Home গল্প বুলুমামু ও মিঠুয়া -ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ

বুলুমামু ও মিঠুয়া -ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ

ঘুম ভাঙতেই ধীরে ধীরে চোখ খুলে মিঠুয়া শুয়ে শুয়ে চারপাশে চোখ বোলায়। নিজের ঘরটিকে সে চিনতে পারছে না। এমনও কি হয়? ওতো শুয়েছে, তখন সব ঠিকঠাক ছিল। পড়ার টেবিলে এক পাশে বই-খাতা অন্য পাশে পেনসিল স্ট্যান্ড নানা রঙের কলম পেনসিল সাজানো। প্লাস্টিকের বাটিতে রয়েছে শার্পনার ও রাবার।
সকালেই কি করে ভোল পাল্টে গেল ঘরটির। ও বুঝি স্বপ্ন দেখছে, তাও তো নয়। পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, পড়ার টেবিলে দু’টি ব্যাগ ছাই আর লাল রঙের, অন্য পাশে মাঝারি দু’টি স্যুটকেস। সবার ওপরে ভীষণ রাগ হতে থাকে মিঠুয়ার। তার কোনও ঘর নেই বুঝি। ডাইনিং স্পেস, ব্যালকনি সবই তো রয়েছে। এ বেশ মজার ব্যাপার- ধাক্কা দিয়ে সব ঢুকিয়ে দাও মিঠুয়ার ঘরে।
ছোট তো, কিছুই বলবে না। যদি কখনো কিছু বলে ফেলে মা-কাকুর কী চোখ রাঙানি!
মিঠুয়ার মনে পড়ে, বাড়িতে যেতে হলে স্টেশনে যেতে হয়। কথাটি তাই ওর মনে পড়ে। ঘরে নানা ধরনের ব্যাগ-স্যুটকেস-ঝুড়ি। ট্রেনে ওঠার আগে মানুষ যেমন জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে এও ঠিক তেমনই। তার মানে বাড়িতে লোকজন এসেছে।
আজ শুক্রবার, ছুটির দিন ছোট বুকের ভেতরে জমিয়ে রাখা সব আনন্দ চুপসে যাওয়া বেলুনের মত এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল। খুব কান্না পায় ওর। ‘মা, ওমা আমি পড়ব কোথায়? আমার ঘরে দুনিয়ার জিনিস এনে রেখেছ কেন? কথাগুলো বলতে গিয়েও চুপ হয়ে যায় সে। হয়তো কোনো অসুবিধে হয়েছে বাড়িতে। আচমকা বাবার বলা গল্পটি মনে পড়ে যায়।
অফিসের কাজে একবার বাবাকে জাপান যেতে হয়েছিল। ফিরে এসেছেন সবার জন্য দারুণ দারুণ জিনিস নিয়ে। কত গল্প যে জমা হয়েছে বাবার ঝুলিতে। মিঠুয়ার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এ কথাটি জাপান দেশের মানুষ সব সময় অন্যের কথা ভাবে। কারো জন্য যেন কারো কোনো অসুবিধে না হয় এ কথাটি সবাই মনে রাখে। রাস্তায় বা লিফটে চলতে গেলেও ওরা এক পাশে হাঁটে যাতে যার তাড়া রয়েছে সে যেন আগে যেতে পারে। সে দেশে যদি একে অন্যের কথা ভাবে, আমিই বা ভাবব না কেন?
সব স্যুটকেস-ব্যাগ ঝুড়ি আমার ঘরে রেখেছ কেন শুনি? পড়ব কোথায়? স্যার এলে কোথায় বসব বলতো।
বুকের ভেতর ফেনিয়ে ওঠা কথাগুলো গিলে নেয় মিঠুয়া। মায়ের আদরে গলা ভেসে আসে, কিরে মিঠু উঠবি না? কতো বেলা হলো।
মুখ ধুয়ে খেতে আসে মিঠুয়া। টেবিলে সাজানো রয়েছে ফুলকো লুচি, বেগুন ভাজা আর আলুর দম, ধবধবে লুচি দিয়ে আলুর তরকারি খেতে খেতে ও দেখে, বাড়িতে নতুন দুজন মানুষ, ওই একজন দাদী আরেক জন মামা, বুলুমামা।
মামা কাকুদের আজকাল দেখলে ভীষণ ভয় পায় ও। তবে এ মামার বাইসেপ ফোলানো মজবুত শরীর নয়। হালকা পাতলা ছোটখাটো শরীর। মিঠুয়া নিজে রোগাপটকা তো-তাই ক্লাসের বন্ধুরা বলে, এই ফড়িঙের মতো ছুটোছুটি করে কোথায় যাচ্ছিস অ্যাঁ?
বন্ধুরা কত কী যে বলে সবই চুপচাপ হজম করে নিতে হয় ওকে। মনে কি কষ্ট হয় না মিঠুয়ার? হয় হয়, অনেক দুঃখ হয়, এইতো সেদিন ক্লাস টিচার বললেন, নাম তো তোর খুব বাহারি, তো শরীরের অবস্থা অমন কেন রে? খেতে পাস না নাকি?
মা কথায় কথায় অপমান শব্দটি বলেন, এতদিন কিছুই বুঝতে পারেনি ক্লাস থ্রিতে পড়া মিঠুয়া। স্যারের কথাটি শোনার পর থেকে বুকের ভেতরটা জ্বলতে থাকে, চোখ ভিজে যায়, কানে এসে বার বার ঝাপটা দেয় ছেলেদের হি হি হো হো হাসি, একেই বুঝি অপমান বলে।
এরপর থেকে বাড়িতে মোটামোটা কেউ এলে বেজায় মন খারাপ হয় ওর, তবে এই বুলুমামার হাড় জিরজিরে চেহারা দেখে বেশ লাগে। বুকের ভেতরে এখন আর তেমন দুঃখ নেই।
দুপুরে ভাত খেতে বসে বলে ভাত দাও, ওর মুখের দিকে তাকিয়ে মামা ফিক করে হেসে বলে, ও বড় বুবু খুব রেগে আছে তোমার ছেলে।
মিঠুয়া বলে, কে বলল রেগে আছি।
কে বলবে র‌্যা? আমি বলছি। সকাল থেকে দেখছি তো, মুখে হাসি নেই, কেউ যেন কালি মেখে দিয়েছে। মুখ তো নয় যেন ক্রিকেটের শক্ত বল।
হো হো করে হেসে ওঠে সবাই। মিঠুয়া ফিক করে হেসে বলে, মুখ আবার বলের মতো হয় নাকি?
আস্তে আস্তে মিঠুয়ার বুকের বরফ গলতে থাকে, বুলুমামা তো আর দশটা মানুষের মতো নয় একেবারেই অন্য রকম, শুধু তাই নয়; পাক্কা ম্যাজিশিয়ানও বটে। না হলে বুলুমামা ছোটদের মনের কথা কি করে এক পলকে বুঝে নিতে পারে, এ দারুণ ব্যাপার। কী ব্যাপার ভাগ্নে, এত রং পেনসিল নিয়ে বসেছ কি খুব আঁকছ নাকি?
ড্রয়িংয়ের খাতায় নানা ধরনের আঁকিবুঁকি দেখে মামা বলে উফ দারুণ ফ্যানটাসটিক, মিঠুয়া একদিন নামকরা আর্টিস্ট হবে, দেখে নিও বুবু, এ আমি হলফ করে বলে দিলাম।
মায়ের মুখে খুশির আভা, কেউ কোনো দিন ছেলের এত প্রশংসা করেনি তবে লজ্জায় লাল টুকটুক হয়ে ওঠে মিঠুয়া। সামনাসামনি এত প্রশংসা শুনতে কী করে ভালো লাগে।
একটি ছবিতে চোখ আটকে যায় মামার। বৃষ্টির ছবি। একদিন ঝুম ঝুম করে বৃষ্টি ঝরেছে। স্কুলে রেনিডের ছুটি হয়ে গেছে। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মিঠু দেখে রঙবেরঙের কত ছাতা। কেউ বা বর্ষাতি গায়ে চাপিয়ে ডুবে যাওয়া রাস্তায় ছপ ছপ করে এগিয়ে যাচ্ছে। গাছের পাতাগুলো একটানা ভিজে গাঢ় সবুজ হয়ে গেল। ঘরের ভেতর ছুটে গেছে মিঠুয়া। নাহ এ ছবি ওকে আঁকতে হবে।
বৃষ্টির ছবি দেখে মা-বাবা, ছোটকাকু মুমুআপু সে কি হাসি। কোন কিছু করলে বাড়িতে কেউ বলে না, বাহ বেশ হয়েছে তো। মিঠুয়া বড় হলে শিল্পী হবে।
এমন কথা শুনতে ভীষণ ইচ্ছে করে ওর। কেউ প্রশংসা করে না। এতেই অভ্যাস হয়ে গেছে ওর। কিন্তু বাবা যখন বললেন এটা কিসের ছবি রে মিঠু? মিঠুয়া অবাক বাবার মতো মানুষ, ছবিটি বুঝতে পারল না। বাবা কলেজে পড়ান, মোটা মোটা বই পড়েন। কত ছাত্রছাত্রী পড়তে আসে। আর এই ছবিটি বুঝতে পারলেন না!
মিঠুয়ার ছবি দেখে বাবা একেবারেই বুঝতে পারলেন না এটা কিসের ছবিÑ এও কি হয়? কিছুই তো ঠিকঠাক মতো চিনতে পারে না বাবা। নয়তো এ কথা বলে, এটা কী এঁকেছ মিঠু? খরগোশ? হরিণ? মেঘ?
মন খারাপ করা কণ্ঠে মিঠুয়া বলে, এটা খরগোশ হতে যাবে কেন বাবা? এটা তো কুকুর। বৃষ্টির দিন বলে ও গুটি শুটি হয়ে শুয়ে আছে। ছোটকাকু অবাক হয়ে বলেছে, বলছিস কিরে মিঠুয়া? আমি তো প্রিন্টেড জামা কাপড় ভেবেছি।
মনে মনে খুব রেগে গেল মিঠু।
স্যরি কাকু এটা মোটেও প্রিন্টেড জামা নয়। কাকু হারবার পাত্র নয়। বলল আর বৃষ্টি বুঝি লাল নীল সবুজ হলুদ হয়?
হয় হয় সে তুমি বুঝবে না ছোটকাকু। বড় বড় ফোঁটা ঝিরি ঝিরি রিনি রিনি করে কত রঙের বৃষ্টি ঝরে তা কি বড়রা দেখতে পায়? মিষ্টি মিষ্টি মেঘের দিনের ছবি ছোটরা শুধু ওদের চোখ দিয়ে দেখতে পারে। বাবা বলেন, গাছের পাতা হবে সবুজ, তুমি সব পাতাগুলোতে বিস্কিট রঙ দিয়েছ কেন?
মিঠুয়া বলে, একটি গাছের পাতায় তো সবুজও দিয়েছি। অন্য গুলোতে অবশ্য বিস্কিট রঙ। একদিন দাদুর হাত ধরে রমনা পার্কে গেছি, তখন দাদু বললেন এটি বছরের শেষ মাস, মাসটির নাম চৈত্র, গাছের নিচে জড়ো করা হলদে রঙের শুকনো পাতা, হু হু করে বাতাস বইছে। দাদু বলেন, এই তো বসন্তের পাগলা হাওয়া।
বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গেল অনেক শুকনো পাতা। ছবিতে তো আমি বসন্তের শুকনো পাতাই এঁকেছি। তোমরা বড়রা হুট করে বলে দিলে পাতাগুলো হলুদ হবে কেন? বৃষ্টি কি রঙিন হয় রে? হয় হয় তোমরা শুধু বড়রা দেখতে পাও না।
বুলুমামা ভুরু কুঁচকে চোখ বড় বড় করে কপালে ভাঁজ ফেলে এক সময় চেঁচিয়ে ওঠে ওহ মাই লাভলি মিঠুয়া, দারুণ এঁকেছিস। ফ্যানটাসটিক।
মামার খুশিতে মিঠুয়ার বুকের ভেতরটা আনন্দে উথলে ওঠে। একগাদা ব্যাগ স্যুটকেস ঝুড়ি নিয়ে এলে কি হবে বুলুমামা বড্ড সমঝদার মানুষ। বড়দের মতো নয়, একটু অন্যরকম। একেবারে মিঠুয়ার মনের কাছাকাছি। তাই চট জলদি ভাব হয়ে যায় মামার সঙ্গে। রাতে খেতে বসে অবাক কাণ্ড! মা একটি কাচের বাটিতে গরম গরম চারটে চপ ভেজে রেখেছেন। আরও ভাজা হচ্ছে। সবাইকে দেয়া হবে।
মুমুআপু, বাবা, ছোটকাকু সবাই বসা। মামা বলল, নাও নাও মিঠুয়া, চুপচাপ বসে আছ কেন?
মামার আঙুল ধরা ভক্ত হয়ে গেল মিঠুয়া, শুধু কি তাই? দাদীকেও দারুণ পছন্দ ওর, কাঁচা আমের ফালি দিয়ে কী চমৎকার ডাল রাঁধেন দাদী। অল্প করে মিষ্টি ছড়িয়ে দেন, তাই দারুণ মজাদার হয়ে যায়। আগে বাড়িটা ভীষণ ফাঁকা লাগত এখন ছুটির পর পরই বাড়িতে ফেরার জন্য মন আঁকুবাঁকু করে। ওরা আছে বলেই তো সবসময় বাড়িতে একটা উৎসব উৎসব ভাব। মা রাগ করাই ভুলে গেছে। হাসি হাসি মুখে দাদীকে বলে ও ছোটমামী একটু চেখে দ্যাখো তো ছানার ডালনার নুন হলুদ ঠিক আছে কিনা। ছোট মামী বলেন, আহা তুই যেন আর রাঁধিস না।
মায়ের মুখে এখন সারাক্ষণ হাসি। সে কি আর আমি রাঁধি? মেশিন রাঁধে ওভেনে ফুল পাওয়ার দিয়ে দশ বারো মিনিটে রান্না কমপ্লিট করে ফেলি।
যখন তখন চা বানানো, সাথে চানাচুর সর্ষের তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচো মেখে মুড়ি মাখা খাওয়া দারুণ দারুণ লাগে ওসব। আগে অমন ছিল না, সব কিছু সময় মেপে হতো।
আজকাল মিনিটে মিনিটে ছবি আঁকতে বসে যায়। রঙ পেনসিল দিয়ে পলকের মাঝে অনেক কিছু এঁকে নেয় মিঠুয়া, ওয়াটার কালারও আছে ওর। মামা খুশি খুশি গলায় বলে, সূর্য এঁকেছিস তাই না? আকাশে সাদা মেঘ, পুকুরে নীল নীল পানি অপূর্ব।
মামা ঠিক বুঝতে পারে। বাবা কাকুর মত আকাশের মেঘ দেখে বলে না কী এঁকেছিস রে? আকাশে কি হাতি থাকে? নয়তো সূর্য দেখে বলে লাল রঙের বল এঁকেছিস নাকি? মা লতানো গাছ দেখলেই বলে এটা কি লাউ না কুমড়ো লতা রে? সারাদিন রাঁধলে তো অমন হবেই, নীল নীল ফুল ফোটা অপরাজিতা লতা, কিংবা গোলাপি সাদায় মেশানো মাধবী লতার ঝোপকেও মা চিনতেই পারে না, এ ভুল কি তার বড় বলে, না রাঁধেন বলে মিঠুয়া ভেবে পায় না। তবে বুলুমামার কখনো ভাগ্নের ছবি চিনতে ভুল হয় না।
বাড়িতে ভিড়ভাট্টা বলে অন্য সময় ভীষণ রাগ করত ও। এখন দারুণ খুশি। তবে এও ঠিক টিচার পড়াতে এলে খুব অসুবিধে হয়। আজ ব্যালকনিতে, কাল ডাইনিং স্পেসে, পরশু মুমু আপুর ঘরে এই তো চলছে।
গম্ভীর মুখে বাবা মাকে বলেন, সত্যি ছেলেটার পড়াশুনার ঠিকমতো জায়গা দিতে পারছি না। আই অ্যাম সো স্যরি। সব সময় বাড়িতে অতিথি। মিঠুয়া দারুণ মুডে রয়েছে। বলল মামা আর দাদী অতিথি, আই মিন গেস্ট নয় বাবা, ওরা তো আপন জন। মা-বাবা অবাক হয়ে পাল্টে যাওয়া ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ও বলে কোনো অসুবিধে নেই। তুমি আমাকে একটি ফোল্ডিং চেয়ার টেবিল এনে দিও। জাম্পিং চেয়ার টেবিল নিয়ে খুব মজা করে পড়ব। দারুণ হবে। আজ এখানে কাল ওখানে।
মুমু আপুর জন্মদিনে আরও মজা হলো। যেখানে বুলুমামা সেখানে কি মজা না হয়ে পারে? মিঠুয়ার বন্ধুরা দেখে একেবারেই অবাক! চকোলেট কেক এর নকশা করা পুরো ক্রিম তুলোর মতো উড়ে উড়ে সে অভী-ইভান আর তুলুর গাল লেপে দেয়। বাবা বলতে থাকেন, বুলু কোথায় রে মিঠুয়া?
দাদীকে নিয়ে মামা মাদ্রাজে চলে গেছে। ভীষণ ফাঁকা লাগছে মিঠুয়ার।
টেবিলে এখন আর নানা পদের ব্রেকফাস্ট থাকে না, সেই কিশমিশ বাদাম ছড়ানো চিঁড়ের পোলাও, ধবধবে ফুলকো লুচি, মুচমুচে পরটা কিছুই আর নেই। বাবা কলেজের ক্লাস নিয়ে মহাব্যস্ত, কাকু গাঁয়ের বাড়িতে। মায়ের মুখের হাসি মুছে গেছে। মুমু আপু আগের মাতো মিঠুয়ার চুল টেনে দেয় ঝগড়া করে ওর সাথে। বাড়িটি কেন আগের মতো হয় না। সব সময় হাসি যখন তখন হৈ-হল্লা তেল নুন মেখে আগের মত আর মুড়ি খাওয়া হয় না কেন?
কী ক্ষতি হবে যদি নিঝুম বাড়িটি মাঝে মাঝে রেলস্টেশন হয়ে যায়। কতো রকমের মানুষ কেউ হা হা করে হাসে, কেউ গম্ভীর হয়ে থাকে, কেউ গুন গুন করে গান গায়।
মিঠুয়ার এখন আর কম্পিউটার, ভিডিও গেম কিছুই ভালো লাগে না। ব্যালকনিতে রাখা লাল রঙের টবের চন্দনকচুর পাতা মানিপ্যান্টের লতা নীরব দুপুরে দুলে দুলে ওঠে মিঠুয়ার বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে ওঠে।
মিঠুয়া মামাকে মনে মনে বলে, তুমি তো এক দারুণ মজার মানুষ মামা। আমার কথা কি শুনতে পাচ্ছ। আমাদের বাড়িটি কমলাপুর রেলস্টেশন বানাতে আবার আসবে না? শুনতে পাচ্ছ? শোঁ শোঁ করে একরাশ হাওয়া ঝাপটা দিয়ে ছুঁয়ে যায় মিঠুয়াকে, মামা যেন  বাতাসে খবর পাঠাল, এই তো আমি ভাগ্নে! সময়-সুযোগ করে আবার আসবো তোমার কাছে।
এ কথা শুনে মিঠুয়ার মনে আবার খুশির জোয়ার উঠলো যেন!
আসলে সত্যিই মামার মতো এত মজার মানুষ মিঠুয়া এর আগে আর কখনো দেখেনি। মামার স্মৃতিটা মিঠুয়ার চোখে বারবার ভেসে ওঠে।

SHARE

Leave a Reply