Home নিবন্ধ এসো কুরআনের মাসে সুরভিত হই -রাফীফ রাইয়্যান

এসো কুরআনের মাসে সুরভিত হই -রাফীফ রাইয়্যান

কুরআনের মাস!
হ্যাঁ, পবিত্র রমাদান মাসের কথাই বলছি।
কুরআনের বরকতেই এ মাস চির সবুজ, চির স্মরণীয়। আরবি অন্য কোনো মাসের নাম কেউ না জানলেও রমাদান মাসের নাম কিন্তু সবাই জানে। কারণ, এ মাসের রয়েছে আলাদা পরিচয়, আলাদা মর্যাদা। মহান আল্লাহ বলেন, “রমাদান তো সেই মাস, যে মাসে নাজিল হয়েছে আল-কুরআন।” (সূরা আল বাকারা : ১৮৫) এমনকি রমাদানের যে রাতে কুরআন নাজিল হয়েছিল, সে রাতটিকেও মহান আল্লাহ অনন্য মর্যাদা প্রদান করেছেন। যে রাতকে আমরা লাইলাতুল কদর নামে চিনি। মহান আল্লাহর ভাষায় এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
এ সুযোগে আরেকটি কথা বলে রাখি। হজরত ইবরাহিম (আ)-এর ওপর সহিফা নাজিল হয়েছিল এ মাসেই। তাওরাত, জাবুর ও ইনজিলও এ মাসে অবতীর্ণ হয়েছিল। (বায়হাকি)
রমাদান মাসকে বলা যায় রহমতের বসন্তকাল। বসন্তের অপরূপা প্রকৃতির সাথে নিশ্চয়ই তোমরা পরিচিত। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় চারদিক। দখিনা বাতাসে দোল খায় কোকিলের সুর। ঠিক রমাদানেও প্রতিটি মুমিন-মুসলিমের বুকে তাকওয়ার ফুল ফোটে। কোকিলের কুহু কিংবা মৌমাছির গুঞ্জনের মতো তাদের কণ্ঠেও মুখরিত হয় কুরআনের সুর। এ যেন কুরআন পাঠের ভরা মৌসুম। আনন্দের ফালগুনি দিন। এ জন্যই কবি বলেছেন-

“সিয়ামের দিনে ফোটে বসন্ত
কী যে অনন্ত রূপ তাহারÑ
প্রকৃতির বুকে থাকুক গ্রীষ্ম;
মুমিনের বুকে ফুল-বাহার!”
রাসূল (সা) রমাদানের প্রত্যেক রাতে জিবরাইল (আ)-কে কুরআন শোনাতেন। জিবরাইলও তাকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। রমাদানের সাথে কুরআনের কী নিবিড় সম্পর্ক, এ থেকে আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কিয়ামতের দিন সিয়াম এবং কুরআন উভয়েই আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে মানুষের জন্য। সিয়াম বলবে:
হে আমার রব! আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার জন্য আমার সুপারিশ তুমি গ্রহণ করো।
কুরআন বলবে:
হে আমার রব! রাতের ঘুম থেকে তাকে আমি দূরে রেখেছি। (জেগে জেগে সে আমাকে তিলাওয়াত করেছে)। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করো।
রাসূল (সা) বলেছেন, সেদিন উভয়ের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে। (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব)
এদের সুপারিশ আল্লাহর নিকট গৃহীত হওয়ার অর্থই হলো নিশ্চিত জান্নাত লাভ। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? আর এ কারণেই তো রাসূল (সা) রমাদানের এক রজনীতেই পুরো কুরআন তিলাওয়াত করতেন। রমাদান ছাড়া এমনটি আর কখনোই হতো না। (মুসলিম)
রমাদান তো এসেই গেল। আমাদেরও কিন্তু সময় হয়েছে কুরআনের সাথে পথ চলার। কুরআনকে ভালোবাসার। চলো, আমরা কুরআনের পাতায় পাতায় জীবনের রঙ খুঁজি। প্রতিদিন সুন্দরভাবে তা তিলাওয়াত করি। ও হ্যাঁ, শুধু তিলাওয়াত করলেই কিন্তু চলবে না। এর অর্থও বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। কারণ, কুরআনই আমাদের পথ দেখায়। স্বপ্ন দেখায় উজ্জ্বল আগামীর।
আজ তোমাদেরকে চমৎকার একটি হাদিস শোনানোর লোভ কিছুতেই সামলাতে পারছি না। আগেই বলে রাখি, হাদিসটি শুনলেই মনে হবে, এই তো! কুরআনের সৌরভে জীবনটা বুঝি পবিত্র হয়ে উঠল। এবার তাহলে বলেই দিচ্ছি, শোনো। রাসূল (সা) বলেছেন-
একজন মুমিন, যে কুরআন তিলাওয়াত করে, তার উদাহরণ হচ্ছে কমলালেবুর মতো! যার ঘ্রাণও চমৎকার, স্বাদও চমৎকার!
আরেকজন মুমিন, যে কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার উদাহরণ হচ্ছে খেজুরের মতো! যার ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি!
অপরদিকে একজন মুনাফিক, যে কুরআন তিলাওয়াত করে, তার উদাহরণ হচ্ছে সুগন্ধি গাছের মতো। যার ঘ্রাণ উত্তম কিন্তু স্বাদ তিক্ত।
আবার যে মুনাফিক কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার উদাহরণ হচ্ছে মাকাল ফলের মতো। যার ঘ্রাণও নেই, স্বাদও তিক্ত! (বুখারি ও মুসলিম)।
একটু ভালোভাবে লক্ষ করলে তোমরা বুঝতে পারবে, এখানে বলা হয়েছে যে, কুরআনের পরশে এলে যে কেউ সুরভিত হতে পারে। হোক সে মুমিন অথবা মুনাফিক। আমরা জানি, মুনাফিকের অবস্থান হচ্ছে জাহান্নামের তলদেশে। অথচ কুরআন পড়লে সে-ও সুরভিত হয়! আবার মুমিন হওয়ার পরও কুরআন তিলাওয়াত না করলে তার উপমা হয় খেজুর, যার কোনো ঘ্রাণ নেই। সে সুরভিহীন। কিন্তু ঈমানের সাথে যদি কুরআন তিলাওয়াত যোগ হয়, সে-তো সোনায় সোহাগা। কমলালেবুর মতো স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়! কী চমৎকার উপমা!
তাহলে এসো, কুরআনের মাসে আমরা সুরভিত হই। এবং সে সৌরভ ছড়িয়ে দিই চারপাশে। প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের গহিনে। প্রতিটি লোকালয়ে। প্রতিটি জনপদে। তাহলে একদিন এ পৃথিবীটাই হয়ে যাবে ফুলের বাগান। ইনশাআল্লাহ।

SHARE

Leave a Reply