হয়েছে। রক্ত দিয়ে! জীবন দিয়ে! ভালোবাসা দিয়ে। কষ্টে পাওয়া এ মাটি তাই আরও দামি হয়ে ধরা দেয় তার কাছে। দাদার কাছে এর কত গল্প শুনেছে সে। আজ আবারও দাদার পাশে বসতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে গল্প শুনতে। নতুন গল্প।

দাদা ঝাঁপি খুললেন গল্পের। সংগ্রামের গল্প। এ মাটিকে মুক্ত করার গল্প! দাদা বুঝতে পারলেন, আকিলের কাছে ‘মাটি’ শব্দটা খুবই প্রিয়। খুবই। তাই আজ বুঝালেন, মাটির সাথে মানুষের সম্পর্ক কত গভীর! শোনালেন, মহান আল্লাহর বাণী- “আমি মাটি থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি। মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়ে নেবো। আবার তোমাদের বের করবো মাটি থেকেই।” (সূরা ত্ব-হা : ৫৫)

আকিল তো অবাক হলো আরও। জীবনের শুরুতেও মাটি! শেষেও মাটি! অদ্ভুত- কী অদ্ভুত মাটির মায়া!

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply