Home সায়েন্স ফিকশন মিশন টু আয়রনম্যান -মহিউদ্দিন আকবর

মিশন টু আয়রনম্যান -মহিউদ্দিন আকবর

পঞ্চম পর্ব
মানববিজ্ঞানী আসিফ আরমানের পরামর্শে মাত্র এক সপ্তাহে ক্রমিয়ামের মোটা পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ত্রিশটি দৈত্যাকায় সিলিন্ডার। এখন সিলিন্ডারগুলোকে পটাশিয়াম কার্বোনেট গ্যাসে পরিপূর্ণ করা হচ্ছে। তবে তাও করা হচ্ছে স্কাইল্যাব থেকে বিশ হাজার ন্যানোমিটার দূরত্বে অবস্থিত একটা গোপন স্থানে। যার চারপাশে আবরণ করে আছে হিলিয়ামের পুরু ধূলির আস্তর। এই আস্তর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব না হলে আর দেখার উপায় নেই যে, সেখানে আসলে কী হচ্ছে।
তারপরও কঠোর গোপনীয়তা আর নিরাপত্তার স্বার্থে হিলিয়ামের পুরু ধূলির আস্তরকে পাঁচ ন্যানোমিটার পেছনে রেখে সাত স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রথম ধাপে আছে মাইক্রো-ইলেকট্রনিক রাডার স্কোয়াড। এরা প্রতি মুহূর্তে এই গ্রহরাজ্যের মহাকাশ সীমানার ইনটেনসিটিগ্রাফ সংরক্ষণ করে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় স্তরে রাখা হয়েছে মহাকাশ থেকে মহাকাশে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প পাল্লার মিশাইল।
তৃতীয় স্তরে আছে মাঝারি পাল্লার মিশাইল স্কোয়াড।
চতুর্থ স্তরে মোতায়েন করা হয়েছে দূরপাল্লার মিশাইল স্কোয়াড। এদের এই মিশাইলগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরমাণু ব্লাস্টার সমৃদ্ধ এমএক্স-২৬ অথবা ডেডং-১৬০০ এর চেয়ে অন্তত দশগুণ বেশি প্রলয় সৃষ্টিকারী ক্ষমতাসম্পন্ন।
পঞ্চম স্তরে বসানো হয়েছে হাইড্রোজেন মোশনসমৃদ্ধ ব্লাস্টার বেল্ট। এর কাজ হলো, যে কোনো অক্সিডেন্টাল অণু-পরমাণুকে ধরে তরলে পরিণত করে ফেলা। যাতে পুরো এলাকাতে শত্রুপক্ষ কোনো রকম অক্সিডেন্টাল হাইড্রলিক ফায়ারিং ঘটাতে না পারে।
ষষ্ঠ স্তরে বসানো হয়েছে ফটো ইলেকট্রনিক ব্লক। এই স্কোয়াডের কাজ হলো, উচ্চমাত্রার কার্বন ধূলি সৃষ্টির মাধ্যমে পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখা। যাতে শত্রুপক্ষকে একটা গোলকধাঁধায় ফেলে বিভ্রান্ত করা যায়।
আর সবশেষে সপ্তম স্তরে মোতায়েন করা হয়েছে রিফ্রেশারিং বায়োপ্ল্যান্ট। এই ইউনিটের কাজ হলো মহাকাশে প্রবহমান বায়ু থেকে ক্ষতিকর অণুসমূহ সরিয়ে পিওর হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে একটা শীতল পানির কুয়াশা প্রবাহ ছড়িয়ে রাখা। যাতে হিলিয়ামের পুরু ধূলির আস্তর অভ্যন্তরে ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় কোনো কণিকা প্রবেশ করে পটাশিয়াম ক্লোরাইডের কার্যকারিতাকে শুষে নিতে না পারে।
হিলিয়ামের পুরু ধূলির আস্তর অভ্যন্তরের যে গ্রাউন্ডে কাজ চলছে তা সরাসরি তদারক করছেন আসিফ আরমান এবং সাদিত খান। এসব সামাল দিতে প্রায় গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছে রোবোদের চিফ সায়েন্টিস্ট ডিকেটর গোরিয়ান বার্দে সহ তার সঙ্গী অন্যান্য রোবোবিজ্ঞানীরা। সবার মাঝেই টান টান উত্তেজনা।
ডিকেটর গোরিয়ান বার্দে দু’হাত ঝাড়া দিয়ে একটু রিলাক্স মুডে বললো- এবার খতম হয়ে যাবে আয়রনম্যানের মাকড়সা বিজ্ঞানীর স্পাইডারনেটের জারিজুরি।
আসিফ আরমান মুচকি হেসে বললেন- বেশি উত্তেজিত হয়ে কাজ নেই। আগে তো অপারেশনটা শুরু করি।
বার্দে বললো- অপারেশন তো শুরু করেই দিয়েছো বন্ধু। শুধুমাত্র মাকড়সার ল্যাবরেটরিটা উড়িয়ে দেয়া বাকি।
সাদিত বার্দেকে শুধরে দিয়ে বলে- আমরা আসলে মাকড়সা বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরি উড়িয়ে দেবো না। পটাশিয়াম ক্লোরাইডের বম্বিং করে তার সিলিকন ধোঁয়াশার ক্যারিশমাটা বানচাল করে দেবো।
– শুধুমাত্র এই ধোঁয়াশা তাড়াতে এতো আয়োজন?
– ইয়েস মিস্টার গোরিয়ান বার্দে।
– তাতে আমাদের লাভ?
– লাভ তো অবশ্যই আছে। ধোঁয়াশা হটাতে পারলেই ইলেকট্রিক স্পাইডারনেটের অর্ধেক দখল আমাদের হাতে চলে আসবে। তারপর ওই নেটের কার্যকারিতা আপাতত অচল করে দিয়ে নেটটা আমাদের পুরোপুরি দখলে নিয়ে আসবো।
Ñ কিন্তু সেটা কেমন করে সম্ভব?
দু’জনে বাদানুবাদ লক্ষ্য করে মামা আসিফ আরমান এবার মুখ খোলেন। মামা বলেন, শুনুন মিস্টার বার্দে। আমরা গতরাতে যে ফটোবায়োনিক ব্যারেলগান অ্যাসেম্বেল করেছি তা চার্জ করেই ইলেকট্রিক স্পাইডারনেটের কার্যকারিতা আপাতত অচল করে দেবো। তারপর নেটটিকে হাইস্পিড লরিতে তুলে সোজা আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবো।
Ñ কিন্তু ওরা তো বাধা দেবে। এমনকি পুরোদস্তুর যুদ্ধও শুরু হয়ে যেতে পারে।
Ñ ভুলে যাচ্ছো মিস্টার বার্দে, আমরাও পূর্ণ প্রস্তুত হয়েই যাবো। আর সেটা হবে কমান্ডো হামলার প্রস্তুতি। তারচেয়ে বড় কথা হলো আমরা শুরুতেই ব্ল্যাকহোলে হামলা চালাতে যাচ্ছি না। আমাদের লক্ষ্য বিজ্ঞানী মাকড়সার ল্যাবরেটরি। তোমাদের তথ্য মতে ব্ল্যাকহোল রাজ্যের সেন্টার থেকে তার দূরত্ব পনের ন্যানোমিটার। তা ছাড়া তোমাদের যে মহাজাগতিক ম্যাপ দেখতে পেলাম তাতে আমরা সেখানে হামলা চালিয়ে স্পার্কেল ওয়েতে পালিয়ে এলে আয়রনম্যানের এয়ারফোর্স আমাদের টিকির নাগালও পাবে না। সো ডোন্ট ওরি, মাই ডিয়ার।
মামার কথায় বিজ্ঞানী গোরিয়ান বার্দে একেবারে বর্তে যায়। সে গদগদ হয়ে বলে- এই না হলে মানববিজ্ঞানী। একেবারে চিকন বুদ্ধি! আমরা কেবল যুদ্ধ বাধাতেই পারি, কিন্তু তোমাদের মতো এমন সূক্ষ্মভাবে কৌশলই আঁটতে পারি না।
– ওকে, ওকে। কোনো সমস্যা নেই। কেবল আমাকে ফলো করে যাও আর প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়ালস জোগান দিয়ে যাও, দেখবে সাফল্য তোমাদেরই হাতের মুঠোয়।…
মামার কথা শেষ হয় না। অমনি পটাশিয়াম কার্বোনেট ভর্তি সিলিন্ডারের ঊনত্রিশ নাম্বার ইউনিটের ফিডারিং টাওয়ারের সাইরেন বেজে ওঠে। সাথে সাথে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ করে কেউই বুঝে উঠতে পারে না, এই বিপদসঙ্কেতের মানে কী?
সাদিত খানের মনের মাঝে একটা ভয় কামড় দিয়ে বসে। ও ভাবতে থাকে, এতটা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করেও আয়রনম্যানের এয়ারফোর্স ঢুকে পড়লো! এখন কী হবে….
অমনি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস রোবোম্যান একটা বায়োকপ্টারে উড়ে এসে বার্দেকে খবর দেয়- স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে, স্যার!
সাথে সাথে বার্দের মুখ শুকিয়ে যায়। সে কোনোমতে একবার দম টেনে নিয়ে বলে- আহা, কি সর্বনাশটা হয়েছে তাই বলো।
Ñ স্যার, ঊনত্রিশ নম্বর ইউনিটের ফিডারিং ভ্যাসেল লিকেজ করেছে, স্যার। সেখানে প্রচ- গতিতে হাইড্রোকার্বন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে, স্যার। বাইনোকুলার লাগিয়ে দেখুন, সেখানে অগ্নিকান্ডের মতো কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠছে, স্যার।
বার বার স্যার-স্যার শুনে আসিফ আরমান কিছুটা উত্তেজিত হয়েই জানতে চাইলেন- এটা হলো কেমন করে?
সার্জেন্ট বললো- আমি কাছাকাছিই ছিলাম কিন্তু কারণটা বুঝতে পারিনি। মনে হয় সিলিন্ডার লিকেজ করেছে, স্যার।
এবার আসিফ মামা রীতিমত ধমকে ওঠেন- একবার বলছো ভ্যাসেল লিকেজ করেছে। আবার বলছো সিলিন্ডার লিকেজ করেছে। বলি তোমার মাথাটা ঠিক আছে তো? জলদি আসল খবরটা নিয়ে আসো। বি-হারি, বি-কুইক।
কাল বিলম্ব না করে সার্জেন্ট আবার বায়োকপ্টারে উড়ে যায়।
এদিকে গোরিয়ান বার্দের স্মার্টওয়্যার মনিটরে ভেসে ওঠে চিফ সিকিউরিটির ভিডিও মেসেস। বাটন টিপে বার্দে জানতে চায়- হ্যাঁ, বার্দে বলছি। ঘটনা কি জলদি বলো।
মাইক্রোসাউন্ডে একটা মেটালিক গমগমে কণ্ঠ শোনা যায়- স্যার, বম্বার স্পেসশিপের ফুয়েল ট্যাংক লিকেজ করেছে। প্রচুর পরিমাণে সিএফসি বেরিয়ে যাচ্ছে, স্যার। আর তা এখানকার বাতাসের স্পর্শে এসে ঘন হাইড্রোকার্বন গ্যাসে রূপান্তর হয়ে কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী পাকাচ্ছে, স্যার। ব্যাপারটা খুবই বিপজ্জনক মনে হচ্ছে, স্যার। এখন আমরা কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না, স্যার।
মিস্টার বার্দে ধমকের স্বরে বলেন, আহ্! কেবল স্যার, স্যার। কাজের কথা বলো। তোমাদের ফায়ারসার্ভিস ইউনিটের লোকেরা কী করছে শুনি?
Ñ স্যার, তারা নাইট্রোজেন ¯েপ্র করছে, স্যার।
আসিফ মামা সব কথাবার্তাই পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি বললেন- তোমাদের ওখনে কি প্যারাস্যুট ফোম নেই?
– একটা এ্যাম্পুল ছিলো স্যার, সেটা চার্জ করা হয়েছে।
– তাহলে নাইট্রোজেন ¯েপ্র বন্ধ করে দাও। সিএফসি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে হাইড্রোকার্বোন এমনিতেই বিলীন হয়ে যাবে।
Ñ ইয়েস স্যার, এখনই নাইট্রোজেন ¯েপ্র বন্ধ করে দিচ্ছি, স্যার।
সার্জেন্ট আবার উড়ে আসে। হাঁপাতে হাঁপাতে সংবাদ দেয়- ভয়ের কোনো কারণ নেই, স্যার। পরিস্থিতি কন্ট্রোল হয়ে গেছে, স্যার।
সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস-এর কথায় আসিফ মামা মুচকি হাসেন। কিন্তু গোরিয়ান বার্দে টিপ্পনী কাটতে ছাড়ে না। সে বলে- আরে কন্ট্রোল তো এখান থেকে করা হলো। তোমরা যা উল্টা-পাল্টা ইনফরমেশন দাও না….।
আসিফ মামা বললেন- থাক হয়েছে, হয়েছে। এখন ঊনত্রিশ নম্বর স্পেসশিপ বাতিল করে ওখানে নতুন স্পেসশিপ রিস্টোর করতে বলো। আর ত্রিশ নম্বরের খবর কী?
সার্জেন্ট ঝটপট জবাব দেয়- ত্রিশ নম্বর একদম ওকে, স্যার।
মামা বার্দেকে লক্ষ্য করে বলেন- যাক টেনশন কেটে গেলো। এখন আর এক সেকেন্ডও দেরি করা যাবে না। তোমাদের জন্য কাউন্টডাউন বেঁধে দিচ্ছি। নির্ধারিত সময়ের মাঝে কাজ শেষ করে আমাকে গ্রিন সিগন্যাল জানাও।
মামার কথা শুনে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কয়েক সেকেন্ড ঝিম মেরে থাকে। এরপর একটা মেটালিক আওয়াজ বেরোতে থাকে ওর রোবোটিক মুখ থেকে। কিন্তু অর্থবোধক শব্দ বের হয় না। আসিফ মামা ওর দিকে তীক্ষè দৃষ্টি ফেলে বুঝতে পারেন, আসলে কাউন্টডাউন শব্দটি ওর বোধগম্য হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বললেন- শোন সার্জেন্ট, আমাদের হাতে অভিযানের প্রস্তুতি পর্ব শেষ করতে যে সময় আছে তা থেকে এক সেকেন্ড এক সেকেন্ড করে কমতে কমতে আমরা অপেক্ষা করবো প্রস্তুতি পর্ব শেষ করা পর্যন্ত। …
সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস এবার গমগমে রোবোকণ্ঠে বলে- ইয়েস স্যার! আর বলতে হবে না। আমি ডাম্পিংবেইজে ফিরে যাচ্ছি স্যার।
কথাগুলো বলেই সার্জেন্ট আবার বায়োকপ্টারে উড়ে যায়। একটু মুচকি হেসে আসিফ মামা রাডার কন্ট্রোল টাওয়ারের দিকে মনোনিবেশ করেন। দশ মিনিট পর সার্জেন্ট আবার উড়ে এসে সংবাদ জানায়- স্যার! সর্বনাশ হয়ে গেছে, স্যার!
আসিফ মামা বিরক্তির সাথে বলেন- ক্ষণে ক্ষণে তোমাদের কেবল সর্বনাশ হয়ে যায়! আবার কী সর্বনাশ হয়েছে ঝটপট বলে ফেল।
Ñ স্যার, উত্তর গোলার্ধে বসানো স্যাটেলাইট থেকে এই মাত্র আমাদের ফিডার স্টেশনে একটি ইনটেনসিটি প্রফাইল পাঠানো হয়েছে। তাতে ভারমোলিন কালারের দুটো ইনফো মার্ক করা হয়েছে। মনে হয় শত্রুপক্ষের গোয়েন্দারা আমাদের প্রস্তুতি টের পেয়ে এসব স্কাইহক গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণে পাঠিয়েছে।
মামা একটু নড়েচড়ে বসে বললেন- কি কালারের কথা বললে?
Ñ স্যার, ভারমোলিন।
এবার মামা রীতিমত ক্ষেপে গিয়ে বললেন- তোমাদের দিয়ে আসলে কিচ্ছু হবে না। আরে যদি ঠিক ঠিক ভারমোলিন কালারের গোয়েন্দা স্কাইহক উত্তর গোলার্ধে আশপাশ দিয়ে উড়ে গিয়েও থাকে, তো আমাদের চিন্তার কিছু নেই। ওগুলো আয়রনম্যানের গোয়েন্দা নয়। ওগুলো হতে পারে ভিন্ন গ্রহের অনুসন্ধানী…।
মামা একটু দম নিয়ে আবার বললেন, আরে অপদার্থ! তুমি কি ভুলে গেছো নাকি যে, আয়রনম্যান আর তার বিজ্ঞানী মাকড়সা বরং তো ভারমোলিন কালারকে ভীষণভাবে এড়িয়ে চলে। এই রঙটা খোদ সূর্যের রঙ। আর ওরা হচ্ছে ক্রিমিন্যাল। ওদের শুধু গোয়েন্দা স্কাইহক কেন ওদের আর্টিলারি, এয়ারফোর্স সবটাতেই স্কারলেট কালারের ছড়াছড়ি। আবার ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখো গিয়ে। যদি ঠিক ঠিক স্কাইহকগুলোর রঙ ভারমোলিন হয়ে থাকে তো নো টেনশন।
আর যদি দেখতে পাও স্কারলেট তাহলেই সেরেছে। তবে আমি শিওর ভারমোলিন কালারই হবে। শুধু শুধু টেনশন করো না। কেননা, বুঝতেই তো পারছো, আয়রনম্যানের বাহিনী ইতোমধ্যে এখানে যে কান্ডটা ঘটিয়ে গেছে- খুব সহজে তোমাদের এই প্রভিন্সের ত্রিসীমানায় গোয়েন্দা স্কাইহক পাঠাবে না। যদি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখে থাকে তো নিরাপদ দূরত্বে থেকেই করবে। বোকার মত আমাদের রাডার বা স্যাটেলাইটের জালে জড়াতে চাইবে না। ওদেরও তো নিরাপত্তার ভয় আছে- না-কি?
মামার ব্যাখ্যা শুনে সার্জেন্ট বেশ দৃঢ়তার সাথে বলে- স্যার, ঠিকই বলেছেন। আয়রনম্যান আসলে খুবই চতুর। ওই ব্যাটা সাবধানীও কম নয়। আমি আপনাকে অ্যাশিওর করছি আমাদের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ইনটেনসিটি গ্রাফের প্রফাইলে মার্ক করা ইনফো দুটোর কালার হানড্রেড পারসেন্ট ভরমোলিন।
Ñ ওকে! ওকে! তাহলে আর চিন্তা করো না। তুমি ফিডার স্টেশনে ফিরে যাও। আর আমার জন্য এই স্পেসস্যুটের বদলে ফায়ারপ্রুফ স্পেসস্যুটের ব্যবস্থা করো। তবে সেটা শুধু লেজার বা ফায়ারপ্রুফ হলেই চলবে না শকপ্রুফও হওয়া চাই।
Ñ ওকে স্যার, আমি বার্নার ম্যাশেলকে পাঠাচ্ছি। আমাদের সার্ভিস ব্যাচের সবার স্যুটের দায়দায়িত্ব সে-ই পালন করে। বার্নার ম্যাশেল খুব দক্ষ পারসন।- কথাটা শেষ করে সার্জেন্ট আর অপেক্ষা করে না। চোখের পলকে বায়োকপ্টারে উড়ে যায়।
মামা সার্জেন্টের কথায় চমক খুঁজে না পেলেও সে চলে যাবার পর চট করে ভাবনার রকেট চালিয়ে দ্রুত চলে যান তার কলেজ ল্যাবের ফিজিক্স ফ্যাকাল্টিতে। চোখ বন্ধ করে ভাবতে থাকেন। আর মনে মনে আওড়াতে শুরু করেন- বার্নার ম্যাশেল…বার্নার ম্যাশেল…বার্নার ম্যাশেল…। কিন্তু সেই ছেলেটার মুখ মনের আয়নায় পলকের জন্য ভেসে উঠেও আবার হারিয়ে যায়। মস্তিষ্কের মাঝে শুরু হয়ে যায় তুমুল আলোড়ন। ঠিক মেলাতে পারেন না- নামটা কেন যেন কমন হয়ে গেলো!…
হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সাধারণ ক্লাস চলাকালে কখনওই যাকে ক্লাস করতে দেখেনি- অথচ ল্যাবরেটরিতে তার থেকে একটু দূরে ঠিক তার উল্টো পাশের টেবিলে প্রায়ই প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে উপস্থিত দেখা যেত এই ছেলেটিকে। পুরো চেহারাজুড়ে একটা বিদেশী বিদেশী ভাব। বেশ মনোযোগের সাথে কাজ করে যেত। কারো সাথে সাত-পাঁচে নেই। প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস শুরু হবার ঠিক তিন বা পাঁচ সেকেন্ড আগে এসে ল্যাবে ঢুকতো। আবার ক্লাস শেষ হবার সাথে সাথে বেরিয়ে যেত।
পর পর তিনটি প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে ওকে পাবার পরই আসিফ মামা খুব উৎসাহ নিয়ে তার কাছে ছুটে গিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন- তোমার নাম কী ভাই? কখনওতো আমাদের ক্লাস রুমে তোমাকে ক্লাস করতে দেখি না। অথচ প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে ঠিকই উপস্থিত পাচ্ছি!
মামার কথা শুনে খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলো ছেলেটি। আলতো করে কেবল ঘাড়টা বাঁকিয়ে মিনমিনে কণ্ঠে জবাব দিয়েছিলো- ক-ক-কই? আ-মি-তো ক্লাসে থাকি। আমার নাম বার্নার ম্যাশেল। কেন রোল কল করার সময় কখনও আমার নামটি তোমার কানে যায়নি?
উল্টো প্রশ্ন শুনে মামা চমকে গিয়ে বলেছিলেন- না তো! মনে পড়ছে না।
হয়তো আরও কিছু কথা বলার ইচ্ছে ছিলো মামার। কিন্তু ঘণ্টা পড়ে যাওয়া ছেলেটা এতো দ্রুত ল্যাব থেকে বেরিয়েই হাওয়া হয়ে গেলো যে, তারপর থেকে আর কখনওই মামা বার্নারের দেখা পাননি। উপরন্তু স্যার এবং সহপাঠীদের কাছে বার্নারের কথা বলতে গিয়ে হাসির পাত্র হয়েছিলেন।
সবাই হো হো করে হেসে উঠে বলেছিলো- বার্নার ম্যাশেল নামে আমাদের কলেজে কোনো ছাত্রই নেই আর উনি কিনা আমাদের সাথে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস করেন। আরে হাবা! ল্যাবরেটরির ভূত বলে একটা কথা আছে। তুই তাহলে সেই ভূতকেই দেখেছিস। ওরে বাপরে বাপ! এখন থেকে তোর সাথে আমাদের হুঁশ করে মিশতে হবে।
সবার এই অবজ্ঞা আর অবিশ্বাসপূর্ণ জবাবে মামা মনে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তাই কলেজের বাইরে এ ব্যাপারে আর কারও সাথে কোনোদিন কিছুই বলেননি। আজ হঠাৎ রোবোসার্জনের মুখে বার্নার ম্যাশেল নামটা শুনে প্রচন্ডভাবে সতর্ক হয়ে অপেক্ষায় রইলেন। আর মিন মিন করে আওড়ালেন- আচ্ছা আসুক তো দেখি ম্যাশেলটা, দেখি এ-ই আবার সে-ই কিনা?…
(চলবে)

SHARE

Leave a Reply