Home বিশেষ রচনা বিজয়ের আনন্দ -ড. আশরাফ পিন্টু

বিজয়ের আনন্দ -ড. আশরাফ পিন্টু

১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। এ দিন আমাদের আনন্দের দিন, আমাদের খুশির দিন। ছোট্ট বন্ধুরা; তোমরা কি জানো এই আনন্দের মধ্যেও লুকিয়ে আছে অনেক ব্যথা-বেদনা। অনেক কষ্টের পর পেয়েছি আমরা এ হাসি আর আনন্দ। কিভাবে পেলাম এই বিজয়ের আনন্দ তাহলে সেই কাহিনীই একটু তোমাদের বলি :
এক সময় আমাদের দেশ পরাধীন ছিল। তখন আমাদের এই দেশ ব্রিটিশ ভারতের অধীন ছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ইংরেজরা ভারত বর্ষকে দু’ভাগে ভাগ করে দেয়; এক ভাগে পড়ে ভারত আর এক ভাগে পড়ে পাকিস্তান। ভারতের অধিকাংশ লোক ছিল হিন্দু আর পাকিস্তানের অধিকাংশ লোক ছিল মুসলমান। আর এই দু’টি বৃহৎ জাতির ভিত্তিতেই দু’টি দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। আমাদের পূর্ববাংলা (বাংলাদেশ) পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নাম ধারণ করে পূর্ব পাকিস্তান।
পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা মুসলমান হলেও ওদের ভাষা বাংলা ছিল না। ওরা উর্দু, পশতু, পাঞ্জাবি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলত। আর আমরা বাঙালিরা কথা বলতাম মাতৃভাষা বাংলায়। এ ভাষা নিয়েই সর্বপ্রথম ওদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ওরা বলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। কিন্তু পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। ওদের এ কথা আমাদের বাঙালিরা মেনে নিতে পারেনি। আমাদের বড়ভাইয়েরা এর জন্য প্রাণ দেনÑ শহীদ হন। আমাদের এ দাবি আদায় হয় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে। সেই থেকে আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাদিবস বা শহিদ দিবস পালন করি। বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় দিবসে রূপ নিয়েছে। এখন বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে একই সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়; এটা আমাদের জন্য খুবই গৌরবের ব্যাপার।
এরপরেও ওরা আমাদের সাথে নানারকমের বৈষম্য করতে থাকে। বিভিন্নভাবে শোষণ, অত্যাচার আর অবিচার করতে থাকে। ওদের এই বৈষম্যের কারণে বাঙালি শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরি-বাকরিতে আগাতে পারে না। এরকম নানা অনিয়মের কারণে এক সময় ওদের সাথে আমাদের যুদ্ধ বেধে যায়; যাকে আমরা বলি স্বাধীনতার যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ থেকে। আমাদের দামাল মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা ৯ মাস যুদ্ধ করে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেন। এই যুদ্ধে আমাদের অনেক ভাই শহীদ হন। এই স্বাধীনতা অর্জন করতে, বিজয়ের হাসি হাসতে আমদেরকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবেই না পেয়েছি আজকের এই হাসি আর আনন্দের বিজয় দিবস। তাই কবিতার ভাষায় বলা যায়Ñ
বিজয় এলেই মনে পড়ে
’৭১-এর কথা,
বিজয় এলেই মনে জাগে
ভাই হারানো ব্যথা।
বিজয় এলেই মনে পড়ে
আমরা বীর্যবান,
বিজয় এলেই ভরে ওঠে
খুশির জয়গান।
বিজয় এলেই ভেসে ওঠে
একটি সূর্য লাল,
বিজয় এলেই জয়ের সুর
ভাসে তাল-তমাল।
(বিজয় এলেই)
তাই এসো, আজকের এই বিজয়ের দিনে বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি শহীদ ভাইদেরও স্মরণ করি; তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয় যেন বৃথা না যায়; আমরা যেন সুখী-সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি।

SHARE

Leave a Reply