Home দেশ-মহাদেশ জীববৈচিত্র্যের দেশ ইন্দোনেশিয়া -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

জীববৈচিত্র্যের দেশ ইন্দোনেশিয়া -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

ইন্দোনেশিয়ার সরকারি নাম ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্র। এটি একটি একক সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আন্তঃমহাদেশীয় দেশ। দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত হলেও এর কিছু ভূখণ্ড পড়েছে ওশেনিয়ায়। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র। সতেরো হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে দেশটি গঠিত। ১৯ লাখ ৪ হাজার ৫৬৯ বর্গ কিলোমিটার (৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৮ বর্গ মাইল) আয়তনের ইন্দোনেশিয়া ভূমির আয়তনে বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম দেশ এবং সমুদ্র ও ভূমির সম্মিলিত আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম দেশ। ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যা ২৬ কোটি ৩৫ লাখ। জনসংখ্যার দিক দিয়ে ইন্দোনেশিয়া বিশে^র চতুর্থ সবচেয়ে জনবহুল দেশ, সবচেয়ে জনবহুল অস্ট্রোনেশীয় দেশ এবং সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। বিশে^র সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ জাভায় দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বাস করে।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রধান ধর্মের মধ্যে রয়েছে ইসলাম ৮৭.২%, খ্রিষ্টধর্ম ৯.৯% (প্রোটেস্ট্যান্ট ৭% ও রোমান ক্যাথলিক ২.৯%), হিন্দুধর্ম ১.৭%, বৌদ্ধধর্ম ০.৭% এবং অন্যান্য ০.২%। ইন্দোনেশিয়া মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। দেশটিতে ব্যাপক সাংস্কৃতিক ভিন্নতা রয়েছে। আরবীয়, ভারতীয়, চীনা, মালয় ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির মিশেল রয়েছে জীবনাচরণে। আদিবাসী দ্বীপবাসীদের সংস্কৃতির সাথে এখানে বাণিজ্য করতে আসা এশীয় ও ইউরোপীয় লোকেদের সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে।
পাপুয়া নিউ গিনি, পূর্ব তিমুর এবং মালয়েশিয়ার পূর্ব অংশের সাথে ইন্দোনেশিয়ার স্থলসীমান্ত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, পালাউ এবং ভারতীয় ভূখণ্ড আন্দামান ও নিকবর দ্বীপপুঞ্জ। বিশাল জনসংখ্যা এবং ঘন জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল থাকা সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল জনমানবহীন প্রান্তরও রয়েছে, যেখানে আছে বিশে^র তৃতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জীববৈচিত্র্য। এদেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, যেমন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস, টিন, তামা ও স্বর্ণ। প্রধান কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, পাম তেল, চা, কফি, কোকো, ওষুধি উদ্ভিদ, মসলা ও রাবার। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। এদেশের মুদ্রার নাম ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ।
ল্যাটিন ইন্ডাস থেকে ইন্দোনেশিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ দ্বীপ। ওলন্দাজ (ডাচ) উপনিবেশের কারণে তাদের দেয়া নামটি ওই অঞ্চলের জন্য প্রচলিত হয়। ১৯০০ সাল থেকে জায়গাটি ইন্দোনেশিয়া নামে পরিচিতি পায়।
দেশটির মানববসতির ইতিহাস বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো। যাদের বলা হতো জাভাম্যান। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে তাইওয়ান থেকে একটি মানব প্রবাহের ধারা ইন্দোনেশিয়ায় যায় খ্রিষ্টজন্মের দুই হাজার বছর আগে। তারা আদিবাসীদের ধীরে ধীরে আরো পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। প্রথম শতাব্দীতে সভ্যতার বিস্তার ঘটে। কৃষিকেন্দ্রিক গ্রামীণসমাজ গঠিত হয়। গড়ে ওঠে অসংখ্য শহর-নগর-বন্দর। সমুদ্র উপকূলে বিস্তার ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্য। চীনের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইন্দোনেশিয়া হয়ে। এর ফলে দেশটিতে এক দিক থেকে হিন্দু ধর্ম অন্য দিক থেকে আসে বৌদ্ধ ধর্ম। দু’টি ধর্ম জীবনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিমদের আগমন ঘটে। উত্তর সুমাত্রা হয়ে ক্রমে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার মাইলের বিস্তৃত ইন্দোনেশিয়ায়। ষোড়শ শতাব্দীতে দেশটির প্রধান ধর্ম হয়ে যায় ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্রমেই ছাপিয়ে গিয়েছিল বৌদ্ধ আর হিন্দুপ্রধান এ অঞ্চলে। এরপর ধাপে ধাপে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে দেশটিতে। ব্রিটিশ আর ওলন্দাজরা তাদের সাম্রাজ্য স্থাপন করলেও ধর্ম ও সংস্কৃতিতে তারা কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রজাতন্ত্র পদ্ধতির সরকারে রয়েছে নির্বাচিত আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট। এ দেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর জাকার্তা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাকার্তা সবচেয়ে জনবহুল নগরী।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান। ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জুসুফ কাল্লা। মন্ত্রিপরিষদের গঠন ও নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার জন্য আইনসভার সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। আইন পরিষদের নাম গণ পরামর্শ পরিষদ। এর প্রধান কাজ সংবিধান সংশোধন, জাতীয় নীতিনির্ধারণ। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন (ইমপিচ) করার ক্ষমতাও রয়েছে এর। আইন পরিষদের দু’টি কক্ষ। নি¤কক্ষ গণপ্রতিনিধি পরিষদ। এর সদস্য সংখ্যা ৫৫০। অন্যটি উচ্চকক্ষ আঞ্চলিক প্রতিনিধি পরিষদ। এর সদস্য সংখ্যা ১২৮।
ইন্দোনেশিয়ায় ৩৪টি প্রদেশ রয়েছে, এগুলোর মধ্যে পাঁচটির আবার বিশেষ প্রশাসনিক মর্যাদা রয়েছে। প্রত্যেকটি প্রদেশের রাজ্য গভর্নর এবং আলাদা আইনসভা রয়েছে। প্রদেশগুলোকে শাসন সুবিধার জন্য রিজেন্সি এবং সিটিতে ভাগ করা হয়েছে। নিচের দিকে আরো বেশ কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রশাসনিক ইউনিট করা হয়েছে। সবার নিচে রয়েছে গ্রাম। আচেহ, জাকার্তা, ইউগিয়াকারতা, পাপুয়া এবং পশ্চিম পাপুয়াকে অনেক বেশি মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আচেহ প্রদেশ নিজেদের আইন প্রণয়নের অধিকার দেয়া হয়েছে। তারা শরিয়া বিধান মোতাবেক শাসনকার্য পরিচালনা করে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জীববৈচিত্র্যের দেশ (ব্রাজিলের পর)। এর জীব ও উদ্ভিদ শ্রেণীর মধ্যে এশীয় ও অস্ট্রেলীয় সংমিশ্রণ দেখা যায়। সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও এবং বালিতে এশীয় প্রাণীদের বিচিত্র সমারোহ। এখানে রয়েছে হাতি, বাঘ, চিতা, গণ্ডার ও বৃহদাকার বানর। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ বনভূমি। অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত পাপুয়ায় ৬০০ প্রজাতির পাখির বাস। পাখিদের ২৬ শতাংশ পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দেশটির সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৮০ হাজার কিলোমিটার। দেশটির জীববৈচিত্র্যের প্রধান কারণ এর দীর্ঘ উপকূলরেখা।
পর্যটন ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস। ১৭,০০০ দ্বীপ, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তটরেখা, ৩০০টি ভিন্ন গোত্র এবং ২৫০টি ভিন্ন ভাষার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় প্রকৃতি ও সংস্কৃতি দেশটির পর্যটন শিল্পের দুইটি প্রধান উপাদান।
ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৫৭% ভূমি এলাকা ক্রান্তীয় অরণ্যে ঢাকা। এইসব অরণ্যে অনেক পর্যটক ঘুরতে ভালোবাসেন। এ ছাড়া রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতগুলোর মধ্যে রয়েছে বালি, লোম্বক, বিনতান, ও নিয়াস দ্বীপের সৈকতগুলো। তবে এগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যাধিক্যের কারণে ঠিকমত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন কিন্তু ভালোভাবে সংরক্ষিত সৈকতগুলোর মধ্যে আছে কারিমুনজাওয়া, টোগীয় দ্বীপপুঞ্জ, বান্দা দ্বীপপুঞ্জের সৈকতগুলো। সমুদ্রের তীরে সার্ফিং এবং অনেক জায়গায় ডাইভিঙের ব্যবস্থাও আছে। আরও আছে বিস্তীর্ণ প্রবাল দ্বীপ। আর হরেক প্রজাতির প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী।
ইন্দোনেশিয়ায় আরও রয়েছে অনেক পর্বত এবং এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আবার আগ্নেয়গিরিও। এগুলোতে অনেক পর্যটক পর্বতারোহণ করতে ভালোবাসেন।
জাতিবিন্যাস অনুসারে ইন্দোনেশিয়ায় ৭৪২টি ভাষা আছে। এগুলোর মধ্যে ৭৩৭টি জীবিত, ২টি দ্বিতীয় ভাষা যাদের কোন মাতৃভাষী জীবিত নেই, এবং ৩টি বর্তমানে বিলুপ্ত। ইন্দোনেশিয়ার সরকারি ভাষার নাম বাহাসা ইন্দোনেশিয়া। এটি মূলত মালয় ভাষার একটি পরিবর্তিত রূপ যা ব্যবসা, প্রশাসন, শিক্ষা ও গণমাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অধিকাংশ ইন্দোনেশীয়ই জাভানীয় ভাষার মতো স্থানীয় মাতৃভাষায় কথা বলেন।
৭ম থেকে ১৪শ শতক পর্যন্ত বৌদ্ধ শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্য সুমাত্রা দ্বীপে সমৃদ্ধি লাভ করে এবং উন্নতির শিখরে এটি পশ্চিম জাভা দ্বীপ এবং মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। ১৪শ শতক নাগাস পূর্ব জাভা দ্বীপে মাজাপাহিত নামের হিন্দু রাজ্য পরিণতি লাভ করে।
১২শ শতকের দিকে ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামের আগমন ঘটে এবং ১৬শ শতক নাগাদ জাভা ও সুমাত্রার লোকেরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়। তবে বালি দ্বীপের লোকেরা আজও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু রয়ে গেছে। পূর্বদিকের দ্বীপগুলোতে ১৬ শ’ ও ১৭ শ’ শতকে প্রবল খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মপ্রচার হয় এবং বর্তমানে এই দ্বীপগুলোতে উভয় ধর্মেরই বড় সম্প্রদায় আছে।
মাজাপাহিত সাম্রাজ্যের পতনের পর যে ছোট ছোট রাজ্যের আবির্ভাব ঘটে, সেগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৬০২ সাল থেকে ওলন্দাজেরা ধীরে ধীরে ইন্দোনেশিয়ার শাসকশ্রেণী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। এদের মধ্যে পূর্ব তিমুর ছিল একমাত্র ব্যতিক্রম; এটি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের অধীনে ছিল। সুদীর্ঘ ৩০০ বছর শাসনকালে ওলন্দাজেরা নেদারল্যান্ড্স ইস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উপনিবেশে পরিণত করে।
২০শ শতকের প্রথম দশকে ইন্দোনেশীয় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় এবং দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিন বছর জাপানিরা ইন্দোনেশিয়া দখল করে। ১৯৪৫ সালের ১৭ই আগস্ট মিত্রশক্তির হাতে জাপানের আত্মসমর্পণের তিন দিন পর সুকর্ণ এবং মোহাম্মদ আতার নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র ইন্দোনেশীয় দল ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ চালানোর জন্য একটি সংবিধান রচনা করে। ওলন্দাজরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে শক্ত বাধার সম্মুখীন হয়। চার বছর যুদ্ধ ও আলাপ আলোচনার পর ওলন্দাজেরা ইন্দোনেশীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ১৯৫০ সালে ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘে ৬০তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।
ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বেশ কয়েকটি বহুমুখী সংস্থার সদস্য, যেমন জাতিসংঘ, বিশ^ বাণিজ্য সংস্থ, আইএমএফ ও জি২০ অর্থনৈতিক জোট। এ ছাড়াও দেশটি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, আসিয়ান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। হ

SHARE

Leave a Reply