Home উপন্যাস আল কেমিস্ট -মূল : পাউলো কোয়েলহো অনুবাদ : আসিফ...

আল কেমিস্ট -মূল : পাউলো কোয়েলহো অনুবাদ : আসিফ হাসান

ছেলেটার নাম স্যান্টিয়াগো। ভেড়ার পালটা নিয়ে পরিত্যক্ত গির্জার কাছে সে যখন পৌঁছালো, তখন চার দিক অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। যেখানটায় একসময় পোশাক রাখা হতো, সেখানে এখন ডালপালা মেলা আস্ত একটা ডুমুরগাছ গজিয়ে গেছে।
রাতটা সেখানেই কাটাবে বলে স্থির করল ছেলেটা। ভাঙা দরজা দিয়ে সব ক’টা ভেড়া ঢোকা পর্যন্ত সে সেখানে অপেক্ষা করল। তারপর কয়েকটা তক্তা এনে দরজাটা বন্ধ করে দিল। এই এলাকায় নেকড়ে নেই। ভেড়াগুলো রাতে যাতে হেঁটে বেড়াতে না পারে, তা-ই এ ব্যবস্থা। একবার রাতে একটা ভেড়া হাঁটতে বের হয়েছিল, পরের সারাটা দিন তাকে খুঁজে বেড়াতে হয়েছিল।
ছেলেটা তার জ্যাকেট দিয়েই ফ্লোরটা ঝাড়ল, তারপর মাত্র শেষ করা বইটাকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে পড়ল। নিজে নিজেই সে বলল, তাকে আরো মোটা বই পড়তে হবে : যত মোটা হয়, তত টেকসই থাকে, বালিশের কাজটা চলে আরো ভালো।
যখন তার ঘুম ভাঙল, তখনো ফর্সা হয়নি। আধভাঙা ছাদ দিয়ে তারা গোনা যাচ্ছিল।
আরেকটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হতো, সে ভাবল। এক সপ্তাহ আগে ঠিক এই স্বপ্নটাই দেখেছিল সে এবং সেবারও সেটা শেষ হওয়ার আগেই জেগে গিয়েছিল।
গা-ঝাড়া দিয়ে উঠল, লাঠিটা নিয়ে তখনো ঘুমিয়ে থাকা ভেড়াগুলোকে জাগাল। সে লক্ষ্য করল, সে জেগে ওঠামাত্র বেশির ভাগ ভেড়াও পিট পিট করে তাকাতে শুরু করে দিয়েছে। দুই বছর ধরে সে রাখালগিরি করছে। ভেড়ার খাবার আর পানির ব্যবস্থা করতে তাকে একটার পর একটা এলাকায় পাল নিয়ে ছুটতে হয়েছে। মনে হচ্ছে, কোনো একটা রহস্যময় শক্তি ভেড়াগুলোর সাথে তার জীবনকে জুড়ে দিয়েছে। ‘মনে হয় তারা আমার শিডিউলে অভ্যস্ত হয়ে গেছে,’ সে বিড়বিড় করে বলল। এক মিনিট চিন্তা করে অন্য একটা বিষয় বুঝতে পারল যে, আসলে সে নিজেই তাদের শিডিউলে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
তার ধারণা ভেড়াগুলো তাকে বোঝে। তা-ই সে বই পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে তাদেরকে পড়িয়েও শোনায়। সে তার একাকিত্বের কথা বলে, যে গ্রাম দিয়ে চলে, সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে তার চিন্তাভাবনা জানায়।
তবে কয়েক দিন ধরে ভেড়াগুলোকে সে কেবল একটা কথাই বলেছে : বোনের মতো দেখতে ওই মেয়েটার কথা। আর মাত্র চার দিন পর সে ওই গ্রামে যাবে ভেড়ার পশম বেচতে। এক বছর আগেও একবার সেখানে গিয়েছিল সে। পশম ব্যবসায়ী বেশ হুঁশিয়ার লোক। কেউ যাতে তাকে ঠকাতে না পারে, সে জন্য তার সামনেই ভেড়ার পশম কাটতে হয়।

ছেলেটা যখন ওই ব্যবসায়ীর কাছে গিয়েছিল, তখন তিনি ছিলেন খুবই ব্যস্ত। ফলে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সময় কাটাতে ব্যবসায়ীর বাড়ির পাশে বসে বই পড়ছিল।
‘রাখাল বালকেরাও পড়তে পারে, আমার জানা ছিল না,’ একটা মেয়ে কথা বলে উঠল তার পেছন থেকে।
মেয়েটাকে দেখলেই বোঝা যায়, সে আন্দালুসিয়া এলাকার। তাকে দেখলে স্পেনের মুসলমান বিজয়ীদের কথা মনে করিয়ে দেয়।
‘আসলে কী, আমি বইয়ের চেয়ে আমার ভেড়াগুলোর কাছ থেকেই অনেক বেশি শিখি,’ জবাব দিয়েছিল ছেলেটি।
তারা দুই ঘণ্টা কথা বলেছিল। একপর্যায়ে সে বলেছিল, সে হলো পশম ব্যবসায়ীর মেয়ে। সে গ্রামের কথা বলেছিল, এখানকার প্রতিদিনই অন্য দিনের মতো। রাখাল বালক তাকে আন্দালুসিয়া এলাকার প্রান্তরগুলোর কথা বলছিল। কোন কোন শহরে সে গিয়েছিল, সে কথা শুনিয়েছিল। ভেড়া চরিয়ে যে সে খুশি, সে কথাও জানিয়েছিল।
‘তুমি কিভাবে পড়তে শিখলে,’ মেয়েটি জিজ্ঞাসা করেছিল।
‘অন্য সবাই যেভাবে শেখে,’ তার জবাব। ‘স্কুলে।’
‘আচ্ছা, তুমি যদি পড়তেই জানো, তবে রাখালগিরি করছ কেন?’
ছেলেটা বিড়বিড় করে একটা জবাব দিল। এতে করে প্রসঙ্গ পাল্টাবার সুযোগ পেয়ে গেল। সে নিশ্চিত ছিল, মেয়েটা বুঝতে পারেনি। সে তার সফরনামা বলে চলল, এতে চোখ দুটি ভয় আর বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে উঠছিল।

আর চার দিন পর ওই গ্রামেই পৌঁছাবে সে। সে উত্তেজিত ছিল, কখনো অস্বস্তি ভর করেছিল:  বোনের মতো দেখতে সেই মেয়েটা কি তাকে ভুলে গেছে? অনেক রাখালই তো যায় পশম বেচতে।
সকাল হচ্ছিল। ছেলেটি ভেড়াগুলোকে সূর্যের দিকে মুখ করে চালাতে লাগল। তার মনে হলো, ভেড়ারা কখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ কারণেই তারা সবসময় আমার কাছে থাকে।
ভেড়াদের মাথায় থাকে কেবল খাবার আর পানির চিন্তা। ছেলেটি যত দিন আন্দালুসিয়ার সেরা প্রান্তরগুলোর কথা জানবে, তত দিন তারা তার বন্ধু থাকবে। তাদের দিনগুলো সবই একরকম, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সীমাহীন সময়। তারা কখনো বই পড়েনি। শহরে ছেলেটা যা যা দেখে তাদের জানিয়েছে, তারা কিছুই বুঝতে পারেনি। তারা কেবল খাবার আর পানির কথা ভেবেছে। বিনিময়ে তারা উদারভাবে পশম দিয়ে যাচ্ছে, আর দিচ্ছে সঙ্গ এবং তাদের গোশত।
আমি একটা দৈত্যে পরিণত হয়ে তাদেরকে হত্যা করতে থাকি, তবে বেশির ভাগ মারা যাওয়ার আগে তারা ব্যাপারটা বুঝতেই পারবে না, ভাবল ছেলেটা। তারা আমাকে বিশ্বাস করে। আমি তাদের পুষ্টির ব্যবস্থা করি বলে তারা নিজেদের বেঁচে থাকার বুদ্ধি খুইয়ে ফেলেছে।
নিজের চিন্তাভাবনায় ছেলেটা নিজেই হতবাক হয়ে গেল। যে চার্চে সে রাত কাটালো, সেখানকার কিছু তার ওপর আছর করেনি তো! এখানে থাকতে গিয়েই তো সে দ্বিতীয়বার স্বপ্নটি দেখল। আর তাতেই তার বিশ্বাসী সঙ্গীদের ওপর রাগ জমল।
দুই বছর ধরে আন্দালুসিয়ার প্রান্তরগুলো ঘুরেছে সে। সে এই এলাকার সব নগর চেনে। ১৬ বছর পর্যন্ত সে স্কুলে গেছে। তার মা-বাবা চেয়েছিলেন, ছেলে পাদ্রি হোক। সে ল্যাতিন, স্প্যানিশ আর ধর্মতত্ত্ব শিখেছে। তবে শৈশব থেকেই সে বিশ্বকে দেখতে চেয়েছে। খ্রিস্টধর্মের চেয়ে পৃথিবীটা চেনাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। একদিন সে বাড়ি ফিরে বাবাকে বলে ফেলল, সে পাদ্রি হতে চায় না। সে চায় মুসাফির হতে।

‘বাবা, সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের এই গ্রাম দিয়ে পথ চলে,’ তার বাবা বলেছিলেন। ‘তারা নতুন কিছুর সন্ধান করে। কিন্তু তারা যখন চলে যায়, তখন যেমন লোক হিসেবে এসেছিল, ঠিক তেমন লোক হিসেবেই চলে যায়। তারা প্রাসাদ দেখার জন্য পাহাড়ে চড়ে। তার ভাবে, অতীত দিন কতই না ভালো ছিল। তাদের ছিল কুঁচকানো চুল, গাঢ় ত্বক। আসলে ঠিক এখন আমরা যেমন আছি, তারা তেমন লোকই ছিল।’
‘কিন্তু শহরের যেসব প্রাসাদে তারা থাকত, আমি সেগুলো দেখতে চাই,’ ছেলেটি বলেছিল।
ছেলে বলেছিল, আমি রাখাল হবো।
বাবা আর কথা বলেনি। পরদিন তিনি ছেলেকে তিনটি প্রাচীন স্প্যানিশ স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলেন।
‘আমি এগুলো একদিন মাঠে পেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, এগুলো হবে তোমার উত্তরাধিকারের অংশ। যা-ই হোক, এখন এগুলো দিয়ে একটা ভেড়ার পাল কিনে না-ও। তারপর চলে যাও মাঠে। কোনো দিন তুমি তোমার পল্লীভূমি ভালোভাবেই বুঝতে পারবে। তিনি ছেলেটিকে আশীর্বাদ করলেন। ছেলেটা তার বাবার চোখে ভালো করে তাকালে দেখতে পারত, সেখানেও রয়েছে দুনিয়া দেখতে সক্ষমতা অর্জনের আকাক্সক্ষা- ওই আকাক্সক্ষা তখনো সজীব ছিল, যদিও অনেক বছরের ব্যাপ্তিতে বাবাকে সেটা কবর দিতে হয়েছিল প্রতিটা দিনের খাবার, পানীয় আর রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থাটি নিশ্চিত করার জন্য।
সূর্যটা হঠাৎ করেই যেন মাথার ওপর হাজির হলো। ছেলেটা তার বাবার সাথে তার সেই স্মৃতি মনে করে খুশি হলো। এর মধ্যেই সে অনেক দুর্গ দেখে ফেলেছে। যদিও তাদের কেউই আর কয়েকটা দিন পর যার সাথে দেখা হওয়ার কথা রয়েছে, তার মতো নয়। তার বিক্রি করার মতো আছে একটা জ্যাকেট, একটা বই আর একপাল ভেড়া।  তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি দিন সে স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। আন্দালুসিয়ার মাঠ-ঘাট আর ভালো না লাগলে সে তার সব ভেড়া বিক্রি করে জাহাজে উঠতে পারে।
যা-ই করুক না কেন, সে সবসময় নতুন পথ ধরে। ওই যে ভাঙা চার্চে সে রাত কাটাল, সেখানে আগে কখনো যায়নি সে, অথচ কাছাকাছি এলাকা দিয়ে অনেকবার পথ চলেছে। দুনিয়াটা বিশাল, অফুরন্ত। কেবল ভেড়াগুলোকে একদিকে ঠেলে দিয়ে নতুন কিছু খুঁজে নিতে হয় তাকে। তবে ভেড়ারা কিন্তু বুঝতেই পারে না, তারা নতুন মাঠে এসেছে, মওসুম বদলে গেছে। তারা ভাবে কেবল খাবার আর পানির কথা।
হয়তো আমরা সবাই এমনই, ছেলেটার মনে হলো। সূর্যের দিকে তাকাল সে। দুপুরের আগে তারিফায় পৌঁছানো যাবে না। সেখানে তার বইটা বদলে আরো ভারী একটা নিতে পারবে, বোতলে পানীয় ভরতে পারবে, চুল-দাড়ি কামিয়ে মেয়েটার সাথে দেখা করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। হঠাৎই তার মনে হলো, তারিফায় এক বৃদ্ধা আছেন, যিনি স্বপ্নের অর্থ বলতে পারেন।

বৃদ্ধা নারীটি ছেলেটিকে তার বাড়ির পেছনের একটা রুমে নিয়ে গেলেন। একটা পুঁতির পর্দা দিয়ে অন্য রুম থেকে আলাদা করা। তারপর তার দুই হাত টেনে নিলেন, শান্তভাবে মন্ত্র পড়তে লাগলেন। বৃদ্ধাকে দেখে জিপসিদের কথাই তার মনে হতে লাগল।
‘দারুণ তো,’ নারীটি বললেন, ছেলেটির হাত দু’টি এক পলকের জন্যও না ছেড়ে। তারপর চুপ হয়ে গেলেন।
ছেলেটি নার্ভাস হয়ে পড়ল। তার হাতগুলো কাঁপতে লাগল, বৃদ্ধা বুঝতে পারলেন। তিনি হাত ছেড়ে দিলেন।
‘আপনি আমার হস্তরেখা পড়বেন, সেজন্য আমি আসিনি,’ সে বলল। এখানে আসার জন্য এর মধ্যেই তার মনে অনুশোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সে তার স্বপ্নের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছিল।
‘তুমি এসেছো, স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনতে,’ বৃদ্ধা বললেন।
‘আর স্বপ্ন হলো ঈশ্বরের ভাষা। তিনি যখন আমাদের ভাষায় কথা বলেন, আমি তা বুঝতে পারি। কিন্তু তিনি আত্মার ভাষায় কথা বলে থাকলে তা কেবল তুমিই বুঝতে পারবে। তবে যা-ই হোক না কেন, তোমার কাছ থেকে ফি নেবো।’
আরেকটা চালাকি, ছেলেটা ভাবল। তবে একটা সুযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। রাখালরা সবসময়ই সুযোগ নেয়, নেকড়েদের বিরুদ্ধে, খরার বিরুদ্ধে। আর এ কারণেই রাখালেরা এখনো টিকে আছে।
‘আমি একই স্বপ্ন দুবার দেখেছি,’ সে বলল। ‘আমি দেখেছি, আমি আমার ভেড়া নিয়ে মাঠে আছি, তখন একটা শিশু এসে আমার ভেড়াগুলোর সাথে খেলতে শুরু করল। এমন কাজ কেউ করুক, আমি চাই না। কারণ নতুন কাউকে দেখলে ভেড়ারা ভয় পায়। কিন্তু শিশুরা সবসময়ই ভেড়াদের ভয় না পাইয়েই তাদের সাথে খেলতে পারে। আমি জানি না কেন। আমি জানি না, ভেড়ারা কিভাবে মানুষের বয়স জানে।’ ‘স্বপ্নটি সম্পর্কে আমাকে আরো কিছু বলো,’ বললেন বৃদ্ধা। আমাকে রান্না করতে হবে। আর তোমার কাছে যেহেতু বেশি টাকা নেই, আমি তোমাকে বেশি সময় দিতে পারব না।’
‘শিশুটা আমার ভেড়াগুলোর সাথে অনেকক্ষণ খেলা করল,’ ছেলেটা বলে  চলল, একটু কষ্টস্বরে। ‘আর হঠাৎ করে, শিশুটা আমার দুই হাত ধরে আমাকে মিসরের পিরামিডে নিয়ে গেল।’
একটু দম নিল ছেলেটা, দেখতে চাইল, ওই নারী মিসরের পিরামিড চেনে কি না জানার জন্য। তিনি কিছুই বললেন না।
‘তারপর, মিসরের পিরামিডে,’ সে শেষ শব্দ তিনটি বলল খুবই আস্তে, যাতে বৃদ্ধা বুঝতে পারেন- ‘শিশুটি আমাকে বলল, এখানে এলে গুপ্তধন খুঁজে পাবে।’ আর যেই মুহূর্তে সে আমাকে ঠিক জায়গাটা দেখিয়ে দিতে চেয়েছিল, ঠিক তখনই ঘুম ভেঙে গেল। দুবারই।
বৃদ্ধা কিছু সময় নীরব থাকলেন। তারপর আবার ছেলেটার হাত টেনে নিলেন, সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করলে লাগলেন।
‘আমি ঠিক এখনই তোমার কাছ থেকে ফি নিচ্ছি না,’ তিনি বললেন। ‘তবে তুমি যদি গুপ্তধন খুঁজে পাও, আমি তার দশ ভাগের এক ভাগ চাই।’
ছেলেটা হাসল, খুশিতে ডগমগ করে উঠল। যাক বাবা, যে সামান্য ক’টা টাকা আছে, হাতছাড়া হচ্ছে না, স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে।
‘ঠিক আছে, তাহলে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করুন,’ সে বলল।
‘প্রথমে আমার কাছে ওয়াদা করো। আমি যা বলছি, তার বিনিময়ে আমাকে তোমার পাওয়া গুপ্তধনের দশ ভাগের এক ভাগ দেবে।’
রাখাল ওয়াদা করল। বৃদ্ধা আবার তাকে ওয়াদা করতে বললেন যিশুর নামে।
‘এই স্বপ্নটা দুনিয়ার ভাষায়,’ বৃদ্ধা বললেন। ‘আমি এর ব্যাখ্যা করতে পারব। তবে ব্যাখ্যাটা খুবই জটিল। এ কারণে আমি আমার ভাগ চাইছি।’
‘আর আমার ব্যাখ্যা হলো : তুমি অবশ্যই মিসরের পিরামিডে যাবে। আমি ওগুলোর নাম কখনো শুনিনি, তবে কোনো শিশু তোমাকে সেগুলো দেখিয়ে থাকলে, সেগুলো অবশ্যই আছে। সেখানে তুমি গুপ্তধন পেয়ে ধনী হয়ে যাবে।’
ছেলেটি বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেল। তারপর বিরক্ত হলো। এই কথা শোনার জন্য তার এই বৃদ্ধার কাছে আসার দরকার ছিল না। অবশ্য তার এটাও মনে পড়ল, তাকে এই বৃদ্ধাকে কিছুই দিতে হবে না।
‘এই কাজে অপচয় করার মতো সময় আমার নেই,’ সে বলল।
‘আমি তোমাকে বলেছি, তোমার স্বপ্নটা ছিল খুবই কঠিন। সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা আসলে জীবনের সবচেয়ে সহজ বিষয়; কেবল জ্ঞানীরাই পারে সেগুলো ব্যাখ্যা করতে। আর আমি যেহেতু জ্ঞানী নই, সেজন্য আমাকে হস্তরেখা বোঝার মতো অন্য অনেক শিখতে হয়েছে।’
‘ঠিক আছে, আমি কিভাবে মিসর যাবো?’
‘আমি কেবল স্বপ্নের ব্যাখ্যা করি। সেগুলো কিভাবে বাস্তবে পরিণত হবে, জানি না। আর এ কারণেই আমার মেয়েরা যতটুকু খাবার খেতে দেয় আমাকে, আমি তা খেয়েই কোনোমতে বেঁচে আছি।’
‘আর আমি যদি মিসর না যাই?’
তবে আমি ফি পাবো না, এমনটা আরো অনেকবার হয়েছে।’
তারপর বৃদ্ধা তাকে চলে যেতে বললেন, তার পেছনে এর মধ্যেই অনেক সময় তার অপচয় হয়ে গেছে।
এতে ছেলেটা হতাশ হলো; সে সিদ্ধান্ত নিল, আর কখনো সে স্বপ্ন বিশ্বাস করবে না। তার মনে পড়ল, তার অনেক কিছু করার আছে। তাকে প্রথমে বাজারে গিয়ে খেতে হবে, তার বইটা বদলাতে হবে। সে বাজারে গিয়ে একটা বেঞ্চ দেখতে পেল। দিনটা ছিল গরম। একটু গলা ভেজালে হয় না? ভেড়াগুলো সে নগরীর গেটের কাছে তার বন্ধুর খোঁয়াড়ে রেখে এসেছে। এই শহরের অনেককে সে চেনে। যেখানেই সে যায়, অনেককেই বন্ধু বানিয়ে নিতে পারে।
রোদ একটু কমা পর্যন্ত সে সেখানেই বসে থাকতে চাইল। বইটি বের করে পড়তে শুরু করল। হঠাৎ এক বুড়ো লোকের আওয়াজ শুনল, কখন যেন লোকটি ওই বেঞ্চে এসে বসেছে। ‘এখানে লোকজন কী করছে?’ জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।
‘কাজ করছে,’ ছেলেটি কঠিনভাবে বলল। ভাব দেখালো, কথা বলার ইচ্ছা নেই, সে চাচ্ছে বইটা পড়তে। বুড়ো লোকটি কিন্তু কথা চালিয়ে যেতে চাইলেন। তার মধ্যে এমন কিছু ছিল, যা ছেলেটা এড়াতে পারছিল না। ছেলেটার হাতের বইটা নেড়েচেড়ে তিনি বললেন, ‘বিশ্বের সব বই যা বলে, এখানেও তা বলা হয়েছে : মানুষ তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো : আমাদের ওপর যা ঘটছে, সে ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমরা ভাগ্যের পুতুল হয়ে যাই। তবে তোমার অবস্থা কিছুটা ভালো। কারণ তুমি সফর করতে ভালোবাসো।
লোকটাকে আরব দেশীয় বলে মনে হলো। এ ধরনের লোক স্পেনের এই অঞ্চলে তেমন দেখা যায় না। তারিফা থেকে আফ্রিকা কয়েক ঘণ্টার পথ। নৌকায় একটা ছোট প্রণালী পার হলেই হলো। আরবরা মাঝে মাঝে আসে কেনাকাটা করতে।
আপনি কোথা থেকে এসেছেন?
অনেক জায়গা থেকে। আমার জন্ম সালেমে।
ছেলেটা জানে না, সালেম কোথায়। তবে তাকে মূর্খ ভাবতে পারে, এজন্য সে জিজ্ঞাসাও করল না, সালেম কোথায়। তবে কৌশলে জানতে চাইল, সালেম দেখতে কেমন?
জবাব এলো, সবসময় যেমন, তেমনই।
সালেমে আপনি কী করেন?
আমি কী করি? লোকটা হাসলো। ‘আমি সালেমের রাজা।’
মানুষজন তো কত আবোল-তাবোল বকে, ছেলেটা ভাবলো। এসব লোকের চেয়ে ছাগল-ভেড়াই ভালো, ওগুলো কোনো কথাই বলে না।
‘আমার নাম মেচিজেদেক,’ লোকটা বললেন। ‘তোমার কয়টা ভেড়া আছে?’
‘অনেক।’
‘অনেক থাকলে তোমাকে সাহায্য করার কিছু নেই।’
ছেলেটা অস্বস্তিতে পড়লো। সে তো সাহায্য চায়নি।
‘তোমার ভেড়াগুলোর ১০ ভাগের এক ভাগ আমাকে দিয়ে দাও, আমি তোমাকে বলে দেব, গুপ্তধন কিভাবে পাবে।’
তখনই ছেলেটার স্বপ্নের কথা মনে পড়লো। সবকিছু তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। বৃদ্ধা তার কাছে নগদ কিছু চাননি। হয়তো এই লোকটি তার স্বামী। তিনি অস্তিত্বহীন গুপ্তধনের কথা বলে তার কাছ থেকে কিছু হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে ছেলেটা কিছু বলার আগেই বুড়ো লোকটা তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে প্লাজার বালিতে কিছু লিখতে শুরু করে দিলেন। তার বুক থেকে প্রতিফলিত উজ্জ্বল কিছুর তীব্রতা এত ছিল যে, ছেলেটার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। একটু পর বুড়ো লোকটির লেখা পড়তে পারল সে। তাতে তার বাবা, মা আর যে স্কুলে সে পড়েছে, তার নাম লেখা রয়েছে। এমনকি ওই যে পশম ব্যবসায়ীর মেয়ে, তার নামও রয়েছে। এসব কথা সে কাউকে কোনো দিন বলেনি, সবই তাতে লেখা রয়েছে!

‘আমি সালেমের রাজা,’ বুড়ো লোকটি বললেন।
‘আপনি রাজা হলে একটা রাখাল ছেলের সাথে কথা বলছেন কেন?’
‘অনেক কারণে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো, তুমি গুপ্তধন পাবে।’
তিনি বলে চললেন, ‘তরুণ অবস্থায় প্রত্যেকে তাদের নিয়তি জানে। তারা স্বপ্নকে ভয় পায় না। কিন্তু সময় গড়িয়ে যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারে, স্বপ্নের নাগাল তারা পাবে না।’
যা-ই হোক, তুমি যদি গুপ্তধনের সন্ধান পেতে চাও, তবে কাল তোমার ভেড়ার ১০ ভাগের এক ভাগ নিয়ে আসবে। আমি তোমাকে গুপ্তধনের সন্ধান দেব। বিদায়। লোকটা লোকজনের মাঝে হারিয়ে গেলেন।

ছেলেটা তখন অনেক কিছু ভাবল। যাবে কি গুপ্তধনের সন্ধানে? যাওয়াটা কি ঠিক হবে?
পরদিন ঠিকই সে ছয়টা ভেড়া নিয়ে হাজির হলো। বাকিগুলো তার বন্ধুর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বুড়ো লোকটি খুশি হলেন। ‘তোমার আরম্ভকারীর ভাগ্য আছে। তুমি সফল হবে।’
‘মানে?’
‘তোমার মধ্যে একটা শক্তি আছে, যেটা তোমাকে বলে তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে, ওই শক্তি তোমার মধ্যে সফলতা লাভের স্পৃহা তৈরি করে।’
‘ঠিক আছে, এবার বলুন, গুপ্তধন আছে কোথায়?’
‘মিসরে, পিরামিডের কাছে।’
ছেলেটা বিস্ময়ে হা হয়ে গেল। বৃদ্ধা তাকে একই কথা বলেছে। কিন্তু এ জন্য কোনো ফি নেননি।
‘গুপ্তধন পেতে হলে তোমাকে নিদর্শন অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ সবার জন্য একটা পথ তৈরি করেছেন। ওই পথে চলার জন্য তোমাকে নিদর্শন অনুসরণ করে চলতে হবে।’
ছেলেটা কিছু বলার চেষ্টা করেছিল। তার আগেই বুড়ো লোকটা তার জামা খুলে ফেললেন। ঝলমলে সোনার তৈরি, রতœপাথর বসানো একটা বর্ম দেখা গেল তার বুকে। আগের দিন এটাই চমক দিয়েছিল! তিনি আসলেই রাজা!
তিনি তার বর্মের ভেতর থেকে একটা সাদা আর একটা কালো পাথর বের করে ছেলেটার হাতে দিলেন। “এগুলোকে বলে উরিম-থুমিম। কালোটার মানে ‘হ্যাঁ’ সাদাটার মানে ‘না’। যখনই ভালো-মন্দ বুঝতে পারবে না, তখনই এগুলোর সাহায্য নেবে।”
‘তবে চেষ্টা করবে, নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে। গুপ্তধন যে পিরামিডে আছে, তা তুমি জানো। কিন্তু আমি তোমার কাছ থেকে ছয়টা ভেড়া নিয়েছি এ কারণে, যাতে তুমি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারো।’
ছেলেটা পাথর দুটি তার থলেতে রাখলো। এর পর থেকে সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে থাকবে।

আফ্রিকা কেমন অদ্ভুত, ছেলেটা ভাবল।
তানজিয়ার্সের একটা কফি হাউজে বসেছিল সে। তার দেশ থেকে এখানে অনেক কিছুই মেলে না। কী নচ্ছার দেশ রে বাবা!
দোকানের মালিক তার দিকে এগিয়ে এলেন। ছেলেটা একটা পানীয়ের অর্ডার দিল। তিতা চা এলো। তার চিন্তা কেবল গুপ্তধন। ভেড়াগুলো বেচে তার হাতে বেশ নগদ পয়সা আছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সে পিরামিডের কাছে চলে যেতে পারবে।
একটা লোক সেখানে প্রবেশ করল। লোকটির গায়ে পাশ্চাত্যের পোশাক। তবে চামড়া দেখে বোঝা যায়, সে এই নগরীরই মানুষ। ছেলেটা তাকে বলল, তার পিরামিডে যাওয়া দরকার। সে গুপ্তধনের কথা বলেই ফেলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে থামল। লোকটা তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করল। লোকটাকে বিশ্বাস করে ফেলল ছেলেটা। তবে তার মনে হলো, দোকানের মালিক ওই লোকটার কথা বিশ্বাস করতে বারণ করছেন। কিন্তু সে এটা গুরুত্ব দিল না।
ওই লোকটার সাথে সে বেরিয়ে পড়ল। লোকটা তার কাছ থেকে তার সব অর্থ নিয়ে নিল। বলল, ‘আমরা কালই পিরামিডে রওনা হবো। পাড়ি দিতে হবে সাহারা মরুভূমি। এজন্য দরকার দুটি উট।’
তারা একসাথে বাজারে হাঁটতে লাগল। একটা মুহূর্তের জন্যও লোকটিকে চোখের আড়াল করতে চাইছিল না সে। বাজারভর্তি নানা আশ্চর্য জিনিসপত্র। কী নেই এখানে! হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটা ঝা চকচকে তরবারি! কী সুন্দর! রূপার বাঁট লাগানো। ওই কয়েকটা সেকেন্ড। মাথা ঘুরিয়ে দেখল, তার সেই লোকটি গায়েব হয়ে গেছে। পুরো বাজার তন্নতন্ন করে খুঁজল না। না, কোথাও দেখা মিলল না তার।
সূর্য ডুবছে। তার মনে পড়ল, দোকানদার তাকে বারণ করেছিল এই লোককে বিশ্বাস করতে। এটা বন্দর। এখানে চোর-বাটপারের শেষ নেই। এখন কী করবে? পকেটে একটা পয়সাও নেই। বিদেশে কার কাছে সে সাহায্য চাইবে? কাঁদতে ইচ্ছা করছিল। ধীরে ধীরে বাজার খালি হয়ে গেল। খাবে কী, ঘুমাবে কোথায়। হায়, আগের জীবনই তো ভালো ছিল। কী দরকার ছিল গুপ্তধন খুঁজতে বের হওয়ার?
কখন যেন সে আকাশ-কুসুম ভাবতে ভাবতে বাজারের এককোণে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকালে বাজার প্রাণ ফিরে পেতে লাগল। দোকানপাট সাজানো শুরু হয়েছিল। সে এক পিঠাওয়ালাকে একটু সাহায্য করল। সে বিনিময়ে প্রথম পিঠাটাই তাকে দিল।

হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটা পৌঁছালো নগরীর যেখানে টিলার ওপর ক্রিস্টাল শো-রুমটা ছিল সেখানে। ক্রিস্টাল কারবারি অনেক দিন ধরেই সমস্যায় ছিলেন। একসময় প্রচুর বিক্রি হতো। কিন্তু এখন তার বিক্রি কমে যাচ্ছিল। লোকজনই আসে না এদিকে। কিন্তু অন্য কিছুই তার জানা নেই। ফলে লোকসান দিয়ে দোকানেই পড়ে ছিলেন। তবে ক্রিস্টাল সম্পর্কে তিনি সবকিছু জানেন। তবুও গত কয়েক দিন ধরে একটা ক্রিস্টালও বিক্রি করতে পারেননি।
ঠিক দুপুরের খাবারের আগ দিয়ে ছেলেটা তার দোকানে পৌঁছেছিল। ছেলেটা দোকানের সামনে দাঁড়াল। ‘আপনি রাজি হলে আমি আপনার দোকানের জানালার কাচ পরিষ্কার করে দিতে পারি,’ ছেলেটা বলল। কারবারি জবাব দিলেন না। ‘কেবল একটু খাবার দেবেন।’ এবারো কারবারি কিছুই বললেন না। ছেলেটা কাচ পরিষ্কার করতে লাগল। আধা ঘণ্টার মধ্যে সব কাচ পরিষ্কার হয়ে গেল। ঠিক তখনই দু’জন কাস্টমার দোকানে এসে কিছু ক্রিস্টাল কিনল।
কাজ শেষ করে ছেলেটা খাবার চাইল। ‘চলো আমরা লাঞ্চ করি,’ ক্রিস্টাল কারবারি বললেন।
তিনি দোকান বন্ধ করে খেতে বসলেন।
‘এই খাবারের জন্য কাজ না করলেও চলত,’ তিনি বললেন। ‘পবিত্র কুরআনে বলা আছে, ক্ষুধার্তকে খেতে দিতে হবে।’
‘তাহলে আমি ঝাড়পোছের কাজে লেগে থাকি,’ ছেলেটা বলল।
‘ক্রিস্টালগুলো ময়লা হয়ে আছে। তাছাড়া আমার আর আপনার দুজনেরই মনের সব ময়লা পরিষ্কার করা দরকার।’
খাওয়া শেষ হলে কারবারি বললেন, আমি চাই তুমি আমার দোকানে কাজ করো। তুমি যখন কাজ করছিলে, তখন দুজন ক্রেতা এসেছে। এটা শুভ লক্ষণ।
‘আমি আজ সারা দিন কাজ করতে পারি, সারা রাতও, আমি আপনার দোকানের প্রতিটি ক্রিস্টাল মুছে দিতে পারি। আপনি কি আমাকে কাল মিসরে যাওয়ার মতো টাকা দিতে পারবেন?’ ছেলেটা জানতে চাইল।
কারবারি হাসলেন। ‘তুমি যদি সারা বছর এই কাজ করো, এমনকি প্রতিটি ক্রিস্টাল বিক্রিতে কমিশনও পাও, তবুও তোমাকে মিসর যেতে ধার করতে হবে। এখান থেকে মিসর হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে।’
‘আর তুমি কেন যাবে পিরামিডে? কী আছে পিরামিডে? এটা তো পাথরের স্তূপ। বাড়ির আঙিনাতেও এমন কিছু বানানো যায়।’
ভয়াবহ নীরবতা নেমে এলো। যাওয়া হচ্ছে না মিসর, পিরামিডে? গুপ্তধনের আশা কি শেষ? ছেলেটার অবস্থা দেখে মায়া হলো কারবারির। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কিছু টাকা দিতে পারি, যাতে তুমি দেশে ফিরে যেতে পারো।
ছেলেটা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘আমি আপনার শো-রুমে কাজ করবো।’ আমার টাকা দরকার, আবার ভেড়া কিনব।
[চলবে]

SHARE

Leave a Reply