Home তোমাদের গল্প স্বপ্ন -মোস্তফা কামাল

স্বপ্ন -মোস্তফা কামাল

মানিক মিয়া। একজন সহজ সরল মানুষ। স্ত্রী, পুত্র আর এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বাপ-দাদার সম্পত্তি বলতে তিন বিঘা ধানের জমি আর মাথা গোঁজার ভিটামাটিটুকু। সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুরের আজিমপুরে তার বসবাস। জমিতে যে বছর ফসল ভালো হয় সে বছর মানিক মিয়ার সংসারের সুখ দেখে কে। আর যে বছরে ফসল ভালো হয় না, পরের বাড়িতে কামলার কাজ করে দিন গুজরান করতে হয়। তারপরও মানিক মিয়ার কোনো দুঃখ নেই। মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে জহির গ্রামের বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগী। প্রতিবারই ভালো রেজাল্ট করে জহির। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে অনেক মজা করবে, ঘুরবে, খেলবে, চড়ুইভাতি করবে। বন্ধুরা মিলে অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছে। পরীক্ষার সময় চলে এলো। জহির ভালোভাবে পরীক্ষা শেষ করলো, যেদিন পরীক্ষা শেষ করলো ঐদিন ছয়জন বন্ধু মিলে একটি পরিকল্পনা করলো।
সেটা হলো- পরদিন মাঠের পশ্চিম-উত্তর কোণে বড় বটগাছের নিচে তারা বনভোজন করবে, একসাথে মজা করে রান্না করে খাবে। তাই মিলন, বকুল, জসিম, মুক্তার, আলম ও জহির ছ’জনে সকালে পরিকল্পনা অনুযায়ী বটগাছের কাছে জড়ো হলো। জহির সবাইকে কাজ ভাগ করে দিল। কেউ রান্না করবে, কেউ লাকড়ি সংগ্রহ করে আনবে। আবার কেউ দিঘি থেকে পানি নিয়ে আসবে, সকলে জহিরের কথা মতো কাজ করছে। এক সময় রান্না হয়ে গেল। সবাই মজা করে খেয়ে দাঁড়িয়াবান্ধা খেলায় মেতে উঠলো। খেলতে খেলতে সন্ধ্যা হয়ে এলো, সকলে বাড়ির দিকে পা বাড়াবে।
তারা যখন বাড়ির পথে পা বাড়াল তখন মসজিদের মিনার থেকে ভেসে এলো আজান। ঘুম ঘুম চোখে যখন বাড়ির দরজায় পা রাখল তখন জহিরের মা দরজা খুলে দিয়ে বলল, বাবা সারাদিন তুমি কোথায় ছিলে? বিস্ময়ে তার মায়ের চেহারা মলিন হয়ে গেল।
পরদিন জহির দুপুর পর্যন্ত ঘুমাল। দুপুরে খাবারের জন্য জহিরের মা জহিরকে ডাকলো। খাবার খেতে খেতে তার মা অনেক প্রশ্ন করল।
অভাবের সংসারে তিনবেলা ভালো করে খেতে পর্যন্ত পায়নি, বহু কষ্টে লেখাপড়া করতে হয়। বাবার জীর্ণ দেহ, মায়ের পরনে ছেঁড়া কাপড়- নানান ভাবনা-চিন্তা তার মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো।
সেদিন সকালে ছয় বন্ধু আবার বটতলায় মিলিত হলো। তারা সিদ্ধান্ত নিল এখন থেকে শুধু খেলা আর খেলা নয়, সুন্দরভাবে জীবন গড়া যায় কিভাবে সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। অনেক বড় হতে হবে। এজন্য বৃথা সময় নষ্ট না করে ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে। জীবনটাকে গড়তে হবে। এই স্বপ্ন নিয়ে তারা বটতলা থেকে বাড়ির দিকে রওনা হলো।

SHARE

Leave a Reply