Home তোমাদের গল্প পাখির আক্রমণ -নাজিম হাসান ফুয়াদ

পাখির আক্রমণ -নাজিম হাসান ফুয়াদ

একটি বন। বনটির নাম ‘রাজবন’। বনটিতে প্রচুর পরিমাণে পাখি বাস করে। কিন্তু এত পাখি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ পাখি খুশি নয় বরং ভয়ে ভয়ে থাকে। কারণ ঐ রাজবনটিতে অনেক বড় বড় পাখি থাকে। তারা এসে সময়ে সময়ে ছোট ছোট সাধারণ পাখিদের ওপর আক্রমণ করে। তাদের বাচ্চাদের ছোঁ মেরে নিয়ে চলে যায়। এমন করে কয়েকদিন চলে গেল। এরপর একটি পাখি এলো, নাম তার অমিয়। সে ছিল খুব বুদ্ধিমান ও সাহসী। কয়েকদিনের মধ্যেই অমিয় পাখিদের সমস্যাটা বুঝতে পারে। অমিয় ছোট পাখিদের বলল, আমি আপনাদের এই মুসিবত থেকে বাঁচার একটা উপায় চিন্তা করেছি। ছোট পাখিরা বলল, সে উপায়টা কী? তখন অমিয় বলল, তা হলে শুনুন-ওরা যদি আক্রমণ করে তাহলে আমরাও আক্রমণ করবো। কিন্তু যেমন তেমন আক্রমণ করা ঠিক হবে না। বরং আমি বলে দিচ্ছি। অমিয় সবাইকে আস্তে আস্তে বলে দিল যাতে বড় পাখিরা শুনতে না পারে।
পরদিন বিকাল বেলা ছোট পাখিরা প্রস্তুত হলো বড় পাখিদের আক্রমণ করার জন্য। অমিয় জোরে জোরে বললো, চলো আমরা সবাই একসাথে যেমন মৌমাছিরা যায় সেই ভাবে যেয়ে বড় পাখিদের গোল হয়ে ঘিরে আলাদা আলাদা ভাবে আক্রমণ করবো। তাই হলো- অমিয় যেভাবে বললো ঠিক সেই ভাবে ছোট পাখিরা বড় পাখিদের ওপর আক্রমণ করে তাদের একটি একটি করে পালক ছিঁড়তে লাগলো। অমিয় তাড়াতাড়ি একটা শক্ত দড়ি এনে সবাইকে বললো-পালক ছেঁড়া বন্ধ কর আর আমাকে সাহায্য করো দড়িটি দিয়ে ওদের শক্ত করে বেঁধে ফেল। সবাই তাড়াতাড়ি করে অমিয়র কাছে যেয়ে বড় পাখিদের বাঁধল। বড় পাখিরা এতক্ষণে অজ্ঞানই হয়ে গেছে। জ্ঞান ফেরার পর বড় পাখিরা কিছুই বুঝতে পারছে না। অমিয় বললো, তোমরা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছো। তোমাদের একটা দোষ আছে তার জন্য তোমাদের শাস্তি পাওয়া উচিত। বড় পাখিরা বিড় বিড় করে বললো কী দোষ? অমিয় বললো- তোমরা বনে থাকবে আমরাও চাই কিন্তু যুদ্ধের মত আক্রমণ কর এটা করা উচিত নয়। তোমরা হয়তো মাঝে মাঝে একজন একটা বাচ্চা ছোঁ মেরে নিয়ে চলে যেতে পারতে। কিন্তু বাচ্চা হারানোর বেদনা তোমরা কখনও অনুভব করতে না। সবাই বাচ্চা হারানোর কথা শুনে অমিয়র কথার সাথে একমত হলো। তখন অমিয় বড় পাখিদের বললো, তোমরা এই রাজবন থেকে চলে যাও আর কখনও ভুলেও এই রাজবনে আসার কথা চিন্তাও করবে না। এটাই তোমাদের শাস্তি। বড় পাখিরা একটু শান্তি লাভ করলো, কারণ তারা ভেবে ছিল তাদের মৃত্যুদণ্ড হবে। তারা বললো, আমরা তাতে রাজি আছি, শুধু আমাদের দড়িটা খুলে দাও আমরা চলে যাচ্ছি। অমিয় দড়িটা খুলে দিল। বাঁধন মুক্ত হয়ে বড় পাখিরা রাজবন ছেড়ে চলে গেল।
অমিয় বললো, আমার যাওয়ার সময় হয়েছে আমি চলে যাচ্ছি। সবাই বললো আপনি চলে যাচ্ছেন এটা আমাদের জন্য সুখের খবর নয়। আমরা আপনার পরিচয়টাও এখন পর্যন্ত জানতে পারি নাই। আমরা আপনার পরিচয় জানতে চাই এবং আমাদের মাঝে আবার আসার আহবান জানাই। অমিয় বললো, আমার নাম হলো- ‘অমিয়’। বিভিন্ন বনে যেয়ে পাখিদের সাহায্য করাই আমার কাজ। এবার আসি-সবাইকে ধন্যবাদ। এই বলে অমিয় সেইখান থেকে চলে গেল।

SHARE

Leave a Reply