Home গল্প শুভ চেতনা -হালিমা খাতুন (মুক্তা)

শুভ চেতনা -হালিমা খাতুন (মুক্তা)

ফাইনাল পরীক্ষা শেষ রুমান, শিমু এবং সাবির ওরা সবাই গ্রামে বেড়াতে এসেছে। রুমান, শিমু আপন ভাই-বোন আর সাবির ওর চাচাতো ভাই। তারা একসাথে ঢাকা থাকে এক বাসাতেই। রুমানের বাবা আর সাবিরের বাবা দুই ভাই একসাথে ব্যবসা করেন। রুমান, সাবির অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে একই স্কুলে আর শিমু রুমানের ছোট বোন পড়ে চতুর্থ শ্রেণীতে। রুমান আর সাবির খুব দুরন্ত। তারা সব কিছুতেই একটু বেশি বেশি। এই বয়সটা এরকমই। তারা গ্রামে দাদু বাড়ি বেড়াতে এলে বাড়ি যেন মাথায় করে তোলে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবারও তারা প্ল্যান করেছে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাবে। ছোট চাচ্চু গ্রামে থাকে, এখানেই একটা কলেজে পড়াশোনা করে। দাদু বাড়িতে একটা ফুফিও থাকে, তার বিয়ে হয়েছে, তার একটা বাচ্চাও আছে। বেশ মজাই হয় গ্রামে এলে। যেই কথা সেই কাজ চাচ্চুকে নিয়ে কোথায় কোথায় যাবে তার প্ল্যান করেছে। তাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। নদীটি খুবই সুন্দর। তারা নৌকা করে বেড়াতে যাবে। Ÿাড়ির সবাই তাদেরকে নিষেধ করছে তোমরা যেখানেই যাও না কেন নৌকা করে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানটা বাদ দাও। বিশেষ করে রোমানের মা বারবার নিষেধ করছে। এই শীতের ভেতর যেতে। কিন্তু কে মানে এসব কথা। তারা এই বিষয়টা যেন বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। রুমানের ছোট চাচ্চু ফরিদ খুব মজাই পায়। এ কয়দিন যে কিভাবে কেটে যায় তারা আসলে বুঝতেই পারেনি।
একদিন সকালের দিকে ওরা সবার কথা অমান্য করে রওনা দিল। তাদের ইচ্ছা সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবে। নৌকা যখন মাঝনদীতে তখন রুমানের ছোট বোন শিমু বলল, আমি আর যাবো না, আমার ভয় করছে। ছোট চাচা ওকে বোঝালো তারা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাবে। এখন আর বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব না। তারা দুপুরের খাবার সাথে নিয়ে এসেছে। রুমানের ফুফি ভুনা খিচুড়ি রান্না করেছে তাই তারা সাথে নিয়ে এসেছে। রুমান আর সাবির পানিতে হাত ভেজাচ্ছে আর দুইজন দুইজনের গায়ে ছিটিয়ে মারছে। চাচ্চু নিষেধ করছে। কিন্তু তারা তাতে খুব মজা পাচ্ছে। তারা চাচ্চুকে বলল নৌকা আরো মাঝ নদীতে নিয়ে যেতে। কিন্তু যত বিপত্তির কারণ শিমু। সে না থাকলে তারা নৌকা আরো মাঝ নদীতে নিয়ে যেতে পারত। সাবির বলল শিমুকে যদি রেখে আসতাম ভালোই হতো। কিন্তু যাই হোক এখন কিছু করার নেই। নৌকা অনেক পথ চলে এসেছে। তখন বেলা ১টা বাজে তারা গ্রামের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। এমন সময় শিমু বলল চাচ্চু আমার ক্ষুধা পেয়েছে। রুমান আর সাবির বলল চাচ্চু এখন আমরা খাবো না। আর একটু সামনে গিয়ে ঐ গ্রামের ধারে গিয়ে নামব। সাবির বলল চাচ্চু আমি পাখি শিকার করব। এই দেখ গুলতি এনেছি। এই বলে লুকিয়ে রাখা গুলতিটি কোমর থেকে টেনে বের করল। রুমান তো অবাক তুই গুলতিটা কখন নিলি রে। আমাকে একটু ধার দিস না, সাবির বলল দিব একটু র্ধৈয ধর। ফরিদ নৌকাটা বনের ধারে গিয়ে থামালো। বনের ধারে নদীর কিনারায় তারা খেয়ে নিল। বেশ ক্ষুধাই লেগেছে সবার। খাবার পর তারা নদী থেকে ওজু করে নামাজ পড়ে নিল।
তখন বেলা ৩টা বাজে রুমান আর সাবির বায়না ধরেছে চাচ্চু এই বনের ধারে আমরা একটু ঘুরব, পাখি শিকার করব। ফরিদ বলল, অনেক সময় হয়ে গেছে এখন বাড়ি ফিরা যাক। যেতে যেতে শীতের বেলা সন্ধ্যা হয়ে যাবে। কিন্তু রুমান আর সাবির কিছুতেই বাড়ি যেতে চাইল না। তারা বলল, চাচ্চু তুমি শিমুকে নিয়ে এখানে থাক আমরা একটু ঘুরে আসি, আধা ঘণ্টা সময় দাও আমাদের। অবশেষে ফরিদ রাজি হলো, বলল আধা ঘন্টা কিন্তু মনে রেখ। রুমান আর সাবির গুলতিটা হাতে নিয়ে বনের ভেতর ঢুকল। বাইরে থেকে বোঝা যায় না কিন্তু এটা তো অনেক বড় বন রুমান বলল, সাবির তার কথার সাই দিয়ে বলল হ্যাঁ। রুমান আর সাবির গুলতিটা দিয়ে পাখি শিকার করার চেষ্টা করল। কিন্তু কোনো কাজ হলো না। পাখি ওদের পায়ের শব্দ শুনে ফুড়–ৎ। ওরা বেশ খানিকটা চলে এলো। এমন সময় সাবিরের মনে হলো কেউ তাদের অনুসরণ করছে। সে কথাটা রুমানকে বলল। রুমান আর সাবির খানিকটা ভয় পেল। রুমান সাবিরকে বলল, চল এবার ফিরে যাওয়া যাক। কিন্তু তারা পথ হারিয়ে ফেলে। তারা পথ খুঁজতে আরো আধা ঘণ্টা লেগে গেল। এতে করে ফরিদও অস্থির হয়ে পড়ল, মনে মনে বলল কে জানে ওরা কত দূর গেল?
রুমান ও সাবির পথ হারিয়ে কি অবস্থা, ওরা খুব সাহসী কিন্তু এখন ওদের সাহস কোথায় যেন হারিয়ে গেল। সাবির এমন সময় বইতে পড়া জঙ্গল বাড়ি ভূতের গল্পের কথা মনে পড়ল। সাবির ঘামতে লাগল, রুমান সাবিরের দিকে তাকিয়ে দেখে এই শীতের ভেতর ঘামছে। এমন সময় কিসের একটা শব্দ হলো। সাবির দৌড় দিলো। রুমানও সাবিরের দেখাদেখি দৌড় দিল। ফরিদ ওদেরকে খুঁজতে যাবে এমন সময় দেখল একটা বয়স্ক লোক তাদেরকে নিয়ে আসছে। কাছে আসতেই লোকটি সালাম দিল। ফরিদ দেখে রুমান ও সাবিরের চুল এলোমেলো। চোখে মুখে ভয়ের ছাপ। সে বলল কী ব্যাপার কী হয়েছে?
তোমরা এত সময় কোথায় ছিলে, জানতে চাইলে লোকটি বলল, ওরা পথ হারিয়ে ফেলেছিল। দুইজনই খুব ভয় পেয়েছে। শহরের ছেলে তো তাই। ফরিদ লোকটিকে ধন্যবাদ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো। তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
ঐ দিন রাতেই সাবিরের জ্বর উঠল। দুই দিন পর সাবিরের জ্বর পড়েছে। আসলে সাবির একটু বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এই সব কথা ভাবছিল রুমান শুয়ে শুয়ে। কাল তারা ঢাকায় ফিরে যাবে। আসলে গ্রামে এসে তারা খুব মজা করে। কিন্তু এবার আর হলো না। বড়দের কথা মানা উচিত বিশেষ করে রুমানের মায়ের কথা মনে পড়ছিল। আম্মা বার বার নিষেধ করে দিচ্ছিলেন। বেড়ানোর আনন্দটা পুরোপুরি হলো না। বড়দের কথা শোনা উচিত ছিল তাহলে এমনটা হতো না। হ

SHARE

Leave a Reply