Home চিত্র-বিচিত্র প্রজাপতি মাছ -নুসাইবা মুমতাহিন

প্রজাপতি মাছ -নুসাইবা মুমতাহিন

আমরা বিভিন্ন ধরনের মাছের নাম শুনেছি। আজ তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেবো নতুন একটি মাছের সাথে। প্রজাপতি মাছ। কী অবাক লাগছে? ভাবছ প্রজাপতি আবার মাছ হয় কিভাবে! তবে কি প্রজাপতি মাছও উড়ে উড়ে গিয়ে ফুলের মধু খাবে?
না, বন্ধুরা। প্রজাপতি মাছ উড়ে বেড়ায় না। প্রজাপতি মাছ নয়নাভিরাম একটি সামুদ্রিক মাছ। এরা প্রজাপতির মতো বাতাসে উড়ে না বেড়ালেও সমুদ্রের তলদেশের শৈলভূমিতে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে।
এদের গায়ে রয়েছে নানা রঙের বর্ণিল ও বিচিত্র নকশা। এ কারণেই এদের প্রজাপতি মাছ বলা হয়।
কিছু প্রজাপতি মাছের দেহের রঙ অনুজ্জ্বল হলেও অধিকাংশের দেহে রয়েছে উজ্জ্বল লাল, নীল, কমলা ও হলদে পটভূমিতে বিচিত্র সব নকশা।
কোনো মাছের চোখের চারপাশে রয়েছে কালো রঙের রেখা, পুচ্ছদেশে চোখের মত দেখতে ফোঁটা দাগ, যা দেখে সম্ভাব্য শিকারি প্রাণী ধাঁধায় পড়ে যায়। আর এই ফাঁকে প্রজাপতি মাছ পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়।
পৃথিবীর অধিকাংশ সামুদ্রিক এলাকায় এদের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা কিটোডনটিডে পরিবারভুক্ত এ মাছটির এ যাবৎ ১১৪ প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। এর একটি বৈজ্ঞানিক নাম কিটোডন লুনুলা।
প্রজাপতি মাছ আকারে বেশি বড় হয় না। ছোট ছোট মাছগুলো ৭ থেকে ৯ ইঞ্চি দীর্ঘ। দেহ চ্যাপ্টা ও পাতলা, অনেকটা চাকতির মতো। এদের দেহের এরকম গঠন অনেকটা অ্যাঙ্গলার ফিশের মতো।
দিনের বেশির ভাগ সময় এরা প্রবালের মধ্যে ঘুরে ফিরে অতিবাহিত করে। খাবার নিয়ে আমরা অনেকেই যেমন বাহানা করি তেমনি এদের অনেকেই খাবার নিয়ে বাহানা করে। এরা প্রবাল ছাড়া আর কিছুই খেতে চায় না।
খাবার গ্রহণের জন্য এরা লম্বা ঠোঁট দিয়ে ক্লান্তিহীনভাবে প্রবালের গায়ে ঠুকরে ঠুকরে প্রবাল, পলিপ, কীট ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সন্ধান করে।
এরা পানির নিচে দল বেঁধে চলতে পছন্দ করে। কোনো কোনো প্রজাতির প্রজাপতি মাছ ছোট ঝাঁক বেঁধে পানির নিচে ঘোরাফেরা করে। তবে এদের বেশির ভাগই জোড়ায় জোড়ায় চলাফেরা করে। এরা জোড় গঠনের আগ পর্যন্ত নিঃসঙ্গ থাকে।
রাতে প্রজাপতি মাছ অন্ধকার প্রবালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে। এ সময় এদের উজ্জ্বল রঙ আর বিচিত্র নকশা প্রবালের পটভূমির সাথে মিশে যায়। সে এক অন্যরকম মনোরম চিত্র।
যারা ঘরে মাছ পোষে তাদের কাছে প্রজাপতি মাছের বিশেষ কদর। তবে অ্যাকুরিয়ামে এদের পালন করা সহজ নয়। এদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সার্বক্ষণিক বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন। এই মাছের দামও বেশি।
কিন্তু এদের সৌন্দর্যের কথা ভেবে ক্রেতারা কিনতে মোটেও দ্বিধা করেন না।

SHARE

Leave a Reply