Home তোমাদের গল্প হোন্ডা -আবদুল্লাহ আল নাবীল

হোন্ডা -আবদুল্লাহ আল নাবীল

ইমনের আনন্দ আর ধরে না। তার বাবা আজ হোন্ডা কিনবেন। এতদিন সে রিকশায় করে একা একা স্কুলে যেত। হোন্ডা কিনলে তার বাবা তাকে হোন্ডায় করে স্কুলে নিয়ে যাবেন।
বিকেলেই তার বাবা হোন্ডা কিনে আনলেন। সবাই হোন্ডার প্রশংসা করলো। হোন্ডা রাখা হলো ইমনদের ঘরের ড্রয়িং রুমে। পরদিন ভোরবেলা উঠে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করে বাবার সাথে বাড়ি ফিরলো ইমন। ঘরে প্রবেশ করে হোন্ডা না দেখতে পেয়ে খুঁজতে শুরু করলো তারা। মসজিদে যাওয়ার সময় হোন্ডার দিকে কেউ লক্ষ্য করেনি। খুঁজে হোন্ডা না পেয়ে তারা নিশ্চিত হলো হোন্ডা চুরি হয়েছে। তাতে সবার মন খারাপ হলেও সবাই ধৈর্য ধরল। কারণ আল্লাহ ধৈর্য ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি ধৈর্যশীলদের সাহায্য করেন।
ইমন সিদ্ধান্ত নিলো সে তদন্ত করে হোন্ডা চোরকে বের করে হোন্ডা উদ্ধার করবে। এ কাজে সে আল্লাহর সাহায্য চাইল আর সাথে পেল তার দু’বন্ধু আরাফ ও আমানকে। তারা সবাই রহস্য উপন্যাস পড়ে এ ব্যাপারে আগ্রহী। তারা ঘরের কোথাও চুরির কোনো আলামত দেখতে পেল না। হোন্ডা ঘর থেকে বের করার একমাত্র পথ হলো দরজা দিয়ে বের করা। কিন্তু তারা বাহির থেকে দরজা খোলার কোন আলামত দেখতে পেল না। দরজার সবই ঠিকঠাক মতো আছে। কোথাও একটুমাত্র বিকৃতি নেই। সন্দেহজনক কিছুই তাদের চোখে পড়লো না। এবার ইমন বাইরে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিল। তারা প্রথমে গিয়েই দরজার সামনে উঠানে দেখতে পেল মাটিতে হোন্ডার দাগের সাথে কয়েক জোড়া জুতার দাগ। পর্যবেক্ষণ করে দেখলো তিনজোড়া জুতার দাগ। সেদিন বিকেলে হোন্ডা আনার সময় উঠান শুকনো থাকায় তাতে এসবের কোনো দাগ পড়েনি। কিন্তু রাতে বৃষ্টি হওয়ায় মাটিতে চোরদের জুতা ও হোন্ডার চাকার দাগ পড়েছে। তারা বুঝলো বৃষ্টির সময় সবাই যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন তখন চোরেরা হোন্ডা চুরি করেছে এবং তা সামনের দরজা দিয়েই। ভেতরে কোন ক্লু না পাওয়ায় ইমন এবার নির্দেশ দিল চোর কোন পথে ঢুকেছে বাহির থেকে তা খুঁজে বের করতে। সবাই পর্যবেক্ষণে লেগে গেল। এক সময় আরাফ “আলহামদুলিল্লাহ! পেয়েছি! পেয়েছি!” বলে চিৎকার করে উঠলো। চিৎকার শুনে ইমন ও আমান দৌড়ে এসে বললো, “কী পেয়েছিস?” সে বললো, “চোর ঢোকার পথ পেয়ে গেছি।” তারা বললো, “কোথায়? কোথায়?” আরাফ জানালার দিকে তাকাতে বললো। তা দেখে ইমন ও আমান বললো, “এটাতো জানালা। এটা চোর ঢোকার পথ হলো কী করে! জানালায় তো গ্রিল দেয়া আছে। এখান দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। আরাফ বললো, এটাই চোর ঢোকার পথ। এখান দিয়েই চোর ঘরে ঢুকে দরজা খুলে হোন্ডা বের করে নিয়ে গেছে। তারা জিজ্ঞেস করলো, জানালা দিয়ে চোররা ঘরে ঢুকলো কিভাবে? আরাফ বললো, তারা বিল্ডিংয়ের জানালার প্লাস্টার ভেঙে ভেতরে ঢুকেছে। তারপর দরজা খুলে বাইরে হোন্ডা রেখে দরজা লাগিয়ে জানালা বাইরে থেকে আবার পূর্বের মতো প্লাস্টার করে লাগিয়ে দিয়েছে। দেয়ালে রং না করায় তা বুঝা যায়নি।
আসলে আরাফদের বিল্ডিং নতুন নির্মাণ করায় এখনো তাতে রং করা হয়নি।
ইমন ও আমান আরাফকে জিজ্ঞেস করলো, তুই বুঝলি কিভাবে? সে বললো, আমি চোর ঢোকার অনুসন্ধান করতে এপাশে গিয়ে দেখলাম এখানে আগের মতো পায়ের ছাপ। সেখানে রাজমিস্ত্রিদের কিছু যন্ত্রপাতির ছাপ দেখা গেল। এটা নিশ্চয়ই রাজমিস্ত্রিদের কাজ।
তারা বিষয়টি ইমনের বাবাকে জানালে তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ তাদের ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তারা অস্বীকার করে। তাদের নেতা বললো, আমি অনেকদিন ধরে কষ্টে আছি। কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। আর ঘরটা সংস্কার করতেও টাকার প্রয়োজন। সেদিন তিনি হোন্ডা কিনে নিয়ে আসার সময় আমি দেখতে পেলে চুরির পরিকল্পনা করে এ দু’জনকে জানালে তারাও রাজি হয়। সেদিন রাতে বৃষ্টির সময় জানালার প্লাস্টার ভেঙে জানালা খুলে ঘরে ঢুকে দরজা দিয়ে হোন্ডা বের করে আবার দরজা লাগিয়ে বাহির থেকে জানালাকে আগের মতো প্লাস্টার করে দেই। তারপর হোন্ডা নিয়ে যাই।
পুলিশ অফিসার জিজ্ঞাসা করলেন, হোন্ডা কোথায়? তাদের নেতা বললো, আমার বাড়িতে হোন্ডা লুকিয়ে রাখা আছে। তখন পুলিশ অফিসার তা উদ্ধার করে ইমনের বাবাকে বুঝিয়ে দিলেন। পুলিশ অফিসার রাজমিস্ত্রিদের নামে চুরির মামলা দিতে চাইলে তিনি তাকে মামলা করতে নিষেধ করলেন।
আর রাজমিস্ত্রিদের বললেন, তোমরা ওয়াদা করো আর কখনো চুরি করবে না, তাহলে তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে। তারা ছাড়া পেয়ে গেল। থানার পক্ষ থেকে চোর ধরতে কৃতিত্ব রাখায় ইমন, আরাফ ও আমানকে পুরস্কৃত করলে তারা সে টাকা রাজমিস্ত্রিদের দিয়ে দিলো। তা দেখে অভিভূত হয়ে গেল সবাই।

SHARE

Leave a Reply