Home গল্প এই নাও জুলফিকার -আবদুল হালীম খাঁ

এই নাও জুলফিকার -আবদুল হালীম খাঁ

নারোয়ান রণাঙ্গন!
একদিকে শের এ-খোদা হযরত আলী (রা) অন্যদিকে তাঁর প্রতিপক্ষে এক যুবক। তুমুল বেগে যুদ্ধ চলছে। তলোয়ারের আঘাতে আঘাতে আগুন জ্বলছে। এক সময় হযরত আলীর আঘাতে যুবকের তলোয়ার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
আলী (রা) পুনরায় আঘাতের জন্য তলোয়ার উত্তোলন করে দেখেন যুবক অস্ত্রহীন। অসহায়। ভয়ে ভীষণ কাঁপছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে আঘাত করলেন না। উত্তোলিত তলোয়ার সংবরণ করে বললেন : হে যুবক ভয় নেই। তুমি চলে যাও। দ্রুত চলে যাও তোমার দলে।
হযরত আলীর এ অদ্ভুত ব্যবহার দেখে যুবক প্রশ্ন না করে পারলো না। বললো : এতক্ষণ যুদ্ধ করলেন আমাকে হত্যা করার জন্য। এখন আমি অস্ত্রহীন। আমাকে হত্যা করার পরম সুযোগ। অথচ আমাকে হত্যা না করে নির্ভয়ে চলে যেতে বললেন কেন?
হযরত আলী জবাব দিলেন : আত্মরক্ষায় সমর্থ যে নয়, যে ভীত কম্পিত, তাকে হত্যা করা বীরের ধর্ম নয়।
তাই না কি?
হ্যাঁ তাই। একমাত্র ভীরুরাই অসহায়কে হত্যা করে। এমন মহানুভবতার কথা শুনে যুবক মুগ্ধ হয়ে গেল। সে আবার প্রশ্ন করলো, শুনেছি আপনি বড়ই উদার এবং দানশীল। কোনো প্রার্থীকেই কখনো বিমুখ করেন না।
তাই আরেকটি প্রার্থনা এখন আপনার কাছে।
কী প্রার্থনা, বলো।
আমি এখন আপনার হাতের তলোয়ারটি চাই।
নির্ভীক এবং উদার হৃদয়ের অধিকারী হযরত আলী (রা) ক্ষণকাল নির্বিকার রইলেন। অতঃপর বললেন : এই নাও জুলফিকার। বলেই যুবকের হাতে তলোয়ারটি তুলে দিলেন এবং বললেন : মনে রেখো যুবক, তলোয়ারে মৃত্যু নেই। জীবন ও মৃত্যুর মালিক আল্লাহ। তাঁর হুকুমেই সব হয়।
শের-এ-খোদার এ প্রত্যয়দীপ্ত বাক্য শুনে যুবক বিস্মিত ও অভিভূত হয়ে গেল। তার বুকের ভেতর যেনো বিদ্যুৎ ঝিলিক দিয়ে জ্বলে উঠলো।
আর মুহূর্তে তার মনের অন্ধকার দূর হয়ে গেল। সে বিমোহিত ও পুলকিত হয়ে শের-এ-খোদার ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে চুম্বন করলো এবং বললো :
আপনার মহত্ত্ব ও উদারতার কথা এতো দিন লোকমুখে শুনেছি। আজ প্রত্যক্ষ করলাম। আপনি সত্যিই বিরাট মহান। আমাকে আপনার গোলাম হিসেবে গ্রহণ করে ধন্য করুন। আপনার দেহরক্ষী হওয়ার গৌরব দান করুন।
শের-এ-খোদা হযরত আলী (রা) বললেন : ভাই, কোনো ব্যক্তির গোলাম হয়ো না। গোলাম হও একমাত্র আল্লাহর। এবং মনে রেখো সত্যের জন্য জিহাদ করাতেই প্রকৃত গৌরব। হ

SHARE

Leave a Reply