Home প্রচ্ছদ রচনা মহান একুশে ফেব্রুয়ারি -শরীফ আবদুল গোফরান

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি -শরীফ আবদুল গোফরান

বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশ ও সাহিত্যে যেমন অপরিসীম গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বাংলাসাহিত্যের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের স্মৃতিময় ইতিহাসও বটে। হাজার বছরের জীবনবোধ, ধর্ম, নৈতিকতা ও জীবন সংগ্রামের নিখুঁত ছবি জীবন্ত হয়ে আছে আমাদের বাংলাসাহিত্যের পাতায় পাতায়। জন্ম থেকে শুরু করে বাংলাসাহিত্য কালপরিক্রমায় আজকের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বাংলা ভাষা আজ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাগুলোর একটি। ঐতিহাসিক বিশ্বস্বীকৃতি হিসেবে পৃথিবীর অষ্টম স্থানের অধিকারী।
বাংলাসাহিত্য আজ গুণগত বিচারে যেমন সমৃদ্ধ পরিসরের ব্যাপকতায়ও তেমনি বিস্তৃত ও বিশাল। পৃথিবীর উন্নত ভাষা ও সাহিত্যের মতোই বাংলা আজ সমৃদ্ধ, জীবন্ত ও মর্যাদার আসনে সমাসীন। বাংলা আজ একটি দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা ও অপর একটি দেশের অন্যতম ভাষা।
তোমরা কি বলতে পারো ভাষা কাকে বলে? ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশ করা। যেমন ধরো, আমরা যেভাবে হাসি, কাঁদি, কথা বলি, আমাদের মনে যে ভাব জন্মে তা অন্যের কাছে প্রকাশ করি। মূলত এটাই হলো ভাষা। পাখি, জীব-জন্তু ওরাও কথা বলে। ওরাও নিজের ভাব প্রকাশ করার জন্য নানাভাবে ডাকে, ওটাও তাদের ভাষা। সব পাখি, জীব-জন্তুর ভাষা বা মুখের ডাক যেমন এক নয় তেমনি প্রত্যেক দেশের মানুষের ভাষাও এক রকম নয়। এক এক দেশের ভাষা এক এক রকম। যেমন ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, এমনকি আমাদের বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন। তাহলে এবার বলতো আমাদের বাংলাদেশের ভাষার নাম কী? তোমরা হয়তো বলতে পারো একেবারে সোজাÑ হ্যাঁ আসলে তাই আমাদের বাংলাদেশের ভাষার নাম বাংলাভাষা। এ ভাষা আমাদের কে দান করেছেন জানো? আমাদের প্রিয় কবি ফররুখ আহমদের একটি গানের কলি থেকেই আমরা তা জেনে নিই।
ও আমার মাতৃভাষা বাংলাভাষা
খোদার সেরা দান
বিশ্বভাষার সভায় তোমার
রূপ যে অনির্বাণ।
এই ভাষা হলো আমাদের মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার দান। বিশ্বের বহুদেশ রয়েছে যেখানে গোত্রে গোত্রে সংঘর্ষ হয় সংগ্রাম হয়। কিন্তু ভাষার মর্যাদার বা ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম হয়েছে এমন দেশ আর তেমন বেশি কোথাও নেই। আমাদের বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। জীবন দিতে হয়েছে। ফলে আমাদের ভাষার মর্যাদা অনেক এবং এর মূল্যও অনেক বেশি।
যে জাতির ইতিহাস যত উন্নত সে জাতিও তত উন্নত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও অতীত ইতিহাস আছে। সে ইতিহাস হলো অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ফলে  আমাদেরকে জানতে হবে আমাদের ইতিহাস। যেতে হবে মূলে। সত্যিকার ইতিহাস উদ্ধার করতে হলে আমাদেরকে বের হতে হবে শেকড়ের সন্ধানে। আর তা হলো বাংলাভাষার মূল ইতিহাস।
প্রায় সাড়ে তেরো শ’ বছর ধরে এ ভাষাটি সচল ও সজীব। এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে বাংলাভাষা ও সাহিত্য এক দিকে যেমন প্রচুর বাধা বিপত্তি ও ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়েছে। আবার সাহায্য, সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতাও লাভ করেছে। এই ত্যাগ ও সাধনার কারণেই বাংলা আজকের যুগের একটি সপ্রাণ, সজীব, সচল, সমৃদ্ধ, সম্পদশালী, প্রাণবন্ত ও জীবন্ত ভাষা এবং বাংলাসাহিত্যও প্রাণবন্ত, সচল ও জীবনসাহিত্য।
এই ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। এই আন্দোলনের নাম ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবুল কাসেমের সম্পাদনায় তমুদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু শিরোনামে একটি পুস্তিকা বের হয়। তখন তমুদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদও গঠিত হয়। এ পরিষদ নানা সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাভাষার দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মজলিসের উদ্যোগে বাংলাভাষার দাবিতে পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘট এবং প্রদেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র ধর্মঘটও পালিত হয়। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১১ মার্চ একটি মাইলফলক। কিন্তু ১১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ এর মধ্যেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট। ২১ মার্চ তৎকালীন গভর্নর জেনারেল কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব বাংলায় সফরে এলেন। তখন কার্জন হলে আয়োজিত বক্তৃতায় রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু বলে ঘোষণা দেন। কায়েদে আযমের এ ঘোষণা ছিল এ দেশের মানুষের স্বপ্ন আকাক্সক্ষার ওপর প্রচন্ড আঘাত। তাই এ ঘোষণার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো দেশ। ফের শুরু হলো আন্দোলন। প্রতিবাদ প্রতিরোধে কেঁপে উঠলো সারা দেশ। ভাষার দাবিতে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ ও শ্লোগানে বাংলার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। মানুষ আশা করেছিল সরকার জনগণের দাবিকে মর্যাদা দেবে এবং বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে নেবে।
ঘটনা ঘটলো উল্টো, এরই মধ্যে ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো নিখিল পাকিস্তানের মুসলিম লীগের ঢাকা অধিবেশন। এখানে বক্তৃতা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় ঘোষণা করলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। দেশের মানুষ আরেকবার হতাশ হলো। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতিবাদে আবার জেগে উঠলো দেশ। ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় পালিত হলো প্রতিবাদ দিবস।
এখানেই থেমে থাকেনি দেশের মানুষ। তাদের ক্ষোভ ও বিদ্রোহ তীব্র হতে থাকল। ফলে ভাষার আন্দোলন আরো সংঘটিত হলো। ৩১ জানুয়ারি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবার জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে গঠিত হলো সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ নামে। শুরু হলো নতুন উদ্যমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ।
স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের অবকাঠামোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতচল্লিশ সাল এবং তার পরবর্তী রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ছিল আমাদের হাজার বছরের ভাষার লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার একটি অত্যুজ্জ্বল অধ্যায়। এই লড়াইয়ে জেতার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে গোটা জাতিকে। আন্দোলন, সংগ্রাম এমনকি জীবন দিতে হয়েছে অকাতরে। রক্তে লালে লাল করতে হয়েছে ঢাকার রাজপথ। এর ফলে জীবন পেয়েছে বাংলাভাষা, প্রতিষ্ঠা হয়েছে বাংলাভাষার অধিকার। তাহলে বাংলাভাষার অধিকারটা কী তা আমাদের জানার প্রয়োজন নয় কি? তা না জানলে যে আমরা ইতিহাসের একটা মূল্যবান অধ্যায় থেকে বাদ পড়ে যাবো। হারিয়ে যাবে এক সাগর রক্ত দিয়ে গড়া আমাদের জাতির মূল্যবান ইতিহাস। তাহলে চলো না আমরা ইতিহাসের পুরনো পাতাগুলা উল্টিয়ে দেখি।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটিই ছিল আমাদের ভাষার লড়াইয়ের দিন। এ দিনটি কিভাবে হলো জানো? তা হলে বলছি শোন।
তোমরা তো জানো, আমাদের দেশ থেকে ইংরেজ বেনিয়ারা বিদায় নেয়ার পর ১৯৪৭ সালে মুসলমানদের একটি নতুন দেশের জন্ম হয়েছিল। ঐ দেশটির নাম ছিল পাকিস্তান। এর এক অংশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আর অন্য অংশের নাম ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানই স্বাধীন হয়ে আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ। সেদিন পাকিস্তানের শাসকরা বলেছিলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ফলে এর প্রতিবাদ করেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। এক সাথে শ্লোগান উঠলো বাংলাই হবে আমাদের রাষ্ট্রভাষা। জীবন দেবো তবু ভাষা হারাবো না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পক্ষ থেকে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেশের সকল জ্ঞানীগুণী, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, কৃষক, শ্রমিক সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো আন্দোলনে। সরকার তা দমন করার জন্য পুলিশ লেলিয়ে দিলো। অবশেষে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে আশ্রয় নিলো নির্যাতনের। ছাত্র-জনতা সারা দেশব্যাপী বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। অবশেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে মিছিলে ছেয়ে গেলো ঢাকার রাজপথ। সরকার লাঠিপেটা করে থামাতে না পেরে মিছিলের ওপর গুলি চালালো। একপর্যায়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে ছাত্র মিছিলের ওপর গুলি চালালে তিনজন ছাত্রসহ ৪ ব্যক্তি শহীদ হন। আহত হন ১৭ জন। এ সময় ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের গুলিতে যারা শহীদ হন তাঁরা হলেনÑ রফিক উদ্দিন আহমদ (মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র), আবদুল জব্বার (গ্রামীণ কর্মচারী), আবু বরকত (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ ক্লাসের ছাত্র), মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএম ক্লাসের ছাত্র) এবং আবদুস সালাম (শুল্ক বিভাগের পিয়ন, আহত অবস্থায় ৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন)। ২২ তারিখ নিহতদের গায়েবানা জানাজা হয়। জানাজার পর লক্ষাধিক মানুষের এক বিশাল শোভাযাত্রা ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করে। সে দিনটা ছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে রক্তঝরা আন্দোলনের জন্ম হলো তার অভিব্যক্তি ঘটলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার আন্দোলনে। মূলত আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেরই ফসল। এ লড়াই ছিল আত্মমর্যাদার লড়াই। নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টির লড়াই। আর এ কারণেই ভাষা আন্দোলন ও ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে এত মূল্যবান। ভাষার ইতিহাস হলো আমাদের জন্য মূল্যবান ইতিহাস। এ ইতিহাস না জানলে আমাদের জানার মধ্যে অপূর্ণতা থেকে যাবে। আমাদের এই মহান ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জন বিশ্বের দরবারে আমাদের গৌরবকে অনেক উচ্চে তুলে ধরেছে। আমরা আরো বেশি গর্বিত হয়েছি যখন আমাদের ভাষা দেশের গন্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বের কাছেও স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাংলা এখন আন্তর্জাতিক ভাষার স্বীকৃতি পেয়ে  গৌরবের আরেক ধাপ উত্তীর্ণ হয়েছে। আর এ মহান কাজে যারা অবদান রেখেছেন তাঁরাও বাংলাদেশী। তারা এ জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বলতে পারো বিশ্বে বাংলাভাষাভাষী জনগণের সংখ্যা কত? প্রায় ৩০ কোটি। বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে পাকিস্তান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর বসবাস। মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি দেশ, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষাভাষী বসবাস করেন। জাতিসংঘ শান্তি বাহিনীর বাংলাদেশের বাংলাভাষাভাষী সৈনিকদের কাজকর্মের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আফ্রিকান দেশ সিয়েরা লিওন বাংলাভাষাকে সে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর আগে থেকে পাকিস্তান ও ভারতে বাংলাভাষা অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এদিক থেকে বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইতোমধ্যে মর্যাদার দাবিদার। জানো। জাতিসংঘ যেসব ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে তার বেশির ভাগই বাংলার চেয়ে কম প্রচলিত। ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে সাহিত্যে সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাভাষার কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বাংলাভাষাভাষী জনগণের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভাষার প্রতি বাংলাভাষাভাষী জনগণের দরদ বিশ্বের সকল ভাষায় সুরক্ষার ও যথাযথ স্বীকৃতির পথ দেখিছেন।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের ইউনিসেফের এক বৈঠক বসে প্যারিসে। সভার ১৮৮ জন সদস্যের সর্মথনে আমাদের ভাষা সেদিন অমর মর্যাদা লাভ করে। এর আগে বিশ্বের ২৮টি দেশ বাংলাভাষাকে জাতিসংঘে উত্থাপনের সমর্থন জানায়। বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাওয়ার পেছনে কানাডা প্রবাসী একদল বাংলাদেশী নাগরিকের অবদান ছিল সীমাহীন। তাদের সংগঠনের নাম ‘মাদার ল্যাংগুয়েজ মুভমেন্ট’।
বন্ধুরা, তোমরা তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে এত মূল্যবান কেন। প্রতি বছর একুশ এলেই আমরা জেগে উঠি আমাদের শহীদদের স্মরণ করতে। চলো না আমরা দু’হাত তুলে আমাদের জাতীয় বীরদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদেরকে বেহেশত নসিব করেন। হ

SHARE

Leave a Reply