Home সম্পূর্ণ কিশোর উপন্যাস নিঝুম বনের বাসিন্দা -দেলোয়ার হোসেন

নিঝুম বনের বাসিন্দা -দেলোয়ার হোসেন

[গত সংখ্যার পর]
নয়.

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পরদিন সকালেই শাহ্জাদা সাব্বির তার বজরা ছেড়ে দিলো। বিকালে বনলতা তার মায়ের কাছে বললো, মা শাহ্জাদা সাব্বির আবার কবে আসবে? আমার একটুও ভালো লাগছে না। মা হেসে বললো, পাগলীটার কথা শোনো। তোমার সেই পরী বান্ধবীরা তো ক’দিন হলো আসছে না। ওদের সাথে দেখা হলে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো।
একদিন সেই মরা গাছের গুঁড়িটার ওপর বসে বনলতা একমনে চেয়ে আছে দূরে থই থই পানির দিকে। বিলকিস আর লায়লা কখন যে এসে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে দিকে একটুও তার খেয়াল নেই। শেষে লায়লা বললো, সোহেলী, তুমি কার ধ্যানে এমন মগ্ন হয়ে আছো?
বনলতার ধ্যান ভঙ্গ হলে সে বললো, তোমরা কি জানো- এখানে একজন শাহ্জাদা এসেছিলো। কী সুন্দর একটা মানুষ। বনলতার কথা শুনে দুই পরী খিল খিল করে হেসে উঠে বললো, আমরা সব জানি। তাকে আমরাও দেখেছ্।সত্যি সে সুন্দর। তোমাদের দু’জনের শাদি হলে আমরা খুব খুশি হবো।
শাদি কেমন করে হয়?
আবার সেই হাসি। তারপর হাসি থামিয়ে ওরা বললো, শাদি মানে সারাজীবন তুমি আর সেই সুন্দর মানুষটা এক সঙ্গে থাকতে পারবে। রাতদিন ইচ্ছে মতো গল্প করতে পারবে। তখন আমাদের কথা তোমার মনেই থাকবে না।
না-না, তোমাদেরও আমি নিয়ে যাবো। তোমরা আমার জীবনের প্রথম বান্ধবী। আর একটি কথা- মা বলেছে এক্ষুনি তোমাদের নিয়ে যেতে। না গেলে মায়ের মন খারাপ হয়ে যাবে। বিলকিস বললো, তা’হলে এক্ষুনি চলো। মায়ের মনে কষ্ট দেয়া যাবে না।
এমনি করে শীত গেলো, বসন্ত এলো। দেখতে দেখতে ফুরিয়ে গেলো দখিনার ঝিরিঝিরি বাতাস, কোকিলের কুহুতান। এলো বৈশাখের ঝড়ো হাওয়ার তান্ডব লীলা। অশান্ত ঢেউয়ের গর্জন, বৃষ্টি আর মেঘের ডাকাডাকি। কখনো শান্ত কখনো অশান্ত। এমন দুর্যোগের মধ্যেও সুযোগ পেলেই বনলতা ছুটে যায় ভরা নদীর কূলে। অশান্ত ঢেউ এখন বনের সীমানা ডিঙিয়ে ঢুকে পড়েছে বনের মধ্যে। বাঁধন হারা স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গাছপালা, ঘরবাড়ি। ঝড়ের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে কতো প্রাণ।
একদিন ঝড় থেমে গেলো। আকাশে ভেসে উঠলো শান্ত উজ্জ্বল সূর্যের মুখ। সারা বন জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়লো সোনা সোনা আলো। নানা রকম ফুল-ফলে ভরে আছে বন। বনলতা ছুটতে ছুটতে পৌঁছালো পানির কাছাকাছি। হঠাৎ চোখে পড়লো একটা মানুষ ঢেউয়ে-ঢেউয়ে বনের মধ্যে এসে পড়ে আছে। কোনো নড়চড় নেই, মৃত না জীবিত তাও বুঝা যায় না। তবে কি সে শাজ্জাদা সাব্বির!
ভয়ে ভয়ে বনলতা আবার ছুটতে-ছুটতে এসে দাঁড়ালো সর্দার গাফ্্ফারের কাছে। বনলতাকে দেখে- বিস্ময়ে প্রশ্ন করলো, তোর কী হয়েছে? হাঁফাচ্ছিস কেন?
নানাভাই, একটা মানুষ পড়ে আছে। পানিতে ভেসে এসেছে। জল্দি চলো। সঙ্গে সঙ্গে সর্দার গাফ্ফার ছুটলো সেই নদীর কিনারে। সত্যি একটা মানুষ পড়ে আছে। গাফ্ফার মানুষটাকে উল্টে বুকের কাছে কান দিয়ে দেখলো লোকটা এখনো বেঁচে আছে। সে তখনই পেটে, বুকে চাপ দিয়ে পেট থেকে অনেকটা পানি বের করার পর লোকটাকে কাঁধের ওপর করে আবার ছুটে এলো কুঁড়েঘরের সামনে। চরাটে শোয়ায়ে শুকনা কাপড় গায়ে জড়ায়ে শরীরটাকে গরম করতে লাগলো। বনলতাও সরিষার তেল মেখে দিচ্ছে লোকটার হাতে-পায়ে।
এদিকে বেলা ডুবে রাত নামলো। তবু মানুষটার জ্ঞান ফিরছে না। কমলার রস করে একটু একটু করে মুখে দিতে দিতে এক সময় নড়েচড়ে উঠলো লোকটা। চুল-দাড়িতে পাগল পাগল চেহারা। রাতে নারকেল পাতার বিছানায় শুয়ায়ে রাখা হলো সর্দারের ঘরে। সকালে ডাবের পানি, কমলা, আপেল ইত্যাদি একটু একটু খেতে খেতে বেশ সুস্থ হয়ে উঠলো লোকটা।
সর্দার প্রশ্ন করলো, আপনার পরিচয় কি?
সে বললো, আজ আমার তেমন কোনো পরিচয় নেই। নৌকায় করে নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম। কিন্তু আমি এখানে এলাম কি করে?
আমার নাতনী নদীর কিনারে গাছপালার মধ্যে আপনাকে পড়ে থাকতে দেখে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। তা না’হলে আপনাকে হয়তো বাঁচানো যেতো না।
সর্দার গাফ্ফার বনলতাকে ডাকতেই বনলতা এসে বললো, কিছু লাগবে নানাভাই? গাফ্ফার বললো, এই বনলতাই রাতভর আপনার হাতে-পায়ে তেল দিয়ে গরম কাপড়ে সেঁক দিয়ে আপনাকে সুস্থ করে তুলেছে। লোকটা বনলতার মুখের দিকে চেয়ে যেনো আর চোখ ফিরাতে পারে না। কাছে ডেকে একটু আদর করার জন্য মনটা কেমন ব্যাকুল হয়ে উঠলো। লোকটা বললো, মা- আমার কাছে এসে একটু বসো তো। বনলতা এগিয়ে গেলো। লোকটা বনলতার মাথায় হাত রেখে বললো, তোমার আব্বা কোথায় মা?
আমার আব্বা মস্তবড় বাদশাহ্। অনেক বড় বাড়ি আছে। আমরা আব্বাজানের কাছে চলে যাবো।
তোমার আব্বার নাম কি?
তা তো জানি না। আম্মা জানেন।
সর্দার গাফ্ফার বললো, নাম জানি না। তবে, সে বড় পাষন্ড। দু’দিন আগেও যদি ওর মা আমাকে বলতো, তা’হলে আমি একাই যেতাম তার কাছে। আর আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে বনবাসে পাঠাবার উচিত শিক্ষা দিতাম তাকে।
লোকটি বললো, সে কি আপনার আপন মেয়ে?
আপন না হলে কি মেয়ে হয় না।
আপনার মেয়ের নাম কি?
নাম গুলশান আরা।
বনলতা কি তার মেয়ে?
হ্যাঁ- ওর জন্ম হয়েছে এই জঙ্গলে। আমি আমার নানাভাইয়ের নাম রেখেছি বনলতা।
লোকটা অনেকক্ষণ চুপ্চাপ থাকার পর বললেন, একটা বিষয় আমি ঠিক মিলাতে পারছি না। আচ্ছা জনাব, বনলতার মায়ের সাথে আপনার যোগাযোগ হলো কি করে?
তখন সর্দার গাফ্ফার তার জীবনের সব ঘটনা খুলে বললো। অপূর্ব এই যোগাযোগ আর হাজারো কষ্ট সয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে এভাবে বেঁচে থাকার ইতিহাস শুনে, মনের মধ্যে খুব কষ্ট অনুভব করলেন লোকটা। আর মনে মনে দস্যু গাফ্ফারকে অনেক ধন্যবাদ জানালেন তিনি।
তারপর কিছুদিনের মধ্যে লোকটা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন। সারাদিন বনলতাকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যান নদীর ঘাটে, কখনও জঙ্গলের অভ্যন্তরে। একদিন লোকটি বনলতাকে বললেন, মা- বলো তো তোমার আব্বাকে কি তোমার দেখতে ইচ্ছে করে?
হ্যাঁ- খুব ইচ্ছে করে। বলেই কেঁদে ফেললো বনলতা।
লোকটিও চোখের পানি মুছে বললো, তোমার বাবাজানকে আমি চিনি। সে অনেক বড় বাদশাহ্ কিন্তু আজ সে পথের ফকির। সে এখন রাজ্যহারা। তোমার রাজপ্রাসাদ অন্যরা দখল করে নিয়েছে। তোমার আব্বাকে আমি বলবো, আপনার মেয়ে বনলতা তার রাজপ্রাসাদে আসবে। শত্রুদের মেরে তার রাজ্য তাকে ফিরিয়ে দাও। আর তোমার আব্বাজান, তোমার আম্মাজানকে অনেক খুঁজেছেন। বনে বনে ঘুরেছেন। কতো মানুষের কাছে জানতে চেয়েছেন কিন্তু কেউই তোমার আম্মা বা তোমার খোঁজ দিতে পারে নাই।
বলতে বলতে বনলতাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো কেঁদে উঠলো লোকটা। বনলতা ব্যস্ত হয়ে বললো, আপনি কাঁদবেন না। আপনার কাঁদা দেখে আমারও কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
বনলতা চুপি চুপি রাতে ওর মায়ের কাছে বললো, মা জানো- ঐ মানুষটা আমাকে আদর করে বলেছে, সে নাকি আমার আব্বাজানকে চেনে। আব্বাজানের রাজ্য নাকি অন্যরা দখল করে নিয়েছে। মেয়ের কথা শুনে গুলশান আরার বুকের মধ্যে ধড়ফড় করে উঠলো। সে বললো, তোমার আব্বাজান এখন কোথায় কিভাবে আছে- তা কি কিছু বলেছে?
বললো, আব্বাজান নাকি এখন পথের ফকির। তোমাকে তিনি অনেক খুঁজেছেন কিন্তু …।
গুলশান নিজেকে আর সংযত রাখতে পারলো না। হু-হু করে কেঁদে উঠে বললো, ইয়া আল্লাহ্ কেন তুমি এমন করলে, আমি তো কোনোদিন তা চাইনি। মায়ের সাথে বনলতাও কাঁদলো। তারপর গুলশান মেয়েকে বললো, আমার মনে হয় উনি তার দরবারের কেউ হবে। আবার যদি তোমার আব্বাজানের সাথে তার দেখা হয় তা’হলে এখানে নিয়ে আসতে বলো।

দশ.

পরদিন আবার বনলতার হাত ধরে লোকটা হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলো নদীর ধারে। বনলতা বললো, আপনি কি জানেন শাহ্জাদা সাব্বির এসেছিলো আমাদের এখানে। সে আবার আসবে। তারপর আমাকে নিয়ে যাবে তাদের দেশে।
লোকটা বললো, তোমার আম্মা কি বলেছেন?
মা বলেছে যে, আমার আব্বাজান এলে তবেই আমাকে শাহ্্জাদার সাথে যেতে দেবে। কিন্তু শাহ্্জাদা এখনও বজরা নিয়ে আসছে না কেন?
লোকটা এতো কষ্টের মধ্যেও বনলতার কথা শুনে হেসে ফেললেন।
বনলতা আবার বললো, মা বলেছে যে, আমার আব্বাজানের সাথে আবার আপনার দেখা হলে, আপনি তাকে যেনো এখানে নিয়ে আসেন। লোকটি বললো, আমি কথা দিচ্ছি আবার এলে তোমার আব্বাজানকে সত্যি নিয়ে আসবো। তবে মা, এত বড় পৃথিবীতে আমার যে আপন বলতে কেউ নেই। তুমি আমাকে একবার আব্বাজান বলে ডাকো তো। তোমার মতো আমারও একটা মেয়ে আছে। কিন্তু তার কাছে আমি যেতে পারছি না।
কেন পারছেন না?
আমি যে অনেক পাপ করেছিরে মা। তুমি একবার আমাকে আব্বাজান বলে ডাকো।
আপনি তো আমার আব্বাজানের মতোই।
লোকটা আনন্দে অধীর হয়ে আঙুল থেকে একটা আংটি খুলে বললো, এটা তুমি রাখো। এছাড়া আমার কাছে আজ আর কিছুই নেই। আমি আজই চলে যাবো। তোমার নানাভাই আমাকে এগিয়ে দিয়ে আসবে।
এর মধ্যেই ঘোড়া নিয়ে সর্দার গাফ্ফার এসে বললো, আসুন আপনাকে বনটা পার করে দেই। প্রয়োজন মনে করলে আবার চলে আসবেন। কিন্তু এই জায়গার কথা অন্য কাউকে বলবেন না কখনো। লোকটি বললেন, এখানে যে আমাকে আসতেই হবে। জীবনে যে ভুল করেছি- তার মাশুল তো আমাকেই শোধ করতে হবে।
এদের কথা বলার এক ফাঁকে আংটিটা হাতে করে বনলতা ছুটতে ছুটতে চলে গেলো তার মায়ের কাছে।
মা- সেই লোকটা চলে গেছে।
কোথায় গেছে?
তা জানি না। নানাভাই তাকে এগিয়ে দিতে গেছে। লোকটা যাওয়ার সময় আমাকে এই জিনিসটা দিয়ে গেছে।
মা বললো, দেখি। তারপর আংটিটা হাতে নিয়ে মা চমকে উঠে বললো, এই আংটিতে যে তোর আব্বাজানের নাম লেখা। তাহলে কি সত্যি সত্যি তিনি এসেছিলেন!
গুলশানের বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছিলো তখন। আমি এ কী করলাম! একবার তাকে আমি ফিরেও দেখলাম না। যার আশায় পথ চেয়ে- এতদিন আমি বেঁচে আছি অথচ তাকে হাতের কাছে পেয়েও আমি বুঝতে পারলাম না। বনলতার চোখেও কান্না। আবার অসম্ভব খুশিতে সে পাগলের মতো কেঁদেও ফেললো। বললো, মা সত্যি কি উনি আমার আব্বাজান? উনি আমাকে আদর করে বললেন, বনলতা পৃথিবীতে আমার আপন বলতে কেউ নেই। তুমি আমাকে আব্বাজান বলে ডাকো। আমি ডাকলাম। আর সে আমাকে এটা দিয়ে বললো, মাগো এটা ছাড়া তোমাকে আজ আমার কিছুই দেবার নেই।
ব্যাকুল হয়ে গুলশান দৌড়ে গেলো বনের মধ্যে। তারপর মেয়েকে বললো, মা আর একটু দূরে গিয়ে দেখতো তোর নানাকে দেখা যায় কিনা। তাকে দেখলেই বলবি যেমন করেই হোক, এক্ষুনি যেনো তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
বেলা গড়ালো তবু সর্দার গাফ্ফারের ফিরে আসার নাম নেই। এদিকে নদীর ঘাটে তখন শাহ্জাদার বজরা এসে ভিড়েছ্। বজরা থেকে নামলো শাহ্জাদা আর শাহ্জাদার আম্মা। সঙ্গে দাসদাসী। সবার হাতেই নানারকম উপঢৌকন। ঘরের সামনে এসে শাহ্্জাদা সাব্বির বললো, বনলতা বাইরে এসে দেখো কে এসেছে।
ঠিক তখনই বনলতা বনের ভিতর থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে বললো, নানাভাইকে এতো ডাকলাম কিন্তু কোথাও তাকে পেলাম না। বেগম সাহেবা এগিয়ে এসে বললেন, তুমি বুঝি বনলতা?
হ্যাঁ।
তুমি কাঁদছো কেন?
আমার আব্বাজান এসেছিলেন কিন্তু আমরা কেউ তাকে চিনতে পারিনি। আব্বাজান আমাকে অনেক আদর করেছেন।
সাব্বিরের মা নিজেই উঠে গেলেন বনলতাদের ঘরে। বনলতার মায়ের কাছে শুনলেন সব ঘটনা। একটু পরেই ঘোড়া নিয়ে ছুটে এলো সর্দার গাফ্ফার। তাকে দেখেই বনলতা কাঁদতে কাঁদতে বললো, নানাভাই তুমি এক্ষুনি ছুটে গিয়ে আমার আব্বাজানকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো।
গাফ্ফার অবাক হয়ে বললো, কে তোর আব্বাজান?
যাকে তুমি এগিয়ে দিয়ে এসেছো উনিই আমার আব্বাজান।
কী করে বুঝলি?
আমাকে সে যে আংটিটা দিয়েছে, তাতেই লেখা আছে ‘শিবলী সাদী।’
বলিস কী?
সর্দার গাফ্ফার বনলতার মাকে ডাকলো, গুলশান-আমার নানাভাই যা বলছে, তা কি ঠিক? গুলশান চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো, হ্যাঁ বাবা, তুমি জলদি যাও। বনলতাকে ওর আব্বাজানের হাতে তুলে না দেয়া পর্যন্ত যে আমাদের শান্তি নেই।
সর্দার গাফ্ফার আবার ঘোড়া ছুটালো সেই পথে। সে মনে মনে ভাবলো, বাদশাহ্ শিবলী সাদী কি তার শক্তির উৎস থেকে নিজেকে আড়াল করে পুনরুদ্ধার করতে পারবেন হারানো রাজ্য? দস্যু সর্দার গাফ্ফার ঘোড়া ছুটালো। ছুটতে ছুটতে এক সময় পৌঁছে গেলো দিগন্ত জোড়া মাঠের কিনারে। যেখানে সে ঘোড়া থেকে লোকটাকে নামিয়ে দিয়েছিলো। ঘোড়াটা থামিয়ে সর্দার ভাবতে লাগলো, বাদশাহ্ ‘শিবলী সাদী’ এখান থেকে কোনদিকে যেতে পারে। পরক্ষণেই আবছা অন্ধকারে ফাঁকা একটা গাছের গোড়ায় কাউকে বসে থাকতে দেখে গাফ্ফার ছুটে গেলো সেখানে। ভাবলো, এই লোকটা আর কেউ নয়, ইনিই স্বয়ং ‘শিবলী সাদী’। তিনি কি পারেন, তার হারানো প্রিয়জনকে আবার হারাতে! তাকে যে সৈন্য সংগ্রহ করতে হবে। যুদ্ধ করে পুনরুদ্ধার করতে হবে তার হারানো রাজ্য। যে রাজ্যের একমাত্র মালিক- এই নিঝুম বনের রূপসী কন্যা শাহজাদী বনলতা। হ
[শেষ]

SHARE

Leave a Reply