Home নিবন্ধ বন্ধু বোঝে না আমাকে -আল ফাতাহ মামুন

বন্ধু বোঝে না আমাকে -আল ফাতাহ মামুন

‘বন্ধু’ দুই ধরনের হয়। ভালো বন্ধু। খারাপ বন্ধু। ভালো বন্ধু তোমার জীবনকে আনন্দের রঙে রাঙিয়ে রাখবে। আর খারাপ বন্ধু তোমাকে ডুবাবে অন্ধকারের নোংরা ডোবায়। একটা সময় তুমি নিজেকে আবিষ্কার করবে দুঃখ-বেদনার অন্ধকার সমুদ্রে। তাই বন্ধু নির্বাচনে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে জীবনের সব ক্ষেত্রে। শৈশব ও কৈশোরের মত নাজুক সময়ে তো অবশ্যই। মনে রেখো! অনেক সময় ভালো বন্ধুও জীবন-মনকে বিষিয়ে তুলতে পারে। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই। ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমনটি হয়ে থাকে। সত্যি বলতে, কোনো ভালো বন্ধুই চায় না তার কারণে আরেক বন্ধুর মুখের হাসি নষ্ট হোক। তাই তুমি যদি চাও তোমার বন্ধুরা ভালো ও আদর্শ বন্ধু হবে, তাহলে সবার আগে তোমাকে ভালো ও আদর্শ বন্ধু হতে হবে। তখন দেখবে তোমার বন্ধুদের থেকেও অপ্রীতিকর অনেক আচরণ মুছে গেছে সময়ের ব্যবধানে।
বন্ধুদের সার্কেলে মন খারাপ করে দেয় ‘উপেক্ষা-অবহেলা’। তুমি যতই বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চাও, তারা ততই তোমাকে এড়িয়ে চলে। ইশ! দৃশ্যটি ভাবতেই আমার হেঁচকি উঠিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। ‘আরে বাবা! কী এমন ক্ষতিটা করলাম তোদের? তাহলে শুধু আমার সঙ্গেই কেন এমন করিস?’ অন্তত এ প্রশ্নটা তো করার অধিকার তোমার আছে। তুমি সেই অধিকার বলে প্রশ্নটা করেও ফেললে। যাক বাবা! এখন তো দেখি ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। আর তুমি? রেগেমেগে আগুন হয়ে গেলে অথবা চোখের জল আর নাকের জল একসঙ্গে করে গঙ্গা বইয়ে দিলে।
ফ্রেন্ড সার্কেলে এমন সমস্যায় যারা পড়েছ, তারাই জানো কত খারাপ লাগে তখন। আমি যাদের জান-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি, সেই বন্ধুরাই আমাকে এড়িয়ে চলতে চায়! আবার আমাকে নিয়ে হাসির রোল ওঠে ওদের ঠোঁটের ফাঁকে? এও কি সহ্য করা যায়? না। সহ্য করা যায় না। তবে সমাধান কিন্তু করা যায় সুন্দরভাবেই। চলো তাহলে জেনে নিই কী করতে হবে এমন পরিস্থিতিতে!
প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে, সত্যিই কি বন্ধুরা তোমাকে অবহেলা করছে? অনেক সময় আমরাই বন্ধুদের ভুল বুঝি। ভাবি, ওরা আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারপর নিজেকে আড়াল করে রাখি ওদের থেকে। ওরাও বুঝতে না পেরে এগিয়ে আসে না। শুরু হয়ে যায় সত্যিকারের অবহেলা। তাই নিজের ইগোকে প্রশ্রয় না দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে হবে প্রাণ খুলে। মনে রাখবে, বন্ধুত্বের সম্পর্কে যত বেশি নিজেকে উজাড় করে দেয়া যায়, তত বেশি তুমি ফিডব্যাক পেতে থাকবে। তাই মোটা দাগে মনে রাখো, তুমি তো নিজেকে আড়াল করবেই না, যদি বুঝতে পারো কোন বন্ধু সার্কেল থেকে বা তোমার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছে, তাহলে তাকেও আর সামনে এগোতে দেবে না। এ কাজে যতই দেরি করবে, ততই তোমার প্রিয় বন্ধুদের হারাতে থাকবে।
এবার শোন আসল কথা। সত্যিই যদি মনে হয় তোমার বন্ধুরা তোমাকে উপেক্ষা-অবহেলা করছে তখন কী করবে? তুমি আরো বেশি করে তাদের সঙ্গে মিশতে থাকবে। তারপরও যদি দেখ কাজ হচ্ছে না, তাহলে সরাসরি আলাপ করে নেয়াই ভালো। বলা তো যায় না তোমার বিরুদ্ধে কেউ ভুলভাল বুঝিয়েও থাকতে পারে ওদের। সরাসরি আলাপে ভুল ভেঙে যাবে আশা করি। তোমার পক্ষ থেকে শত চেষ্টা করার পরও যদি দেখ সব কিছু ঠিক হচ্ছে না, বন্ধুটিকে আর আগের মত পাচ্ছ না- তাহলে তোমাকে নতুন করে ভাবতে হবে এ বন্ধুত্ব রাখবে কি-না। এটা অবশ্য পরিষ্কার ওরা আর তোমাকে চাইছে না!

SHARE

Leave a Reply