Home চিত্র-বিচিত্র জিরাফের আত্মীয় ওকাপি -নুসাইবা মুমতাহিন

জিরাফের আত্মীয় ওকাপি -নুসাইবা মুমতাহিন

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো। এখানকার গহিন অরণ্যে দেখা যাবে আজব এক প্রাণী। প্রাণীটির নাম ওকাপি। সামনের পা আর শরীরের পেছনের অংশে সাদা-কালো ডোরা। দেখে অনেকেই ভাববে এরা বুঝি জেব্রার আত্মীয়। আর মাথাটাতো দেখতে একদম জিরাফের মত। ওকাপি কঙ্গোর জাতীয় প্রাণী।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে বিচার বিশ্লেষণ করে বর্তমানে ওকাপিকে জিরাফের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম দেয়া হয়েছে ওকাপিয়া জনস্টনি (ঙশধঢ়রধ লড়যহংঃড়হর)। স্থানীয় নাম ওকাপির সঙ্গে আবিষ্কারক জনস্টনের নামটা জুড়ে দিয়ে নামকরণ করা হয়েছে।
এটি আকারে ছোট হয়। এর গায়ের রঙ বাদামি। এর লেজের কাছে ও পেছনের পায়ে সাদা কালো ডোরা কাটা দাগ আছে। এজন্য আগেকার দিনে একে জেব্রার স্বগোত্র বলেই মনে করা হতো।
এদের দেহের তুলনায় গলাটা বেশ লম্বা। যদিও জিরাফের মত ততোটা লম্বা নয়। এর মাথার গড়নও অনেকটা জিরাফের মত। শুধু তাই নয়, পুরুষ ওকাপির মাথার উপরে জিরাফের তথাকথিত দুটো শিঙের মতো ১.৫ সে.মি. উপলব্ধি দেখা যায়। মাথায় দুটো বড়ো বড়ো কান, এজন্য এর শ্রবণশক্তি অত্যন্ত প্রখর।
ওকাপি জোড়খুর বিশিষ্ট তৃণভোজী রোমন্থক প্রাণী। এর সবল জিভ বেশ লম্বা। অনেকটা জিরাফের মতো। এজন্য সে গলা বাড়িয়ে মগ ডালের কচি কচি পাতাসহ ছোট ছোট শাখা-প্রশাখা, জিভের সাহায্যে জড়িয়ে ধরে মুখের মধ্যে টেনে নেয়। প্রথমে গরুর মতো গপ গপ গিলে খায়। তারপর অবসর সময়ে বসে জাবর কাটে।
ওকাপি সাধারণত জোড় বেঁধে নতুবা একাকী বনের মধ্যে বিচরণ করে এবং গাছের মগডালের কচি কচি পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে। এদের ঘ্রাণশক্তি এবং শ্রবণশক্তি প্রখর। বড় বড় কানই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এরা বেশ সতর্ক এবং সচেতন হয়। সামান্য বিপদের সম্ভাবনা দেখলেই গাছপালা ও লতা-গুল্মের মধ্য দিয়ে অবিশ^াস্য দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।
কাঁধ পর্যন্ত এদের উচ্চতা ৫-৬ ফুট। দৈর্ঘ্য কমসে কম ৭-৮ ফুট। একেকটি ওকাপির ওজন আড়াই শ’ কেজি কিংবা তারও বেশি হতে পারে। মানুষের জন্য বিষাক্ত এমন অনেক লতা-পাতাও এরা খেতে পারে। শুধু তাই নয়। কাদা-মাটি খাওয়ার অভ্যাসও আছে এদের।
এরা খুব লাজুক প্রকৃতির হয়। লাজুক হওয়ার কারণে এদের দেখা পাওয়া মুশকিল।
ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন সম্প্রতি হুমকির তালিকায় থাকা প্রাণীদের নাম প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থাকা এই ওকাপির সংখ্যা নব্বইয়ের দশকে ছিল ৪,০০০। দশ বছর পর এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২,৫০০তে। কঙ্গোর সহিংসতা এবং খনি ব্যবসাকে এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

SHARE

Leave a Reply