Home চিত্র-বিচিত্র অক্টোপাস -নুসাইবা মুমতাহিন

অক্টোপাস -নুসাইবা মুমতাহিন

অক্টোপাস চেনে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সরাসরি না দেখলেও আমরা বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা অক্টোপাস দেখেছি। এটি আমাদের কাছে অতি পরিচিত প্রাণী। তবে অক্টোপাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু আমরা জানি না। আজ আমরা জানবো অক্টোপাসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।
অক্টেপাস শব্দটি গ্রিক শব্দ। Oktapous শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ আট পা।
অক্টোপাসের আটটি পা ও বাহু রয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় অক্টেপাসের তিনটি হৃৎপিন্ড রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে ও অন্যটি বাকি দেহে।
আমাদের রক্তে যেমন হিমোগ্লোবিন থাকে তেমনি তাদের রক্তে থাকে হিমোছায়ানিন (Hemocyanin)। তাই তাদের রক্তের রঙ লালের পরিবর্তে নীল হয়।
অক্টোপাসের দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়। এই জন্য তারা সহজেই গভীর পানিতে শিকার ধরতে পারে।
চধপরভরপ সাগরে বড় প্রজাতির অক্টোপাস দেখতে পাওয়া যায়। দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট ও ওজনে প্রায় ২০০ কেজি।
অক্টোপাসের আত্মরক্ষার কৌশল বেশ অদ্ভুত। এরা ইচ্ছেমত নিজের দেহের রঙ পরিবর্তন এবং মাথার নিচের নলাকার ফানেল পানিপূর্ণ করে দ্রুতবেগে বের করে দিয়ে তাড়াতাড়ি দূরে সরে যেতে পারে।
রঙ পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রতলের বালি, পাথর, উদ্ভিদ ইত্যাদির সাথে এমনভাবে মিশে যেতে পারে যে হাঙর, ইল, ফিন (অক্টোপাসের প্রধান শত্রু) খুব কাছ থেকেও একে সনাক্ত করতে পারে না।
তাছাড়া অক্টোপাসের দেহে কালি ফলে (Ink sac) থাকে যার সাহায্যে অক্টোপাস নিজের দেহ থেকে ঘন কালো কালি ছুড়ে দিতে পারে যা শত্রুকে কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ করে দেয়।
এ কালির আরেকটি গুণ হচ্ছে এটি শত্রুর ঘ্রাণশক্তিও কিছুক্ষণের জন্য নষ্ট করে দেয়। ফলে অক্টোপাসটি পালিয়ে যেতে পারে। কালির মূল উপাদান হচ্ছে মেলানিন (Melanin)।
শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার কোনো উপায় না পেলে অনেক সময় এরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অথবা নিজের বাহু খেতে শুরু করে।
অক্টোপাস খুব দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে যা এটির আত্মরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অক্টোপাসের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো রঙ বা বর্ণ পরিবর্তনের ক্ষমতা। এর ত্বকে আঁচিলের মতো ফুস্কুড়ি থাকে। ত্বকের নিচে অনেকগুলো ক্রোনোটোফোর আছে। ক্রোমাটোফোরে নানা রঙের কোষ থাকে। এসব কোষের সাহায্যে এরা দেহের রঙ পাল্টায়।
অক্টোপাসের প্রধান খাদ্য সমুদ্রের ছোট মাছ ও কাঁকড়া। অক্টোপাস তাদের মুখের লালার মাধ্যমে শিকার ধরে খায়।
অক্টোপাসের দেহে কোনো হাড় নেই। এরা তাদের নিজের মতো করে শরীর সংকুচিত ও প্রসারিত করতে পারে।
এতো গেল অক্টোপাসের আকৃতি এবং সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কথা। অক্টোপাস সাগরের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী।
অক্টোপাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে অক্টোপাসের আটটি আবরণ প্রমাণ করে তারা পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীদের একটি।
১৯৯৩ সালে প্রকাশিত গবেষণায় প্রমাণ হয়, প্রবাল প্রাচীরের চেয়েও অক্টোপাস শিকারি হিসেবে বেশি বুদ্ধিমান এবং বিপুল খাদ্য সঞ্চয়ে সক্ষম। নানা রকম জটিল ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে অবিকল মাপের গর্ত তৈরি করে এর মধ্যে আশ্রয় নিতেও সক্ষম।
২০০৭ সালে প্রকাশিত গবেষণার প্রতিবেদনে পেনসিলভানিয়ার মিলারসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জঁ বোয়াল বলেছেন, অক্টোপাসরা যা চায় তা পাওয়ার সেরা উপায় খুঁজে বের করতে শুদ্ধাশুদ্ধি জ্ঞান ব্যবহার করতে পারে। তারা সমস্যার সমাধান ও একটি লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কৌশল নিতে সক্ষম।
স্তন্যপায়ী এ প্রাণীর মস্তিষ্ক অনেকটা মানুষের মতোই এবং একইভাবে স্মৃতি সংরক্ষণ করে থাকে।
এছাড়া সারা পৃথিবীর যাবতীয় প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে অক্টোপাসের মাতৃ¯েœহ শীর্ষ স্থানীয়। অক্টোপাসের আয়ু সীমিত হওয়া সত্ত্বেও মা অক্টোপাসেরা জীবনের অধিকাংশ সময় সন্তানের জন্য উৎসর্গ করে। ডিম দেয়ার সময়কালে স্ত্রী অক্টোপাস একটি নির্জন খোপের মতো জায়গা বেছে নেয় এবং একেবারে প্রায় দুই লাখ ডিম পাড়ে। প্রজাতি ভেদে এই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে বছরাধিক সময় লেগে যেতে পারে।
এই পুরো সময় মা অক্টোপাস এই ডিমগুলোকে ঢেকে রাখে এবং ডিমগুলোর উপরে তার শুঁড় দিয়ে পানির প্রবাহ চালিয়ে যেতে থাকে যেন এগুলো ময়লা হয়ে না যায় এবং তাজা ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি পায়। ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বের হওয়া পর্যন্ত এই কয়েক মাস সে কিছুই খায় না এবং ক্রমশ অভুক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।
সম্প্রতি গবেষকরা একটি স্ত্রী অক্টোপাসের খোঁজ পেয়েছেন যেটি প্রায় সাড়ে চার বছর একটানা তার ডিমগুলোকে এভাবে সুরক্ষা করে গেছে। এটি সমগ্র প্রাণীজগতের মধ্যে রেকর্ড করেছে।
প্রকৃত অর্থে, অক্টোপাস আমাদের অতি পরিচিত হলেও তাদের সম্পর্কে বিস্ময়ের কোনো শেষ নেই! অক্টোপাস চেনে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সরাসরি না দেখলেও আমরা বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা অক্টোপাস দেখেছি। এটি আমাদের কাছে অতি পরিচিত প্রাণী। তবে অক্টোপাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু আমরা জানি না। আজ আমরা জানবো অক্টোপাসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।
অক্টেপাস শব্দটি গ্রিক শব্দ। ঙশঃধঢ়ড়ঁং শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ আট পা।
অক্টোপাসের আটটি পা ও বাহু রয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় অক্টেপাসের তিনটি হৃৎপিন্ড রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে ও অন্যটি বাকি দেহে।
আমাদের রক্তে যেমন হিমোগ্লোবিন থাকে তেমনি তাদের রক্তে থাকে হিমোছায়ানিন (ঐবসড়পুধহরহ)। তাই তাদের রক্তের রঙ লালের পরিবর্তে নীল হয়।
অক্টোপাসের দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়। এই জন্য তারা সহজেই গভীর পানিতে শিকার ধরতে পারে।
চধপরভরপ সাগরে বড় প্রজাতির অক্টোপাস দেখতে পাওয়া যায়। দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট ও ওজনে প্রায় ২০০ কেজি।
অক্টোপাসের আত্মরক্ষার কৌশল বেশ অদ্ভুত। এরা ইচ্ছেমত নিজের দেহের রঙ পরিবর্তন এবং মাথার নিচের নলাকার ফানেল পানিপূর্ণ করে দ্রুতবেগে বের করে দিয়ে তাড়াতাড়ি দূরে সরে যেতে পারে।
রঙ পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রতলের বালি, পাথর, উদ্ভিদ ইত্যাদির সাথে এমনভাবে মিশে যেতে পারে যে হাঙর, ইল, ফিন (অক্টোপাসের প্রধান শত্রু) খুব কাছ থেকেও একে সনাক্ত করতে পারে না।
তাছাড়া অক্টোপাসের দেহে কালি ফলে (ওহশ ংধপ) থাকে যার সাহায্যে অক্টোপাস নিজের দেহ থেকে ঘন কালো কালি ছুড়ে দিতে পারে যা শত্রুকে কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ করে দেয়।
এ কালির আরেকটি গুণ হচ্ছে এটি শত্রুর ঘ্রাণশক্তিও কিছুক্ষণের জন্য নষ্ট করে দেয়। ফলে অক্টোপাসটি পালিয়ে যেতে পারে। কালির মূল উপাদান হচ্ছে মেলানিন (গবষধহরহ)।
শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার কোনো উপায় না পেলে অনেক সময় এরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অথবা নিজের বাহু খেতে শুরু করে।
অক্টোপাস খুব দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে যা এটির আত্মরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অক্টোপাসের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো রঙ বা বর্ণ পরিবর্তনের ক্ষমতা। এর ত্বকে আঁচিলের মতো ফুস্কুড়ি থাকে। ত্বকের নিচে অনেকগুলো ক্রোনোটোফোর আছে। ক্রোমাটোফোরে নানা রঙের কোষ থাকে। এসব কোষের সাহায্যে এরা দেহের রঙ পাল্টায়।
অক্টোপাসের প্রধান খাদ্য সমুদ্রের ছোট মাছ ও কাঁকড়া। অক্টোপাস তাদের মুখের লালার মাধ্যমে শিকার ধরে খায়।
অক্টোপাসের দেহে কোনো হাড় নেই। এরা তাদের নিজের মতো করে শরীর সংকুচিত ও প্রসারিত করতে পারে।
এতো গেল অক্টোপাসের আকৃতি এবং সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কথা। অক্টোপাস সাগরের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী।
অক্টোপাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে অক্টোপাসের আটটি আবরণ প্রমাণ করে তারা পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীদের একটি।
১৯৯৩ সালে প্রকাশিত গবেষণায় প্রমাণ হয়, প্রবাল প্রাচীরের চেয়েও অক্টোপাস শিকারি হিসেবে বেশি বুদ্ধিমান এবং বিপুল খাদ্য সঞ্চয়ে সক্ষম। নানা রকম জটিল ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে অবিকল মাপের গর্ত তৈরি করে এর মধ্যে আশ্রয় নিতেও সক্ষম।
২০০৭ সালে প্রকাশিত গবেষণার প্রতিবেদনে পেনসিলভানিয়ার মিলারসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জঁ বোয়াল বলেছেন, অক্টোপাসরা যা চায় তা পাওয়ার সেরা উপায় খুঁজে বের করতে শুদ্ধাশুদ্ধি জ্ঞান ব্যবহার করতে পারে। তারা সমস্যার সমাধান ও একটি লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কৌশল নিতে সক্ষম।
স্তন্যপায়ী এ প্রাণীর মস্তিষ্ক অনেকটা মানুষের মতোই এবং একইভাবে স্মৃতি সংরক্ষণ করে থাকে।
এছাড়া সারা পৃথিবীর যাবতীয় প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে অক্টোপাসের মাতৃ¯েœহ শীর্ষ স্থানীয়। অক্টোপাসের আয়ু সীমিত হওয়া সত্ত্বেও মা অক্টোপাসেরা জীবনের অধিকাংশ সময় সন্তানের জন্য উৎসর্গ করে। ডিম দেয়ার সময়কালে স্ত্রী অক্টোপাস একটি নির্জন খোপের মতো জায়গা বেছে নেয় এবং একেবারে প্রায় দুই লাখ ডিম পাড়ে। প্রজাতি ভেদে এই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে বছরাধিক সময় লেগে যেতে পারে।
এই পুরো সময় মা অক্টোপাস এই ডিমগুলোকে ঢেকে রাখে এবং ডিমগুলোর উপরে তার শুঁড় দিয়ে পানির প্রবাহ চালিয়ে যেতে থাকে যেন এগুলো ময়লা হয়ে না যায় এবং তাজা ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি পায়। ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বের হওয়া পর্যন্ত এই কয়েক মাস সে কিছুই খায় না এবং ক্রমশ অভুক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।
সম্প্রতি গবেষকরা একটি স্ত্রী অক্টোপাসের খোঁজ পেয়েছেন যেটি প্রায় সাড়ে চার বছর একটানা তার ডিমগুলোকে এভাবে সুরক্ষা করে গেছে। এটি সমগ্র প্রাণীজগতের মধ্যে রেকর্ড করেছে।
প্রকৃত অর্থে, অক্টোপাস আমাদের অতি পরিচিত হলেও তাদের সম্পর্কে বিস্ময়ের কোনো শেষ নেই!

SHARE

Leave a Reply