Home গল্প এক টুকরো হাসি -সাইদুল ইসলাম

এক টুকরো হাসি -সাইদুল ইসলাম

বিকেলে খেলার মাঠে প্রতিদিনের মতো সবাই ক্রিকেট খেলছে। আবিরের দল ব্যাটিং করছে আর আরিফের দল বলিং করছে। আরিফের দলের দেয়া ৮০ রানের টার্গেট ভাঙতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আবিরের দল। মাঠের পাশেই একটা ঘর, সেই ঘরে বল গেলে আর বল মিলে না, তাই সবাইকে খুব সতর্কভাবে খেলতে হয়। খুব জমজমাট খেলা চলছে আজ। আর মাত্র দুই ওভারে ১৫ রান লাগবে আবিরের দলের। ব্যাটিং করছে আবিরের দলের সবচেয়ে সেরা ব্যাটসম্যান নাবিল। প্রথম বলেই নাবিল ছক্কা মেরে দিলো আর মাত্র ১১ বলে লাগবে ৯ রান, পরের বল ডট দিয়ে, এর পরের বলে একটি চার হাঁকিয়ে দিল নাবিল। আর ১০ বলে লাগবে ৫ রান। মাঠে টানটান উত্তেজনা। পরের বলেই নাবিল হাঁকিয়ে দিল একটা আকাশছোঁয়া ছক্কা আর ম্যাচ জিতে গেল আবিরের দল। জিতে গিয়ে আবিরের দলের সবাই নাচতে লাগল। হঠাৎ আরিফ বলে উঠল বল পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সবাই মিলে খুঁজতে লাগল বলটি। বলটি এত উপরে উঠে গিয়েছিল যে কিছুই দেখাই যায়নি। মনে হয়েছিল মাঠের পাশের বাড়িতে পড়েছে। একজন চুপিচুপি গিয়ে দেখল সেই ঘরে কিন্তু সেখানেও নেই। তখন আবির সেই বাড়ির পেছনে গিয়ে বলটি খুঁজতে লাগল। বাড়িটির পেছনে ডাস্টবিন আর গন্ধযুক্ত নালা। আবির পেছনে গিয়ে ডাস্টবিনের পাশে চোখ পড়তেই দেখে ফেলল বলটি। যখনি সে বলটি নিতে গেল একটি বিষয় তার চোখ এড়াল না। ডাস্টবিনের পাশেই একটি ছোট শিশু কাঁদছে। গায়ে কোনো জামা নেই, প্রচণ্ড শীতে খুব কাঁপছে আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সে। তার পাশেই ডাস্টবিন থেকে বোতল ও কিছু পচা খাবার কুড়িয়ে নিচ্ছিল একটা মেয়ে। মনে হয় ছোট শিশুটি মেয়েটির ভাই। এসব দেখে খুব মায়া হলো আবিরের। তখন সে বলটি নিয়ে তার বন্ধুদের কাছে এলো এবং সে তার বন্ধুদের সব ঘটনা খুলে বলল।
তখন তারা সবাই ভাবতে লাগল কিভাবে পথশিশুগুলোকে সাহায্য করা যায়? তারপর তারা সবাই মিলে প্ল্যান করল সবাই ৫০ টাকা করে দিয়ে তাদের জন্য কিছু শীতের জামা কিনবে আর কিছু খাবার কিনবে এবং সবাই সবার ঘরের যত ছোট ও পুরাতন কাপড় আছে যেগুলো তারা পরে না সেগুলো নিয়ে পথশিশুগুলোকে দেবে। তাহলে হয়তো তাদেরও কষ্ট একটু হলেও কমবে।
পরদিন তারা সবাই কথামতো ৫০ টাকা করে দিয়ে কিছু খাবার আর শীতের কাপড় কিনল এবং ঘরের পুরাতন কাপড়গুলো এক জায়গায় করল সেই পথশিশুদের জন্য। তারপর তারা সবাই মিলে সেই পথের শিশুদের বস্তির কাছে গিয়ে ছোট ছোট বস্ত্রহীন পথশিশুদের মাঝে সেই শীত কাপড় ও খাবারগুলো বিলিয়ে দিল। শীতের কাপড় ও খাবার পেয়ে পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটে উঠল আর মনে হলো যেন তারা সোনার হরিণ পেয়েছে। পথশিশুদের সেই খুশির মাঝে আবিরেরাও যেন তাদের প্রকৃত আনন্দকে খুঁজে পেয়েছে।

SHARE

Leave a Reply