Home খেলার চমক এক স্বপ্ন-তরুণ -হাসান শরীফ

এক স্বপ্ন-তরুণ -হাসান শরীফ

বাঘের বাচ্চা তো বাঘই। সে হুঙ্কার দেয়া শেখে শৈশবেই। মেহেদী হাসান মিরাজও ঠিক তেমনই। ছিল ছোটদের দলে। সেখানে তার হুঙ্কার শুনে যারা চেনার তারা ঠিকই তাকে চিনে ফেলেছিল। পরিণতিতে বড়দের সাথে খেলার সুযোগ হলো। আর শুরুতেই চমক। তার শিকারে কুপোকাত হয়ে গেল ইংল্যান্ড সিংহ। ছোটদের দল ছেড়ে তার ঠাঁই স্থায়ী হলো বড়দের শিবিরে। শ্রীলঙ্কা সফরে দেখা গেল আরেক মিরাজকে। এত দিন বোলার হিসেবেই তার পরিচিতি ছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যান মিরাজও যে অনেকের চেয়ে অনেক ভালো সেই প্রমাণটা হয়ে গেল। এক তরুণের স্বপ্নযাত্রাটা পূর্ণ রূপ পেল। এখন তার বয়স ১৯। কিশোর নয়। তবে তার যাত্রাটা কিন্তু কিশোর কাল থেকেই শুরু হয়েছে।
মেহেদী হাসান মিরাজের জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর বরিশালের বাকেরগঞ্জে। সেখানেই কাটে তার শৈশব।
তারকা খ্যাতি আসে ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। বাংলাদেশে হওয়া সেই আসরে তিনি ছিলেন অধিনায়ক। তার নেতৃত্ব এবং সেইসাথে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সবার দৃষ্টি কাড়ে। বাংলাদেশ পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। তবে ফাইনালে যাওয়া আটকে যায় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ উইকেটে হেরে যাওয়ায়। অবশ্য এখানেই শেষ নয়। স্থাননির্ধারণী ম্যাচে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। অসাধারণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে তিনিই হন ম্যান অব দি টুর্নামেন্ট। ৬ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ২৪২ রান, আর বল হাতে নেন ১২ উইকেট।
তিনি যে ভালো ব্যাট করতেও পারেন, সেটা আড়ালে চলে গিয়েছিল ইংল্যান্ড শিবিরে ধস নামানোর কারণে। সপ্তম কনিষ্ঠ বাংলাদেশী হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
আর শ্রীলঙ্কায় তার ওয়ানডে অভিষেক ঘটে। অভিষেক ম্যাচেও তিনি ছিলেন সফল। তবে ব্যাট হাতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে (যদিও ম্যাচটি ছিল তার ক্যারিয়ারের তৃতীয়, তবে আগের দু’টি ম্যাচে তিনি ব্যাট করতে পারেননি) হাফ সেঞ্চুরি করে তিনি অলরাউন্ডার হিসেবে তার অবস্থান সবাইকে জানিয়ে দেন। ম্যাচটি তিনি বের করতে পারেননি, সেটা সম্ভবও ছিল না। কিন্তু তবুও তিনি লড়াই করে গেছেন।
এই মানসিকতাই তাকে আরো বড় কিছুর দিকে নিয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে তার স্থান নিশ্চিত হবে বলেই অনেকে মনে করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলে কয়েকজন তারকার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীমদের স্থান পূরণ করার জন্য তারা বেশ বড় ধরনের সম্ভাবনাই সৃষ্টি করেছেন। তবে মোস্তাফিজুর রহমানের পর মিরাজকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। তিনি সম্ভবত অধিনায়ক হিসেবে আরো বেশি আলোচনায় এসেছেন। এই সম্ভাবনার কতটুকু তিনি কাজে লাগাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

SHARE

Leave a Reply