Home তোমাদের গল্প লোভে যে ক্ষয় -ইমরান হোসাইন

লোভে যে ক্ষয় -ইমরান হোসাইন

সে  বহু আগের কথা। ছোট্ট এক পিঁপড়ে। শরীরে যেমন ছোট্ট, বয়সটাও তার অল্প। এ জগৎ সংসারের সবকিছু আজও সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। বস্তুতে বস্তুতে ভেদ-তফাতের জ্ঞানটাও তার রপ্ত হয়নি ভালোভাবে।
সেবার বাড়ি ফিরছিল সে। একা। সঙ্গে তার কেউ-ই নেই। সন্ধে ঘনিয়ে আসছে। কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে। সূর্যি মামা ডোবার আগে, বাসায় তাকে পৌঁছতেই হবে। জলদি জলদি হাঁটছে। হঠাৎ সে এক স্থানে থেমে পড়লো। সামনে কী যেন পড়ে আছে না? তাই তো। কাছে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। ভেবেচিন্তে দেখলো। না, চেনা তো যাচ্ছে না। আমি আমার পথে এগোই। কিন্তু না, বেশি পথ সে এগুতে পারলো না। হঠাৎ তার মনে হলো, কেন আরেকটু কি ভেবে দেখা যায় না, জিনিসটা আসলে কী? এবার সে উল্টো পথে আবার ফিরে যেতে লাগলো। ঠিক আগের জায়গায় এলো। খুব সতর্কতা বজায় রেখে ধীরে ধীরে পড়ে থাকা জিনিসটার কাছে ঘেঁষতে লাগলো। একেবারে কাছে এসে দেখলো জিনিসটা খাদ্যদ্রব্যের মতোই। ভাবলো, আচ্ছা, একটু চেখে দেখি কেমন লাগে? একি দারুণ মজা তো! এমন স্বাদ তো আর কোনো দিন পাইনি!
এবার যেন মুখ তোলার সময় নেই তার। চুষেই চললো একের পর এক মধুচাক। হঠাৎ কী যেন থামিয়ে দিল তার অবিরাম চোষাচাখা। “কিরে তোর বাড়ি ফিরতে হবে না? চারদিক থেকে অন্ধকার হু হু করে নেমে আসছে, তোর যে দেখি মোটেই চিন্তা নেই।” আসলে তাই তো, আমার না তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে? আবার সে দ্রুত হাঁটতে শুরু করলো বাসার উদ্দেশে। কিন্তু নাহ, বেশি দূর এগোনো যায়নি এবারও। সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না স্বাদের মধুচাকের কথা। মধুলোভ আবার তাকে টেনে নিয়ে এলো সেই মধু চাক পাশে। আগের মতোই আবার চোষা শুরু করলো। না, পাশে দাঁড়িয়ে চোষাচাখা কেমন যেন জমছে না। তাই এবার, সত্যি, সে মধুচাকের ভেতরেই ঢুকে পড়লো। ইচ্ছে মতো চোষাচাখার পর যখন পেট পুরে এলো এবার বের হবার পালা। কিন্তু তা কি আর সম্ভব? মধুচাকে ঝাঁপ দিলে পিঁপড়ে কি আর বের হতে পারে! হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত স্বাদের মধুচাকে ডুবে থাকতে হলো। সে আর মধুচাক থেকে মাথা বের করতে পারলো না।

“গল্প পড়া শিক্ষার জন্য” এ হলো গল্প পড়ার নীতি চিরন্তন। তাই এবার ভাবতে হয়, গল্পটা পড়ে শিক্ষাটা কী পেলাম? সোজাসাপটা বলে ফেলি, কেমন? দুনিয়ার ভোগ-আয়েশ, শখসুখ আর মধুমিষ্টিতে লোভাতুর হয়ো না কিছুতেই। এসবকে কেবলই ‘না’ বলে যাও। কেন, এসব যে তোমাকে পরকালবিমুখ ও আল্লাহর স্মরণ-ইবাদত থেকে গাফিল করে ছাড়বে। অথচ তোমার সবকিছু হতে হবে কেবলই আল্লাহর জন্য। আল্লাহরই স্মরণে। পরকালে পাওয়ার আশায়। কারণ, দুনিয়াটা যে একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। আর আখেরাতের সবকিছুই স্থায়ী চিরন্তন।

SHARE

Leave a Reply