Home তোমাদের গল্প ফজলের নীল ঘুড়ি -রাব্বি প্রধান

ফজলের নীল ঘুড়ি -রাব্বি প্রধান

বাড়ি থেকে যখন স্কুলে আসি তখন মা কি রাঁধবে, বুয়া ধুপধাপ করে কাপড় কাচবে কি না, আমার কার্টুনের সিডি পাশের বাড়ির টাবলু এসে নিয়ে যাবে কি না- তা কি ভাবি? নেছার বলে, মোটেও তা নয়। তা হলে? আইরিন বলে, আরে বাবা তা হলে কি?  বলে, তা হলে স্কুল থেকে বাড়ি যখন ফিরে যাই তখন হাবিজাবি ভাবনাগুলো মাথার মাঝে থাকবে কেন? সব ঝেড়ে ফেলে বাড়ি ঢুকব না? নাহিদ, হাবিজাবি ভাবনা? বলছিস কি রে? অবাক হয়ে ফজলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে নেছার, আইরিন, নাহিদ ওরা। ফজলের বলা হাবিজাবি ভাবনাটি কি তা ওরা বুঝতেই পারছে না। হোমওয়ার্ক, হোমওয়ার্কের কথা বলছি, বুঝতে পারছিস না? গালে হাত দিয়ে ক্লাসের বন্ধুরা সবাই বলে, ওহ্! ফজলের খুবই মন খারাপ করা সুরে বলে, স্কুলের স্যার-ম্যামদের একগাদা হোমওয়ার্ক দেবার দরকার কী বল?
– হ্যাঁ তাইতো। কথাগুলো তো ওরা কখনোই ভেবে দেখেনি। ফজলে আসলেই অনেক বুঝে, তাইতো ওর মাথায় এমন ভাবনা এসেছে। স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ হবে। হোমওয়ার্কের মানেটা কী? বাড়িতে অনেক কাজ আছে না! কার্টুন দেখা, নাঈম মামার কাছ থেকে গল্প শোনা। নাহিদ গালে হাত দিয়ে করুণ সুরে বলে, মিসরা আমাদের আনন্দে থাকতে  দেবে না, এ জন্যই গাদা গাদা হোমওয়ার্ক দিয়ে দেন। নেছার বলে, আমরা হোমওয়ার্ক করব না টিভি দেখব বল। সত্যিই তোÑ ওদের কথা কেউ ভাবে না, না হলে কি শারমিন ম্যাডাম এমন রচনা দিতে পারেন? বিড়াল সম্পর্কে দশ লাইন লিখো। বিড়াল কি বাড়িতে কখনও ছিল? দূরের ছাদের কার্নিশে বসে বিড়াল মিউ মিউ করে কেঁদেছে, কখনও রাস্তার পাশের ডাস্টবিনে খাবার নিয়ে তিন চারটা বিড়াল ঝগড়া করেছে। জানালার গ্রিলে মুখ চেপে  তাকিয়ে দেখেছে ওদের কান্ড। সাদা তুলোর মতো একরাশ পশমে ঢাকা ছোট্ট বিড়ালটিকে কেউ খেতে দেয়নি। বলছে, মা দেখে যাও মা-কী খারাপ লাগছে, বাচ্চা বলে কেউ খেতে দিচ্ছে না। ওকে তুলে নিয়ে আসি মা। এইটুকুন দুধ খেতে দিলেই হবে। মা চোখ পাকিয়ে বলেছেন, খবরদার ফজলে, কক্ষনো এমন কাজ করবে না। দশতালার ওপর বিড়াল পোষা যায় নাকি? ঘরদোর নোংরা করে দেবে। ঝকঝক ঘরের মেঝে, দুধসাদা রঙের জানালার গ্রিল, পর্দা ফিনকি দিয়ে ওঠা আলোর দিকে তাকিয়ে  বোঝে এ বাড়িতে বিড়াল বড় বেমানান। এর পরও কি করে যেন মিউ মিউ করে কেঁদে কেঁদে একটি মিনি বিড়াল এসে ঢুকে গেল। খুব মজা ফজলের, পাশের ফ্ল্যাটের তানভীর আর  ব্যালকনিতে খুব আনন্দ করলো ওকে নিয়ে। তানভীরের মা, ফজলের মা দু’জনেই চেঁচামেচি করছেন, কী হচ্ছে ওসব? হোমওয়ার্ক নেই? স্কুলের পড়া নেই? এমনই এমনই খেললেই হবে? পড়া পড়া আর হোমওয়ার্ক! ওদের দু’জনের চোখের সামনে নাঈম মামা বস্তার ভেতরে ঢুকিয়ে মিনিটাকে কোথায় যেন নিয়ে গেলেন। তানভীর আর সে রাতে খুব কেঁদেছে। পড়ার টেবিলে বসেছে শুধু, পড়া তো মোটেও হয়নি, বিড়ালের জন্য বারবার ঝাপসা হয়ে এসেছে চোখ। তানভীর বলে তো, আমার বিলাইটাকে তাড়িয়ে দিলে কেন? বলে চেঁচিয়ে কাঁদে অনেকক্ষণ। ওর মা রাগ করে বললেন, দেখো, বুড়ো ছেলে কেমন করে কাঁদে! বড়রা যে যাই বলুক বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়েছিল ফজলের। সারা গায়ে তুলোর মতো পশমে ঢাকা মিনি বিড়ালের কথা মনে করে বুকের ভেতরটা ভীষণ খাঁ খাঁ করত। বিড়ালের কথা একসময় ভুলেও গেল ফজলে। তবে ফ্ল্যাট বাড়ি নিয়ে ওর মনে কেমন একটা ভাবনা ঢুকে যায়। আরে বাবাÑকথায় কথায় ফ্ল্যাট বাড়ি। কে বলেছে তোমাদের ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকতে? বিড়াল পোষতে পারব না, কুকুর আনতে পারবো নাÑ তাহলে কী করব আমি? শুধুই পড়া? সেই পড়া? সেই হোমাওয়ার্ক? কুকুর-বিড়াল বাড়িতে থাকলে, কিংবা বিড়াল পুষতে পারলে দশ-বারো লাইন কেন একশ লাইনও লিখতে পারতাম। কিন্তু ওসব তো আর হওয়ার নয়। নাঈম মামা বলেন, কেন, গরু দেখিসনি কখনো? চার পা, দু চোখ- এগুলো লিখতে পারিস না। খুব রাগ করে, মামু, আর বাজে বাজে বুদ্ধি দিও না তো। কুকুর-বিড়াল-গরু সব কি এক? বললেই হলো! নাঈম মামু বললেন, প্রায় এক নয়? দুই চোখ, দুই কান, এক রকমই তো। লিখতে বসে খুব মন খারাপ করে ফজলে। গরুও কি ছাই আমি ভালো করে দেখেছি? গাঁয়ের মানুষ গরু পোষে, ছাগল পোষে, কুকুর-বিড়াল তো আছেই- এই ফ্ল্যাট বাড়িতে ওসব কি আর থাকে? ম্যাডামরা বুঝেন না? দু’তিন লাইন কোন রকমে লিখেছে, এরপর আর এগোয় না, দশ-বারো লাইন কি সহজ কথা? মাকে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, দেখছিস তো, বাড়িতে আজ ক’জন খাবে, চুলোতে মাছ চড়িয়েছি, ঐ শোন প্রেসার কুকার সিটি দিচ্ছে- নামাতে হবে। এখন যা বাবা, গেস্টদের আসার সময় হয়ে গেছে। লে বাবা- বিড়াল নিয়ে বারো লাইন রচনার কী হবে? এ তো আর রাবার নয় যে  টানে লম্বা করবে। ও মাদার তুসোর মিউজিয়াম দেখেছে, প্ল্যানিটেরিয়াম দেখেছে, উর্বন সাফারি পার্ক দেখেছে। ওগুলো লিখতে দিলে তো  ফটাফট লিখতে পারবে। সেসব তো আর টিচাররা লিখতে দেন না। বিড়াল নেই- তাহলে MY Pet Cat সম্পর্কে সে লিখবেটা কী? বুক ভরা রাগে গরগর করতে থাকে ফজলে। আরে বাবা আগে জেনে নাও- কার বাড়িতে কুকুর-বিড়াল আছে, কার বাড়িতে ফুল-ফুলের বাগান রয়েছে, তারপর তো হোমওয়ার্ক  দেবে। শারমিন ম্যাডাম বইয়ের পড়ার চেয়ে আউট নলেজের দিকে নজর দেন বেশি। তাই যখন তখন বই বন্ধ করে জিজ্ঞেস করতে থাকেন- ফুল বাগান সম্পর্কে কিছু বলতে। ফজলে বলবেটা কী? ফুল বাগান সে কি জানে! বাগান বলতে কিছু আছে নাকি শহরে? স্কুলে রয়েছে, পার্কে রয়েছে, বাড়িতে কি কিছু আছে! মাটির টব রয়েছে ক’টা কিন্তু সেগুলোতে শুধু পাতাবাহার আর ক্যাকটাস। ফজলে বলে, ফুলগাছ কিছু লাগাও না কেন মা? মা মন খারাপ করা সুরে বলেন, কত ফুলগাছ কিনে আনলাম রে ফজলে। জবা, গাঁদা ফুলের টব নিয়ে এলাম বাড়িতে। দু’একদিন ফুটলো তারপর শুকিয়ে মারা গেল। নাঈম মামা বলেন, য করলে তো ফুল ফুটবে। মা মুখ ঝামটা দিয়ে বলেন, নাহ যতœ করিনি, তোমায় বলেছে। ফজলে ভাবে, ফুল নেই তো ফুলবাগান কী করে হবে! শুধু পাতাবাহার আর ক্যাকটাস গাছ রাখলে কি ভালো লাগে? একবার ফজলে, নিচে নাঈম মামার সাথে গিয়ে কিনে আনে ফুলগাছ। নয়নতারার গাছটি দশ-বারোটি ফুল ফুটিয়ে উটের গলার মতো লম্বা হতে থাকে। মন খারাপ হয়ে যায় ফজলের। রন্তু, টিপটিপ ওদের বাড়িতে নয়নতারার গাছ ঝুপসি পাতাতে ছেয়ে আছে। ওর বাড়িতে সবই যেন অন্য রকম। ফুলগাছের ডালগুলো লম্বা মতো হয়ে গ্রিলের বাইরের দিকে ঝুঁকিয়ে আছে- যেন রাস্তাঘাটের মানুষ দেখছে। নাঈম মামা নয় যেন মুশকিল আসান মামা। আরে হাঁদা-বুঝলি না? সূর্যের আলো ঠিকমতো পায় না তো- তাই গাছটি আলোর জন্য মুখ বাড়িয়ে আছে।

দুই.
স্কুল থেকে ডাক পড়ে মা-বাবার। মা বলেন, তুমি যাও- গিয়ে দেখে এসো কী করেছে ছেলে। পরক্ষণেই পাকড়াও করে ছেলেকে, কি রে স্কুলে গিয়ে বুঝি খুব দুষ্টুমি করিস? অবাক হয়ে ফজলে বলে, বাহ রে, আমি কোথায় দুষ্টুমি করলাম? হোমওয়ার্কের জন্য আমার পাগল পাগল অবস্থা– বাবা ঠাঠা করে হাসেন। তো হোমওয়ার্কের জন্য ভাবনা? কুকুর-বিড়াল লিখতে হলে লিখবি চারটি পা, দু’টি চোখ, দু’টি কান আছে। -বাহ রে ওদের স্বভাব কেমন, কী খেতে ওরা ভালোবাসে, সেসব লিখতে হবে না? সেগুলো কি আমি জানি? আমাকে কি পুষতে দিয়েছ তোমরা? মিষ্টি মিষ্টি গলার সুর কান্নায় ভেঙে আসে ফজলের, পুরনো দুঃখ উথলে ওঠে ওর। মা ওর দুঃখ ভুলিয়ে দিতে চান। বলেন, ফুল নিয়ে ওকে কিছু বলো, শেষ করুক না হোমওয়ার্ক। ক্রিসেনথিমাম ফুলকে বাংলায় আমরা চন্দ্রমল্লিকা বলি- এই সব আর কী? বাবা বাথরুমে ঢুকতে ঢুকতে বলেন, শোন- অলরেডি আই অ্যাম লেট। তুমিই নিয়ে বসো না একটু ছেলেকে। মা স্কুলে এসে হতবাক। শারমিন ম্যাডামের সামনে বসে বোবা হয়ে যান। বাড়িতে সারাক্ষণ কথা বলা মায়ের কথা একেবারেই হারিয়ে যায়।
– বাড়িতে কি আপনি ওর খাতাপত্র একেবারেই চেক করেন না? বিড়াল লিখতে দিয়েছি, লিখেছে চার পা, দু’ চোখ- বেশ ঠিক আছে। এর পরই লিখেছে- আমি আর তানভীর একটি মিনি বিড়াল বাড়িতে এনে দুধ খেতে দিয়েছি। মাছ খেতে দিয়েছি- কিন্তু মা আর আন্টির জন্য মিনি বিড়ালটি বাড়িতে পুষতে পারিনি। মা চোখ গোল গোল করে ম্যাডামের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
– আরও শুনুন, তাকিয়ে আছেন কেন এমন করে? ও উর্বন সাফারি পার্ক দেখেছে, দাউদকান্দি জারিফ আলী পার্ক দেখেছে। স্বপাড়া পুর্ধার বাড়ি দেখেছে, নন্দিখোলার ভবন দেখেছে, কিন্তু কাছে থেকে কোন কুকুর দেখেনি। এটার নাম কম্পোজিশন? শেম অন ইয়ু। অনেকটা সময় শক্ত শক্ত কথা শুনে এক সময় উঠে দাঁড়ান মা। শারমিন ম্যাডাম বলেন, এবার ঘুড়ি লিখতে দিয়েছি- মানে কাইট। ছুটি হলেই আপনারা বাইরে চলে যান। কেন- নিজের দেশে কি দেখার কিছু নেই? ভাওয়ালের রাজবাড়ী, কুমিল্লার ময়নামতি, বগুড়ার মহাস্থানগড়- আজকালকার ছোটরা কিছুই দেখেনি। এগুলো নিয়ে আপনারা ভাবেন না? শারমিন ম্যাডাম অনেক কঠিন কথার পর মোলায়েম সুরে বলেন, নিজের দেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন ছেলের। শেষের কথাতে চোখ ভিজে যায় মায়ের। সত্যিই তো- ওকি বাঁধানো ঘাট, পুকুর, মেঠোপথ, বড়শি দিয়ে মাছ ধরা দেখেছে কোনদিন? শীতের পিঠা খাওয়া, ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো কোটা, বাঁধানো কলসিতে খেজুরের রস, ঘাসের বুকে টুপটাপ শিশির ঝরা- এগুলো তো কখনও দেখেনি ফজলে। মা বাড়িতে এসে ঘোষণা দিলেন, এবার আর সিঙ্গাপুর-লন্ডন যাওয়া নয়, এবার আমরা নিজেদের গ্রামে যাবো। বাবা চোখ কপালে তুলে বলেন, সে কী? মা মিষ্টি সুরে বলেন, নিজেদের দেশের সঙ্গে ছেলেকে পরিচয় করে দিতে হবে না? নাঈম মামা খুশি খুশি গলায় বলেন, তাই বলো। এবার রচনা লিখতে দিয়েছে আমার সাবজেক্ট।
– তোমার সাবজেক্ট? বাবা তাজ্জব।
– ফজলের এবারের হোমওয়ার্কের সাবজেক্ট ঘুড়ি। এবার মামা-ভাগ্নে মিলে, ঘুড়ি নিয়ে চল্লিশ লাইন লিখব। মা গালে হাত দিয়ে বলেন, চল্লিশ লাইন নয়- বারো লাইন। মামা বলেন- ওকে সিসটার, নো প্রবলেম।
বাড়িতে যেন উৎসব নয়- মহোৎসব। নীল রঙের কাগজ এলো। বাঁশের শলা খুব সুন্দর করে তৈরি করল মামা। শুক্র- শনিবার ছুটির দিন। ফজলে আর নাঈম মামার নাওয়া-খাওয়া ঠিকঠিকানা নেই। ঘরদোর কাগজ কাঠি-আঠাতে ছৈ ছত্রাকার। ঘুড়ি তৈরি হলো, এবার মাঞ্জা বানাতে হবে- ঝকমারি কি কম? ভাতের মাড়, কাচের ছোট টুকরো আরও টুকিটাকি কিছু মিশিয়ে সুতোতে মাঞ্জা দিতে হবে। ফ্ল্যাটের তানভীর, রাসেল, মহসিন, নূরনবি ও আইরিন, ফজলের মামাকে সাহায্য করে। মা বিরক্ত হয়ে বলেন, ঘরদোরের কী অবস্থা করেছে দেখো। বাজার থেকে ঘুড়ি-লাটাই কিনে নিয়ে এলেই তো হয়। মামা বলেন, তাহলে ফজলের প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা কী করে হবে। এক শীতের সকালে পুরানা পল্টনের আকাশে উঠল চার-পাঁচটা ঘুড়ি। নীল নীল আকাশে, তার মাঝে ফজলে, তানভীর, মহসীন, নূরনবি রঙিন ঘুড়িগুলো উড়াতে থাকে। আবার প্রয়োজন মতো গুটিয়ে নেয়, ভারী মজার খেলা! মা-বাবা এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঘুড়িতে প্যাঁচ লেগেছে ফজলের। ওদের ‘ভোকাট্টা ভোকাট্টা চেঁচামেচিতে অন্যরকম হয়ে ওঠে পুরানা পল্টন লাইন ছাদ। আইরিন বলে, খেলাটা তো কম্পিউটার গেমের চেয়েও মজার রে ফজলে। সুমাইয়া বলে, আমি আর কার্টুন ফিল্ম দেখব না, আকাশে ঘুড়ি উড়াবো। মহসিন বলে, আমিও আর ‘ প্লে স্টেশন’ খেলব না, ‘গড অব ওয়ার’, ‘এজ অব মাইথোলজি’র সিডি কিনব না, এবার থেকে শুধু ঘুড়ি ঘুড়িই খেলব।
ঘুড়ি রচনাটি শীতের ভোরে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে লিখে ফজলে। মনও খারাপ হয় ওর- কেন ম্যাডাম বারো লাইন লিখতে বললেন, ওর যে আরও অনেক লাইন লিখতে ইচ্ছে করছে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে শীতের সোনালি রোদ, নীল নীল আকাশ, পাঁচ-ছয়টি রঙিন ঘুড়ি, সুতো জড়িয়ে রাখা আর ছেড়ে দেয়ার কায়দায় লাটাইয়ের খটাখট আওয়াজ। মা বলেন, এবার বই রেখে ওঠ ফজলে। লাল-চাল দিয়ে বসা ভাত করেছি খেতে এসো। শারমিন ম্যাডামকে ক্লাসের সবাই ভয় পায়, ভালোও বাসে। আমিও ভালোবাসি। পড়াশোনা ঠিকমতো না করলে গম্ভীর হয়ে থাকেন, আবার ঠিকমতো পড়া শিখলে গলাভরা হাসি হাসেন।
– মাস্টার ফজলে, লুক অ্যাট মি। আমার দিকে তাকাও মাই বয়। ইয়ু আর ফ্যানটাস্টিক, সুপার্ব। কাম টু মি। গুটি গুটি পায়ে ম্যাডামের কাছে এগিয়ে যায় সে। ওর খোলা খাতাটির ওপর ম্যাডাম লাল কালি দিয়ে লিখছেন অ+, লিখেছেন ভেরি ভেরি গুড। মামা যে কথায় কথায় বলেন- প্র্যাকটিক্যাল নলেজ- তাই সঠিক। নইলে ফজলে কি এত চমৎকারভাবে ‘ঘুড়ি’ রচনাটি লিখতে পারত! ক্লাসের বন্ধুরা কম্পোজিশন নিয়ে ফজলেকে বারবার বকুনি খেতে দেখেছে- আজ অন্যরকম কিছু দেখে ওরা এক সাথে বলতে থাকে- হিপ হিপ হুররে- খুশিতে যে চোখ ভিজে যায়, এই প্রথম জানল ছোট্ট ফজলে।

SHARE

Leave a Reply