Home নিবন্ধ ঈদুল আজহা আত্মোপলব্ধি ও ত্যাগের অনন্য বাহন -ড. মুহাঃ রফিকুল...

ঈদুল আজহা আত্মোপলব্ধি ও ত্যাগের অনন্য বাহন -ড. মুহাঃ রফিকুল ইসলাম

বছর ঘুরে আরবি জিলহজ মাসে আমাদের কাছে চলে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি দিন। সর্বাধিক উত্তম এবং প্রিয় জিনিসকে আল্লাহর পথে নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দিয়ে সন্তুষ্টি অর্জন করার উৎসব ঈদুল আজহা। এটা আনন্দের উৎসব না হয়ে সর্বাধিক বেদনার ইতিহাস হয়ে যেত যদি মহান আল্লাহর ইচ্ছা সে রকম না হতো।
বন্ধুরা! আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে মক্কার নিকটবর্তী মিনায় ঘটে যাওয়া কোরবানির সেই ঘটনার দিকে দৃষ্টি ফিরালে এমন অনেক কিছু আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়, যা মানবমন্ডলীর জন্য অন্যতম মহান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মিনায় পিতা ইবরাহিম এবং পুত্র ইসমাইল আ:-এর আল্লাহর ওপর আস্থা, বিশ্বাস এবং নির্ভরতার বাস্তব যে দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয় তার মাধ্যমেই একজন হয়েছেন মুসলিম জাতির পিতা, আর একজন হয়েছেন প্রথম বিশুদ্ধ আরবিভাষী মানুষ এবং দু’জনই হয়েছেন মহান আল্লাহর মনোনীত নবী।
ঈদুল আজহার ইতিহাস অত্যন্ত বিস্তারিত ও ঘটনাবহুল। যাদের জীবনে এটা ঘটেছিলো তাদের ঘটনাবহুল জীবন আলোচনা করলে আমাদের করণীয় এবং পালনীয় অসংখ্য দিক উন্মোচিত হবে।

হজরত ইবরাহিম (আ)
তিনি পশ্চিম ইরাকের বসরার নিকটবর্তী বাবেল শহর হতে ফিলিস্তিনের কিনআনে হিজরত করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী সারার বংশজাত নবীগণের মাধ্যমে আশপাশে সর্বত্র তাওহিদের দাওয়াত সম্প্রসারিত হয়। অপর স্ত্রী হাজেরার পুত্র ইসমাইলের মাধ্যমে বায়তুল্লাহ ও তার আশপাশ এলাকায় তাওহিদের প্রচার ও প্রসার হয় এবং এ বংশের মাঝেই সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সা)-এর আগমন ঘটে। মহান আল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ২৫টি সূরায় মোট ২০৪টি আয়াতে আলোচনা করেছেন।
তিনি শিরকমুক্ত জীবনগঠনের জন্য পিতাসহ নিজ কওমকে আহবান জানিয়েছেন। সে আহবানের বিষয়টি পবিত্র কুরআনে এভাবে এসেছে,
‘স্মরণ কর, যখন ইবরাহিম তার পিতা আজরকে বললেন, তুমি কি প্রতিমাসমূহকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছ।’ (সূরা আল-আনআম : ৭৪) এ ছাড়া আরও বিস্তারিত এসেছে সূরা আশ-শু‘আরা ৬৯-১০৪ নম্বর আয়াতে।
সর্বাগ্রে তিনি পিতার পক্ষ থেকে প্রচ- বিরোধিতার সম্মুখীন হলেন। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনে এসেছে,
‘হে ইবরাহিম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে আমি অবশ্যই পাথর মেরে তোমার মাথা চূর্ণ করে দেব। তুমি আমার সম্মুখ হতে চিরতরের জন্য দূর হয়ে যাও।’ (সূরা মারিয়ম : ৪৬)
তিনি মাটি বা পাথর নির্মিত দেব- দেবীদের অসারতা ও অক্ষমতা খুব বাস্তবতার আলোকে বুঝিয়েছেন। এমনকি পূজারিগণও স্বীকার করতে বাধ্য হয় তাদের উপাস্যদের অসারতার কথা। এমন কিছু সংলাপ আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। একটি বর্ণনা এভাবে এসেছে, ইবরাহিম (আ)-এর সাথীরা যখন মেলায় যেতে বললো তিনি বললেন, আমি অসুস্থ। কাজেই তারা তাকে ত্যাগ করে চলে গেলো। তাদের পেছনে সে চুপিচুপি দেবতাদের মন্দিরে ঢুকে পড়লো এবং বললো, ‘আপনারা খাচ্ছেন না কেন? কি হলো আপনাদের, কথা বলছেন না কেন?’ (সূরা আস সাফফাত : ৯৩) এরপর সে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং ডান হাত দিয়ে খুব আঘাত করলো। (সূরা আস-সাফফাত : ৯১-৯৩) ছোট মূর্তিগুলো ভাঙলেও বড়টাকে অক্ষত রাখলেন। মেলা থেকে ফেরার পর যখন তারা দেখলো তাদের প্রভুরা পড়ে আছে বড়টা ছাড়া, তখন তারা জিজ্ঞেস করলো: ‘হে ইবরাহিম! তুমিই কি আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ আচরণ করেছ?’ (সূরা আল-আম্বিয়া : ৬২) সে জবাব দিল, ‘বরং এসব কিছু এদের এ সরদারটি করেছে, এদেরকেই জিজ্ঞেস করো, যদি এরা কথা বলতে পারে।’ (সূরা আল আম্বিয়া ৬৩) এ কথা শুনে তারা নিজেদের বিবেকের দিকে ফিরলো এবং (মনে মনে) বলতে লাগলো, ‘সত্যিই তোমরা নিজেরাই জালেম।’ (সূরা আল আম্বিয়া ৬৪) কিন্তু আবার তাদের মত পাল্টে গেলো এবং বলতে থাকলো, ‘তুমি জানো, এরা কথা বলে না।’ (সূরা আল আম্বিয়া ৬৫-৬৬) ইবরাহিম বললো, ‘তাহলে তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন সব জিনিসের পূজা করছো যারা তোমাদের না উপকার করতে পারে, না ক্ষতি?’ (সূরা আল-আম্বিয়া : ৬৬) তিনি আরও বললেন, ‘তোমরা এমন বস্তুর পূজা কর, যা তোমরা নিজ হাতে তৈরি কর? অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে ও তোমাদের কর্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা ছাফফাত : ৯৫-৯৬)
সকল যুক্তি তর্কে পরাজিত হয়ে তাঁর কওমের লোকেরা তাঁকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল এবং বাদশাহ নমরুদের কাছে হস্তান্তর করলো। নমরুদ প্রায় চারশত বছর ধরে শাসক হওয়ায় মনে করেছিলো ইবরাহিম তাঁকেই খোদা বলে মেনে নেবে। কিন্তু যখন ইবরাহিম (আ) বললেন, ‘আমার পালনকর্তা তিনি, যিনি মানুষকে বাঁচান ও মারেন।’ (সূরা আল বাকারা : ২৫৮) এর উত্তরে নমরুদ বললো: ‘আমিও বাঁচাতে পারি ও মারতে পারি।’ (সূরা আল-বাকারা : ২৫৮) সুতরাং রব হিসেবে মেনে নাও। ইবরাহিম (আ) পুনরায় বললেন: ‘আমার আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, আপনি তাকে পশ্চিম দিক হতে উদিত করুন।’ (সূরা আল বাকারা : ২৫৮)
নমরুদ সব কিছুতে পরাজিত হয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুকুম দিলো। মহান আল্লাহ এ ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘তোমরা একে পুড়িয়ে মার এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।’ (সূরা আল আম্বিয়া : ৬৮)
অবশেষে তারা একটি প্রকান্ড অগ্নিকুন্ড তৈরি করলো এবং তার মাঝে নিক্ষেপ করলো। আল কুরআনে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, তারা পরস্পর বললো, ‘এর জন্য একটি অগ্নিকুন্ড তৈরি করো এবং একে জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে দাও?’ (সূরা আস সফফাত : ৯৭) হযরত ইবরাহিম (আ)কে যখন অগ্নিকুন্ডে ফেলা হচ্ছিলো তিনি বললেন, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল নিমাল মাওলা ওয়া নিমান নাসির।’ মহান আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কত উত্তম অভিভাবক! তাঁর অভিভাবকত্ব কতই না উত্তম এবং তিনি উত্তম সাহায্যকারী। মহান আল্লাহ প্রিয় বান্দাকে রক্ষা করার জন্য আগুনের প্রতি আদেশ জারি করলেন : আমি বললাম, ‘হে আগুন! ঠান্ডা হয়ে যাও এবং নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহিমের জন্য।’ (সূরা আম্বিয়া, ৬৯) এত পরীক্ষা এবং তর্ক-বিতর্কের পরও তার পিতা ও তার কওমের মানুষেরা তাঁকে গ্রহণ করেনি। তিনি একপর্যায়ে বাবেল (বাগদাদ) থেকে শামের (সিরিয়া) কিনআনে স্ত্রী সারা ও ভাতিজা লুতকে (লুত আ) নিয়ে প্রায় পাঁচশত মাইল অতিক্রম করে হিজরত করেন।
শাম থেকে দুর্ভিক্ষের কারণে মিসরের দিকে আবার যাত্রা আরম্ভ করলেন। পথিমধ্যে মিসরের লম্পট শাসক ফেরাউন ইবরাহিম (আ)-এর স্ত্রী সারাকে মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে আটক করলো। সারা মহান আল্লাহর নিকট তাকে রক্ষার জন্য দোয়া করলেন। মহান আল্লাহ দোয়া কবুল করলেন। শয়তান ফিরাউন যখন সারাকে ক্ষতি করতে অগ্রসর হলো তার হাত-পা অবশ হয়ে গেলো। এভাবে দুশ্চরিত্র ফেরাউনের হাত থেকে সারা মুক্তি পেলেন এবং তার সাথে তাঁকে সেবা করার জন্য ফেরাউন নিজের খাদিমা হাজেরাকে দিয়ে দিলেন।
তিনি আবার প্রায় ৭৫০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মিসর থেকে সিরিয়ায় ফিরে গেলেন। অতঃপর তার প্রথম স্ত্রী সারা হাজেরাকে তার স্বামী ইবরাহিম (আ)-এর জন্য উৎসর্গ করলে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে নিঃসন্তান ইবরাহিম (আ) সন্তানের পাওয়ার আশায় দোয়া করলেন তিনি বলেন, হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্রসন্তান দাও। (সূরা আস-সাফফাত: ১০০) এ দোয়ার ফলাফল হিসেবে ইবরাহিম (আ)-এর ছিয়াশি বছর বয়সে হাজেরার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন ইসমাইল (আ)।
সন্তান জন্মের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ দেয়া হলো শিশুসন্তান এবং হাজেরাকে মক্কার বিরান পাহাড়ে রেখে আসতে। তাদেরকে রেখে যখন ফিরছেন তখন হাজেরা বার বার প্রশ্ন করেছেন কেন তাদেরকে রেখে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইবরাহিম (আ) কোন উত্তর প্রদান করেননি। শেষে হাজেরা জিজ্ঞেস করলেন এটা কী আল্লাহর নির্দেশ? তিনি বললেন হ্যাঁ। তখন হাজেরা আর কোন কথা বলেননি। ইবরাহিম (আ) সামান্য একটু পানি এবং কিছু খেজুরসহ সেখানে রেখে আসেন। তাদের চোখের আড়াল হলে দোয়া করেন:
হে আমাদের রব! আমি একটি তৃণ পানিহীন উপত্যকায় নিজের বংশধরদের একটি অংশকে তোমার পবিত্র গৃহের কাছে এনে বসবাস করিয়েছি। পরওয়ারদিগার! এটা আমি এ জন্য করেছি যে, এরা এখানে নামাজ কায়েম করবে। কাজেই তুমি লোকদের মনকে এদের প্রতি আকৃষ্ট করো এবং ফল-ফলাদি দিয়ে এদের আহারের ব্যবস্থা করো, হয়তো এরা শোকরগুজার হবে। (সূরা ইবরাহিম : ৩৭)
হাজেরা বুঝেছিলেন আল্লাহর নির্দেশ হলে নিশ্চয় প্রভুর কোন পরিকল্পনা আছে। তিনি শিশুপুত্রের চিন্তায় বিভোর হলেন। পানি না থাকলে, পানি পান করতে না পারলে শিশুর বুকের খাবার শুকিয়ে যাবে, শিশু ইসমাইলের জীবনাশঙ্কা দেখা দেবে। তিনি সাফা মারওয়া পাহাড়ের মাঝে পাগলের মত ছুটছেন কোন কাফেলার বা পানির সন্ধান পান কি না। ইতোমধ্যে দেখেন শিশু ইসমাইলের পায়ের আঘাতের স্থান থেকে বের হচ্ছে পানির ঝর্ণাধারা। তিনি পরম মমতায় সন্তানকে বুকে জড়ালেন এবং পানি পান করলেন।
সন্তানকে রেখে আসার পর মাঝে মাঝে দেখতে যেতেন। যখন তার বয়স তেরো-চৌদ্দ হলে সর্বাধিক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হলেন তিনি। আদেশ হলো:
সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছলো তখন (একদিন ইবরাহিম তাকে বললো, ‘হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি জবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?’ সে বললো, ‘হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন।’ (সূরা সফফাত : ১০২)
তিনি আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নের জন্য মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে মিনায় নিয়ে গেলেন। পথিমধ্যে হাজিগণ যে তিন স্থানে পাথর নিক্ষেপ করে শয়তান সেসব স্থানে তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। অতঃপর তারা দু’জই মহান আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন এবং সফল হন।
এ ধরনের অনেক পরীক্ষার মাধ্যমে এবং কৃতকার্য হওয়ার পর তিনি মুসলিম জাতির ইমাম এবং পিতা হিসেবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
স্মরণ করো যখন ইবরাহিমকে তার রব কয়েকটি ব্যাপারে পরীক্ষা করলেন এবং সেসব পরীক্ষায় সে পুরোপুরি উত্রে গেলো, তখন তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে সকল মানুষের নেতার পদে অধিষ্ঠিত করবো। (সূরা আল বাকারা : ১২৪)
ইবরাহিম (আ)-এর অনেক পরীক্ষার সাথী হযরত ইসমাইল (আ)। দীর্ঘ দিন পিতা পর্যাপ্ত খোঁজ না নিলেও যখনই এসে আল্লাহর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন যা আল কুরআনে এভাবে এসেছে:
সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছলো তখন একদিন ইবরাহিম তাকে বললো, ‘হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি জবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?’ সে বললো, ‘হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন।’ (সূরা সফফাত : ১০২) তিনি মহান আল্লাহ কর্তৃক পিতার প্রতি আদেশ মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি নবী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: আর এ কিতাবে ইসমাইলের কথা স্মরণ করো। সে ছিল ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ এবং ছিল রাসূল নবী। (সূরা মরিয়াম : ৫৪)

হজরত ইসমাইল (আ)
পিতার প্রতি অসম্ভব শ্রদ্ধাশীল একজন সন্তান। পিতার নির্দেশনায় পরিবার পরিবর্তন করেছেন। তিনি পিতার সাথে পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: আর স্মরণ করো, ইবরাহিম ও ইসমাইল যখন এই গৃহের প্রাচীর নির্মাণ করছিল, তারা দোয়া করে বলছিল, ‘হে আমাদের রব! আমাদের এই খিদমত কবুল করে নাও। তুমি সবকিছু শ্রবণকারী ও সবকিছু জ্ঞাত।’ (সূরা আল বাকারা : ১২৭)
তাঁর (ইসমাইল আ) বংশে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তি যার মুখ দিয়ে বিশুদ্ধ আরবি ভাষার সূচনা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে নবী করিম (সা) বলেছেন: মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে ইসমাইল সর্বপ্রথম শুদ্ধ আরবি ভাষা ব্যক্ত করেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
আমাদের করণীয়
বন্ধুরা, সর্বোপরি পিতা-পুত্র হিসেবে এবং দু’জনই নবী হিসেবে মুসলিম জাতির জন্য অনেক অনেক শিক্ষা উপস্থাপন করে গেছেন। তার মধ্য থেকে আমরা যে সকল বিষয় অনুকরণ অনুসরণ করতে পারি তা হচ্ছে: ক. মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন পরীক্ষা এলে হতাশ হওয়া চলবে না, কারণ আমাদের জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ)-এর ওপর যত পরীক্ষা এসেছে কখনো ধৈর্য হারা হননি। খ. সব সময় সালাত আদায় করা এবং শিরকমুক্ত জীবন যাপনের চেষ্টা করা। গ. সাধ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রচার প্রসারের চেষ্টা করা। ঘ. শয়তানের সব ধরনের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা। যেমন: অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহার, অনলাইনে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয়, মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে অন্যদের বিরক্ত করা, মোবাইল কোম্পানির ফ্রি অফার গ্রহণ করে সময় অপচয়; এ ধরনের যত কিছু আছে তা থেকে বিরত থাকা। ঙ. বিশেষ করে পিতা-মাতার নির্দেশনা খুব ভালো করে অনুসরণ করা। চ. হজরত ইসমাইল (আ) মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে এমন ঈমান এবং চরিত্র কিভাবে অর্জন করেছিলেন সে সম্পর্কে গভীর চিন্তা করা।
প্রিয় বন্ধুরা, প্রিয় ভাইয়েরা আসুন আমরা এ দুই মহান ব্যক্তির ত্যাগের এবং কর্মের ইতিহাস সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করি। আমাদের খারাপ প্রবণতাসমূহকে ত্যাগ করি; ভালো কাজ করার চেষ্টা করি এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকি, তাহলেই কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন হবে।

SHARE

Leave a Reply