Home তোমাদের গল্প আদর্শ মা -হাসিব মাহমুদ মোশাররফ

আদর্শ মা -হাসিব মাহমুদ মোশাররফ

এক অমায়িক ছেলে আসাদুজ্জামান শিমুল। তার মা তাকে শিমুল বলেই বেশি ডাকে। শিমুল নামটা তার মায়ের দেয়া। খুব ভদ্র ছেলেও। তার চাঁদমাখা হাসিতে উজ্জ্বল বদনে শাপলা ফুলের রঙ ধরে। সবার সাথে মিষ্টি হেসে কথা বলে। পড়াশোনায় ও বেশ এগিয়ে। বাংলা-ইংরেজি সুন্দর করে পড়তে জানে এবং কুরআনের ১/৩ অংশ মুখস্থ করেছে।
ছোট্টবেলা থেকেই সে প্রখর জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও নৈতিকতাসম্পন্ন। এ জন্য তার ক্লাসে যেমন অনেক সুনাম, তেমনি গ্রামেও তার আদর্শের টইটম্বুর গুঞ্জন শোনা যায়। খুব মিষ্ট স্বভাবের ছাত্র সে। স্যারদের সাথে দেখা হওয়া মাত্র সালাম ও কুশল বিনিময় করে। এতে তার প্রতি স্যারেরা সন্তুষ্ট। যেখানে এখনকার ছাত্ররা স্যারদের সম্মান করে না সেখানে এমন ছাত্র থাকা স্যারদের ভাগ্যের ব্যাপার! সেই ছোট্টবেলা থেকে এখন পর্যন্ত স্যারদের মন জয় করে নিয়েছে শিমুল। ছোটবেলায় যখন স্যারেরা তাকে খুব আদর করতো তখন শিমুলের হৃদয়ে আনন্দের শিহরণ বয়ে যেত।
তার এখনও খুব দুরন্ত শিশুমন। সারাদিনে কখনো বই পড়ে কখনোবা আদর্শ নাগরিকের ভূমিকা নিয়ে ছোটাছুটি। শিমুল সবার সাথে মিশে থাকতে পছন্দ করে। সঙ্গীও তার অনেক জন। কারো সাথে ঝগড়া নেই-বিবাদ নেই, হিংসাটাও মনে পুষে না সে। সম্ভ্রান্ত পরিবারের অনেক ছেলেমেয়ে আছে যারা তাদের গরিববন্ধুদের সাথে মিশে না! পাশে ঘেঁষতে দেয় না! পাশ ফিরে চলে। খেলতেও নেয় না কখনো! কিন্তু সেখানে শিমুল তাদের নৈতিক মডেল। ছোটবেলায় যখন স্কুলে দুপুরে টিফিনের ছুটিতে সবাই খেতে বসতো তখন তার কাছে থাকা রুটি, মাছ, গোশত, ডিম অন্য বন্ধুদের খেতে দিতো। তার এই সুন্দর আচরণ দেখে খুশিতে দুলে উঠতো বন্ধুদের মন। অপলক দৃষ্টিতে সবাই তাকাতো শিমুলের দিকে।
ক্লাসের ফার্স্টবয় সে। নিয়মমাফিক সে পড়া আয়ত্ত করে আসে। চমৎকার তার হাতের লেখা! সবাই তার লেখাকে ফলো করে। তার দেখে অনেকে এখন সুন্দর করে লেখা শিখেছে। তবুও শিমুলকে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।
শিমুল প্রত্যেকটা শিশুর জন্য আদর্শিক মডেল। মায়ের জন্য সুন্দর বৈশিষ্ট্য নিয়ে বেড়ে উঠেছে শিমুল। সে মায়ের কাছ থেকে শিখেছে আদর্শ, নৈতিকতা, শিখেছে শিষ্টাচার। কিন্তু সেই প্রিয় মা আজ আর তার কাছে নেই।
এক বছর আগে শিমুল কারাগারে বন্দি ছিলো। সেদিন তার মা আসার কথা ছিল তাকে দেখতে, নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! এসেছিল তার মা। কিন্তু তার সাথে কথা বলতে পারেনি দু’ চোখ দিয়ে দেখতেও পারেনি। শিমুলও তার মায়ের সাথে কথা বলতে পারেনি। তার আগেই মহান রবের দরবারে চলে গিয়েছেন তার প্রিয় মা। যে মা তাকে শিখিয়েছেন আদর্শ ও নৈতিকতার সমন্বয়ে জীবনযাপন, সেই মায়ের না ফেরার দেশে যাওয়ার কথা শুনে যে কতটা ভেঙে পড়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সংগ্রামী জীবন যাপন করেছে, সয়েছে জেল-আর জুলুম। তবুও পিছু হঠেনি শিমুল। তার এখন পড়াশুনা শেষ পর্যায়ে। চলছে তার মায়ের স্বপ্ন পূরণের প্রাণান্ত চেষ্টা। শুধু এই কামনা করি শিমুলকে আল্লাহ যেন ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন। শিমুল আশা করে তার মায়ের সাথে জান্নাতের সিঁড়িতে দেখা হবেই ইনশাআল্লাহ। শিমুলের এ আশা আল্লাহ কবুল করুন (আমিন)। আমরা আশা করি শিমুলের মায়ের মত আদর্শ মা, এমন আদর্শমানুষ যেন বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নেয়।

SHARE

Leave a Reply