Home চিত্র-বিচিত্র খোলসের ভেতর মুক্তোর হাসি -নুসাইবা মুমতাহিন

খোলসের ভেতর মুক্তোর হাসি -নুসাইবা মুমতাহিন

ক্ষুদ্র বলে কেউই অবহেলিত নয়। ক্ষুদ্র বস্তুর মাঝে এমন মূল্যবান সম্পদ পাওয়া যায় যার জন্য ক্ষুদ্র বস্তুটি হয়ে যায় অমূল্য সম্পদ। বন্ধুরা, আজ তোমাদের তেমন একটি জিনিস সম্পর্কে বলবো।
মুক্তা। মুক্তার কথা তোমরা সবাই জান। কিন্তু প্রাকৃতিক মুক্তার দেখা আমরা সবাই হয়ত পাইনি। তবে মুক্তার ব্যবহার অনেক। মুক্তা অনেক আকর্ষণীয়।
মুক্তা হচ্ছে ঝিনুক বা মুক্তির মধ্যকার রতবিশেষ। এর অন্য নাম মোতি। আঞ্চলিক ভাষায় অনেক সময় মুক্তাকে মুকুতা নামেও ডাকা হয়।
মুক্তা কিন্তু নিজে নিজে হয় না। মুক্তা জন্মে শামুকের খোলসে। সাগরের পাড়ে কত ঝিনুক পড়ে থাকে। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি এই পড়ে থাকা ঝিনুক থেকেই জন্ম নেয় এত সুন্দর রত।
সব ধরনের ঝিনুকে অবশ্য মুক্তা হয় না। মুক্তা দেখতে ছোট হয়ে থাকে এবং বেশির ভাগই সাদা রঙের হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো পান্তুর বা ফ্যাকাশে রঙ-সহ কালো রঙেরও হতে পারে। বিভিন্ন আকারের হয় মুক্তা।
মুক্তা নিয়ে এত কথার মাঝে নিশ্চয় তোমাদের কৌতূহল বাড়ছে মুক্তার জন্ম নিয়ে। আচ্ছা মুক্তা কিভাবে তৈরি হয় তোমরা কি জান?
মনে করো, ছোট্ট কোনো জলজ জীব বা কোনো বালুকণা হঠাৎ করে ঝিনুকের মধ্যে ঢুকে গেল। ঝিনুক তখন কি করে জানো? ঝিনুক তখন ওই ছোট্ট জীব বা বালুকণাটির চারপাশে একটি থলের মতো অংশ তৈরি করে ফেলে। সেই সঙ্গে ঝিনুকটির নিজস্ব কিছু রাসায়নিক পদার্থ সেখানে জমা হতে থাকে। থলেটিও দিনে দিনে বেড়ে ওঠে। এভাবেই একসময় তৈরি হয় মুক্তা।
তবে সব ঝিনুকেই কিন্তু মুক্তা তৈরি হয় না। তোমাদের আগে যেমনটি বলেছিলাম। আর বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যাবে না যে কোন ঝিনুকটির মাঝে মুক্তা আছে। হাজার হাজার ঝিনুকের মাঝে একটি মুক্তাও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। সুতরাং বুঝতেই পারছ মুক্তা সংগ্রহ করা কতটা কঠিন! এদিকে দিনে দিনে এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রয়োজন হলো বিকল্প পদ্ধতিতে মুক্তা সংগ্রহ।
জাপানি তিনজন আবিষ্কারক মুক্তা চাষ সম্পর্কে ধারণা দেন। কিভাবে মুক্তা চাষ করা যেতে পারে সে সম্পর্কে তারা জানান। তবে তারা তিনজনই পৃথকভাবে তাদের আবিষ্কারগুলো করেছিলেন এবং পৃথকভাবেই আবিষ্কারের বর্ণনা করেন। তবে তাদের মধ্যে ককিচি মিকিমটো একাই পান আবিষ্কারকের স্বীকৃতি। ধারণা করা হয় তিনি প্রতিদিন দুটো করে মুক্তা খেতেন। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য চীনে মুক্তাকে উর্ষ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুক্তার চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও মুক্তার চাষ দেখা যায়। বাংলাদেশের মিঠা পানির জলাশয় মুক্তা বহনকারী ঝিনুকে পরিপূর্ণ। জলবায়ুও মুক্তা চাষে উপযোগী। চীন, জাপান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ভারতসহ অন্যান্য দেশে প্রণোদিত উপায়ে মুক্তা উৎপাদন এবং চাষ করা হয়ে থাকে।
মুক্তা চাষ করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন হয় ঝিনুক চাষের। ঝিনুক চাষ করে তার মধ্যে ছোট কোনো এক ক্ষুদ্র কণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আবার সেই ঝিনুককে রাখা হয় পানিতে। পরে সময়মতো ঝিনুক উঠিয়ে এনে মুক্তা বের করে আনা হয়।
বর্তমানে যে মুক্তাগুলো পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই চাষ করা মুক্তা। আগেই বলেছি, প্রাকৃতিক মুক্তার দেখা কম মেলে। চাষ করা মুক্তাগুলো দেখতে প্রাকৃতিক মুক্তার মতো সুন্দর হয় না। প্রাকৃতিক মুক্তাগুলো হয় খুব সুন্দর আর উজ্জ্বল। শত শত বছর ধরে মুক্তার সৌন্দর্যে অবাক হয়েছে মানুষ।
মুক্তার বিভিন্ন আকার রয়েছে। গোলাকার, ডিম্বাকার আরো কত আকার। যেমনি নানান আকার তেমনি নানা রঙের মুক্তা পাওয়া যায়। সাদা, গোলাপি, রূপালি, হলুদ, মুক্তা যেমন আছে তেমনি আছে সবুজ, নীল এমনকি কালো রঙের মুক্তাও। অভিমত মুক্তাবুরিরা নাকি এক নিঃশfসে পানির নিচে ২০০ ফুট পর্যন্ত চলে যেতে পারেন। তবে গভীর পানির নিচ থেকে মুক্তা তুলে আনতে গিয়ে কত মানুষের যে প্রাণ গিয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। সাগরের অতলে মুক্তা খুঁজে বেড়ান কিছু মানুষ। মূল্যবান এই রকম মুক্তা খুঁজে পেতে জীবনের ঝুঁকি নিতেও ভয় পান না তারা। যেই ঝিনুকের মাঝে এই মুক্তার জন্ম সেই ঝিনুককে কেউ মনে না রাখলেও ঝিনুক আমাদের এই মূল্যবান উপহারটি দিতে কিন্তু ভুল করে না।
তাই আমাদের উচিত আল্লাহ তা’লার এই মূল্যবান সৃষ্টি দেখে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।

SHARE

Leave a Reply