Home বিজ্ঞান জগৎ বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার পর্তুগালের গভীর হ্রদ -আল জাবির

বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার পর্তুগালের গভীর হ্রদ -আল জাবির

দুনিয়াজুড়ে আছে অসংখ্য রোমাঞ্চকর আশ্চর্য স্থান। তা হতে পারে প্রাকৃতিক অথবা মানবসৃষ্ট। মিশরের পিরামিড থেকে শুরু করে এভারেস্টের চূড়া-সবখানেই ভ্রমণপিপাসু রোমাঞ্চ প্রিয় মানুষের আনাগোনা লক্ষ করা যায়।
তবে পর্তুগালের এক প্রাকৃতিক পার্কে অবস্থিত দৈত্যাকার গর্তের হ্রদ- পর্তুগিজ ভাষায় যার নাম covão dos conchos। এই কথা গত বছর পর্যন্তও সবার অজানাই ছিল। এ বছরের শুরুর দিকে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও থেকে পর্তুগালের এই বিশেষ সিক্রেট টি সকলের নজরে আসে।
পর্তুগালের সর্বোচ্চ পার্বত্য অঞ্চল Serra da Estrela এর প্রায় ১,৯৯৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই বৃহদাকার গর্তের হ্রদটি। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে দেখতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জলাশয় বলে মনে হলেও এটি আসলে মানুষের তৈরি। অনেকেই ধারণা করেন যে, এই হ্রদের গর্তটি আসলে অন্য কোন পৃথিবীতে যাবার প্রবেশদ্বার!
পর্তুগালের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলSerra da Estrela থেকে প্রায় ২-ঘণ্টা পায়ে হাঁটাপথ পাড়ি দিয়ে এই হ্রদে পৌঁছাতে হয়। এই হ্রদটি আসলে একটি হাইড্রো-ইলেকট্রিক বাঁধ। এই হ্রদের মুখটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর গভীরতা প্রায় ৫,০০০ ফুট ফলে এটি দেখতে ঠিক টানেলের মত দেখায়। দৈত্যাকার এই হ্রদটি প্রাকৃতিক কোন অলৌকিক সৃষ্টি না হলেও এর শক্ত অবকাঠামো যথেষ্টই প্রশংসার যোগ্য।
১৯৫৫ সালে কংক্রিট এবং গ্রানাইট দিয়ে এই হাইড্রোলিক সিস্টেম টি তৈরি করা হয়। যা আসলে ঐ এলাকার বন্যার পানি আটকানোর জন্য বানানো স্পিলওয়ে বা এক ধরনের পানি বের হওয়ার রাস্তা। এটিকে দেখলে মনে হয় যে, এই টানেলটি বোধ হয় পানি নিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ফেলে দিচ্ছে। এই টানেলটি আসলে ঐ অঞ্চলের LagoaComprida ev LagoaCompridaLagoaসবচেয়ে বড় হৃদের সাথে যুক্ত। এটি আসলে রিবেরিয়া দাস নদীর অতিরিক্ত বন্যার পানিটুকু টানেলের মাধ্যমে পার করে এনে বড় হৃদে ফেলার কাজ করে।
এটি নির্মাণের পর প্রায় ৬০ বছর পার হয়েছে, এই টানেলের মুখে এখন মস, ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ বংশবিস্তার চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল দুই ঋতুতেই এটি একটি অন্যতম মনোরম পর্যটক স্পট। গ্রীষ্মে হাইকিং এ আগ্রহী মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে পর্তুগালের এই পার্বত্য অঞ্চলটি।
শীতকালে এর চেহারা পাল্টে যায়- বরফের সাদা চাদরে ঢাকা পড়ে যায় এর পুরোটা। এ সময় স্কিইয়ং করতে আসা মানুষের সংখ্যা থাকে বেশি।

SHARE

Leave a Reply