Home চিত্র-বিচিত্র ডাক্তার মাছ -নুসাইবা মুমতাহিন

ডাক্তার মাছ -নুসাইবা মুমতাহিন

ডাক্তার মাছ! কথাটা শুনতে বিস্ময়কর হলেও সত্যি। কারণ বিজ্ঞানীরা আজ নিশ্চিত হয়েছেন, মাছেদেরও ডাক্তার আছে। আর সেই ডাক্তাররা নিজেরাও মাছ, মানুষ নয়।
মানুষ ডাক্তাররা যেমন অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা করেন, মাছ ডাক্তাররাও তেমনি মাছ রোগীদের চিকিৎসা করে, রোগও সারিয়ে তোলে।
মাছেরা পানির নিচে থাকে। সেই পানিতে ঘুরে বেড়ায় জানা-না জানা হাজারো রকম জীবাণু। রয়েছে নানা ধরনের পরজীবী শ্যাওলা, ক্ষুদ্র প্রাণী। এরা মাছের শরীরে বাসা বাঁধে। প্রথম বাসা বাঁধে মাছের আঁশের ওপর। তারপর চামড়া ক্ষত-বিক্ষত করে ঢুকে পড়ে শরীরের ভেতর। সেখানে তারা মাছের রক্ত শুষে নিয়ে বংশ বিস্তার করে, রোগ-জীবাণু ছড়ায়। মাছকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
মাছেরা যখন বুঝতে পারে তারা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, তখন ছুটে যায় ডাক্তার মাছেদের কাছে। ডাক্তার মাছেরা তখন খুব যতœ নিয়ে খুঁটে খুঁটে মাছেদের শরীর থেকে পরজীবী শ্যাওলা বা জীবাণুগুলোকে পরিষ্কার করে দেয়। এভাবে নিয়মিত শরীর পরিষ্কার করানোর পর আক্রান্ত মাছটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়।
মজার ব্যাপার হলো, আমরা যেমন ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সুশৃঙ্খলভাবে তার ডাকের জন্য অপেক্ষা করি, মাছ রোগীরাও ঠিক তেমনই করে। যে গর্তে বা পাথরের ফাটলে ডাক্তার মাছ অপেক্ষা করে, তার সামনে রোগী মাছেরা সারি বেঁধে অপেক্ষা করে।
একজনের চিকিৎসা চলার সময় অন্য রোগীরা ধৈর্যহারা হয়ে এমন কোনো কান্ড ঘটায় না, যাতে ডাক্তার মাছের মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে। কারণ মেজাজ বিগড়ে গেলে ডাক্তার মাছ চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই চলে যায় সেখান থেকে।
ডাক্তাররা সাধারণত রোগী খুঁজে বেড়ান না, রোগীরাই ডাক্তারকে খুঁজে বের করে। মাছেদের বেলায়ও এই একই নিয়ম প্রচলিত। ডাক্তার মাছ কোনো ডুবো পাহাড়ের গুহা, কোনো পাথরের ফাটল অথবা ঝোপের আড়ালে অপেক্ষা করে। রোগী মাছেরা খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের। তারপর সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের শরীর পরিষ্কার করিয়ে নেয়।
সব মাছ তো আর ডাক্তার নয়। এ কাজে যারা দক্ষ, তারাই মাছেদের ডাক্তার। এই ডাক্তারদের খুঁজে বের করার কাজটিও খুব সহজ নয়। কারণ মানুষ ডাক্তারদের মতো তাদের কোনো নেমপ্লেট বা সাইনবোর্ড থাকে না। তা হলে কী করে রোগী মাছটি ডাক্তার মাছকে খুঁজে নেয়? সেটা প্রকৃতিই শিক্ষা দেয় তাদের। মাছেরা তাদের সূক্ষ্ম অনুভূতি দিয়ে চিনে নেয় ডাক্তার মাছেদের। আর চেনার জন্য সহায়তা করে ডাক্তার মাছেদের চটকদার রঙ।
যারা ডাক্তার মাছ, তারা খুব রঙচঙে হয়। এই রঙ হয় সাধারণত টকটকে লাল, উজ্জ্বল হলদে আর কালোয় মেশানো। এসব ডাক্তারের কাছে গিয়ে রোগী মাছেরা একটুও নড়াচড়া করে না। পানির মাঝে স্থির হয়ে ভেসে থাকে রোগী মাছ। ডাক্তার মাছেরা তখন কাছে এসে ঘুরে ঘুরে পরখ করে তার রোগীকে। তারপর লম্বা ঠোঁট, লম্বা দাঁড়া বা কাঁটা দিয়ে সাবধানে তুলে নেয় রোগজীবাণু।
ডাক্তার মাছেদের তালিকায় সামুদ্রিক চিংড়ির নামও শোনা যাচ্ছে ইদানীং। তারা নাকি তাদের লম্বা লম্বা হাত-পা দিয়ে দক্ষতার সঙ্গেই চিকিৎসা করে যাচ্ছে মাছ রোগীদের।
ঠিক যেন মানুষ ডাক্তারের মত। সত্যিই কত বিচিত্র ব্যাপার।

SHARE

Leave a Reply