Home গল্প টাইম মেশিন -মুনইমুল ইসলাম

টাইম মেশিন -মুনইমুল ইসলাম

আবিষ্কারের ধারায় এবার আমার প্রজেক্ট টাইম মেশিন।
প্রায় ১২ বছর ধরে এটি তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই তৈরি হচ্ছিল না। একবার সূত্রে ভুল হয়তো আরেকবার মোটর ঠিকভাবে চলে না। এভাবেই দিনের পর দিন যাচ্ছিল।
ও বলতে ভুলে গিয়েছি, আমার ল্যাব আটলান্টিক মহাসাগরের ‘স্কচ’ দ্বীপে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেপটাউন থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বলতে গেলে এই দ্বীপটার নাম আমরাই দিয়েছি। সেখানে আমার আর বিজ্ঞানী আলবার্টের ঘর ও মাটির নিচে ল্যাব রয়েছে। কিন্তু তার সাথে আমার সম্পর্ক একদম ভালো না, মানে মনে হয় আমরা একজন অন্য জনের শত্রু। কিন্তু কিছু দিন আগে আমরা একজন আরেক জনের বন্ধু ছিলাম।
আসলে ঘটনা হলো আমার মেশিনটা কিছু দিন আগে চালু হয়েছিল কিন্তু মোটর উল্টো দিকে ঘুুরতে ঘুরতে মেশিন গিয়ে পড়লো-তার নতুন স্পিডবোটের ওপর। এতে তার স্পিডবোট ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এ নিয়ে সে কত চেঁচামেচি, কত কিছু বললো।
কালকে টিভিতে দেখলাম, জাপানি বিজ্ঞানীদের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বিজ্ঞানী ‘থ্যা ইয়াং চুং’ বলেন, বাঁশ দিয়ে ভালো রকেট ফুয়েট তৈরি করা যায়। এবার বুঝলাম আমার মেশিনের সমস্যা কোথায়। দ্বীপে বাঁশের অভাব নেই। বাঁশ কেটে সব ঠিকঠাক করলাম।
ঘুম থেকে উঠতে আজ একটু দেরি করে ফেলেছি। ঘুম থেকে উঠতেই স্পিডবোটের শব্দ শুনতে পেলাম। চোখ কচলাতে কচলাতে বের হলাম। দেখলাম বিজ্ঞানী আলবার্ট কোথায় যাচ্ছে। আমি বাইরে গিয়ে মুখ ধুয়ে ল্যাবে ঢুকছিলাম তখনই দেখলাম পায়ের নিচে কাগজ পড়ে আছে। আমি নিয়ে পড়ে দেখলাম, ‘আমি শহরে যাচ্ছি, আসতে আসতে দুপুর হবে।’ ইতি আলবার্ট। আমি মনে মনে বললাম, আরে পাগলা আলবার্ট : মুখে বলে গেলে কি হতো। এটাই সুযোগ মেশিন পরীক্ষার, আমি নাস্তা খেয়ে সব কাজ শেষ করে গিয়ে মেশিনের উপর উঠলাম, অনেক দিনের ইচ্ছা আইনস্টাইনকে দেখার। আমি টাইম সেট করলাম ১৯৮৪ সালে। স্ক্রিনে উঠলো : পড়হমৎধঃঁষধঃরড়হং ুড়ঁৎ পড়সসধহফ ধপপবঢ়ঃবফ. এরপর সময় উঠলো ১০, ৯,–৩, ২, ১, ০, মেশিন প্রচন্ড জোরে কেঁপে উঠলো। আমার মনে হয় আমি ১৫-২০ ফুট উপরে উঠে গিয়েছিলাম। মেশিনটি এত জোরে ঘুরছিল যে, আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিছুক্ষণ উপরে থাকার পর নিচে নামলো। আমি দেখলাম, আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা একটা ভাঙা ব্রিজ চারদিকে পানি আর পানি। পানির মাঝখানে ভেসে উঠেছে দ্বীপগুলো। ব্রিজের উপর বসে থাকা একটি ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম : তুমি কি আইনস্টাইন? সে বলল, হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কে? আমি বললাম, আমি ভবিষ্যৎ থেকে এসেছি। সে বলল, কিভাবে?
আমি বললাম এই যন্ত্রটির সাহায্যে। সে বলল, অসম্ভব। আমি বললাম, অসম্ভবকে সম্ভব করা মানুষের কাজ। তুমি কি আমাকে তোমার শহরটা দেখাবে?
সে বলল, হ্যাঁ চলুন।
ব্রিজের পাশে একটি লম্বা নৌকা। কিন্তু নৌকাটি সরু ছিল বটে, কোনভাবে বসলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এখানে কি মানুষ নৌকা দিয়ে চলা ফেরা করে। সে বলল, হ্যাঁ, এটা মিথিঞ্জ শহর। এখানে আমার জানা মতে ৩০৬টি ভেসে থাকা ঘর রয়েছে। নৌকাটি একটি গাছের নিচে গিয়ে থামলো। ছেলেটি গাছটির নিচ দিয়ে ঢুকলো। গাছের ভেতরে শিকড়গুলো সিঁড়ির মতো। আমি আর ছেলেটি উপরে উঠলাম। একি? এই সুন্দর দৃশ্য দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। গাছের শিকড়গুলো একটি আরেকটির সাথে লেগে একেবারে শেষ পর্যন্ত, যেমনিভাবে বুঝানো হয় যে, বড় বড় ফাঁকগুলোর মাঝখানে পাথর দিয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দু’জনে মাঝখানে গিয়ে একপাশে বসলাম। ছেলেটি বলল, আপনি বসুন আমি আসছি, ছেলেটি ৪-৫ মিনিট পর এলো। তার হাতে চারটি গোলাপি ফল। আমাকে ৩টি দিল। আমি এগুলোর নাম জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, ড্রাগন, প্রচন্ড খিদে পেয়েছে। তাই একটি খাওয়ার জন্য হাতে নিলাম। কিভাবে খাবো জানি না। আমার মনে হয় ছেলেটি বুঝতে পেরেছে। আমি ফলগুলো খেতে পারি না। তাই তার হাতের ফলটি একটি পাথরের উপর জোরে বাড়ি মারলো। এতে উপরের গোলাপি চামড়াটি ফেটে গেল। সে টেনে ফলের গায়ের চামড়া সব তুলে ফেলল। আমার হাতে দিল। আমি তিন কামড়ে খেয়ে ফেললাম। সে বলল : চলুন। আমি বললাম কোথায়? সে বলল, আমার বাড়িতে। আমি বললাম, না, আমার আজকে আর সময় নেই আমাকে বিদায় নিতে হবে। সে বলল, তার বাড়ি যেতে বেশিক্ষণ লাগবে না। আমি বললাম, না, না, আমি আরেক দিন আসবো, চলো চলো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমরা দু’জন আবার নৌকায় উঠলাম। নৌকা ব্রিজের কাছে এসে থামল। আমি তাকে বললাম তুমি আমার মত বড় হয়ে একজন বিজ্ঞানী হবে। সে আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। আমি আমার মেশিনে গিয়ে বসলাম, বর্তমান সময়ে টাইম সেট করলাম। স্ক্রিনে আগের মতো লেখা উঠল। ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমি তাকে হাত দিয়ে দেখালাম, ১০, ৯, ৮, …৩, ২, ১, ০ জোরে ঝাঁকি খেলাম। কিছুক্ষণ উপরে থাকার পর নিচের দিকে নামলো। অনেক জোরে আওয়াজ হলো।
মেশিন থেকে নেমে যে কান্ড দেখলাম তাতে হতবাক হয়ে গেলাম। ল্যাবের টাইলসগুলো ভেঙে গেছে। নতুন লাগাতে হবে। মোটরের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে মনে হয় বিজ্ঞানী আলবার্ট এসেছে। আমি দৌড়ে গিয়ে বিজ্ঞানী আলবার্টকে জড়িয়ে ধরলাম। মুহূর্তের মধ্যে আগের সব কিছু ভুলে গেলাম।
আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে অসম্ভবকে সম্ভব করাই মানুষের কাজ। তবে এজন্য আল্লাহর রহমত এবং সাহায্য অবশ্যই কামনা করতে হবে। হ

SHARE

Leave a Reply