Home চিত্র-বিচিত্র ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক -নুসাইবা মুমতাহিন

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক -নুসাইবা মুমতাহিন

নানান কথার ঝাঁক
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।
ঝিঁঝি এমন একটি পোকা যাকে আমরা সবাই চিনি। ঝিঁঝিঁ পোকাকে চেনার প্রধান কারণ এর শব্দ। রাতের নীরবতায় ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আরও স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা গেলেও একে দেখেছেন খুব কম মানুষ। ঝিঁঝিঁ পোকা এমনভাবে পাতার আগায় বসে থাকে যেন এদের দেখা যায় না।
ঝিঁঝিঁ পোকা বাইরে খুব কম আসে। এরা শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় বাইরে আসে। তারপর বাঁচে তিন বছর।
প্রায় ৯০০ প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা বাস করে আমাদের এই পৃথিবীতে।
ঝিঁঝিঁ পোকা আকারে ২ থেকে ২.৫০ ইঞ্চি হয়। ঝিঁঝিঁ পোকা ১৫ সেকেন্ডে যতবার ডাকে তার সাথে ৩৭ যোগ করলেই পেয়ে যাবে দিনের তাপমাত্রা। এখন প্রশ্ন হলো ঝিঁঝিঁ পোকা একটা শব্দ করে ডাকে কিভাবে? তোমাদের সবার ধারণা ঝিঁঝিঁ পোকা মুখ দিয়ে শব্দ করে। না, বন্ধুরা, ঝিঁঝিঁ পোকা মুখ দিয়ে শব্দ করে না। এদের পেটের নিচে একজোড়া টিম্বাল মেমব্রেন দ্বারাই শব্দ করে।
ঝিঁঝিঁ পোকা অনেক ধরনের আছে। আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের ঝিঁঝিঁ পোকা থাকে আমাদের খুব কাছাকাছি। ঠিক ঘরের কোণে।
এরা আকারে অতোটা বড় হয় না। গায়ের রঙও হয় মেটে মেটে। এরা ঘরের দেয়ালের একটা কোণে চুপটি করে বসে থাকে। গায়ের রঙ মাটি কালার বলে এদের দেখে খুব একটা বোঝা যায় না।
আরেক জাতের ঝিঁঝিঁ পোকা আছে। তাদেরকে পাওয়া যায় ফসলের ক্ষেতে, বিশাল মাঠে অথবা বনে-বাদাড়ে।
এসব ঝিঁঝিঁ আকারে যেমন বড় হয় তেমনি গায়ের রঙও থাকে কুচকুচে কালো। আর এরা ডাকতেও পারে তেমনি ভয়ঙ্করভাবে। রাতে এই পোকাগুলো একসাথে অনেক জোরে জোরে ডাকতে থাকে। দূর থেকে শোনা যায় এই পোকাদের আওয়াজ।
ঘরের ঝিঁঝিঁরা কিন্তু অতোটা সুবিধার নয়।
মাঠের পর মাঠ ফসল উজাড় করা এদের কাছে কোনো ব্যাপারই না।
ঝিঁঝিঁদের দৃষ্টিশক্তি খুবই ভালো। তোমাদেরকে এর আগে মাছির দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বলেছিলাম। মাছিদের মতো ঝিঁঝিঁরাও একই সাথে অনেক কিছু দেখতে পায়। এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। তার চেয়েও মজার ব্যাপার এদের শ্রবণেন্দ্রিয় বা কানে। ঝিঁঝিঁরা শুনতেও পায় বেশ ভালো। এদের কান থাকে ঠিক হাঁটুর মাঝামাঝিতে, হাঁটুর যে জায়গাটাকে বলা হয় মালাই চাফি সেই জায়গায়।
পৃথিবীর অনেক দেশেই ঝিঁঝিঁদেরকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মানা হয়। ইউরোপের অনেক দেশেই মনে করা হয়, যারা ঘরে বসেই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে পায় তারা সৌভাগ্যবান। এমনি অনেক দেশে ঝিঁঝিঁদের আদর করে খাঁচায় পুরে নিয়মিত দানা পানি দিয়ে রীতিমতো যতœ আত্তি করা হয়। অনেকটা আমাদের দেশে পোষা পাখির মতো। অর্থাৎ তারা ঝিঁঝিঁ পোকা পোষে। তাদের ধারণা এটা তাদের ঘরে সৌভাগ্য আনবে।
কি অবাক হচ্ছ! হ্যাঁ। অবাক হবারই কথা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই এমনটি দেখা যায় সেখানে ঝিঁঝিঁ পোকাকে আদর করে পুষতে দেখা যায়।
তবে পৃথিবীর সব দেশেই যে ঝিঁঝিঁরা এতটা আদর যতেœ থাকে তা কিন্তু নয়। দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই ঝিঁঝিঁর ডাক শুনতে পাওয়াটাকে মৃত্যুর আগমন ধ্বনি হিসেবে ধরা হয়। তাই ঝিঁঝিঁ পোকা তাদের কাছে অমঙ্গলের প্রতীক।
আফ্রিকার দেশগুলোতে আবার ঝিঁঝিঁ পোকা ধরা হয় আয়েশ করে খাওয়ার জন্য।
এভাবেই ঝিঁঝিঁ পোকা বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পরিচিত। বিভিন্নভাবে এদের ব্যবহার।

SHARE

Leave a Reply